প্রথম পাতা

শহরের তথ্য

বিনোদন

খবর

আইন/প্রশাসন

বিজ্ঞান/প্রযুক্তি

শিল্প/সাহিত্য

সমাজ/সংস্কৃতি

স্বাস্থ্য

নারী

পরিবেশ

অবসর

 

কান পেতে রই...

অবসর (বিশেষ) সংখ্যা , ডিসেম্বর ৩০, ২০১৪

 

যুদ্ধের সেই দিনগুলি

দ্বীপেশচন্দ্র ভৌমিক

 

১৯৭১ সালের মার্চ মাস। এক মঙ্গলবারের বিকেল। সবে গরম পড়তে শুরু করেছে। আমি তখন বোলপুরে আমার বোনের বাড়িতে ক’দিনের জন্য গিয়েছিলাম। বাড়ির বারান্দা থেকে দেখলাম দুজন সাইকেলে চড়ে ওই বাড়ির দিকে আসছেন। তাঁরা কাছে এসে আমার নাম ধরে খোঁজ করলেন। এদের মধ্যে একজন ছিলেন আমাদেরই সহকর্মী উপেন তরফদারের ছোট ভাই রমেন তরফদার। তিনি বোলপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জে কাজ করতেন। তাঁরা জানালেন, আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের তদানীন্তন অধিকর্তা দিলীপ সেনগুপ্ত আমাকে টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলেছেন। এর আগে টানা তিন বছরের মধ্যে ছুটি নিইনি বললেই চলে। কারণ ১৯৬৭ থেকে '৭১ পর্যন্ত সময়ে কলকাতা কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগে অনেকরকম পরিবর্তন আসে। রাজ্য রাজনীতিতেও অনেক তাৎপর্যপূর্ণ গ ঘটনা ঘটে যায়। সুতরাং সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে অতিরিক্ত ছুটি আর জোটেনি। এরপর যখন কেন্দ্র অধিকর্তা দিলীপ সেনগুপ্তকে ফোন করলাম, তিনি বললেন: অনেক বড়ো ঘটনা ঘটতে চলেছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অফিসে পৌঁছনো দরকার। পরদিন সকালেই আমি কলকাতায় রওনা দিই। কেন্দ্র অধিকর্তা বললেন: 'পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত। ঘটনাবলির ওপর একটু নজর রাখুন।'

২৬ মার্চ ভোরের দিকে সংবাদসংস্থা পিটিআই এবং ইউএনআই নিউজ ফ্ল্যাশ পাঠাতে শুরু করে। খবরের শিরোনাম ছিল এইরকম: 'Civil war in Dhaka', 'Late night crackdown on Dhaka University by Pak Army'. ত্রিপুরা সীমান্তের ওপারে চট্টগ্রামের বেতারকেন্দ্র থেকে শোনা গেল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেজর জিয়াউর রহমানের 'স্বাধীন বাংলাদেশ'-এর ডাক। এমন ঘোষণা শুনে যে কোনো সাংবাদিকদেরই শিহরণ জাগবে। ভারত-পাক সম্পর্কের কথা ভেবেই কোন দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনাবলির খবর পরিবেশন করা হবে তা নিয়ে আমরা ধন্দে পড়েছিলাম।

তখন অবশ্য আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের সংবাদ বুলেটিনের সংখ্যা বেশি ছিল না। তাছাড়া প্রতিবেশী রাষ্ট্রের এমন চাঞ্চল্যকর অথচ স্পর্শকাতর খবর কীভাবে পরিবেশিত হবে তা নিয়ে আমাদের অস্বস্তি বাড়ছিল। এই সময়ে দিল্লি থেকে আকাশবাণীর সংবাদ বিভাগের অধিকর্তা (Director of News Service), ডঃ এ আর বাজী ফোন করে জানালেন, দিল্লি থেকে কোনো নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা পরিস্থিতি নিয়ে কোনো খবর যেন প্রচারিত না হয়। এর দু’ঘন্টা পরেই কলকাতা কেন্দ্রের অধিকর্তা আমাকে ডেকে বললেন, আজই দিল্লি যেতে হবে। তথ্য ও সম্প্রচার সচিব জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। তখন সম্প্রচার সচিব ছিলেন আর সি দত্ত। এই বৈঠকে আকাশবাণীর তদানীন্তন মহানির্দেশক অশোক সেন, উপমহানির্দেশক পি সি চ্যাটার্জী, সংবাদ অধিকর্তা ডঃ বাজী, সংবাদ বিভাগের যুগ্ম অধিকর্তা কে এল শর্মা উপস্থিত ছিলেন। টানা তিনদিন ধরে বিভিন্ন স্তরে অনেকগুলো বৈঠক হল। পরে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র, বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীদের সঙ্গে ক্যাবিনেট সচিবেরও বৈঠক হয়। এইসব বৈঠকে শুধু কলকাতা থেকে প্রচারিত বাংলা সংবাদই নয়, সংবাদ পরিক্রমা অনুষ্ঠানটি নিয়েও আমাদের অনেক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। সংবাদ পরিক্রমা কথিকাটিতে কী কী বিষয় উপস্থাপিত হত সে সম্পর্কে বিদেশমন্ত্রকের আধিকারিকদের একটা ধারণা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীকে এ বিষয়ে যথাযথভাবে তখনও অবহিত করা হয়নি।

