বিদায় তারিক ভাই, বিদায়

সুজন দাশগুপ্ত

[লেখক পরিচিতি: বহু বছর ধরে আমেরিকা প্রবাসী। এক সময়ে পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন - এখন কালে-ভদ্রে। ধাঁধা ও রহস্যকাহিনীর ওপর প্রায় গোটা কুড়ি বই আছে, যার মধ্যে কয়েকটি সম্পাদিত গ্রন্থ। গোয়েন্দা একেনবাবু-র মানসপিতা; ওয়েব ম্যাগাজিনদ্বয়, https://www.abasar.net এবং http://www.bengalimystery.com-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। ]

এই মাত্র খবর পেলাম, বন্ধু জিয়াউদ্দীন তারিক আলি আর নেই। কোভিড ১৯-এ আক্রান্ত হয়ে সোমবার সকালে বাংলাদেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে। ‘৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তারিক আলী ছিলেন একজন উদার মনের মানুষ। বাংলাদেশে বহু কর্মকাণ্ডে তিনি নিবিড় ভাবে যুক্ত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরের অন্যতম ট্রাস্টি হিসেবে সেটিকে গড়ে তোলার কাজে ওঁর অবদান ছিল তুলনীয়। এছাড়া সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের-এর তিনি ছিলেন সভাপতি। নীচে কয়েক বছর আগে বাংলাদেশের মাছরাঙা টিভি-তে তারিক আলির ইন্টারভিউয়ের লিঙ্ক দেওয়া হল।

https://www.youtube.com/watch?v=cC2HLJFymBY&feature=youtu.be&fbclid=IwAR0OESsQsUB0ZjniT6hoWcAI5EAInEiAB9ZScDnY-Y_HU0UEfES_7wQqP84

আমার উদারমনা বন্ধুদের মধ্যে তারিক ছিল অন্যতম। ওর সঙ্গে আমার আলাপ নিউ জার্সিতে।  তখন জানতামও না বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে তারিক সক্রিয় অংশ নিয়েছিল।  যখন বাংলাদেশে ফিরে গিয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ মিউজিয়াম’ গড়ে তুলছে, তখনই ভালো করে জানলাম। মৃত্যুর পর ঢাকা ট্রিবিউন-এ দেখলাম, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুক্তিযুদ্ধে তারিকের ভূমিকা উল্লেখ করে।

এখানে ওকে জানতাম, রবীন্দ্র-ভক্ত, গান পাগল এবং সুলেখক হিসেবে। যদিও নিজেকে  সুলেখক মানতে চাইত  না। আমি আর অগ্রজ-প্রতিম সুমিত রায় মিলে ‘অবসর’ বলে যে ওয়েবজিন শুরু করেছিলাম, তাতে তারিক ছিল উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্যতম সদস্য। উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শঙ্কর-দাকে (অধ্যাপক শঙ্কর সেন) এ-বছর হারিয়েছি, এখন তারিক ভাইকে।

অনেক  কথা মনে পড়ছে এলোমেলো ভাবে। মাঝে মাঝে যখন বাংলাদেশে ওকে ফোন করেছি,

“কী খবর তারিক ভাই? কোথায়?”

“এই তো বনানী-তে পুজো প্যান্ডেলে এসেছি।”

পরে বাংলাদেশেরই কে জানি আমাকে বললেন, তারিক প্রত্যেক পুজোয় ধুতি-পাঞ্জাবি পড়ে বেরিয়ে পড়ে – নানান পুজো মণ্ডপে হাজিরা দেবার জন্য।

একবার ফোন করেছিলাম নিউ জার্সির প্যাটার্সনে বাংলাদেশী ইমিগ্রেন্টদের অনেকের নানান রকম অসুবিধা হচ্ছে – সে ব্যাপারে সাহায্যের জন্য। ওখানে ইমিগ্রেন্টদের একটা বড় সমস্যা ভাষা সংক্রান্ত, যেহেতু অনেকেই এসেছেন লটারি ভিসাতে। শমীতা অনেক সাহায্য করার চেষ্টা করছে, কিন্তু ওর একার পক্ষে অসম্ভব, এগিয়ে আসা দরকার কোনও বাংলাদেশী সংস্থার, যারা সিলেটি ও অন্যান্য বাংলা ডায়ালেক্টে-এ স্বচ্ছন্দ। তারিকের কি কোনও কন্টাক্ট আছে?

