প্রথম পাতা

শহরের তথ্য

বিনোদন

খবর

আইন/প্রশাসন

বিজ্ঞান/প্রযুক্তি

শিল্প/সাহিত্য

সমাজ/সংস্কৃতি

স্বাস্থ্য

নারী

পরিবেশ

অবসর

 

জন্মশতবর্ষে বিকাশ রায় স্মরণে

অবসর (বিশেষ) সংখ্যা, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৫

 

আমার দেখা বিকাশদা

অপর্ণা সেন

আমরা যখন প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ি, তখন বিকাশ রায়ের মেয়েও পড়তেন ওখানে। আমাদের সিনিয়র ছিলেন। ওঁকে ছাড়তে আর তুলতে বিকাশ রায়ের গাড়ি আসত কলেজে। সেটা আমাদের বন্ধুদের মধ্যে বেশ -একটা আলোচনার বিষয় ছিল, "ওই যে, বিকাশ রায়ের গাড়ি!"

তারপর যতদিনে আমি ফিল্মে কাজ করতে এলাম, ততদিনে বিকাশ রায় বাবা, কাকা- এই সব রোল করছেন। আমার প্রথম দিকের একটা ছবি 'মেমসাহেব'। উনি আমার কাকার রোলে। খুব ঝগড়া-ঝাঁটির সীন ছিল সেটা। আমার মনে আছে সীনে ওইসব ঝগড়া-ঝাঁটি বকাবকির পর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিলেন।

আমি ওঁকে বলতাম বিকাশদা। কিন্তু আমার আসলে জেঠুই বলা উচিত ছিল। আমার বাবার চেয়েও বয়সে খানিকটা  বড় ছিলেন। আমার প্রতি উনি খুবই স্নেহশীল ছিলেন। সেটে বিকাশদা আসা মানেই মনে হত শ্যুটিংয়ে একজন অভিভাবক আছেন ‍মাথার ওপর।

আমার একটা খুব সুন্দর স্মৃতি আছে ওঁর সঙ্গে কাজললতা ছবি নিয়ে। কাজললতার ডিরেক্টর ছিলেন উনি। উত্তমকুমারের সঙ্গে সীন। খুব কান্নাকাটি করতে হবে আমাকে। কাঁদার অভিনয় করছি আর উনি বলছেন, "আর একবার কর.. আর একবার কর..আর একবার।" মনে আছে, শটটা কাটেননি উনি। আর একবার করতে বলছেন, আবার করছি। এইরকম করে সাত আটবার নিয়েছিলেন। শেষ দিকটায় খুব আপসেট হয়ে গিয়েছিলাম আমি। কেন কাটছেন না শট, কেন এতবার করাচ্ছেন! সেইজন্যেই হয়তো কান্নাকাটিটাও ঠিকঠাক হল। তখন পিঠ চাপড়ে বললেন, "এই তো! খুব ভাল হয়েছে।"

আমার সঙ্গে ওঁর স্নেহের সম্পর্ক। আবার আমাদের থেকে যারা সিনিয়র, তাঁদের অনেকের সঙ্গেই হাসি ঠাট্টার সম্পর্ক ছিল ওঁর। কাজের সময় বকাবকি করতেন না খুব একটা। বসে বসে যে গল্প করতেন বা আড্ডা মারতেন- তা নয়। ওঁর একটা নিজস্ব ডিগনিটি ছিল। শট শেষ হলে ঘরে চলে যেতেন।

খুব বেশি ছবি করিনি ওঁর সঙ্গে। এমনও হয়েছে, একই ছবিতে হয়তো আছি আমরা দুজনে, কিন্তু ওঁর সঙ্গে ডিরেক্ট কোনো সীন নেই আমার। আলাদা শ্যুটিং হয়েছে।

বাংলা সিনেমাতে বিকাশ রায়ের অবদান নিয়ে আমার কিছু বলা ঠিক হবে না। আসলে কাজের বাইরে বাণিজ্যিক বাংলা ছবি দেখা হত না। রেডিও নাটক-ও শোনা হত না। বাড়িতে বারণ ছিল। অভিনেতৃ সঙ্ঘের আমি লাইফ মেম্বার কিন্তু কখনো সক্রিয় ভাবে যুক্ত থাকিনি। সেখানে বিকাশদার ভূমিকা নিয়ে আমার জানা খুবই সীমিত।

অনুলিখন - কেয়া মুখোপাধ্যায়

 


পরিচিতি - বিখ্যাত অভিনেত্রী ও পরিচালক। পরিচালক হিসেবে একাধিক বার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। সম্মানিত হয়েছেন বহু আন্তর্জাতিক পুরস্কারে। ছায়াছবির জগতে ওঁর অবদানের জন্যে ১৯৮৭ সালে পদ্মশ্রী পান।

(আপনার মন্তব্য জানানোর জন্যে ক্লিক করুন)

অবসর-এর লেখাগুলোর ওপর পাঠকদের মন্তব্য অবসর নেট ব্লগ-এ প্রকাশিত হয়।

Copyright © 2014 Abasar.net. All rights reserved.

 


অবসর-এ প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।