এরপর যা ঘটল তা রীতিমতো ইতিহাস। ঢাকার এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে অনেক অনুষ্ঠান শুরু হল। শঙ্কর দাশগুপ্তকে (তিনি গত শতাব্দীর নব্বই-এর দশকে আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের যুগ্ম অধিকর্তা হিসেবে অবসর নেন) সিমলা থেকে কলকাতায় নিয়ে আসা হল। সিমলায় ছিল মনিটরিং সার্ভিস। সেখানে ঢাকা রেডিও, রেডিও পাকিস্তান, বিবিসি-র সংবাদ মনিটর করার দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। সেই কাজটা তখন শুরু হয় কলকাতা থেকে। এর কয়েক মাসের মধ্যেই কলকাতা কেন্দ্রে সংবাদ বুলেটিন সংবাদ ভাষ্য ও পর্যালোচনা মূলক অনুষ্ঠান ও বাড়ানো হল। সংবাদ বিভাগে অনেক নতুন মুখ এল। বাংলাদেশ যুদ্ধের জেরে লাখে লাখে শরণার্থী পশ্চিমবঙ্গে ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে এসে আশ্রয় নিল। কেন্দ্রীয় সরকার ও রাষ্ট্রসংঘের বিভিন্ন সংস্থা তাদের ত্রাণের কাজে নেমে পড়ে। সেই সময় এই দুর্গত শরণার্থীদের খবর, পূর্ববাংলার আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সংবাদ বুলেটিনে অগ্রাধিকার পেতে থাকল।

এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে। আওয়ামি লীগের পাঁচজন শীর্ষ নেতাসহ অনেক নেতাই সীমান্ত পেরিয়ে এপারে চলে আসেন। ১৭ এপ্রিল তারিখে নদীয়ার সীমান্তের ওপারে পূর্ববাংলার কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর আম্রকুঞ্জে নির্বাসিত বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করে। আমাদের সংবাদ বিভাগের দুই সহকর্মী প্রণবেশ সেন, উপেন তরফদার ও আমি কলকাতা থেকে গাড়িতে কুষ্টিয়ায় এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান কভার করতে যাই। এই অনুষ্ঠানে যাঁরা শপথ নিলেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন, ও অর্থমন্ত্রী কামরুজ্জামান প্রমুখ।

ঘটনাস্থল থেকে ফিরে ওই খবর যখন দিল্লির সংবাদে প্রচারের জন্য পাঠালাম তখন সংবাদ বিভাগের অধিকর্তা ডঃ বাজীর কড়া ধমক শুনতে হল টেলিফোনে। সেদিন দিল্লির সংবাদে আমার পাঠানো খবর প্রচারিত হলেও সংবাদদাতার নাম বলা হয়নি। যেন কোনো অজ্ঞাত সংবাদসংস্থার সূত্র থেকে খবরটি প্রচারিত হল। পরদিন ১৮ এপ্রিল সকাল নটায় আমি সি পি আই সাংসদ রণেন সেনের কাছ থেকে খবর পেলাম যে কলকাতায় পাক ডেপুটি হাইকমিশনার হুসেন আলি নির্বাসিত স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের আনুগত্য স্বীকারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

দিনটা ছিল রবিবার। সকাল সকাল অফিসে গেলাম। ফোন তুলেই যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম ডঃ বাজী ও অন্যদের সঙ্গে। জানতে চাইলাম ডেপুটি হাইকমিশনারের কোনো সাক্ষাৎকার রেকর্ড করব কিনা। কেউই এ ব্যাপারে সরাসরি কোনো পরামর্শ দিতে চাইলেন না। তা সত্ত্বেও সংবাদ বিচিত্রার প্রযোজক উপেন তরফদারকে সাক্ষাত্কারের জন্য পাঠালাম। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ দিল্লিতে সংবাদ বিভাগের যুগ্ম অধিকর্তা আমাকে সাক্ষাৎকারটির রেকর্ডিং পাঠাতে বললেন। সেইরাতে 'স্পটলাইট' অনুষ্ঠানে সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়েছিল।

