প্রথম পাতা

শহরের তথ্য

বিনোদন

খবর

আইন/প্রশাসন

বিজ্ঞান/প্রযুক্তি

শিল্প/সাহিত্য

সমাজ/সংস্কৃতি

স্বাস্থ্য

নারী

পরিবেশ

অবসর

 

বিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞান

বিংশশতাব্দীতে বিজ্ঞানে কিছু
আবিষ্কার ও উদ্ভাবন এবং ঘটনা

(৫৬)

ক্রমবর্ধমান বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ড

আবিষ্কার : ১৯২৯ খ্রীষ্টাব্দ
বিজ্ঞানী : এডউইন হাবল


যখন এডউইন হাবল-কে ১৯১৯ সালে মাউণ্ট উইলসন মানমন্দিরে ( ওয়াশিংটনের কার্নেগি ইন্সটিটিউশনের মানমন্দিরের অংশ ) নিযুক্ত করা হল একজন জুনিয়র জ্যোতির্বিদ হিসাবে, তখনকার দিনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল নেবুলি (nebulae) নামে যে মেঘাচ্ছন্ন প্যাচগুলি (patches) দেখা যায়, তাদের প্রকৃতি কি ? হাবল-এর সহকর্মীদের বেশির ভাগই ভাব্তেন সেগুলি সবই ছায়াপথের অঙ্গ ; কিন্তু হাবল এতটা নিঃসংশয় ছিলেন না । তিনি এই প্রশ্নটির সঠিক উত্তর বের করার জন্য সব থেকে ভালো ভালো চিত্র জোগাড় করলেন এবং দেখালেন যে কিছু রয়েছে ছায়াপথের বেশ বাইরে । অন্যান্য ছায়াপথ আবিষ্কার করে হাবল আমাদের জানা বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডকে ১০০-গুণ বৃদ্ধি দেখতে সক্ষম হলেন । তিনি কিন্তু এখানেই থামেননি । ছায়াপথের মধ্যেকার দূরত্ব এবং ছায়াপথের গতি পরিমাপ করে তিনি সবাইকে অবাক করে দিলেন তিনি কিন্তু এখানেই থামেননি । ছায়াপথের মধ্যেকার দূরত্ব ও ছায়াপথের গতি পরিমাপ করে তিনি আবিষ্কার করলেন যে ব্রহ্মাণ্ড ক্রমবর্ধমান এবং আইনস্টাইন সহ সবাইকে অবাক করে দিলেন ।

হাবল খুব ভাগ্যবান যে তিনি মাউণ্ট উইলসনে এসেছিলেন ১০০-ইঞ্চি মুকুর দূরবীক্ষণ বসানো শেষ হবার পর । একজন সতর্ক এবং পরিশ্রমী গবেষক হিসাবে হাবা্‌ল নীহারিকার(spiral nebulae) অনেক ছবি তুললেন । বস্তুতঃ অনেক ছবির প্রয়োজন ছিল সময়ের সঙ্গে কি পরিবর্তন হচ্ছে তা জানতে । তিনি কিছু nova পরিদর্শন করলেন যার ফলে জানতে পারলেন একটি অনুজ্জ্বল তারা কি ভাবে নিকটবর্তী উজ্জ্বল তারার সংস্পর্শে এসে উজ্জ্বল হয়ে যায় । ৪ অক্টোবর, ১৯২৩ সালে তিনি যখন সদ্য তোলা আন্ড্রোমেডা ছায়াপথের একটি ফটোগ্রাফের সঙ্গে গতকালে তোলা ফোটো মেলাচ্ছিলেন, হাবল সনাক্ত করলেন একটি Cepheid-অস্থির নক্ষত্র, যে নক্ষত্রের দ্বারা ছায়াপথের দূরত্ব মাপা যায় । পরবর্তী কিছু মাসে হাবল নির্ণয় করলেন যে নক্ষত্রের উজ্জ্বলতা পরিবর্তিত হয় ৩১.৪৫ দিনের আবর্তকালে, যার অর্থ হল নক্ষত্রটি সূর্যের থেকে ৭,০০০ গুণ উজ্জ্বল । বাহ্য উজ্জ্বলতার সঙ্গে প্রকৃত উজ্জ্বলতা তুলনা করে হাবল নির্ধারণ করলেন যে এটি ৯০০,০০০ আলোক-বত্‍‌সর দূরে ।

যেহেতু, হারলো শেপলি (Harlow Shapely) পূর্বে পরিমাপ করেছিলেন যে ছায়াপথের দূরত্ব প্রায় ১০০,০০০ আলোক-বত্‍‌সর, এই নূতন অনুসন্ধানের ফল প্রমাণ করে যে আন্দ্রোমেডা ছায়াপথ অন্য ছায়াপথ থেকে অনেক দূরে । পরে গবেষকগণ নির্ণয় করেন যে দু'প্রকারের Cepheid variable নক্ষত্র আছে এবং হাবল তুলনা করছিলেন আন্দ্রোমেডার ভিতরের উজ্জ্বল Cepheid এর সঙ্গে আমাদের নিজস্ব ছায়াপথের অনুজ্জ্বল Cepheld-এর । এর অর্থ আন্দ্রোমেডা প্রকৃতপক্ষে প্রায় ২ মিলিয়ন আলোক-বর্ষ দূরে । পরবর্তী দশকে অন্যান্য অনেক ছাযাপথের দূরত্ব পরিমাপ করা হয়েছে । আজ, বিলিয়ন আকাশ-বর্ষের দূরত্বে ছায়াপথের সন্ধান মিলেছে ।

কিন্তু হবলের কাজ শেষ হয়নি । তিনি জ্ঞাত ছিলেন যে পূর্বে জ্যোতির্বিদ Vesto Slipher কিছু ছায়াপথের Doppler shift পরিমাপ করেছিলেন, এবং দেখেছিলেন যে কিছু আমাদের ছায়াপথের দিকে এগুচ্ছে আবার কিছু প্রচণ্ড বেগে দূরে সরে যাচ্ছে । সহকর্মী Milton Humason-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে হাবা্‌ল যত্ন সহকারে আরও অনেক ছায়াপথের দূরত্ব ও Doppler shift পরিমাপ করলেন ।

১৯২৯ খ্রীষ্টাব্দে হাবল একটি গবেষণা-পত্র প্রকাশ করে দেখালেন যে, ব্রহ্মাণ্ড নিয়তই বেড়ে চলেছে ।

শঙ্কর সেন

( চলবে )

 

(আপনার মন্তব্য জানানোর জন্যে ক্লিক করুন)

অবসর-এর লেখাগুলোর ওপর পাঠকদের মন্তব্য অবসর নেট ব্লগ-এ প্রকাশিত হয়।

Copyright © 2014 Abasar.net. All rights reserved.


অবসর-এ প্রকাশিত পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।