ঢেঁকি, ধান ও “রোমহর্ষক ব্যাপার-স্যাপার”!

 

প্রথম পাতা

শহরের তথ্য

বিনোদন

খবর

আইন/প্রশাসন

বিজ্ঞান/প্রযুক্তি

শিল্প/সাহিত্য

সমাজ/সংস্কৃতি

স্বাস্থ্য

নারী

পরিবেশ

অবসর

 

বিশেষ ভ্রমণ সংখ্যা

ডিসেম্বর ৩০, ২০১৫

 

ঢেঁকি, ধান ও “রোমহর্ষক ব্যাপার-স্যাপার”!

ঋজু গাঙ্গুলি


-“না:, এই দশটা-ছ’টার রুটিনে আর টেঁকা যাচ্ছে না। কোথাও বেড়াতে যাওয়া যাক।”

ঠিক কখন বাঙালির মনে এই কথাটা খুব দূর থেকে ভেসে আসা প্লেনের আওয়াজের মতো হালকা ভাবে শুরু হয়ে ক্রমে কান-ফাটানো গর্জনে পরিণত হয়? ছুটির সময়ে, যাকে তিনটে সময়কালে ভাগ করা যায়:

(ক) গরমের ছুটিতে (যখন পাহাড় আর যাবতীয় শীতের জায়গার কথা ভাবলেই কোয়ালিটি আইসক্রিমের পুরনো শ্লোগানটা মনে আসে: মুখে দিলে গলে যায়, আহারে কী ফুর্তি!);

(খ) পুজোর সময়ে (যখন সব প্রবাসী বাঙালি কলকাতা/ঘর-মুখো হতে চান, আর কলকাতার বাঙালিরা কলকাতা ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠেন);

(গ) শীতের ভীষণ ছোটো (তাই বেজায় দামী) সেই সময়টায় যখন এ বছরের ২৫শে ডিসেম্বর থেকে পরের বছরের ১লা জানুয়ারি অবধি স্কুল-কলেজ, এমনকি অফিস-কাছারিও বন্ধ থাকে।

ছোটো থেকে বড়ো, বিশুদ্ধ বেকার থেকে পাক্কা পেশাদার, ঘোর গৃহস্থ থেকে সাংঘাতিক বোহেমিয়ান: বাঙালি মাত্রেই বছরের এই তিনটে সময়ে ট্রেনের টাইম-টেবিল, ‘ভ্রমণ সঙ্গী’ (বা আরও নানা ধরণের বেড়ানো-সংক্রান্ত ম্যাগাজিন আর বই), আর (অধুনা) ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন কোথাও একটা বেড়াতে যাবার জন্যে। তাহলে আমাদের জীবনে আনন্দের একটা মস্ত বড়ো উৎস যে রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্য, তার প্রোটাগনিস্টরা (মানে তিনি সত্যান্বেষী, রহস্যভেদী, বা অ্যাডভেঞ্চার-প্রেমী, যে নামেই আমাদের কাছে আসুন না কেন) এই সময়গুলোতে কী করেন? আজ্ঞে হ্যাঁ, তাঁরাও এই সময়গুলোতে বেড়াতে যান। ট্রেনের টিকিট না পাওয়ায় বেড়াতে যাওয়া হয়নি: এই ভীষণ দুঃখও ভুলে যেতাম পূজাবার্ষিকীর পাতায় যাঁদের কাণ্ডকারখানা পড়ে, তেমন কয়েকজনের ভ্রমণ-বৃত্তান্ত আজ তুলে ধরার চেষ্টা করছি এই লেখায়, আর তাঁরা হলেন:

• সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী (এনার কীর্তিকলাপ পড়তে চেয়ে ছোটোবেলায় কানমলা খেয়েছি, আর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম পড়ার সুযোগ এসেছে ক্লাস নাইন-এ, যখন বাংলা সহায়ক-পাঠের বইয়ে পেয়েছি “লোহার বিস্কুট”),

• গোয়েন্দা ফেলুদা (প্রদোষ চন্দ্র মিত্র),

• অ্যাডভেঞ্চার-প্রেমী কাকাবাবু (রাজা রায়চৌধুরী)

শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়

যেহেতু এঁরা প্রত্যেকেই কলকাতার মানুষ, তাই এই শহরের বুকে এবং কলকাতার উপকণ্ঠে তাঁদের বেশ কিছু রোমহর্ষক উপাখ্যান সংঘটিত হলেও সেগুলো এই আলোচনা থেকে বাদ পড়ছে। এছাড়া সেগুলোও বাদ পড়ছে, যেখানে তদন্তের স্বার্থে বা মক্কেলের অনুরোধে তাঁদের কোথাও পাড়ি জমাতে হয়েছে।

