প্রথম পাতা

শহরের তথ্য

বিনোদন

খবর

আইন/প্রশাসন

বিজ্ঞান/প্রযুক্তি

শিল্প/সাহিত্য

সমাজ/সংস্কৃতি

স্বাস্থ্য

নারী

পরিবেশ

অবসর

 

বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫

 

সম্পাদকীয়


ঐকতানে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ লিখছেন,

“সেই ক্ষোভে পড়ি গ্রন্থ ভ্রমণবৃত্তান্ত আছে যাহে
অক্ষয় উৎসাহে —
যেথা পাই চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী
কুড়াইয়া আনি।
জ্ঞানের দীনতা এই আপনার মনে
পূরণ করিয়া লই যত পারি ভিক্ষালব্ধ ধনে।”

আচ্ছা, এর চেয়ে বড়ো পথপ্রদর্শন আর কি হতে পারে “ভ্রমণ-সাহিত্যে”র পাঠক ও লেখক দুজনের কাছেই!

বাংলা সাহিত্যের এই ধারাটি কিন্তু সত্যিই খুবই সমৃদ্ধ। ভ্রমণ কাহিনী রচনার কাজটি খুব কঠিন, স্বয়ং শরৎবাবুও ‘শ্রীকান্ত’র ভূমিকাতে লিখেছিলেন –

“ভ্রমণ করা এক, তাহা প্রকাশ করা আর। যাহার পা-দুটা আছে, সেই ভ্রমণ করিতে পারে; কিন্তু হাত-দুটা থাকিলেই ত আর লেখা যায় না! সে যে ভারি শক্ত।"

আর এই “ভারী শক্ত” কাজটি কিন্তু বারবার করে দেখিয়েছেন যে লেখকমণ্ডলী তাদের শীর্ষে স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ।

শুরুতেই চমক! দিলীপ কুমার রায়- এক অনন্য মানুষ! এই মানুষটি তাঁর অনায়াস যাতায়াত চালু রেখেছেন শিল্পের বিভিন্ন আঙিনাতে। কিন্তু তিনি যে ভ্রমণ কাহিনীতেও তাঁর ‘চরণচিহ্ন’ রেখেছেন তা আমাদের কাছে খুব সুপরিচিত নয়। সুললিত ভাষায় আমাদের সঙ্গে সেই পরিচয় ঘটালেন সুমিত রায়।

আমাদের ভারতের মানদণ্ড রূপে দাঁড়িয়ে আছেন ‘দেবতাত্মা হিমালয়’! গিরিরাজের মহিমাতে আপ্লুত হয়েছেন বহু লেখক, তাঁদের অন্যতম পথিকৃৎ জলধর সেন ও প্রবোধ কুমার সান্যাল। প্রাবন্ধিক দীপক সেনগুপ্ত ও ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায় এই দুজনের ওপর দুটি তথ্যসমৃদ্ধ, সরস বিশ্লেষণাত্মক লেখা দিয়েছেন- আমাদের পাঠকদের তা নিঃসন্দেহে আবার হিমালয়ের মহিমা দর্শনে উদ্বুদ্ধ করবে। দেবজ্যোতি ভট্টাচার্যর লেখায় আমরা পাচ্ছি এক আশ্চর্য মানুষের কথা, যিনি কৈলাস ও মানস-সরোবরকে তাঁর ঘরবাড়ি বানিয়ে ফেলেছেন। ভাস্কর বসুর লেখায় নারায়ণ সান্যালের একটি আক্ষেপপূর্ণ ভ্রমণ কাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য – আজকের হিমালয়ের দুর্যোগের ইঙ্গিত কি সান্যালমশাই কিছুটা হলেও দিয়েছিলেন?

