মোবাইল ফোনের বিবর্তন

সুজন দাশগুপ্ত

[লেখক পরিচিতি: বহু বছর ধরে আমেরিকা প্রবাসী। এক সময়ে পত্রপত্রিকায় নিয়মিত লিখতেন - এখন কালে-ভদ্রে। ধাঁধা ও রহস্যকাহিনীর ওপর প্রায় গোটা কুড়ি বই আছে, যার মধ্যে কয়েকটি সম্পাদিত গ্রন্থ। গোয়েন্দা একেনবাবু-র মানসপিতা; ওয়েব ম্যাগাজিনদ্বয়, https://www.abasar.net এবং http://www.bengalimystery.com-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক। ]

[নব্বই দশকের গোড়ার দিকে ভারতে যখন মোবাইল ফোন আনার প্রস্তুতি চলছিল, তখন একটি বিদেশী মোবাইল টেলিফোন নির্মাণ-সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে দিল্লীতে বছর কয়েক কাটিয়েছিলাম। কলকাতায় কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে গিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা অফিসে দুই খ্যাতনামা সাহিত্যিকের  সঙ্গে গল্প করার সময়ে একজন মন্তব্য করেছিলেন, কেন এসব জিনিস এদেশে বিক্রি করার চেষ্টা করছেন – কে কিনবে? আরেকজন সায় দিয়ে বলেছিলেন, ওসব বিদেশেই চলে। তাঁদের মধ্যে একজন প্রয়াত। অন্যজন বোধহয় তাঁর সেই মত পালটেছেন।]

ল্যান্ডলাইন থেকে মোবাইল

বিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে মোবাইল ফোনের  ব্যবহার যখন শুরু  হল,  উন্নত দেশগুলোতে ল্যান্ডলাইন বা তারের টেলিফোনের পরিকাঠামো তখন সুপ্রতিষ্ঠিত। ডিজিটাল যুগও চলে এসেছে। টেলিফোনে ‘ভয়েস কোয়ালিটি’ বা কণ্ঠস্বরের স্পষ্টতা নিয়ে গ্রাহকদের সমস্যা নেই, ফোন তুললেই ডায়ালটোন পাওয়া যায়, অর্থাৎ সার্কিটে ব্লকিং নেই বলেই চলে। আর যেহেতু বেশির ভাগ টেলিফোন-ব্যবস্থাও  ডিজিটাল হয়ে গেছে, টেলিফোন লাইন ব্যবহার করে কম্পিউটারের নানান কাজ দূরে বসেও দ্রুতগতিতে করা যাচ্ছে। সুরক্ষিত লাইনে নতুন নতুন বহু পরিষেবা দেওয়াও সম্ভব হচ্ছে। এই অবস্থায় অপেক্ষাকৃত নিকৃষ্ট ভয়েস কোয়ালিটির মোবাইল ফোন এলো দুটো বিরাট প্রতিশ্রুতি নিয়ে –

প্রথমত, এই ফোনে ‘যে কোনও জায়গা’ থেকে চলমান অবস্থাতেও কথা বলা সম্ভব হবে।

দ্বিতীয়ত, দূর দূর জায়গায় যেখানে জনবসতি প্রায় নেই – সেখানেও অপেক্ষাকৃত অল্প খরচে এবং দ্রুত  ফোনের পরিষেবা দেওয়া যাবে।

ফোনটা যখন মোবাইল, তখন প্রথমটা বুঝতে কোনও অসুবিধা নেই, শুধু দ্বিতীয়টা নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। ফোনের পরিষেবা দিতে হলে টেলিফোন কোম্পানিগুলোকে স্থানীয় এক্সচেঞ্জ  অফিস (যেখানে বিভিন্ন লাইনের সঙ্গে সংযোগ ব্যবস্থাটা ঘটে) থেকে প্রত্যেকটি গ্রাহকের বাড়িতে টেলিফোনের তার টানতে হয়।  টেলিফোন জগতে এই শেষ অংশটাকে বলা হয় ‘লোকাল লুপ’। গ্রামাঞ্চলে বা স্বল্প-জনবসতির দূর দূর অঞ্চলে লোকাল লুপ বসানো ছিল টেলিফোন কোম্পানির চিরকালের সমস্যা।  তারের লাইন বসাতে যে পরিমাণ সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হয় আর্থিক দিক থেকে সেটা মোটেই লাভজনক নয়, অথচ অনেক সময়ে সেটা না করেও উপায় নেই! মোবাইল ফোন-ব্যবস্থায়  অন্যান্য খরচা থাকলেও গ্রাহকের বাড়ি পর্যন্ত তারের লাইন বসানোর প্রয়োজন নেই।  টেলিফোনের এই লোকাল লুপ  যদি তারের বদলে বেতারে করা যেত, তাহলে  অবশ্যই দারুন সুবিধা হত! ভাবনাটা সহজ, কিন্তু এটা করতে হলে বেশ কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন। প্রথম হল, মোবাইল ফোন ব্যবস্থার সঙ্গে ট্র্যাডিশনাল ফোন ব্যবস্থার মধ্যে একটা সমন্বয় গড়ে তোলা।  এছাড়াও অন্য সমস্যা আছে… মোবাইল ফোনের ভয়েস কোয়ালিটি ভালো হবে না, কল ড্রপ – অর্থাৎ কথার মাঝখানে লাইন কেটে যেতে পারে, কথাবার্তা হঠাৎ অস্পষ্ট হয়ে যাবার প্রভূত সম্ভাবনা, গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা জনিত সমস্যাও থাকবে, আর কথাবার্তা বলা ছাড়া অন্য কোনও পরিষেবা মিলবে না।  অর্থাৎ, ধরে নিতে হবে যে, বহু দিক থেকেই টেলিফোন লাইনের সঙ্গে এটা ঠিক তুলনা করা যাবে না।

বেতার লোকাল (Wireless Local Loop) লুপের ছবি

উপস্থিত টেলিফোন ব্যবস্থার উৎকর্ষতার সঙ্গে তুলনীয় না হলেও চলাফেরার স্বাধীনতার জন্যে উন্নত দেশগুলিতে এই পরিষেবা নিতে অনেকেই আগ্রহী হল। গ্রামে গ্রামে টেলিফোন পৌঁছনোর সম্ভাবনা কথা ভেবে প্রশাসনও উৎসাহ দিল এই কাজের জন্যে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সির সংস্থান করার ব্যাপারে। টেলিফোন কোম্পানির সঙ্গে এই ব্যবসায় নামল বেশ কিছু নতুন কোম্পানি। প্রথম দিকে অবশ্য হোঁচট খেতে হল অনেক। তা নিয়ে পরে কিছুটা আলোচনা করব। কিন্তু দুটো ব্যাপার ঘটল –  এই ফোন ব্যবস্থাকে উন্নত করার জন্যে প্রযুক্তিবিদরা উঠে পড়ে লাগলেন। পুরনো রেডিও প্রযুক্তি আর বেতার তরঙ্গের সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে পরীক্ষানিরীক্ষা আরম্ভ হল। কম্পিউটার প্রযুক্তির বিবর্তনের সঙ্গে ডিজিটাল রেডিওকে কেন্দ্র করে তৈরি হল মোবাইল টেলিফোনের নতুন নিয়মাবলী  বা স্ট্যান্ডার্ড। মোবাইলের মাধ্যমে সংরক্ষিত ভাবে ডেটা বা তথ্য আদান প্রদান অনেকটাই বাস্তবায়িত হল।