 প্রথমে আসি সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ বক্সী-র কথায়,-

বাংলায় চুরি-ডাকাতি-খুন-জখম এবং পুরোদস্তুর অ্যাকশন-নির্ভর রহস্য গল্প তথা গোয়েন্দার আবির্ভাব ঊনবিংশ শতকেই হয়ে গেছিল। কিন্তু মস্তিষ্কের ক্ষুরধার খেলা আর অনুপম চরিত্রায়ন প্রথম যাঁকে বাঙালির কাছে রোমান্সের পাত্র করে তোলে, তিনি হলেন শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ব্যোমকেশ। ব্যোমকেশ কলকাতার মানুষ, এবং ঘোর সংসারী। তদন্তের স্বার্থে ব্যোমকেশকে যেতে হয়েছিল সান্তালগোলায় (অমৃতের মৃত্যু) এবং একটি নাম-বর্জিত কয়লা-শহরে (কহেন কবি কালিদাস)। কিন্তু বিশুদ্ধ ভ্রমণের জন্যে কোথাও গিয়ে রহস্যের জটিল জালে তাঁকেও জড়িয়ে পড়তে হয়েছিল বেশ কয়েকটি গল্পে, আর তারা হল: -

১) চোরাবালি: ১৩৪১-এ রচিত এই কাহিনিটিতে ব্যোমকেশ ও অজিত, কুমার ত্রিদিব (যাঁর সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয়েছিল “সীমন্ত-হীরা”-য়)-এর জমিদারিতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসেছিলেন, এবং তারপর পাশের এস্টেটে (নাম-বর্জিত) এক আপাতদৃষ্টিতে মামুলি রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে তাঁদের যে অভিজ্ঞতা হয় তার লোম-খাড়া করা উপাখ্যান হাজার বার পড়লেও পুরনো হবে না।

২) ব্যোমকেশ ও বরদা: ১৩৪৩-এ রচিত এই গল্পটির বিশেষত্ব দুটি:

(ক) এই প্রথম (ও শেষ) কোন গল্পে শরদিন্দুর দুটি অদ্বিতীয় চরিত্র (সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ ও ভূতান্বেষী বরদা) মুখোমুখি হন;

(খ) কলকাতার বাইরের, অথচ চেনাজানা, এবং সেই সময়ের বাঙালির সাংস্কৃতিক বলয়ের মধ্যে থাকা মুঙ্গের হল এর পটভূমি।

৩) চিত্রচোর: ১৩৫৮-য় রচিত এই গল্পটির বিশেষত্ব দ্বিবিধ:

(ক) দীর্ঘ ১৫ বছর পর শরদিন্দু আবার, এটির মধ্য দিয়েই, ব্যোমকেশের গল্প লেখা শুরু করেন;

(খ) সাঁওতাল পরগণার একটি শহরে হাওয়া বদল করতে এসেও এক জটিল রহস্যের জাল ছিন্ন করতে হয় ব্যোমকেশ-কে।

৪) দুর্গরহস্য: ১৩৫৯-এ রচিত এই উপন্যাসের ঘটনাস্থল-ও “চিত্রচোর”-এর সেই শহর, এবং এবার সেখানে ব্যোমকেশ ও অজিতের পদার্পণ ঘটে ডি.এস.পি পুরন্দর পাণ্ডের আমন্ত্রণে।

৫) বহ্নি-পতঙ্গ: ১৯৫৬-য় রচিত এই উপন্যাসের ঘটনাস্থল পাটনা, যখন ব্যোমকেশ (অজিত-সহ) সত্যবতীর বিরহ বরদাস্ত করতে না পেরে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন।

৬) শৈলরহস্য: ১৩৬৬-তে রচিত এই গল্পের বিশেষত্ব দুটি:

(ক) শরদিন্দুর দীর্ঘ সময়ের বাসস্থান ও অত্যন্ত প্রিয় পুণা শহরের কাছে অবস্থিত পাহাড়ি শহর মহাবলেশ্বর থেকেই এই গল্পের শুরু, বোম্বাই-এর কাজ সেরে যেখানে বেড়াতে গিয়ে সেখান থেকে অজিতকে চিঠি লিখে ব্যোমকেশ তাঁকে এক রহস্যভেদের দায়িত্ব দেন।

(খ) ব্যোমকেশের এই একটি কাহিনিতেই অলৌকিক উপাদান একটা প্রকাণ্ড ভূমিকা নিয়েছে। কলকাতার বাইরে ব্যোমকেশ-কে এই কাহিনিগুলোতে যেতে হলেও ভ্রমণের আনন্দ তাঁর ও অজিতের কপালে বিশেষ জোটেনি, তা অবশ্য পাঠকমাত্রেই জানেন।

