ভীষণ রাগী, কিন্তু বিখ্যাত মুনি। একবার দুর্বাসা দুর্যোধনের আতিথ্য নিলে দুর্যোধন প্রাণপাত করে তাঁর সেবা করেন। সেবায় সন্তুষ্ট হয়ে দুর্বাসা বর দিতে চাইলেন। দুর্যোধন পূর্বেই কর্ণ ও অন্যান্যদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থির করে রেখেছিলেন যে, কি চাইবেন। তিনি দুর্বাসাকে অনুরোধ করলেন বনবাসী পাণ্ডবদের আতিথ্য গ্রহণ করতে, আর দ্রৌপদীর আহার সমাপ্ত হবার পর ওঁদের বাসস্থানে যেতে। দুর্যোধন জানতেন যে, তখন দুর্বাসা উপস্থিত হলে পাণ্ডবদের অক্ষয়পাত্রে সেদিনের জন্য আর কোনও আহার্য থাকবে না। আহার না পেলে দুর্বাসা কুপীত হবেন এবং পাণ্ডবদের অভিশাপ দেবেন। অযুত শিষ্য নিয়ে যখন দুর্বাসা এলেন, তখন দ্রৌপদী ভীতা হয়ে কৃষ্ণকে স্মরণ করলেন। দ্রৌপদী ওঁকে ডাকছেন জেনে কৃষ্ণ তৎক্ষণাৎ এসে সব শুনে দ্রৌপদীকে বললেন যে, উনিও ক্ষুধার্ত। তারপর দ্রৌপদীকে সূর্যের দেওয়া অক্ষয়পাত্রটি আনতে বললেন। সেই পাত্রের কানায় একটু শাকান্ন তখনও লেগে ছিল। সেটি খেয়ে - বিশ্বাত্মা যজ্ঞভোজী এতে তৃপ্তিলাভ করুন, এই বলে কৃষ্ণ সহদেবকে পাঠালেন মুনিদের ডেকে আনতে। দুর্বাসা শিষ্যদের সঙ্গে নদীতে স্নান করতে গিয়েছিলেন। হঠাৎ তাঁদের ক্ষুধা অন্তর্হিত হল - গুরুভোজনের ক্লেশ অনুভব করতে লাগলেন। দুর্বাসা ভীত হলেন। তিনি জানতেন যে, পাণ্ডবরা কৃষ্ণের আশ্রিত। অন্ন পাক করতে বলে এখন না খেলে পাণ্ডবরা হয়তো ক্রুদ্ধদ্ধ হয়ে ওঁকেই দগ্ধ করবেন। তিনি সশিষ্য পলায়ন করলেন।
কুন্তি দুর্বাসার প্রসঙ্গে একবার বলেছিলেন যে, কুমারী জীবনে শুচিতার দ্বারা তিনি দুর্বাসার সেবা করেছিলেন। বিশেষভাবে ক্রুদ্ধ হবার মত ব্যাপারেও তিনি ক্রুদ্ধ হন নি। ক্রুদ্ধ হবার মত কি আচরণ দুর্বাসা করেছিলেন - সেটা সম্পর্কে অবশ্য কুন্তি বিশদ করে কিছু বলেন নি। মহাভারতের অন্য এক স্থানে আছে - দুর্বাসা যখন কৃষ্ণের অতিথ্য নিয়েছিলেন তখন একদিন শয়নমন্দিরে প্রবেশ করে শয্যা, আস্তরণ ও নানা অলঙ্কারভূষিত কন্যাগণকে দগ্ধ করলেন। তারপর শয়নগৃহ থেকে বেরিয়ে কৃষ্ণকে পরমান্ন আনার আদেশ দিলেন। পরামান্ন খাবার পর কৃষ্ণকে উচ্ছিষ্ট পায়েস গায়ে মাখতে বলে স্বয়ং কৃষ্ণের পত্নী রুক্মিনীর সারা গায়ে পায়েস লেপন করলেন। তারপর রুক্মিনীকে তাঁর রথে নিয়োজিত করে বাহনদের যেরকম কশাঘাত করা হয় সেইভাবে রুক্মিনীকে পুনঃ পুনঃ কশাঘাত করে চলনা করলেন। সেই কশাঘাতের তাড়না আর দুর্বাসাকে বহন করার পরিশ্রম সহ্য না করতে পেরে রুক্মিনী ভূমিতে পতিত হয়েছিলেন। পরে অবশ্য দগ্ধ কন্যাগণ তাঁদের জীবন ফিরে পেয়েছিলেন। কুন্তি ও রুক্মিনীও দুর্বাসার আশীর্বাদ পেয়েছিলেন। কিন্তু নারীদের প্রতি দুর্বাসার এই আচরণ ওঁর চরিত্রের একটি কুৎসিত দিক পরিস্ফুটিত করে।