এই সন্ধিক্ষণে নিজেরদের সীমিত আর্থিক সামর্থের পরিপ্রেক্ষিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির চিন্তাভাবনা শুরু হল, তারা কোন পথে এগোবে। বহু বছরের পুরনো ও নির্ভরযোগ্য টেলিফোন ব্যবস্থার সম্প্রসারণে, না নতুন পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির ওপর বাজি ধরে। ব্যাপারটা নতুন কোনও সমস্যা নয়। প্রযুক্তির বিবর্তন যখন দ্রুতগতিতে ঘটে, তখন উন্নয়নশীল দেশগুলিকে স্থির করতে হয় তারা লাফ দিয়ে সেই নতুনতর প্রযুক্তির হাত ধরবে কি না।  আফ্রিকার দেশগুলিতে দেখা গেল  পুরনো টেলিফোন পরিকাঠামোর সম্প্রসারণে তেমন নজর না দিয়ে কিংবা ডেস্কে বসানো কম্পিউটারের পেছনে না ছুটে, সোজা মোবাইলের যুগে নিজেদের নিয়ে যাবার একটা তীব্র প্রচেষ্টা। প্রথমে অনেকেরই চিন্তা ছিল এভাবে এগোনো কতটা বিচক্ষণতার কাজ। আজকে সকলেই মানবেন সেই সময়ে আফ্রিকার দেশগুলি সত্যিকারের দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিল!

এইভাবে সরাসরি  মোবাইলের যুগে যাওয়ার ফলে ভয়েস কম্যুনিকেশনে বা কথাবার্তায় যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামোতে আফ্রিকা  আজ পৃথিবীর অন্যতম উন্নত দেশ আমেরিকার কাছাকাছি পোঁছতে পেরেছে।  একটা পরিসংখ্যান দেখা যাক। পিউ (Pew ) রিসার্চ সেন্টারের ১৯১৪ সালের সমীক্ষা অনুসারে পুরনো প্রযুক্তির তারের টেলিফোন আফ্রিকায় ছিল মাত্র ২ শতাংশ লোকের, যেখানে আমেরিকায় সংখ্যাটা ছিল প্রায় ৬৭ শতাংশ। কিন্তু মোবাইল ফোনের (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাকে বলা হয় সেলফোন) হিসেব নিলে আফ্রিকার নাইজেরিয়া বা সাউথ আফ্রিকা আমেরিকার থেকে আর পিছিয়ে নেই। তিনটি দেশেই প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষেরই মোবাইল আছে।

একথা ঠিক, আফ্রিকার অনেক মোবাইল ফোনই সাদামাটা — যা দিয়ে কথা বলা যায়, বড়জোর টেক্সট পাঠানো যায়, বা একটু আধটু ইন্টারনেটে ঘোরা যায় – স্মার্ট ফোন সেগুলো নয়। তবে নিঃসন্দেহে মোবাইল ফোনের এই জয়যাত্রা আফ্রিকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে। এতদিন পর্যন্ত ব্যাঙ্কের সঙ্গে যাদের প্রায় যোগাযোগই ছিল না, তারা মোবাইল ব্যাঙ্কের পরিষেবার আওতায় চলে এসেছে। ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলা সহজ হয়েছে। টাকা-পয়সার আদান-প্রদান সম্ভব হয়েছে মোবাইল ব্যাঙ্কের মাধ্যমে। ২০০৭ সালে M-Pesa নামে যে পরিষেবা শুরু হয়েছিল, এখন অনেকেই তার মাধ্যমে  টেক্সট মেসেজ দিয়ে টাকার আদান-প্রদান করছে।  Pew-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী কেনিয়াবাসীদের ৬১ শতাংশ, যাদের মোবাইল ফোন আছে, এই পদ্ধতিতে তারা টাকার আদান-প্রদান করে। ৬২ শতাংশ উগান্ডাবাসী এবং ৩৯ শতাংশ তানজানিয়ার বাসিন্দা এই পরিষেবা গ্রহণ করেছে। [১] সম্প্রতি আমরা ভারতবর্ষেও  দেখেছি, ২০১৬ সালে ডিমনিটাইজেশনের পর মোবাইল ব্যাঙ্কিং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে।

ব্যাঙ্কিং পরিষেবা মোবাইল ফোনের একটা দিক। মোবাইল ব্যবহার করে চাষীরা এখন জানতে পারে কোথায় তাদের পণ্যের চাহিদা বেশি। সেই অনুসারে তারা নিজেদের ফসল উপযুক্ত জায়গায় পাঠাতে পারে।  স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবহন, বিনোদন, নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ম্যানেজমেন্টে মোবাইল ফোন বিশেষ করে স্মার্ট ফোনের অপরিসীম মূল্য সবাই উপলব্ধি করছে। এছাড়া যখন তখন প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলতে পাবার আনন্দ তো আছেই। বলতে গেলে জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মোবাইল পরিষেবা তার প্রভাব ফেলেছে।

 

