রাজা প্রতীপ ও তাঁর স্ত্রী সুনন্দার পুত্র। শান্তনু পূর্বজন্মে ছিলেন ইক্ষ্বাকুবংশীয় বিখ্যাত নৃপতি মহাভিষ। মহাভিষ স্বর্গে গিয়ে দেবী গঙ্গাকে দেখে চোখ ফেরাতে পারেন নি বলে, ব্রহ্মার অভিশাপে আবার মর্তে জন্মগ্রহণ করেন। রাজা হবার পর একদিন মৃগয়া উপলক্ষ্যে শান্তনু যখন নদীতীর দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন সুন্দরী গঙ্গাদেবীর দেখা পান। শান্তনু ওঁকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে উনি রাজি হন এই শর্তে যে, শান্তনু কোনওদিন ওঁর কোনও কাজে বাধা দিতে পারবেন না। বাধা দিলেই গঙ্গা চলে যাবেন। গঙ্গা ও শান্তনুর মোট আটটি পুত্র হয় (এঁরা সবাই পূর্বজন্মে অষ্টবসু ছিলেন)। কিন্তু সন্তান জন্মান মাত্রই গঙ্গা সেটিকে নদীতে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দিতেন। যখন অষ্টম সন্তান,দেবব্রতকে গঙ্গা বিসর্জন দিতে যাচ্ছেন, তখন শান্তনু ওঁকে বাধা দিলেন। গঙ্গা তখন শান্তনুকে ওঁর শর্তের কথা স্মরণ করিয়ে আত্মপরিচয় দিয়ে পুত্রকে নিয়ে চলে যান। পরে এই পুত্রকে শান্তনু ফেরত্ পান এবং ইনিই পরবর্তি কালে ভীষ্ম রূপে পরিচিত হন। ভীষ্ম যখন যুবক, তখন শান্তনু মৃগয়ায় গিয়ে মত্সজীবীর পালিতা এক রূপসী কন্যা সত্যবতীকে দেখে মু±ধ হয়ে তাঁকে বিবাহ করেন। সত্যবতীর গর্ভে বিচিত্রবীর্য ও চিত্রাঙ্গদ নামে ওঁর আরও দুটি সন্তান হয়।