সত্যজিৎ রায় (১৯৫৫ সালে তোলা ছবি)

 এবার আসা যাক সত্যজিৎ রায়-এর সৃষ্টি প্রদোষ চন্দ্র মিত্র, ওরফে গোয়েন্দা ফেলুদার কথায়। তদন্তের স্বার্থে ফেলুদাকে বহু জায়গায় যেতে হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে রাজস্থান (সোনার কেল্লা), সিমলা (বাক্স-রহস্য), আওরঙ্গাবাদ (কৈলাসে কেলেঙ্কারি), নেপাল (যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে), হংকং (টিনটোরেটোর যীশু), কেদারনাথ (এবার কাণ্ড কেদারনাথে), লন্ডন (লন্ডনে ফেলুদা), তামিলনাড়ু (নয়ন রহস্য), এবং বীরভূম (রবার্টসনের রুবি)। একান্ত পেশাগত সফরেও কিন্তু ফেলুদাকে আমরা সবসময় দেখি “ব্র্যাডশ” হাতে ঘুরতে। অর্থাৎ একটি পরিকল্পিত প্রস্তুতি। আর ডিটেলের দিকে সত্যজিতের ঝোঁক তো বিশ্ববন্দিত! সুতরাং তিনি যখন আমাদের নিয়ে যান কোন জায়গাতে ঘুরতে, তার একটা যথাযথ বিবরণ ও আমরা পেয়ে যাই। এটিই কাহিনির বিশ্বাসযোগ্যতাকে বহুমাত্রায় বাড়িয়ে দেয়। কাশীর গলিই হোক, বা রাজস্থানের মরুপ্রান্তর, দার্জিলিং / সিকিম এর চড়াই উৎরাই রাস্তা বা পুরীর সমুদ্র সৈকত, সব জায়গাই খুব জীবন্ত হয়ে দেখা দেয় আমাদের চোখে। এছাড়া ভোজনপ্রিয় বাঙালীকে বিভিন্ন জায়গার নামকরা খাদ্যগুলি থেকেও বঞ্চিত করেননি তিনি। কাশীর জিলিপি, নেপালের মোমো বা দার্জিলিং ম্যালের হট ডগ, সব কিছুই হাজির হয়ে গেছে। প্রসঙ্গত: উল্লেখ করা যেতে পারে তাঁর নিজের কাহিনীর ভিত্তিতে করা রহস্য-কাহিনি “সোনার কেল্লা” রাজস্থানের একটি তখনো অবধি অপরিচিত জয়সলমীরকে যেভাবে বাঙালীর কাছে আবিষ্কার করায় তা একেবারে অভূতপূর্ব।

কিন্তু স্রেফ বেড়ানোর উদ্দেশ্যে কোথাও গিয়ে খুনখারাপি এবং অন্য রোমাঞ্চকর ঘটনার আবর্তে জড়িয়ে পড়ার মতো ব্যাপার ক’বার ঘটেছে? নিচে তার গন্তব্য-ওয়ারি বিবরণ দিলাম, যা থেকে এটা দস্তুরমতো প্রমাণ হয়ে যাবে যে ফেলুদা-তোপসে-জটায়ু ত্রিভুজের নানা কাহিনি দাঁড়িয়ে আছে ভারতীয় রেল, ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স (সেযুগে দেশের মধ্যে এই একটিই মাধ্যম ছিল উড়ান-এর), আর পুষ্পক বা জুপিটার ট্র্যাভেলস-এর করিত্কর্মা পেশাদারদের ওপরেও: -

১) দার্জিলিং: বাঙালির প্রিয়তম হিল-স্টেশনেই গোয়েন্দা ফেলুদার আবির্ভাব হয় ১৩৭২-এ ‘সন্দেশ’-এ প্রকাশিত “ফেলুদা’র গোয়েন্দাগিরি” গল্পে, তবে তখন সে গোয়েন্দা নয়, ছাত্র। দার্জিলিং-এর পটভূমিতে ফেলুদার (তদ্দিনে সুপ্রতিষ্ঠিত) আরও একটি দুর্দান্ত রহস্যভেদের কাহিনি আমরা পাই ১৩৯৩-এর শারদীয়া ‘দেশ’-এ প্রকাশিত “দার্জিলিং জমজমাট” গল্পে।

এই প্রসঙ্গে চুপিচুপি জানিয়ে রাখি, কনকনে ঠাণ্ডায় রহস্যভেদের ব্যাপারটা বেশি জমে বলেই বোধহয় নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি চার মূর্তি গরমের ছুটিতে দার্জিলিং বেড়াতে গিয়ে জড়িয়ে পড়েছিল হাসি আর সাসপেন্সের অতুলনীয় কম্বিনেশন “ঝাউ-বাংলোর রহস্য”-য়, যা নবপর্যায় ‘সন্দেশ’-এ ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়েছিল ষাটের দশকেই।