মোবাইলের আদিযুগ

মোবাইল ফোন এই অবস্থায় অবশ্য রাতারাতি পৌঁছোয়নি। কিন্তু কী ভাবে পৌঁছোলো সে নিয়ে কিছু লেখার আগে প্রথমে টেলিফোন আর রেডিওর কথা বলে নেওয়া দরকার। ১৮৭৬ সালে, মাত্র ২৯ বছর বয়সে টেলিফোন উদ্ভাবন করেন অ্যালেকজান্ডার গ্রাহাম বেল। তার এক বছর বাদে বেল টেলিফোন কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করে তিনি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে টেলিফোন পরিষেবা দেওয়া শুরু করেন। রেডিও এসেছে টেলিফোনের অনেক পরে। প্রথম রেডিও স্টেশন চালু হয় ১৯২২ সালে। কিন্তু অতি অল্প সময়ের মধ্যেই এটি অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করে। রেডিওর সুবিধা হল এটি চলে বেতারে। ঘরে বাইরে যে কোনও জায়গা থেকেই রেডিও শুনতে অসুবিধা নেই। এই সুবিধা যদি টেলিফোনে থাকত, অর্থাৎ যে কোনও জায়গা থেকে যদি টেলিফোন ব্যবহার করা যেত, তাহলে এর উপযোগিতা যে আরও অনেক গুণ বাড়ত তাতে কোনও সন্দেহ নেই। ঠিক এই কারণেই রেডিওর উদ্ভাবন হতে না হতেই বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা উঠে পড়ে লাগলেন রেডিও-র প্রযুক্তি ব্যবহার করে যদি একটি চলমান টেলিফোন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। সাধারণভাবে রেডিও আর টেলিফোনের মধ্যে তফাৎ হল যে, রেডিও একমুখী । অর্থাৎ এতে শক্তিশালী প্রেরকযন্ত্র বা ট্র্যান্সমিটার (Radio Transmitter) দিয়ে গান-বাজনা-কথা ইত্যাদি সম্প্রচার করা যায়; গ্রাহকযন্ত্র বা রিসিভার-এর (Radio Receiver) মাধ্যমে যে-কেউ বহু দূর থেকেও তা শুনতে পায়। এইভাবে সবার জন্য একমুখী প্রচার করাকে বলা হয় ‘ব্রডকাস্ট’ করা। অন্যপক্ষে টেলিফোনের কথাবার্তা সবসময়ে দ্বিমুখী। টেলিফোনের মাধ্যমে বিশ্বশুদ্ধু লোককে না শুনিয়ে দু’জন ব্যক্তি নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলতে পারে। এই তফাৎটা বিচার করলে বোঝা যায় এই দুই প্রযুক্তিকে মেলানো খুব একটা সহজসাধ্য ব্যাপার নয়। সত্যিই কি তাই? প্রত্যেকের কাছে যদি একটা করে ট্র্যান্সমিটার আর রিসিভার থাকে তাহলেই তো দু’জনের কথাবার্তা বলতে পারে! কথাটা ভুল নয়,তবে বাস্তবে সমস্যা অনেক। রেডিওতে একটা স্টেশন ধরতে আমাদের টিউনিং নব ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে (এযুগে বোতাম টিপেই) সেই স্টেশন যে কম্পাঙ্ক বা ফ্রিকোয়েন্সিতে অনুষ্ঠান প্রচার করছে, সেই ফ্রিকোয়েন্সিতে পৌঁছতে হয়। তাহলেই অনুষ্ঠানটা শুনতে পাওয়া যায়। বিভিন্ন রেডিও স্টেশন বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সিতে তাদের অনুষ্ঠান প্রচার করে – যাতে একজনের প্রচারিত অনুষ্ঠান অন্যের অনুষ্ঠানে কোনও ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে। রেডিও দিয়ে মোবাইল ফোন করতে হলে – প্রত্যেকটি গ্রাহককে আলাদা আলাদা করে একটা ফ্রিকোয়েন্সি দিতে হবে। লক্ষ লক্ষ লোককে আলাদা আলাদা ফ্রিকোয়েন্সি দেওয়ার মত অতো ফ্রিকোয়েন্সি পৃথিবীতে নেই। এছাড়া,আরও বহু সমস্যা আছে । রেডিও স্টেশনের ট্র্যান্সমিটারগুলো এককালে খুবই ভারি হত, আর সেগুলো বসানো থাকত উঁচু উঁচু টাওয়ারে। সেগুলো নিয়ে ঘোরাঘুরি করার চিন্তাটাই অবাস্তব। তার ওপর ঐ শক্তিশালী ট্রান্সমিটারের কাছাকাছি সেন্সেটিভ রিসিভার রাখলে সেটা মুহূর্তের মধ্যে অকেজো হয়ে পড়তে বাধ্য।

ডেট্রয়েট পুলিশের মোবাইল

ঠিক এই বিবেচনা থেকেই ১৯৩০ সালে ডেট্রয়েট পুলিশ যখন তাদের গাড়িতে মোবাইল রেডিও বসিয়েছিল, তখন কোনও ট্র্যান্সমিটার গাড়িতে রাখেনি। রেডিওগুলোও ছিল সাধারণ রেডিও – শুধু একটু মজবুত করে তৈরি আর বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সিতে বাঁধা। এই রেডিও মারফৎ কন্ট্রোল রুম পুলিশদের নানা নির্দেশ দিত। পুলিশদের কোনও প্রশ্ন থাকলে কাছাকাছি পাবলিক টেলিফোন বুথে গিয়ে কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করত। প্রসংগত এই ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা ১৯৫০ সালে ডাক্তার এবং অন্যান্য প্রফেশনালদের শুরু হয় পেজার-এর উদ্ভাবনের সঙ্গে। এর মাধ্যমে পেজারধারিকে খবর পাঠানো যেত কোনও বিশেষ দরকারে। এমার্জেন্সি বা অন্যান্য বিশেষ প্রয়োজনে বহু বছর ধরে এই ব্যবস্থা ছিল অপরিহার্য।

আবার মোবাইল রেডিওতে ফিরে আসি। ডেট্রয়েট পুলিশের গাড়িতে মোবাইল বসানোর কয়েক বছর বাদে আমেরিকায় নিউ জার্সির স্টেটের বেয়োন শহরে পুলিশরা যে মোবাইল রেডিও ব্যবহার আরম্ভ করল,  সেটা কিন্তু ছিল দ্বিমুখী – পুশ-টু-টক (হাফ-ডুপ্লেক্স) প্রযুক্তির। অর্থাৎ কথা বলতে হলে বোতাম টিপে রেখে কথা বলতে হত। সেই সময়ে ট্র্যান্সমিটারটা কাজ করত, কিন্তু রিসিভার বন্ধ থাকত। এটি করার উদ্দেশ্য যাতে পাশের ট্র্যান্সমিটারের শক্তির দাপটে রিসিভার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। বেয়োন পুলিশদের জন্য তৈরি এই রেডিওগুলি ছিল বিশাল – পুলিশ-গাড়ির পুরো ট্রাঙ্ক বা ডিকি-ই লেগে যেত এগুলোকে রাখার জন্যে।

১৯৩৫ সালে এডউইন আর্মস্ট্রং এফএম (FM) রেডিও উদ্ভাবন করলেন। এর আগে শুধু এএম (AM) রেডিও ব্যবহার করা হত। এ দুটি প্রযুক্তির তফাৎ হল মডুলেশনের পদ্ধতির। এএম রেডিওতে নানারকমের বিরক্তিকর শব্দ (static) এসে হাজির হত । এফএম রেডিও-র উন্নততর প্রযুক্তিতে সেগুলো প্রায় পুরোটাই দূর হল। তার থেকেও বড় কথা এফএম রেডিওতে অনেক কম-শক্তির ট্র্যান্সমিটার লাগে। সুতরাং ট্র্যান্সমিটার ও রিসিভার পাশাপাশি রাখা এবং একসঙ্গে তাদের ব্যবহার করা অবশেষে সম্ভব হল। এছাড়া চলমান অবস্থায় রেডিও তরঙ্গের যেসব সমস্যা হয়, যেমন ‘ফাস্ট ফেডিং’, এফএম রেডিওতে সেগুলি দেখা গেল অনেক কম। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে আর্মস্ট্রং-এর এই উদ্ভাবন খুবই কাজে লাগল। বিভিন্ন সৈন্যদলের মধ্যে সমন্বয়ের জন্য এফএম প্রযুক্তির দ্বিমুখী রেডিও কাজে লাগাল মিত্রশক্তি। প্রযুক্তিটিকে উন্নততর করার জন্যও সরকারী ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রচুর গবেষণা আরম্ভ হল।

