প্রথম পাতা

শহরের তথ্য

বিনোদন

খবর

আইন/প্রশাসন

বিজ্ঞান/প্রযুক্তি

শিল্প/সাহিত্য

সমাজ/সংস্কৃতি

স্বাস্থ্য

নারী

পরিবেশ

অবসর

 

বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান

বিংশশতাব্দীতে বিজ্ঞানে কিছু
আবিষ্কার ও উদ্ভাবন এবং ঘটনা

(২৪)
সাধারণ আপেক্ষিতাবাদ তত্ব

আবিষ্কার : ১৯১৫ খ্রীষ্টাব্দ
বিজ্ঞানী : আইনস্টাইন

'সাধারণ আপেক্ষিতাবাদ তত্ব' হল 'বিশেষ আপক্ষিতাবাদ তত্বের' একপ্রকার সাধারণীকরণ, মাধ্যাকর্ষণ-কে অন্তর্ভুক্ত করে । সাধারণ আপেক্ষিতাবাদে 'ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতি' (noneuclidean Geometry) ব্যবহার করে আইন্স্টাইন দেখিয়েছেন কিভাবে দেশ-কালের বক্রতাকে তত্বে প্রকাশ করা সম্ভব । অন্যদিকে বিশেষ আপেক্ষিকতায় বক্রকে উপেক্ষা করা হয়েছে । প্রতিদিনের কাজকর্মে পৃথিবীর তলের বক্রতা সব সময়ে নজরে আসেনা (ছোট পরীক্ষাগারে মাধ্যাকর্ষণের প্রভাব খুবই সামান্য ) সেক্ষেত্রে ক্ষুদ্র প্রশ্নে দেশকালের বক্রতাকে উপেক্ষা করা যায় অর্থাত্ ক্ষুদ্র ক্ষেত্রে বিশেষ আপেক্ষিকতা হল সাধারণ আপেক্ষিকতাবাদ তত্বের সমর্থনীয় উপযোজন ।

পরস্পরের সাপেক্ষে ত্বরিতগতি সম্পন্ন দুটি তন্ত্র কখনও সমতুল নয়- একটিতে জাড্যিক বলের সৃষ্টি হয়, অপরটিতে নয় । উদাহরণস্বরূপ, পৃথিবীর ত্বকের দিকে মুক্তভাবে পতনশীল একটি উত্তোলকের কথা ধরা যেতে পারে । উত্তোলকের ভিতরে অবস্থিত কোনও দর্শকের কাছে মাধ্যাকর্ষণ অন্তর্হিত হবে । আবার পৃথিবীর সাপেক্ষে স্থির সেই উত্তোলকের অবস্থার সমতুল নয়, এখানে মাধ্যাকর্ষণ অবশ্যই আছে । আইন্স্টাইন লখ্য করলেন যে উপযুক্ত মাধ্যাকর্ষণ ক্ষেত্র ঢুকিয়ে দুটি তড়িত্গতি বিশিষ্ট তন্ত্রকে সমতুল করে দেওয়া সম্ভব । প্রয়োজন হল, F = m a সমীকরণে যে জাড্যিক আত্মপ্রকাশ করে, তা F = k mn' / r² সমীকরণে যে মাধ্যাকর্ষণ ভর তার সমান হতে হবে ।

এই চমকপ্রদ বিষয়টি প্রকাশ করার জন্য বলা হয়ে থাকে যে মাধ্যাকর্ষণের ভর ও জাড্যিক ভর এক । পিসার বিখ্যাত স্তম্ভ থেকে বিখ্যাত পরীক্ষাটি করে গ্যালিলিও এই তথ্য প্রথম আবিষ্কার করেন । পরবর্তীকালে নিউটন, ভন ইয়োটভস্ ( হাঙ্গেরি, ১৮৯১ ) এবং আর. এইচ. ডি. সুক্ষ্মতর পরিমাপ করেন ( ১৯৬৩ খ্রী ) ।


(২৫)
ক্রোমোজোম তত্ব ও জীন-ম্যাপ

আবিষ্কার : ১৯১০
বিজ্ঞানী : টমাস হান্ট মরগান,
অzালফ্রেড হেনরি স্টার্টভেন্ট

বংশগতি ক্রোমোজোম তত্ব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সময়ে জীববিজ্ঞানী টমাস হাণ্ট মোরগান কখনও কখনও নজর করেছিলেন যে, অন্বিত প্রলক্ষণগুলি আলাদা হয়ে যায় । ইতিমধ্যে, একই ক্রোমোজোমের অন্যান্য প্রলক্ষণগুলি যত্সামান্য অন্বয় উদ্ঘাটন করে । মোরগান প্রস্তাব করলেন যে কোনও প্রকার ক্রোসিংওভার (crossover ) বা পুনর্মিলন (recombination) প্রক্রিয়া এই ফলকে ব্যাখ্যা করতে পারে । বিশেষভাবে তিনি প্রস্তাব রাখলেন যে, দুটি সংযুক্ত ক্রোমোজোম 'গণ্ডী পার হয়ে' তথ্য দেওয়া-নেওয়া করতে পারে । আজ আমরা জানি যে পুনর্মিলন হয় মেয়োসিসের প্রথম দশায়।

মরগান ভাবনা করলেন ক্রোমোজোমে জীনগুলি হল যেন সুতার উপর মুক্তা বসানো (Weiner, 1999) ; অর্থাত্ তারা প্রাকৃতিক বস্তু । ক্রোমোজোমে জীনগুলি যত কাছাকাছি থাকবে, তাদের উত্তরাধিকার প্রাপ্ত হওয়ার সুযোগ তত বেশি হবে । একই ক্রোমোজমে জীনের অবস্থান একটা থেকে অন্যটির, যত বেশি হবে ততই পুনর্মিলনে আলাদা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি । মোরগান সঠিকভাবেই সিদ্ধান্ত করলেন যে, দুটি জীনের মধ্যে সংবদ্ধতার (linkage) শক্তি নির্ভর করে ক্রোমোজোমে তাদের পরস্পরের মধ্যে দূরত্বের উপর ।

মরগান দ্বারা থিসিস উপস্থাপনের পরপরই তাঁর ১৯ বত্সর বয়েসি সহকর্মী (কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র) অzালফ্রেড হেনরি স্টার্টভেন্ট (Alfred Henry Sturtevant) ভাবনা করলেন যে যদি ক্রসিং-ওভার-এর কম্পাঙ্ক দূরত্বের উপর নির্ভরশীল, তাহলে ক্রোমোজোমে জীনের অবস্থান-কে ম্যাপের সাহায্যে দেখানো যেতে পারে । যে রকম ভাবনা, সেই মত স্টার্টভেন্ট জীন-ম্যাপ তৈরি করে ফেললেন ।

 

শঙ্কর সেনের সৌজন্যে

( চলবে )

 

Copyright © 2014 Abasar.net. All rights reserved.


অবসর-এ প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।