ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারীর জ্যেষ্ঠ পুত্র - কলির অংশে ওঁর জন্ম। ওঁর অপর নাম সুযোধন। কলিঙ্গরাজ চিত্রাঙ্গদের কন্যাকে স্বয়ংবর সভা থেকে বলপূর্বক হরণ করে দুর্যোধন তাঁকে বিয়ে করেন। দুর্যোধনের দুহিতা লক্ষণার সঙ্গে কৃষ্ণের পুত্র শাম্বর বিবাহ হয়। দুর্যোধনের জন্ম মাত্র নানাবিধ দুর্লক্ষণ দেখে বিদুর সহ অনেকে ধৃতরাষ্ট্রকে পুত্র-পরিত্যাগ করতে বলেছিলেন। কৈশোর থেকেই পাণ্ডবদের প্রতি দুর্যোধনের প্রবল বিদ্বেষ দেখা দিয়েছিল। অতিথি-পরায়ণতা, রাজনীতিজ্ঞান, বন্ধু-বৎসলতা, প্রজাপালন ক্ষমতা ইত্যাদি গুণ থাকা সত্বেও প্রবল পাণ্ডব-বিদ্বেষই তাঁর চরিত্র কলুষিত করেছে। বহুবার নানা উপায়ে পাণ্ডবদের তিনি হত্যা করার চেষ্টা করেছেন। কপট দ্যূতে পাণ্ডবদের সর্বস্য হরণ করেছেন, তাঁদের বনবাসে পাঠিয়েছেন, এমন কি পাণ্ডব-পত্নী দ্রৌপদীকে জনসমক্ষে লাঞ্ছনা করতে সঙ্কোচ বোধ করেন নি। আবার এই দুর্যোধনই কর্ণের এক লজ্জাকর মুহূর্তে এগিয়ে এসে তাঁর সঙ্গে আজীবন সখ্যতায় নিজেকে বেঁধেছেন, দক্ষতার সঙ্গে রাজকার্য চালিয়ে প্রজাদের মনোরঞ্জন করেছেন এবং অসংখ্য নৃপতিদের সঙ্গে আমৃত্যু মিত্রতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দুর্যোধনের লোভ, দলীয় শক্তির ওপর অতি মাত্রায় আত্মবিশ্বাস ও সর্বোপরি পাণ্ডব-বিদ্বেষ - এই ছিল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের মূল কারণ। যুদ্ধের শেষে পুত্র ভ্রাতা ও সুহৃদদের হারিয়ে পরাজিত দুর্যোধন দ্বৈপায়ন হ্রদে যখন আত্মগোপন করেছিলেন, তখন খবর পেয়ে পাণ্ডব ও পাঞ্চালগণ সেখানে এসে উপস্থিত হন। পাণ্ডবদের বাক্যবান সহ্য করতে না পেরে দুর্যোধন গদা হাতে বেরিয়ে এসে একে একে সবার সঙ্গে যুদ্ধ করতে চাইলেন। তখন ভীম এগিয়ে আসায় দুজনের গদাযুদ্ধ শুরু হল। দুজনেই বলরামের সুযোগ্য শিষ্য ভীমের বাহুবল দুর্যোধনের থেকে বেশি, কিন্তু যুদ্ধ-কৌশলে দুর্যোধন ভীমের চেয়ে অভিজ্ঞ। ধর্মসঙ্গত যুদ্ধে ভীমের জয় অসম্ভব। গদাযুদ্ধে নাভির নিচে আক্রমণ করা নিষিদ্ধ। কিন্তু দ্রৌপদীকে জন-সমক্ষে লাঞ্ছনা করার সময় দুর্যোধন যখন দ্রৌপদীকে নিজের বাম উরু প্রদর্শন করেছিলেন, তখন ভীম শপথ করেছিলেন যে তিনি ঐ উরু ভঙ্গ করে এর প্রতিশোধ নেবেন। সুযোগ পাওয়া মাত্র ভীম গদাঘাতে দুর্যোধনের দুই উরুই একসঙ্গে ভাঙ্গলেন। ক্ষত্রিয়রা যুদ্ধে প্রাণ হারালে তাঁদের স্বর্গ-লাভ হয় - সেই আনন্দে এবং এই বীরশূন্য শ্মশানতুল্য পৃথ্বি লাভ করেও পাণ্ডবরা সুখি হতে পারবে না - এই সুখ চিন্তায় দুর্যোধন মহাপ্রয়াণে যান।