এফএম প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৯৪৬ সালে আমেরিকার টেলিফোন কোম্পানি এ.টি.এন্ড টি (AT&T) মোবাইল টেলিফোনের পরিষেবা দেওয়া শুরু করল। সে সময়কার মোবাইল ফোন এখনকার মোবাইল ফোনের মত নয়। গাড়ির ভেতরে ২০-২৫ পাউন্ডের বিরাট দ্বিমুখী রেডিও (ট্র্যান্সমিটার-রিসিভার) বসানো থাকতো। বাইরে থাকতো একটা অ্যান্টেনা। এগুলি শহরের মাঝখানে একটা উঁচু টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত ট্র্যান্সমিটার ও রিসিভারের সঙ্গে যোগাযোগ করতো। সেগুলি আবার যুক্ত থাকতো টেলিফোনের অফিসে সঙ্গে – যেখানে গিয়ে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ হত।

১৯৭৩ সালে মোবাইল ফোন –
৯ ইঞ্চিX ৫ ইঞ্চি X১.৭৫ ইঞ্চি
ওজন ২.৪ পাউন্ড।

১৯৭৬ সালে নিউ ইয়র্ক শহরের প্রায় দু কোটি বসবাসীদের মধ্যে মাত্র ৫৪৩ জন এই পরিষেবা পেত! এই পরিষেবার জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল মাত্র ১৫ টি এফএম চ্যানেল। চ্যানেল বলতে ঠিক কী বোঝায়, সেটা একটু বিশদ করে বলা যাক। রেডিওর বার্তাগুলো যায় একটা বাহক তরঙ্গের (carrier frequency) মাধ্যমে। এর সঙ্গে যোগ করতে হবে বার্তা তরঙ্গের সর্বোচ্চ পরিমাণ বা ব্যান্ড উইডথ (Bandwidth)। শেষে আবার যোগ করতে হবে একটা গার্ড ব্যান্ড (guardband)।  এই তিনটে মিলে তৈরি হবে এক একটা একটা চ্যানেল। গার্ডব্যান্ডটা দেওয়া হয়, যাতে পাশাপাশি দুটো চ্যানেলের মধ্যে  বার্তা সংঘাত না ঘটে।

১৯৭৬ সালে নিউ ইয়র্কের মোবাইল পরিষেবায় গ্রাহকের নিজস্ব কোনও চ্যানেল থাকত না । যে যখন কথা বলতে চাইতো, তখন তাকে ১৫ টির থেকে যে কোনও একটি চ্যানেল কথা বলার জন্য দেওয়া হত। তার কথা শেষ হলেই সেটি অন্য যে গ্রাহক কথা বলতে চাইছে তাকে দেওয়া হত। অর্থাৎ, এই পরিষেবায় একই সময়ে ১৫ জন গ্রাহকের বেশি কথা বলতে পারতো না। ষোলতম গ্রাহক কথা বলতে চাইলে লাইন পেত না। টেলিফোনের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্লকিং’। কখনো কখনো সাধারণ টেলিফোনেও এটা ঘটে – সবগুলি সার্কিট ব্যবহৃত হচ্ছে বলে ডায়াল-টোন পাওয়া যায় না। তবে নিউ ইয়র্কের মত শহরে যদি ১৫ জনের বেশি লোক এক সঙ্গে কথা বলতে না পারে, তাহলে বাস্তবিকই একটা সমস্যা । বুঝতে অসুবিধা হয় না, কেন এই মোবাইল প্রযুক্তি জনপ্রিয় হয়নি। প্রশ্ন জাগতে পারে মাত্র ১৫ টা চ্যানেলের বদলে ১৫০০ চ্যানেল দিলে অসুবিধা কী ছিল? অসুবিধাটা হল, বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সি অনুমোদিত হয়ে আছে। উদাহরণ স্বরূপ GSM ফোনের জন্য অনুমোদিত বিভিন্ন carrier frequency বা বাহক তরঙ্গের একটি হল 1.8 GHz, অর্থাৎ যার ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাঙ্ক হল প্রতি সেকেন্ডে 1.8 বিলিয়ন। শুধু 1.8 GHz নয়, তার আশেপাশে কিছুটা ফ্রিকোয়েন্সি বা Band রেখে দেওয়া হয়েছে GSM গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্যে। যারা 1.8 GHz GSM-এর গ্রাহক, তাদের সব কথাবার্তা বা ডেটা এই Band-এর মধ্যে অবস্থিত চ্যানেলগুলোর মধ্যে থাকতে হবে, তার বাইরে গেলে চলবে না। এর আশেপাশে যে Band আছে সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে বা রাখা হয়েছে অন্য কোনও কাজের জন্য। সুতরাং যেটুকু GSM-এ বরাদ্দ করা হয়েছে সেটিকেই উন্নততর প্রযুক্তি দিয়ে আরও ভালো ভাবে সদ্ব্যবহার করতে হবে।

খাতায় কলমে মোবাইল ফোনের আর্কিটেকচার

একটা কথা বলা হয়নি। ১৯৪৬ সাল থেকেই বেল ল্যাবোরেটরির কিছু বিজ্ঞানী খাতায় কলমে নতুন ভাবে মোবাইল টেলিফোনের গঠনপ্রণালী নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছিলেন। তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন সাধারণ রেডিও পরিষেবায় যে ভাবে ট্রান্সমিটার ব্যবহার করা হয়, অর্থাৎ বিশাল শক্তিসম্পন্ন ট্র্যান্সমিটার — যার প্রেরিত রেডিও বার্তা মাইলের পর মাইল গিয়ে পৌঁছায়, সেটা মোবাইল ফোনের পক্ষে উপযুক্ত নয়। মোবাইল ফোনের পরিষেবা দিতে হবে খুব অল্প-শক্তিশালী ট্র্যান্সমিটার ব্যবহার করে – যাতে সেই ট্র্যান্সমিটারের বার্তা পাঠাবার ক্ষমতা এক-আধ মাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাতে সুবিধাটা কী? সুবিধা হল, সেই ট্র্যান্সমিটারের থেকে এক দেড় মাইল দূরে আরেকটা ট্র্যান্সমিটারে আবার সেই একই ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করা যাবে (frequency reuse) – প্রথম ট্র্যান্সমিটারের প্রেরিত বার্তায় কোনও রকম বিঘ্ন বা interference না ঘটিয়ে। এতে লাভ হচ্ছে দুটো। যেহেতু একই ফ্রিকোয়েন্সি (বা চ্যানেল) বার বার ব্যবহার করা যাবে, অজস্র চ্যানেলের প্রয়োজন হবে না; আর যেহেতু ট্রান্সমিটারের শক্তি খুব কম হবে – ট্র্যান্সমিটার-রিসিভার তৈরি করতে এবং একসঙ্গে তাদের কাজ করাতে কোনও অসুবিধা হবে না।