পুরোদমে যুদ্ধ শুরুর আগে একবার আমাকে বলা হল, দিনাজপুর যেতে হবে। বিএসএফ এর ডাকোটা বিমানের কটপিটে দাঁড়িয়ে চলে গেলাম। সেই সময় সীমান্তের ওপার থেকে প্রচুর পরিমাণে গোলা ছুটে আসছিল। বিএসএফ-এর পি আর ও ছিলেন সমর বসু। বাংলাদেশ যুদ্ধের আগে তিনি সমরজিৎ সেনাপতি ছদ্মনামে রেডিওতে মুক্তিবাহিনীর এই লড়াই নিয়ে অনেক কথিকা প্রচার করেছেন। কর্নেল সব্যসাচী বাগচিও এই বিষয় কথিকা প্রচার করেন।

সংবাদ পরিক্রমা ছিল খুবই জনপ্রিয় অনুষ্ঠান। শ্রোতাদের কাছ থেকে প্রচুর চিঠি আসত। তাঁরা অধীর অপেক্ষা করতেন এই অনুষ্ঠানটির জন্য। বাংলাদেশের মানুষরা সেখান থেকে চিঠি ডাকে ফেলতে পারতেন না। আগরতলা, নদীয়ার শিকারপুর, মুর্শিদাবাদ, গীতলদহ থেকে তাঁরা অন্য কারো মাধ্যমে চিঠি পোস্ট করতেন।
অক্টোবর মাসে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আরো তীব্রতর হল। দেশ বিদেশের সাংবাদিকরা ছুটে এলেন কলকাতায়। তাঁদের নানা ধরণের জিজ্ঞাসার উত্তর ও খবরের সূত্র ধরিয়ে দেবার বাড়তি দায়িত্ব যেন চেপে গেল আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের ওপর।

৩ ডিসেম্বর তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কলকাতা ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসমাবেশে ভাষণ দিলেন। সেই সভায় প্রধানমন্ত্রী পাকিস্তানের আক্রমণের ইঙ্গিত দিলেন। এর তিনদিন পর ৬ ডিসেম্বর যশোর ক্যান্টনমেন্ট দখল করে ভারতীয় সেনাবাহিনী। জেনারেল জে এস অরোরা ৮ ডিসেম্বর যশোর ক্যান্টনমেন্ট সফরে গেলেন। একমাত্র অসামরিক ব্যক্তি সাংবাদিক হিসেবে আমি সঙ্গে গেলাম। আমরা প্রায় মাগুরা পর্যন্ত চলে গিয়েছিলাম। পথে ঝিলাইদহে আমরা পাক সেনাদের একটি ট্রেনিং স্কুল দেখতে পাই।

১৫ ডিসেম্বর রাতে দিল্লি থেকে নির্দেশ এল আগরতলা হয়ে সাংবাদিকদের যে দল কুমিল্লায় যাচ্ছে আমাকেও তাঁদের সঙ্গে যেতে হবে। বিশেষ বিমানে সকাল নটায় আগরতলায় পৌঁছলাম। সমস্ত পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে আমার মনে হয়েছিল আজকের দিনটাই স্মরণীয় দিন হিসাবে ইতিহাসে লেখা হবে। কিন্তু আমি দিল্লির কর্তাদের বিশ্বাস করাতে পারিনি। আমরা আগরতলায় নেমেই শুনলাম জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বে পাক বাহিনী আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের তখন তড়িঘড়ি ঢাকা পৌঁছনোর কোনো উপায় ছিল না। অনেক কষ্ট করে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিংয়ের টেলিফোন ব্যবহার করে কলকাতা নিউজরুমে খবর পাঠালাম।
দিল্লি এই খবর প্রচার করেনি। প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী মধ্যরাতে তড়িঘড়ি সংসদের অধিবেশন ডাকলেন। সেখানেই যুদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করা হল। সেদিন যুদ্ধ সমাপ্তির কথা প্রথম বেতারে ঘোষিত না হয়ে সাংসদে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে জানানো হল। প্রণবেশ সেন ১৫ তারিখ রাতে এক অসাধারণ আবেগপূর্ণ সংবাদ পরিক্রমা লিখেছিলেন। চাঁদপুর ফেরি স্টেশন থেকে আমরা এই পরিক্রমা শুনেছিলাম। বহু মানুষ সেদিন রেডিওর সামনে ভিড় করেছিলেন। একমাত্র রেডিও, রাত দশটায় শত শত শ্রোতা।