২) লখনউ: গ্রন্থাকারে ফেলুদার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস “বাদশাহী আংটি” (সন্দেশ-এ প্রকাশিত হয় ১৩৭৩-এর বৈশাখ-চৈত্র এবং ১৩৭৪-এর বৈশাখে)-র ঘটনাস্থল শুধু নয়, পুরনো লখনউ তার সমস্ত ঐশ্বর্য আর রোমান্স নিয়ে একটা চরিত্র হিসেবেই এসেছিল এই লেখায় (পরে কর্মসূত্রে উত্তর প্রদেশে থাকাকালীন নতুন বিয়ে-করা বউয়ের হাত ধরে ভুলভুলাইয়া-তে চক্কর দেওয়ার সময়েও এই লেখাটার কথাই বলে চলেছিলাম বলে ‘বেরসিক’ তকমা জুটেছিল!)। এই শহরে ফেলুদা এন্ড কোং আবার আসেন “শকুন্তলার কণ্ঠহার”-এ, যা শারদীয়া ‘দেশ’-এ ১৩৯৫-এ প্রকাশিত হয়।

৩) সিকিম: ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির আর এক পছন্দের গন্তব্য এই রাজ্যটি (তখনও অবশ্য এটি ভারতের অঙ্গ হয়নি, একটি প্রায়-স্বাধীন রাষ্ট্রই ছিল) যে রোমাঞ্চকর ও ঘটনাবহুল উপন্যাসের আদ্যন্ত জুড়ে রয়েছে তার নাম গ্যাংটকে গণ্ডগোল। শারদীয়া দেশ-এ ১৩৭৭-এ প্রকাশিত এই উপন্যাসের প্রধান বিশেষত্ব হল এতে ‘নিশিকান্ত সরকার’ নামে এক চরিত্রের উপস্থিতি যাকে জটায়ুর একটি প্রাথমিক সংস্করণ বলা চলে।

৪) উত্তরবঙ্গ: একবার জটায়ু, অর্থাৎ শ্রী লালমোহন গাঙ্গুলি (তাঁর সঙ্গে ফেলুদা ও তোপসের আলাপ “সোনার কেল্লা”-য়, কিন্তু সেই উপন্যাস নিয়ে আমি লিখতে পারছি না তাতে বেড়ানোর ভুরিভুরি ব্যাপার-স্যাপার থাকলেও, কারণ ফেলুদা সেখানে রাজস্থানে যান পেশাগত কারণে) শিকারী মহীতোষ সিংহরায়ের কাছ থেকে তাঁর এস্টেটে আসার নিমন্ত্রণ পান। মূলত একটি ধাঁধা/হেঁয়ালির সমাধান করতে তিনি ফেলুদার সাহায্য চাওয়ায় ফেলুদা সেখানে যান, আর তারপর খুন-বাঘ-ষড়যন্ত্র-গুপ্তধন মিলে যে দুর্ধর্ষ জিনিসটি তৈরি হয় তা স্থান পায় শারদীয়া ‘দেশ’-এ ১৩৮১-তে প্রকাশিত “রয়েল বেঙ্গল রহস্য”-য়।

৫) কাশী: বেনারস না লিখে পুরনো শহরের এই নামটাই লিখলাম, কারণ একদা ওই শহরের বাসিন্দা হিসেবে জানি যে কাশী আর বেনারস প্রকৃতিগত ভাবে সম্পূর্ণ আলাদা, আর ১৩৮২-র শারদীয়া ‘দেশ’-এ প্রকাশিত “জয় বাবা ফেলুনাথ”-এর ঘটনাস্থল হলো বিশুদ্ধভাবে পুরনো কাশী। স্রেফ বেড়ানোর জন্যে এখানে এসে গোয়েন্দা ফেলুদার সঙ্গে টক্কর হয় তাঁর জীবনের দুর্ধর্ষতম দুশমনের, যার নাম মগনলাল মেঘরাজ। হিন্দি সিনেমায় আইকনিক ভিলেন যেমন “শোলে”-র গব্বর সিং, শার্লক হোমসের চরম শত্রু যেমন প্রফেসর মরিয়ার্টি, তেমনই ফেলুদার কথা ভাবতে গেলে মগনলাল মেঘরাজ (বিশেষত সিনেমার পর্দায় চরিত্রটির অতুলনীয় রূপায়ন ঘটানো উত্পল দত্ত)-এর কথা মনে পড়তে বাধ্য। মেঘরাজ-এর সঙ্গে ফেলুদার দ্বিতীয় টক্কর হয় নেপালে, কিন্তু যেহেতু ফেলুদার নেপাল-সফর ছিল পেশাগত, তাই আমার লেখা থেকে ১৩৮৭-র শারদীয়া ‘দেশ’-এ প্রকাশিত “যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে” বাদ পড়ছে। এই শহরেই “গোলাপী মুক্তা রহস্য”-ভেদ তথা মগনলাল মেঘরাজ-এর মোকাবিলা করতে ফেলুদার আবার আসেন, তবে সেটাও ছিল পেশাগত সফর।