এবার তাঁরা পরিষেবা দেবার জন্য একটা শহরকে বহু ছোট ছোট সেল-এ (cell) ভাগ করলেন। প্রত্যেক সেলেই একটা করে ছোট ট্র্যান্সমিটার-রিসিভার টাওয়ার (বেস স্টেশন) থাকবে এবং সেই সেলের জন্য নির্দিষ্ট কতগুলি চ্যানেল থাকবে – যেগুলো আবার দূরে অন্য সেল-এ ব্যবহার করা হবে । মোবাইলটি যে-সেলের মধ্যে থাকবে সেই সেলের জন্য নির্দিষ্ট যে কোনও একটি চ্যানেল সেই মোবাইলটি ব্যবহার করবে। সেই সেলের টাওয়ার মারফৎ বাইরের কোনও টেলিফোনের সঙ্গে মোবাইলটির টেলিফোন সংযোগ ঘটবে । এক সেল থেকে মোবাইলটি যখন অন্য সেল-এ যাবে – ঠিক তার আগে, প্রথম টাওয়ার পাশের টাওয়ারকে বলবে (বেস স্টেশন কনট্রোলার বা মোবাইল সুইচিং সেন্টার মারফৎ) আগন্তুক মোবাইল-এর জন্য একটা চ্যানেল-এর বন্দোবস্ত করতে – যাতে সেখানে ঢোকা মাত্র কানেকশনটা না কেটে আগের চ্যানেল থেকে নতুন চ্যানেল-এ মোবাইল ‘কল’-টা হস্তান্তরিত (hand-off) হয় । এই প্রযুক্তির একটা নাম দেওয়া হল —  সেলুলার (cellular) প্রযুক্তি । সেলুলার ব্যবস্থায় কম চ্যানেল ব্যবহার করে বহু মোবাইলকে পরিষেবা দেওয়া যাবে। শুধু তাই নয়, এই ব্যবস্থায় সেল-স্প্লিটিং, অর্থাৎ একটা সেলকে আরও ছোট ছোট সেলে (মাইক্রোসেল) ভাগ করে পরিষেবার ক্যাপাসিটি যথেচ্ছা বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকবে। অর্থাৎ সব সমস্যার সমাধান!

খাতায় কলমে এটি চমৎকার হলেও বহুদিন – এ নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় নি। তার কারণ এটি ব্যবহার করতে গেলে সেল থেকে সেলে যাবার সময়ে রেডিও রিসিভারকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুহূর্তের মধ্যে নিজেকে টিউন করতে হবে নতুন ফ্রিকোয়েন্সিতে; দরকার হবে শক্তিশালী  মাইক্রোপ্রসেসর ও জটিল সফটওয়্যার-এর। ১৯৪৬ সালে সেগুলো কল্পনার বাইরে ছিল, কিন্তু সব কিছুই ধীরে ধীরে গড়ে উঠলো।  এরই ভিত্তিতে মোবাইল পরিষেবা এবার সত্যিকারের বাস্তবরূপ নিল।   এইজন্যেই বহু দেশে ‘মোবাইল ফোন’কে বলা হয় সেল-ফোন, আর পরিষেবাকে বলা হয় সেলুলার পরিষেবা।

 

প্রথম জেনারেশনের মোবাইল 1G

মোবাইল ফোনের সহজ আর্কিটেকচার

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম সেলুলার পরিষেবা চালু হল ১৯৮৩ সালে শিকাগোতে। এই প্রযুক্তির নাম দেওয়া হল অ্যাডভান্সড মোবাইল ফোন সার্ভিস (AMPS)। যে রেডিও এতে ব্যবহার করা হত সেগুলো ছিল অ্যানালগ। এই পরিষেবা সেলুলার ফোনের প্রথম পরিষেবা বলে এর নাম দেওয়া হল ফার্স্ট জেনারেশন মোবাইল বা 1G। জাপানের টোকিও শহরে অবশ্য নিপ্পন টেলিফোন এন্ড টেলিগ্রাফের উদ্যোগে এই পরিষেবা দেওয়া আরম্ভ হয়েছিল ১৯৭৯ সালে। এর অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অ্যানালগ রেডিও ব্যবহার করে NMT, TACS, ইত্যাদি পরিষেবা ব্যবস্থা গড়ে উঠল। মূল প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য থাকলেও সেগুলোর প্রয়োগ ব্যবস্থা ছিল ভিন্ন – ফলে একটা ফোন নিয়ে একটা ব্যবস্থা থেকে অন্য ব্যবস্থায় যাওয়া যেত না।

1G বা ফার্স্ট জেনারেশন মোবাইল ব্যবস্থা যে কাজ করছিল না, তা নয়। রেডিওর উন্নতির ফলে কথাবার্তা মোটামুটি ভালোই শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু ডেটা বা তথ্য পাঠানোর জন্যে এই ব্যবস্থা সন্তোষজনক ছিল না। এ ছাড়া যে মাধ্যম দিয়ে রেডিও বার্তা যায়, সেই মহার্ঘ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিও এই ব্যবস্থায় বেশি লাগছিল।

এখানে ‘মহার্ঘ’ শব্দটা ব্যবহার করলাম। কিন্তু প্রশ্ন জাগবে মহার্ঘ কেন?  মহার্ঘ এই কারণে যে মোবাইল ফোনের এই রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ‘লাইসেন্সেড স্পেকট্রাম’-এর আওতায় পড়ে। অর্থাৎ এটা বিনেপয়সায় ব্যবহার করা যায় না। প্রশাসনের কাছ থেকে বেশ ভালো রকমের টাকা দিয়ে লিজ নিতে হয়। সাধারণত স্পেকট্রামের নিলাম হয়, যে কোম্পানি বেশি টাকা দিতে পারে এবং প্রশাসন মনে করে সেই কোম্পানির এটাকে সুব্যবহার করার যোগ্যতা রয়েছে – তাকেই স্পেকট্রাম লিজ দেওয়া হয়।  স্পেকট্রামের মূল্য ঠিক কী হওয়া উচিত সেটা কিন্তু সহজ হিসেব নয়। মোবাইল কোম্পানির লাভ-ক্ষতি ছাড়াও এর সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নানান সামাজিক  সুবিধা-অসুবিধা জড়িত। তাই স্পেক্ট্রাম-কেলেঙ্কারি নিয়ে যখন নানান নরম-গরম খবর শোনা যায়, আসল সত্যটা অনেক সময়েই ঢাকা পড়ে যায়। সেটা অন্য একটা বিষয়, এখন পুরনো প্রসঙ্গে ফিরে আসি।

