বিখ্যাত মুনি। পাণ্ডবরা যখন তীর্থে গিয়েছিলেন তখন এঁর জীবন-কাহিনী ওঁরা শোনেন। ওঁর স্ত্রী লোপমুদ্রা ছিলেন বিদর্ভরাজের কন্যা। উনিও একজন তপস্বিনী ছিলেন। ওঁদের পুত্রের নাম দৃঢ়স্যু। অগস্ত্যমুনি একবার তাঁর পত্নী লোপামুদ্রার ইচ্ছাপূরণের জন্য রাক্ষস ইল্বলের কাছে ধন চাইতে এসেছিলেন, তখন ওঁর চোখের সন্মুখে ইল্বলের ভ্রাতা বাতাপি একটি মেষ হয়ে গেলেন। ইল্বল সেই মেষটি কেটে রন্ধন করে অতিথিদের দিতে, অগস্ত্য বললেন আমিই একে খাব। এর আগে বহুবার ইল্বল এইভাবে তাঁর মেষরূপী ভ্রাতাকে কেটে ব্রাহ্মণদের খাইয়ে, উদরস্থ ভ্রাতাকে পুনর্জীবিত করে ব্রাহ্মণদের অপমৃত্যু ঘটিয়েছেন। এবারও তাই ঘটবে তিনি ভেবেছিলেন। কিন্তু অগস্ত্যের খাওয়া শেষ হলে ইল্বল যখন বাতাপিকে ডাকলেন, তখন অগস্ত্য বললেন যে,বাতাপি আসবে না,কারণ তিনি তাঁকে জীর্ণ করে ফেলেছেন।

কালেয় দানবরা যখন রাত্রিকালে সমুদ্র থেকে বেরিয়ে তপস্বী ব্রাহ্মণদের বধ করছিলেন তখন দেবতাদের অনুরোধে অগস্ত্য মহাসমুদ্র পান করেন। ফলে কালেয়দের আর আত্মগোপন করার স্থান রইলো না - দেবতাদের হাতে নিহত হলেন। দানবরা বিনষ্ট হবার পর দেবতারা যখন অগস্ত্যকে বললেন উদর থেকে জলরাশি উদ্গার করে সমুদ্রকে আবার পূর্ণ করতে, তিনি বললেন,সব জল জীর্ণ হয়ে গেছে। পরে ব্রহ্মা ভগীরথকে দিয়ে সমুদ্র আবার জলপূর্ণ করেন।

দানবরা একবার দেবতাদের পরাজিত করে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত করলে দেবতারা অগস্ত্যের শরণাপন্ন হন। অগস্ত্য সেই শুনে ক্রোধে প্রজ্বলিত হলে,দানবরা দগ্ধ হয়ে প্রাণশূন্য হয়ে অন্তরীক্ষ থেকে নিপাতিত হতে লাগলেন। শুধু যাঁরা মর্তে আর পাতালে ছিলেন - তাঁরাই রক্ষা পেলেন। স্বর্গস্থ দানবরা সব বিনষ্ট হলে দেবতারা অগস্ত্যকে অনুরোধ করলেন,মর্ত ও পাতালের দানবদেরও বিনষ্ট করতে। অগস্ত্য রাজি হলেন না। দেবতাদের বললেন যে,ওঁদের অনুরোধ রক্ষা করতে উনি স্বর্গের দানবদের ধবংস করেছেন, কিন্তু এখন অন্য অনুরোধ রক্ষা করতে হলে,ওঁর নিজের তপোবল ক্ষয়প্রাপ্ত হবে।

একবার বিন্ধ্যপর্বত মেরুপর্বতের প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে বাড়তে শুরু করেছিলেন যাতে মেরু-প্রদক্ষিণকারী চন্দ্রসূর্যের পথরোধ হয়। দেবতারা অগস্ত্যের শরণ নিলে অগস্ত্য বিন্ধ্যের কাছে গিয়ে বললেন যে,তিনি দক্ষিণে যাবেন - বিন্ধ্য যেন ওঁর পথ করে দেন। আর অগস্ত্য না ফেরা পর্যন্ত বিন্ধ্য যেন আর বর্ধিত না হন। বিন্ধ্য অগস্ত্যকে ভক্তি করতেন বলে তাতে স্বীকৃত হলেন। অগস্ত্য দক্ষিণ দিকে চলে গেলেন,কিন্তু আর ফিরলেন না। বিন্ধ্যপর্বতও আর বাড়তে পারলেন না।