৬) মুম্বই আর খান্ডালা-লোনাউলি-র মাঝামাঝি জায়গা: রহস্য উপন্যাসে সিনেম্যাটিক উপাদানের প্রাচুর্যের দিক দিয়ে ১৩৮৩-র শারদীয়া ‘দেশ’-এ প্রকাশিত “বোম্বাইয়ের বোম্বেটে”-কে টেক্কা মারার মতো লেখা আর একটিও আছে কি না, তাই নিয়ে তুমুল তর্ক হতে পারে । অগুনতি বাঙালির মুম্বই (তখন বম্বে)-এর পুরো ইমেজটাই তৈরি হয়েছে এই উপন্যাসের ভিত্তিতে, যেখানে ফেলুদার আগমন ঘটেছিল স্রেফ জটায়ুর বন্ধু হিসেবে, জটায়ুর কাহিনি-থেকে নির্মীয়মাণ সিনেমার শুটিং দেখার জন্যে!

৭) হাজারিবাগ আর রাজরাপ্পা: ১৩৮৫-র শারদীয়া ‘দেশ’-এ প্রকাশিত “ছিন্নমস্তার অভিশাপ” উপন্যাসের ঘটনাস্থল সেই সময়ে পাহাড় আর জঙ্গলে ভরা এই অঞ্চল, যেখানে ছুটি কাটাতে গিয়ে (ট্রেনে নয়, প্লেনে নয়, এই লম্বা সফর ফেলুদা এন্ড কোং সারে জটায়ুর সেকেন্ড-হ্যান্ড মার্ক-টু অ্যাম্বাসাডরে) সার্কাস থেকে বাঘ উধাও হয়ে যাওয়া, গল্পের অন্যতম আকর্ষণীয় চরিত্রের মৃত্যু, এবং আরও নানা জটিল রহস্যের সমাধান করার ফাঁকে ফেলুদার মুখে আমরা একটি আপ্তবাক্য পেয়েছিলাম, যা আপাতভাবে তোপসের উদ্দেশ্যে বলা হলেও সব লেখকের কাছেই শিরোধার্য হওয়া উচিত: “গাদাগুচ্ছের মরচে-ধরা বিশেষণ আর তথাকথিত লোম-খাড়া-করা শব্দ ব্যবহার না করে চোখে যা দেখলে সেইটে ঠিক ঠিক সোজাসুজি বলে গেলে কাজ দেবে ঢের বেশি” (নীহাররঞ্জন গুপ্তের একদা-জনপ্রিয় লেখাগুলো আমার কাছে অপাঠ্য ঠেকে এই দোষে প্রবলভাবে দুষ্ট হওয়ায়, আর ভুলভাল ইংরেজির যথেচ্ছ ব্যবহারের জন্যে)।

৮) পুরী: দার্জিলিং বাদ দিলে যেকোন বাঙালির কাছে বেড়ানোর ব্যাপারে প্রথম পছন্দ এক সময়ে ছিল (হয়তো এখনও আছে) ওডিশার এই শহরটি, আর তাই ১৩৮৬-র শারদীয়া ‘সন্দেশ’-এ প্রকাশিত রহস্য কাহিনি “হত্যাপুরী”-র মঞ্চ হয় পুরী, কলকাতার ভ্যাপসা গরম থেকে পালাতে যেখানে হাজির হয়েছিলেন ফেলুদা-তোপসে-জটায়ু, তবে এবার সফর হয়েছিল পুরী এক্সপ্রেসে।

৯) কাশ্মীর: ১৩৯৪-র শারদীয়া ‘দেশ’-এ প্রকাশিত “ভূস্বর্গ ভয়ংকর” উপন্যাসে ছুটি কাটাতে গিয়ে দিল্লি এয়ারপোর্টে ফেলুদা ও তাঁর দুই সঙ্গীর আলাপ হয় রিটায়ার্ড জজ সিদ্ধেশ্বর মল্লিকের। তারপর একই সঙ্গে চলতে থাকে বেড়ানো, মল্লিক মশাইয়ের বিচিত্র এক শখের বসে প্ল্যানচেট, এবং শেষে খুন, যার কিনারা ফেলুদাকে করতে হয়।