 

দ্বিতীয় জেনারেশনের মোবাইল 2G

বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদরা চিন্তাভাবনা শুরু করলেন কী ভাবে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো যায়। AMPS প্রযুক্তিতে গ্রাহকদের কথা বলার সময় এক একটি করে চ্যানেল দেওয়া হয়। অর্থাৎ একই ফ্রিকোয়েন্সি বিভিন্ন গ্রাহক ব্যবহার করতে পারে, কিন্তু একই সময়ে নয়, বিভিন্ন সময়ে। এটাকে  টেকনিক্যালি বলা হত হত ফ্রিকোয়েন্সি ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস (FDMA)। কিন্তু সত্যিই কি সেটার প্রয়োজন আছে? একই সঙ্গে একটা চ্যানেল বিভিন্ন গ্রাহকরা কেন ব্যবহার করতে পারবেন না? AMPS রেডিও ছিল অ্যানালগ (analog) রেডিও  – তাতে সেটা সম্ভবপর ছিল না।  উদ্ভাবিত হল ডিজিটাল রেডিও – যাতে ব্যবহার করা যায় টাইম ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস (TDMA) এবং কোড ডিভিশন মাল্টিপল অ্যাকসেস (CDMA)পদ্ধতি। প্রসঙ্গত ট্র্যাডিশনাল টেলিফোনের ইলেকট্রনিক সুইচে অনেকদিন আগেই ডিজিটাল সিগনাল ব্যবহার করে গ্রাহকদের ক্যাপাসিটি বাড়নো হয়েছিল TDMA-এর পন্থায়।

চ্যানেল হচ্ছে একটা ঘর

TDMA, CDMA শব্দগুলো গালভারী এবং প্রযুক্তিও যথেষ্ট গোলমেলে। কিন্তু জটিলতা এড়িয়ে সহজ ভাষায় এদের নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক। আমরা যদি মনে করি চ্যানেলগুলো হচ্ছে এক একটা ঘর। সেই ঘরে যখন দু’জন দাঁড়িয়ে কথা বলছে; তখন পাশের ঘরেও দু’জন দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারে – তাতে কোনও অসুবিধা হবে না – যেটা FDMA-তে ঘটে।। কিন্তু একই সঙ্গে  চারজন, ছয়জন কি আটজন একই ঘরে বসে যদি একসঙ্গে কথা বলতে শুরু করে,  তবে অবশ্যই গোলমালে কথা ভালো শোনা যাবে না। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বহুদিন আগেই আবিষ্কার করেছেন – যখন কেউ কথা বলছে, তখন সেটি যদি খুব অল্প অল্প বিরতি দিয়ে অতি অল্প সময়ের জন্য রেকর্ড করা হয় (এখানে আমরা মাইক্রো সেকেন্ড অর্থাৎ, অর্থাৎ সেকেন্ডকে দশ লক্ষ ভাগ করলে যে সময়টুকু পাওয়া যায় – সেই মাত্রায় কথা বলছি) তাহলে রেকর্ড করা অংশগুলো পরে জোড়া দিলে, কথাগুলি পরিষ্কারই বোঝা যাবে। আর ঐ অল্প অল্প বিরতির সময়ে অন্যদের কথাবার্তাও একই ধারায় রেকর্ড করা যাবে। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে একই ঘরে উপস্থিত তিন জোড়া লোকের কথাবার্তা যদি অতি দ্রুত গতিতে মাইক্রোফোন অন-অফ করে পর্যায়ক্রমে রেকর্ড করতে থাকা যায় এবং  পরে সেই তিনটি কথাবার্তা আলাদা ভাবে জোড়া দেওয়া যায়, তাহলে সবগুলি কথাই পরিষ্কার শোনা যাবে কোনও গোলমাল ছাড়াই। এটাই হল TDMA-র মূল কথা। TDMA-কে ভিত্তি করে যেসব বিভিন্ন ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হল GSM- যেটা ইউরোপে স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে শুরু হয়েছিল।

CDMA আরেকটু গোলমেলে। সেখানে একটা চ্যানেল ব্যবহার করা হয় না – সবগুলি চ্যানেলের সম্মিলিত ফ্রিকোয়েন্সিই একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। প্রত্যেকের কথাই একই সঙ্গে রেকর্ড করা হয় কিন্তু রেকর্ডিং-এর সময়ে প্রত্যেকটি কথাবার্তার সঙ্গে একটি কোড যোগ করা হয় এবং পরে অন্য প্রান্তে সেটিকে ডিকোড করা হয় । এই কোডিং ডিকোডিং-এর ব্যাপারটা গোলমেলে। একটা উদাহরণ অবশ্য দেওয়া যেতে পারে যদি আমরা ভাবি যে, একই ঘরে বহু লোক একসঙ্গে কথা বলছে, কিন্তু তারা প্রত্যেকেই নিজেদের মধ্যে কথা বলছে এমন একটা ভাষায় – যে ভাষা তারা দুজন ছাড়া উপস্থিত অন্য কেউই জানে না। সেক্ষেত্রে লোকেরা নিজেদের ভাষাটাই শুনতে ও বুঝতে পারবে – অন্যদের ভাষা সব সময়েই দুর্বোধ্য আওয়াজ বলে মনে হবে। এই উদাহরণে ভাষাটা কাজ করছে কোড হিসেবে। এই ব্যাখ্যাটা নিঃসন্দেহে বাড়াবাড়ি রকমের সরল, কিন্তু তবুও কোডিং-এর ব্যাপারটা কিছুটা বোধহয় বোঝা যাবে ।

TDMA ও CDMA-কে বলা হয় মোবাইলের সেকেন্ড জেনারেশন বা 2G। TDMA বা CDMA যে শুধু ফ্রিকোয়েন্সি গুচ্ছকে ভালো ভাবে সদ্ব্যবহার (spectrally efficient) করছে তা নয়, এটি ব্যবহার করার আরও সুবিধা আছে । AMPS -এর ক্ষেত্রে ফোনের কথাবার্তা বাইরের লোক চেষ্টা করলে শুনতে পারতো । TDMA ও CDMA – দুটো প্রযুক্তিই সে তুলনায় খুবই নিরাপদ। TDMA ভালো না CDMA ভালো – সে নিয়ে বহু বিতর্ক ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে। ফ্রিকোয়েন্সি স্পেকট্রামের সদ্ব্যবহারের দিক থেকে বিচার করলে CDMA নিঃসন্দেহে শ্রেষ্ঠতর – সে বিষয়ে এখন দ্বিমত নেই। তবে যখন কেউ সেলুলার প্রযুক্তি বাছতে চায়, তখন অন্যান্য অনেক কিছুই বিচার করতে হয়। ভারতবর্ষে মোবাইল পরিষেবা TDMA বা GSM প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুরু হয়। পরে CDMA প্রযুক্তিকেও ভারত গ্রহণ করেছে। প্রথমে টাটা, পরে রিলায়েন্স CDMA প্রযুক্তি ব্যবহার করে মোবাইল ও  WLL (wireless in local loop) পরিষেবা দেওয়া শুরু করেছিল। আমরা সাধারণ লোকেরা যখন মোবাইল ফোন ব্যবহার করি, তখন কানে কথা শুনে এই প্রযুক্তি দুটির মধ্যে কোনও তফাৎ আমরা ধরতে পারবো না। এদের পরিষেবার ফিচারগুলিতে অবশ্যই তফাৎ থাকতে পারে।