আজকের জনপ্রিয় লেখকদের কলমে তাঁদের পূর্বসূরিদের লেখার যদি মূল্যায়ন হয়, তাহলে তা যে কোন সঙ্কলনে এক উজ্জ্বল মাত্রা যোগ করে। আমরা কৃতজ্ঞ শেখর বসু ও শেখর মুখোপাধ্যায়ের প্রতি। তাঁদের যথাক্রমে সঞ্জীবচন্দ্র ও অবধূতের উপর দুটি অনবদ্য লেখা আমদের এই সংখ্যার বিশেষ আকর্ষণ। আমরা প্রত্যয়ী যে এই লেখাদুটি পাঠের পর নতুন প্রজন্মের পাঠকেরা আবার আকৃষ্ট হবেন উদ্দিষ্ট লেখকদ্বয়ের প্রতি।

রবীন্দ্রনাথ ছাড়া বাঙালীকে যাঁরা তাঁদের কলমের স্বাদু রচনাতে বিশ্বভ্রমণ করিয়েছেন তাঁদের অন্যতম দুজন,- সুযোগ্য রবীন্দ্রশিষ্য – অন্নদাশঙ্কর রায় ও সৈয়দ মুজতবা আলি। উদয় চট্টোপাধ্যায় ও রামকৃষ্ণ ভট্টাচার্য সান্যালের লেখায় আমরা আবার সেই সুরম্য প্রবাসপথে বিচরণ করার সুযোগ পেলাম।

“Catch them young” - ইংরেজি এই প্রবাদবাক্যে সম্ভবত ভালমতোই বিশ্বাস করেন আমাদের লেখকরা। তাই কিশোরদের ও তাঁরা বঞ্চিত করেননি এই ভ্রমণের স্বাদ থেকে। ঋজুদা, ফেলুদা, থেকে মিতিনমাসী – সব রোমাঞ্চকাহিনীতেই প্রবাহিত ভ্রমণসাহিত্যের ফল্গুধারার প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন পল্লব চট্টোপাধ্যায় ও ঋজু গাঙ্গুলি।

আচ্ছা, ভ্রমণ কাহিনীর ‘পথে চলে যেতে যেতে’ যদি সাহিত্যের ‘পরশ লাগে’ তাহলে,-। সাহিত্যের অন্তর্নিহিত যে ভ্রাম্যমাণতা তাকেও কি নিয়ে আসা উচিত নয় সর্বসমক্ষে? কখনো তা ‘আশ্চর্যভ্রমণ’, আবার কখনো বা বাংলার সেই চির-বাউণ্ডুলের হাত ধরে পাড়ি দেওয়া ‘নিরুদ্দেশের দেশে’! আবার কখনো বা কেউ কি খুঁজে বেড়ান ‘বেত্রবতীর খেয়াঘাট’ বা ‘বরিশাল কুমিল্লার রূপসী বাংলা’! বাস্তব যদি অধরা হয়ও, তাহলেও স্বপ্নে আমাদের তো অনেক কিছুই মনে হতে পারে। আমাদের দ্বারে ‘ঘা দিয়ে’ সেই “রিমিঝিমি ধ্বনি” বাজানোর কাজটি যাঁরা করেছেন তারা হলেন বিকাশ বসু, অভীক দত্ত ও ঈশানী রায়চৌধুরী।

আর যাঁর কথা দিয়ে শুরু করেছিলাম,- যিনি বলেই ছাড়েননি, সর্বক্ষেত্রের মত এক্ষেত্রেও “আপনি আচরি ধর্ম” করে আমাদের শিখিয়েছেন সেই রবীন্দ্রনাথকে কি ভোলা যায়! তাঁর চিঠিপত্রে, বিভিন্ন প্রবন্ধে, রম্যরচনাতে ভারতবর্ষ ও বিশ্বের যে “চিত্রময়ী বর্ণনার বাণী” আমরা পেয়ে থাকি তা তো সত্যিই অনুপম। শুক্লা রায়ের লেখাতে সেই পরিচয় আমরা পেতে যাচ্ছি।

চলুন পাঠকবৃন্দ, আসুন “এবার দ্বিধার বাধা পার হয়ে”! বেরিয়ে পড়ি লেখকদের হাত ধরেই। দেখেই আসি – “কী অচেনা কুসুমের গন্ধে, কী গোপন আপন আনন্দে” আমাদের মন মাতাল হয়!

শুভ যাত্রা!

ভাস্কর বসু
অতিথি সম্পাদক
বিশেষ ভ্রমণ সাহিত্য সংখ্যা




(আপনার মন্তব্য জানানোর জন্যে ক্লিক করুন)

অবসর-এর লেখাগুলোর ওপর পাঠকদের মন্তব্য অবসর নেট ব্লগ-এ প্রকাশিত হয়।

Copyright © 2014 Abasar.net. All rights reserved.



অবসর-এ প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।