১০) আগ্রা (?): ১৪০৪-এর শারদীয়া ‘সন্দেশ’-এ প্রকাশিত ফেলুদার অসমাপ্ত অ্যাডভেঞ্চার “আদিত্য বর্ধনের আবিষ্কার” শুরু হয়েছে তাজমহল দর্শন-অভিলাষী লালমোহনবাবুর কথায় সাড়া দিয়ে ফেলুদা এন্ড কোং-এর ট্রেনে চড়ার জায়গা থেকেই, কিন্তু কয়েকটি চরিত্রর দেখা দিয়েই লেখাটি থেমে গেছে, সেই সঙ্গে থেমে গেছে ফেলুদার ভ্রমণ।

অনেক জায়গায় গেলেও সত্যজিৎ “ফেলু মিত্তিরের গোয়েন্দা গল্প যেন ভ্রমণ কাহিনি না হয়” এই নীতিটি কঠোর ভাবে মেনে চলেছিলেন, তাই আমরা তোপসের কলমে উচ্ছ্বসিত বর্ণনা বিশেষ পাইনি। তবু এই তিন অসমবয়সী চির যুবকের প্রাণশক্তি আর সহজ ভাবের পরিচয় ফুটে ওঠে লেখাগুলোর ছত্রে-ছত্রে, আর তাদের সঙ্গে আমাদেরও ঘোরা হয়ে যায় দেশ-বিদেশ।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
(রাগিব হাসানের তোলা ছবি)

 সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর সৃষ্টি, ভারত সরকারের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন অধিকর্তা রাজা রায়চৌধুরী আমাদের সবার কাছে তাঁর ভাইপো সন্তুর (সঙ্গে আমাদের সবারও বটে) কাকাবাবু হিসেবেই পরিচিত। কর্মসূত্রে আফগানিস্তানে থাকাকালীন এক দুর্ঘটনায় তাঁর একটা পা অকেজো হয়ে যায়। কিন্তু ক্রাচ-বগলে এই মানুষটি অকল্পনীয় মনের জোর, দুর্জয় সাহস, কষ্টসহিষ্ণুতা, প্রবল আত্মসম্মানবোধ, এবং সততা মূলধন করে পাড়ি জমিয়েছেন ভারতের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে, এমনকি তার বাইরেও চরম প্রতিকূল পরিবেশে, স্রেফ রহস্য-সন্ধানের তাগিদে।

পেশাদার না হলেও সমাধান-না-হওয়া রহস্য দেখলে অস্থির হয়ে পড়া এই অদ্বিতীয় চরিত্রের আবির্ভাব হয় ১৯৭১-এর শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় “ভয়ংকর সুন্দর” উপন্যাসে, যার ঘটনাস্থল ছিল কাশ্মির। এরপর রহস্যের সমাধান করার জন্যে কাকাবাবু গেছেন আন্দামান (‘সবুজ দ্বীপের রাজা’ এবং ‘মহাকালের লিখন’), এভারেস্টের কাছে (‘পাহাড় চূড়ায় আতঙ্ক’ আর ‘একটি লাল লঙ্কা’), ভূপাল আর ভিমবেটকা (ভূপাল রহস্য), সুন্দরবনের কাছে মোহনায় (‘খালি জাহাজের রহস্য’ এবং ‘কাকাবাবু ও জলদস্যু’), মিশর (মিশর রহস্য), মধ্য প্রদেশের এক জনজাতি গ্রামে (নীলমূর্তি রহস্য), ওডিশা-র কেওনঝড় (রাজবাড়ির রহস্য), দার্জিলিং-এর কাছে এক মনাস্ট্রি (কাকাবাবু ও বজ্রলামা), অসমের জাটিঙ্গা ও ওডিশা-র গোপালপুর (উল্কা রহস্য), বীরভূমের আলিনগর গ্রাম (কাকাবাবু হেরে গেলেন), বেতলার জঙ্গল ও কাঠমাণ্ডু (সন্তু ও এক টুকরো চাঁদ), কুচবিহারের বনবাজিতপুর গ্রাম (আগুন পাখির রহস্য), ছুটি কাটানোর নাম করে এলেও আসলে তদন্তের কাজে অসমের তেজপুরে (কাকাবাবু বনাম চোরাশিকারি), ভাইজ্যাগ ও আরাকু ভ্যালি (সন্তু কোথায় কাকাবাবু কোথায়), আফগানিস্তান (কাকাবাবুর প্রথম অভিযান), মালদা জেলার শ্রীপুর (কাকাবাবু বনাম মূর্তিচোর), বাংলাদেশ (জোজো অদৃশ্য), কেরালা-র কালিকট (কাকাবাবু ও চন্দন দস্যু), হায়দ্রাবাদ ও ঋষিকোন্ডা (কাকাবাবু ও আশ্চর্য দ্বীপ), এবং সিরিয়ার দামাস্কাস (আরব দেশে সন্তু কাকাবাবু)। এছাড়া কাকাবাবুই সম্ভবত একমাত্র গোয়েন্দা যাঁকে দিয়ে গুপ্তধনের সন্ধান করানোর জন্যে তাঁকে আহত করে অপহরণ করা হয়েছিল এবং নিয়ে যাওয়া হয়েছিল ত্রিপুরায় (১৯৮২-তে ‘আনন্দমেলা’-য় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত উপন্যাস “জঙ্গলগড়ের চাবি”)।