তৃতীয়, চতুর্থ জেনারেশন মোবাইল …3G , 4G

মোবাইল টেলিফোনের প্রথম দিকে ব্যবহার করা হত সার্কিট সুইচ টেকনোলজি। এটা এসেছিল টেলিফোন ব্যবস্থার ঐতিহ্য থেকে। খুব সহজ করে বলতে গেলে… আর  যখন কথা বলছে, তখন তাদের জন্য একটা চ্যানেল বা সার্কিট – সেটা তারের হোক বা বেতারের হোক, আলাদা করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের কথা বলা শেষ হলে সেটা অন্য কোথাও ব্যবহার করা হচ্ছে, অর্থাৎ সার্কিটটাকে রিলিজ করা হচ্ছে। মোবাইল ফোনের পরের জেনারেশনে এল প্যাকেট সুইচিং। এখানে কোনও ডেডিকেটেড সার্কিট বা চ্যানেল থাকে না। শব্দ বা ডেটা যা পাঠানো হবে, সেগুলোকে ছোট ছোট খণ্ড বা প্যাকেটে ভাগ করে, প্যাকেটের মাথায় (হেডার) কোথায় সেটা যাচ্ছে (ঠিকানা) আর সেইসঙ্গে একটা টাইম স্ট্যাম্প লাগিয়ে যে সার্কিট ফাঁকা আছে সেখানেই গুঁজে দেওয়া হয়। নানান সার্কিটের মধ্যে দিয়ে গিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় সেই প্যাকেটগুলো পোঁছলে টাইম স্ট্যাম্প দেখে সেগুলো সাজিয়ে ডেটাটা উপস্থিত করা হয়। এই প্যাকেট সুইচিং এসেছে ডেটা কম্যুনিকেশনের জগত থেকে।  ইন্টারনেট গড়ে উঠেছে প্যাকেট সুইচিং এর ওপর ভিত্তি করে। মোবাইল ফোনে প্যাকেট সুইচের ব্যবহার শুরু হয় কিছুটা 3G –তে … 4G –থেকে পুরোপুরি। 3G –তে যে স্ট্যান্ডার্ডগুলো ব্যবহার করা হল, সেগুলো TDMA CDMA থেকেই উদ্ভূত – সংখ্যায় গোটা তিনেক। 4G-তে সেটা নেমে এল দুটোতে LTE, LTE Advanced-এ।

1G 2G 3G 4G
কথাবার্তা বলার জন্য
অ্যানালগ রেডিও
2.4 kbps
কথাবার্তা বলার জন্য, কিছু ডেটা ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড
64 kbps
মূলতঃ কথাবার্তা এবং ডেটা পরিবহনের জন্য
2Mbps
ডেটা পরিবহনের জন্যে
মোবাইল ব্রডব্যান্ড
100 mbps

[ওপরের টেবিলে নীচের সংখ্যাগুলো হল ডেটার পরিবহন গতি। ডেটার একক বা unit হল bit বা বিট। 1 Mbps (megabit per second) হল 1,000,000 bits per second বা 1,000 kbps (kilobits per second)। ৮-টা bit নিয়ে হয় একটা বাইট বা byte। তাই bytes –এর হিসেবে 1 Mbps হল 125,000 bytes per second.]

2G – তে ডেটা দ্রুত গতিতে যেত না  — গড়ে 0.5 mbps বা তার কমে, যার ফলে এতে গান বাজনা শোনা সম্ভব হত না । (তবে মনে রাখতে হবে এই ডেটার গতি ঠিক কী হবে সেটা অনেক কিছুর ওপরে নির্ভর করে। সংখ্যাগুলো এখানে দেওয়া হচ্ছে মোটামুটি একটা ধারনা করার জন্যে)। 3G –তে ডেটা চলাচলের গতি বেড়ে হল 2 mbps-এর বেশি। আর 4G – তে সেটা 100 mbps-এর বেশি পাবার সম্ভাবনা রইল। ফলে 4G –তে লাইভ ভিডিও থেকে শুরু করে টেলি-মেডিসিন, ও অন্যান্য বহু অ্যাপ্লিকেশনের দরজা খুলে গেল।

এরপর কোথায় চলেছি…

5G – তে কী আসছে সে নিয়ে এখন  জল্পনা কল্পনা চলছে। প্রশ্ন জাগছে, এত দিনকার ল্যান্ডলাইন টেলিফোন কি টেলিগ্রাফের মতোই বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাবে? নিউ ইয়র্ক শহরে ল্যান্ডলাইন টেলিফোনের গ্রাহকের সংখ্যা ইতিমধ্যেই পঞ্চাশ শতাংশ কমেছে।   তবে ল্যান্ডলাইন টেলিফোনের মাটিতে বসানো তামার তার ও ফাইবার অন্য কাজে লাগছে। নতুন টেকনোলজি VoIP বা WIFI ব্যবহার করে গ্রাহকদের  টেলিফোন, টিভি  ও ইন্টারনেট-ভিত্তিক   বিভিন্ন পরিষেবা  দেওয়া হচ্ছে। VoIP (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল) এবং WIFI  (2.4 ও 5 GHz ফ্রিকোয়েন্সির অল্প দূরত্বের স্থানীয় বেতার সংযোগ ব্যবস্থা)  – এদের কোনওটা ব্যবহার করতেই পয়সা লাগে না। গ্রাহকদের আর কি চাই?