“আচ্ছা সুজন-দা, বউদির এতো মুসলমান-প্রীতি কেন?” বলেই হো হো করে হাসি। “আচ্ছা। দেখছি।”

আমাদের রেডিও সংখ্যার জন্যও বেশ খেটেখুতে একটি লেখা তৈরী করেছিল তারিক, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রথম রেডিও স্টেশন নিয়ে। ঐতিহাসিক সেই লেখাটির লিংক ও নীচে দিলাম।

https://abasar.net/abasarold/abasar/Radioissuetariq.html

এই হল তারিক আলি। বিদায় তারিক ভাই, বিদায়।

(ছবিটি ঢাকা ট্রিবিউন-এর একটি ইন্টারভিউ থেকে নেওয়া।)

 

লেখকের অন্য লেখা:

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    বিশেষ আকর্ষণ

    ২০২১ – নতুন আশা

    ভাস্কর বসু

    পরিকল্পনা মতই ১৫ই জানুয়ারি প্রকাশিত হল ত্রৈমাসিক ‘অবসর’ পত্রিকার ২০২১ এর ‘শীত সংখ্যা’। মাঘ মাস পড়ে গেলেও ‘মাঘের শীত বাঘের গায়ে’ পৌঁছেছে কিনা তা আদৌ বোঝা যাচ্ছে না। ইতিমধ্যে নবান্ন উৎসবের সমারোহ শুরু হয়েছে। বিগত অতিমারীর ভয়ংকর বছরটিকে পিছনে ফেলে নতুন বছরে পৃথিবী আবার ধীর পায়ে চলা শুরু করেছে। এবার প্রচ্ছদকথা – ‘শিক্ষা-দীক্ষা’। মাতৃভাষায় শিক্ষার […]

    Read More

    মাতৃভাষায় উচ্চশিক্ষার প্রস্তাবনা ও প্রয়াসের পুনর্মূল্যায়ন

    বিভাস ভট্টাচার্য

    শিক্ষাদানের মাধ্যম কী হওয়া উচিত তা নিয়ে শিক্ষাবিদেরা যেমন বিভিন্ন সময়ে চিন্তাভাবনা করেছেন, তেমনি সাধারণ মানুষকেও এই বিষয়টি নিয়ে, বলা ভালো এই সমস্যাটি নিয়ে, বিস্তর আলোচনা করতে দেখা গেছে সাম্প্রতিক অতীতে; এমনকি এই সময়েও এ নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত। ভাষানীতি ও শিক্ষানীতি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরকারি স্তরে পরিবর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি সেই বিতর্কে ইন্ধন জুগিয়েছে, কখনও কখনও বিভ্রান্তিও […]

    Read More

    হরফ-এর অবসর

    সুমিত রায় ও সুজন দাশগুপ্ত

    সুজনের কথা নতুন অবসর-এর সম্পাদক ভাস্কর-এর কাছ থেকে হুকুম এসেছে তথ্যের পুরোনো ওয়েবসাইট অবসর.নেট (abasar.net) -এর গোড়ার কথা লিখতে – কবে শুরু হল, কেন হল, পনেরো ষোলো বছর চালাতে কী অভিজ্ঞতা আমাদের হল, এই সব নিয়ে। সত্যি কথা বলতে কী, খুব চিন্তা ভাবনা করে অবসর শুরু হয়নি। সেসব করা সম্ভব যখন বাংলা ওয়েবসাইট তৈরি করার […]

    Read More

    সৌমিত্র সন্ধান – পরিচালক সুমন ঘোষের সঙ্গে কথাবার্তা

    অরিন্দম ঘোষ

    (সুমন ঘোষ জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত বাঙলা ছবির পরিচালক। তাঁর পরিচালিত ছবিগুলি একই সাথে দর্শক এবং সমালোচকের সমাদর লাভ করেছে। তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি ‘পদক্ষেপ’। সেখানেই তিনি সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়কে পেয়েছিলেন নায়ক রূপে। সৌমিত্র সেই ছবিতে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। তাঁর পরের ছবি ‘নোবেলচোর’ আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করে। পরে আরো তিনটি ছবিতে তিনি কাজ […]

    Read More

    “মংপু – ফিরে দেখা!”

    প্রিয়দর্শী সেন

    [ ভূমিকা – দার্জিলিং জেলার কার্সিয়াং সাবডিভিশনে, পাহাড়ের কোলে ছোট্ট মংপু (Mungpoo বা Mongpu) গ্রামটি বাংলা সাহিত্যে যে স্থায়ী আসন লাভ করেছে, তার প্রধান কারণ মৈত্রেয়ী দেবী। স্নেহধন্যা মৈত্রেয়ীর আমন্ত্রণে এইখানেই একটি সুদৃশ্য বাংলোতে রবীন্দ্রনাথ শেষ জীবনে চারবার এসেছিলেন। সেই সময়ের অনবদ্য স্মৃতি আমরা পাই ‘মংপু-তে রবীন্দ্রনাথ’ বইয়ে। তবে আমরা অনেকেই জানি না, ১৮৬৪ সাল […]

    Read More
    +