পায়ের তলায় সর্ষে থাকা এই অ্যাডভেঞ্চার-প্রেমী মানুষটি কিন্তু স্রেফ বেড়াতে গিয়েও বিপদে পড়েছেন বহুবার, তবে প্রত্যেক বারই তিনি বুদ্ধি, সাহস, আর মনের জোর দিয়ে শত্রুকে পর্যুদস্ত করতে পেরেছেন। মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে যে এমন “জীবন-মৃত্যু পায়ের ভৃত্য, চিত্ত ভাবনাহীন” মানুষটি সাহসী সন্তু আর গুলবাজ জোজো-র সঙ্গে কোথায় বেড়াতে যেতেন? উত্তর মেরু? সাহারা? মারিয়ানা ট্রেঞ্চ? উত্তরগুলো নিচে দিলাম: -

(১) নাইরোবি, কেনিয়া: ১৯৮৬-র শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত “জঙ্গলের মধ্যে এক হোটেল” ছিল প্রথম উপন্যাস যেখানে স্রেফ বেড়াতে এসেও কাকাবাবু আর সন্তুকে মারাত্মক বিপদ আর রহস্যে জড়িয়ে পড়তে হয়। তবে পরের বার যখন কাকাবাবু এদেশে আসেন (২০০৯-এর শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত “আগ্নেয়গিরির পেটের মধ্যে”), তখন সেটা ছিল এই মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার জন্যে, অর্থাৎ কাজে।

(২) হামপি, কর্ণাটক: ১৯৮৮-র শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত “বিজয়নগরের হীরে” উপন্যাসে সন্তু আর কাকাবাবুই শুধু নয়, জোজো, রিঙ্কু, আর রঞ্জন-ও বেড়াতে এসে এক ভয়ংকর বিপদের সম্মুখীন হল, যার কেন্দ্রে ছিল মুরগির ডিমের সাইজের একটা হিরে! [এই অবধি পড়েই হাত নিশপিশ করছে? চট করে “কাকাবাবু সমগ্র”-র দ্বিতীয় খণ্ডটা হাতে তুলে নিন।]

(৩) মণিকরণ ও মানালি, হিমাচল প্রদেশ: ১৯৯৯-এর শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত “কাকাবাবু ও এক ছদ্মবেশী” উপন্যাসে স্রেফ বেড়াতে এসেও কাকাবাবুকে প্রথমে মূর্তি চুরির তদন্ত করতে হয়, আর তারপরে নানা রহস্যময় ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।

(৪) জলপাইগুড়ি: ২০০২-এর শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত “কাকাবাবু ও ব্ল্যাকপ্যান্থার” উপন্যাসে বেড়াতে এসে কাকাবাবু-কে এক ক্ষমতালোভীর খপ্পরে পড়তে হয়।

(৫) খিচিং, ওডিশা: ২০০৪-এর শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত “কাকাবাবু ও সিন্দুক রহস্য”-য় নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে এসেও কাকাবাবুকে রহস্যভেদ করতেই হয়।

(৬) হাজারদুয়ারি, মুর্শিদাবাদ: ২০০৫-এর শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত “কাকাবাবু ও একটি সাদা ঘোড়া”-তে বেড়াতে এসে কাকাবাবু অপহৃত হন একদল ক্ষমতালিপ্সুর দ্বারা।

(৭) মান্ডু: ২০০৬-এর শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত “কাকাবাবু আর বাঘের গল্প”-তে বেড়াতে এসে কাকাবাবুকে একটি রহস্যের সমাধান করতে হয়।

সমরেশ মজুমদার
ফটো - বিশ্বরূপ গাঙ্গুলী (উইকিপেডিয়া)