আমরা ২০ জন সাংবাদিক কুমিল্লা থেকে নদীবন্দর চাঁদপুরের দিকে গিয়েছিলাম একটি জীপে চড়ে। উদ্দেশ্য ঢাকায় পৌঁছনো। চাঁদপুর ঘাটে একটি মাত্র লঞ্চ এম ভি আজমখান-এ করে আমরা মধ্যরাতে রওনা হই। দেড় ঘন্টা পর মেঘনা-যমুনা-পদ্মার সঙ্গমে এসে লঞ্চ খারাপ হয়ে গেল। সকাল পর্যন্ত নদীবক্ষেই কাটাতে হল। শেষে চাঁদপুর হয়ে, আগরতলা হয়ে কলকাতা ফিরে এলাম। এরপর যা ঘটল তা আমার কল্পনার বাইরে। নির্দেশ অনুযায়ী পরদিন সকালে আমাকে আবার ঢাকা রওনা হতে হল। এয়ার ফোর্সের বিশেষ ক্যারিবুঁ বিমানে আমরা ঢাকা রওনা হলাম। আমাদের সঙ্গে ছিলেন সাংবাদিক বরুণ সেনগুপ্ত, সুখরঞ্জন সেনগুপ্ত, ফটোগ্রাফার গণেশ সাহা।

স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার এবার আত্মপ্রকাশ করল। ২২ ডিসেম্বর ঢাকায় তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। ১৯৭২ এর ৪ জানুয়ারি আমি দেশে ফিরে আসি। এই সময়ের মধ্যে আমি তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার নিতে পেরেছিলাম। একজন হলেন বেগম মুজিবুর রহমান, যিনি পাকিস্তানে গৃহবন্দী ছিলেন। এছাড়া দুজন বিশিষ্ট কবি- বেগম সুফিয়া কামাল ও জসীমউদ্দীনের সাক্ষাৎকারও নিয়েছিলাম। ৮ জানুয়ারি শেখ মুজিবর রহমান পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়া পাবার পর লন্ডন ও নতুন দিল্লি হয়ে ঢাকা ফিরলেন। বিমানবন্দরে তাঁকে দেশনায়কের সম্মান জানানো হল।

বাংলাদেশ যুদ্ধের পর আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের দুই ব্যক্তিত্ব, সংবাদপাঠক দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায় ও কেন্দ্র অধিকর্তা দিলীপ সেনগুপ্ত রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত হন। প্রণবেশ সেন, নির্মল সেনগুপ্ত ও উপেন তরফদারকে তাঁদের কাজের জন্য আর্থিক পুরস্কারে সম্মানিত করা হল। পরে প্রণবেশ ও দেবদুলাল বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধু সম্মানও পেয়েছিলেন। কিন্তু স্মারকটি তাঁদের হাতে পৌঁছয়নি।
মনে পড়ে রাষ্ট্রপতির তদানীন্তন সচিব হিসাবে অশোক মিত্র (প্রাক্তন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব) তথ্য ও সম্প্রচার সচিব আর সি দত্ত-কে একটি চিঠিতে বাংলাদেশ যুদ্ধে কলকাতা কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।

বাংলাদেশ যুদ্ধকে ঘিরে কলকাতা বেতার ইতিহাস রচনা করেছে। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের সেতুও কি গড়ে তোলেনি? ভিন্ন রাষ্ট্র, তবু অভিন্ন আত্মার মন্দ্রিত স্বরও কি ধ্বনিত হয় না ওই স্মৃতিময় আগ্নেয় উত্তাপ আর রক্তঝরা দিনগুলির গভীরে?


লেখক পরিচিতি - দ্বীপেশচন্দ্র্র ভৌমিক (জন্ম ১৯৩৭) আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রে যোগ দেন গত শতাব্দীর পঞ্চাশের দশকের শেষে। ১৯৬৭ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত কলকাতা বেতারে বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন ও বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সাক্ষী। কলকাতা বেতারের সংবাদ ও সংবাদ বিষয়ক অনুষ্ঠানকে তিনি ঢেলে সাজিয়েছিলেন। পরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। ১৯৯১ সালে দিল্লিতে দূরদর্শনের অতিরিক্ত মহানির্দেশকের দায়িত্ব নেন। আকাশবাণীর সংবাদ বিভাগের মহানির্দেশক হিসাবে অবসর নেন ১৯৯৭ সালে।
এই লেখাটি আকাশবাণী ও কলকাতা দূরদর্শনের প্রাক্তন বার্তা সম্পাদক ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস কম্যুনিকেশনের অতিথি অধ্যাপক, ভবেশ দাশ-এর সৌজন্যে প্রাপ্ত। তাঁর সম্পাদনায় লেখাটি ‘কলকাতা বেতার’-বইয়ের প্রথম খন্ডে প্রকাশিত।

 

(আপনার মন্তব্য জানানোর জন্যে ক্লিক করুন)

অবসর-এর লেখাগুলোর ওপর পাঠকদের মন্তব্য অবসর নেট ব্লগ-এ প্রকাশিত হয়।

Copyright © 2014 Abasar.net. All rights reserved.



অবসর-এ প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।