মোবাইল টেকনোলজির বিবর্তন ঘটছে দ্রুত গতিতে.. দেখা যাচ্ছে এক একটা টেকনোলজির লাইফ-স্প্যান বা স্থায়িত্ব বড়জোর এক যুগ। ৮০ দশকে এসেছিল 1G , ৯০ দশকে  2G , ২০০০ সালে  3G,   ২০১০-এ 4G।  এখনকার স্মার্ট ফোনকে বলা যেতে পারে অত্যন্ত শক্তিশালী একটা কম্পিউটার যেটা সাইজে শুধু ছোট আর সেটা দিয়ে সাধারণ ফোনের কাজও করা যায়।  কম্পিউটারের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট ফোনের ক্ষমতাও বাড়ছে। ক্ষেপে ক্ষেপে বহু নতুন ফিচার মোবাইল ফোনে যোগ করা সম্ভব হচ্ছে।  কম্পিউটারের মতোই নতুন জেনারেশনের স্মার্ট ফোন তৈরি করতে খরচ প্রথমে হচ্ছে বেশি। কিন্তু যত বেশি তৈরি হবে খরচ তত দ্রুত হারে কমবে। কী ভাবে দাম স্থির করা হবে সেটা যারা বানাচ্ছে তারা হিসেব করবে।   দাম আকাশ-ছোঁয়া না হলে আমরা কিনব আর হাতে ধরা স্মার্ট ফোনের ক্ষমতা দেখে মুগ্ধ হব। গ্রাহাম বেলের ল্যান্ডলাইন টেলিফোনের দীর্ঘকালের রাজত্বের দিন যে ফুরিয়ে আসছে – তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

 

সূত্র

 Cell Phones in Africa: Communication Lifeline – Pew Research Report, April 15, 2015

 যে কোনও মাধ্যমের সহায়তায় যখন বার্তা প্রেরণ করা হয় তখন বার্তার প্রকৃতি অনুযায়ী মাধ্যমের মধ্যে একটা কিছু পরিবর্তন সাধন করাকেই বলা হয় মডুলেশন। বেতারে অনুষ্ঠান প্রচারের ক্ষেত্রেও মডুলেশন প্রয়োজন। কথাবার্তা বা গানবাজনায় যে শব্দতরঙ্গের উদ্ভব হয় তাকে প্রথম মাইক্রোফোনের সাহায্যে বিদ্যুৎপ্রবাহে রূপান্তরিত করা হয় – এই বিদ্যুৎপ্রবাহ যেন শব্দতরঙ্গের অবিকল প্রতিলিপি। বেতারের বাহক তরঙ্গের ( carrier wave) কোনও একটি বৈশিষ্ট্যকে এই বিদ্যুৎপ্রবাহের প্রকৃতি অনুযায়ী পরিবর্তিত করে দিলেই বাহক তরঙ্গ ঐ বার্তা বহন করতে সক্ষম হবে । এএম (AM) হল অ্যাম্পলিচুড মডুলেশন। অর্থাৎ, বার্তা বহন করতে বাহকের বিস্তার (amplitude) পরিবর্তন বা মডুলেশন করা হয়। বিস্তার ছাড়া তরঙ্গের কম্পন-সংখ্যার (frequency) বৈশিষ্ট্যের উপরেও মডুলেশন করা যেতে পারে – সেটা হল এফএম (FM)।

 

বিশেষ আকর্ষণ

প্রাচ্যের ফরাসি সুগন্ধি – কেরল

সুষ্মিতা রায়চৌধুরী

আমি ভ্রমণ করতে ভালবাসি, কিন্তু ভ্রমণের কল্পনা করতে আমার আরও ভালো লাগে। (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর) রবিঠাকুর উবাচ। আমাদের মতন ভ্রমণপিপাসুদের বেদবাক্য হয়ে থাকবে চিরকাল। বছরে যদি দু’বার ঘুরতে যাওয়া হয়, বাকি সময় কাটে ভ্রমণ কল্পনায়। সেই সময়ের কথা বলছি যখন বিদেশ ভ্রমণ শুধুমাত্র কল্পনায় বাস্তবায়িত হত। সদ্য চাকরি পাওয়া দু’জন নববিবাহিত মানুষ তাই চেষ্টা করত দেশের […]

Read More

গিরিশ ঘোষ : বঙ্গ রঙ্গমঞ্চের পিতা

সূর্য সেনগুপ্ত

যদি মিথ্যা কথায় বাপ দাদার নাম রক্ষা করতে হয়, সে নাম লোপ পাওয়াই ভাল।— মিথ্যায় আমার যেন চিরিদিন দ্বেষ থাকে।–মিথ্যায় আমার ঘৃণা, সে ঘৃণা বৃদ্ধ বয়সে ত্যাগ করবো না গিরিশচন্দ্র ঘোষ, ‘মায়াবসান’ নাটকে (৪:২) কালীকিঙ্করের সংলাপ, (১৮৯৮) [১] ভদ্রলোক রাত্রে শো হয়ে গেলে একটা ভাড়ার গাড়ি ধরে শুঁড়িখানায় গিয়ে বসতেন। ততক্ষণে অবশ্য তিনি অর্ধমত্ত অবস্থায়। […]

Read More

নববর্ষের নতুন প্রভাতে

ভাস্কর বসু

সে ছিল এক সময়। তখন পয়লা বৈশাখে প্রভাতফেরি বার হত, আগের চড়ক সংক্রান্তির দিন থেকেই উৎসবের সূচনা হয়ে যেত। গাজনের বাজনা শোনা যেত, ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বাবা-মা’র হাত ধরে চড়কের মেলাতে নতুন জিনিষের আবদার করত। এখন একটু অন্যরকম! বিগত ইংরেজি বছরের দুর্বিষহ স্মৃতিকে পিছনে ফেলে পেরিয়ে এলাম আমরা এই বছরের আরও এক-তৃতীয়াংশের বেশি সময়। কিন্তু […]

Read More

সুকুমার রায়ের নাটক

সুমিত রায়

সুকুমার রায়ের (১৮৮৭-১৯২৩) “সুকুমার রায়” হওয়া ছাড়া আর কোন উপায়ই ছিলো না। তার প্রথম কারণ হলো তিনি ছিলেন কোলকাতায় রায়চৌধুরী বাড়ীর ছেলে, তাঁর জীবন উনিশ-বিশ শতকের মধ্যে সেতুর মতো। বাংলা সাহিত্য আর সংস্কৃতির কথা ধরলে সেসময়ে ঠাকুরবাড়ীর পরেই এই রায়চৌধুরীদের নাম করতে হয়। বিশেষ করে শিশুসাহিত্যের রাজ্যে। উনিশ শতকের গোড়ার দিকেই বাংলাদেশে ছাপাখানা এসে গেছে […]

Read More

বীরোল

রিয়া ভট্টাচার্য

গ্রন্থঃ বীরোল লেখকঃ দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য প্রকাশনাঃ দ্য ক্যাফে টেবল কল্পবিজ্ঞান (সায়েন্স ফিকশন) বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধারা (genre)। অনেক দিকপাল লেখকের লেখনীর ঝরনাধারায় সিক্ত সাহিত্যমাতৃকার এই অংশ। কিশোর উপযোগী সায়েন্স ফিকশন রচনায় বর্তমান বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য। তাঁরই সাম্প্রতিকতম উপন্যাস গ্রন্থ বীরোল। এই গ্রন্থে আছে মোট দু’খানি উপন্যাস, “নতুন দিনের আলো” ও […]

Read More
+