তাহলে বোঝা গেল তো রহস্য-রোমাঞ্চ নিয়ে যাঁদের নিয়মিত বোঝাপড়া করতে হয়, তাঁরাও রীতিমতো বেড়াতে ভালবাসেন? হ্যাঁ, এটা অবশ্য আলাদা ব্যাপার যে তাঁরা বেড়াতে এলেও “তুমি যাও বঙ্গে, তোমার কপাল যায় সঙ্গে” স্টাইলে রহস্য আর বিপদ তাঁদের পিছু নেয়। তবে উপরোক্ত তিন মহারথী এবং তাঁদের সঙ্গীদের বেড়ানোর জায়গাগুলোয় যাওয়ার জন্যে ইচ্ছে হলে টিকিট কেটে হোটেল বুকিং করে ফেলতে পারলেও একজনের পন্থা আমি-আপনি অবলম্বন করতে পারব না, আর তিনি হলেন সমরেশ মজুমদারের সৃষ্টি “অর্জুন, সত্যসন্ধানী”।

এই মানুষটিকে দেশে-বিদেশে অজস্র সফর করতে হলেও সেগুলো সবই হয়েছে হয় তদন্তের খাতিরে, নয় কারও (যেমন মেজর) পাল্লায় পড়ে। তবে ১৯৯১-র শারদীয়া ‘আনন্দমেলা’-য় প্রকাশিত হয় একটি উপন্যাস, যাতে এক বিজ্ঞানীর সঙ্গে তাঁর গবেষণাগারে উপস্থিত থাকার সময় বিজ্ঞানীর বাড়িতে হামলা করে সশস্ত্র ডাকাতের দল, আর আত্মরক্ষার্থে বিজ্ঞানীর আবিষ্কৃত এক যন্ত্রে লুকোতে চেষ্টা করে অর্জুন। বন্দুকের গুলি সেই যন্ত্রটিকে সচল করে তোলে, আর তার ফলে অর্জুন পৌঁছে যায় ভবিষ্যতের জলপাইগুড়ি শহরে। সেখানে নানা অভিজ্ঞতার পর দস্তুরমতো একটি রোমহর্ষক অ্যাডভেঞ্চার সেরে অর্জুন ফিরে আসে নিজের স্থান ও কালে। উপন্যাসটির নাম, আমাদের সবার গায়ে এক্সট্রা জ্বালা ধরিয়ে, “অর্জুন বেড়িয়ে এল”। তবে ভবিষ্যতের খাওয়া-দাওয়ার যে বর্ণনা লেখক অর্জুনের মাধ্যমে আমাদের কাছে পেশ করেছেন তাতে মনে হয়, এই সময়টাই সবচেয়ে ভালো।

শেষ পর্যন্ত কোথায় যাবেন ঠিক করলেন? যেখানেই যান, উপরোক্ত মহাজনেদের কথা মাথায় রেখে, মাংকি-ক্যাপ আর গুচ্ছের জামা-কাপড় না নিয়ে, বরং শরীর-মন তৈরি রাখুন যেকোন অবস্থার জন্যে। আর নাই বা আপনি হলেন লালমোহন গাঙ্গুলী, আপনারও মনে আসে সেই সোনার কেল্লার জটায়ুর বিখ্যাত সংলাপ,

“বুঝলেন মশাই, অনেক দিন ধরে ইচ্ছে এক আসল গোয়েন্দার সঙ্গে এক আসল রহস্যের সন্ধানে যাব---”!

বলা তো যায় না, মিটে ও যেতে পারে সেই অপূর্ণ সাধ, হয়তো দুর্দান্ত কোন রহস্য আপনার জন্যেই অপেক্ষা করে আছে! আর জড়িয়ে পড়ে আপনিও সেই বিখ্যাত লালমোহনরূপীয় হাসিটি দিয়ে বলবেন,

“আমার জীবনের সব কটা স্বপ্নই যে এভাবে ফলে যাবে তা কিন্তু আমি ভাবিনি মশায়!”



লেখক পরিচিতি - আলোচক এক উদ্যমী পাঠক, যিনি বিপ্লব, চোখের জল, মানবচরিত্রের অতলস্পর্শী গভীরতা, সিন্ডিকেট, সারদা, ধোনি, ইত্যাদি তাবড় বিষয় থেকে দূরে, স্রেফ বেঁচে থাকার গল্প পড়তে চান। নিজের ভালবাসা থেকেই দীর্ঘদিন বইয়ের রিভিউ করছেন।


(আপনার মন্তব্য জানানোর জন্যে ক্লিক করুন)

অবসর-এর লেখাগুলোর ওপর পাঠকদের মন্তব্য অবসর নেট ব্লগ-এ প্রকাশিত হয়।

Copyright © 2014 Abasar.net. All rights reserved.



অবসর-এ প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।