সিনট্যাক্সের রকমভেদ – প্যারাট্যাকটিক এবং হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্স

সিনট্যাক্সের রকমভেদ - প্যারাট্যাকটিক এবং হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্স

১৮২৭ সালে এক আলোচনা সভায় তৎকালীন কবি এবং লেখকদের নিয়ে কোলরিজ এই কথাগুলো বলেছিলেন []

prose—words in their best order

poetry—the best words in their best order

অর্থাৎ ভালো গদ্য গড়ে ওঠে অভিনব বাক্যগঠন এবং বাক্যে-বাক্যে যোগাযোগের (syntax) মধ্য দিয়ে আর ভালো কবিতা গড়ে ওঠে প্রথমে দুর্দান্ত শব্দচয়ন (diction) এবং তার সঙ্গে ভালো গদ্যের যে মহিমা – অভিনব বাক্যগঠন এবং বাক্যে-বাক্যে যোগাযোগ (syntax) – সেই দুইয়ের মিলনে। গদ্য এবং কবিতার সিনট্যাক্সের চলনকে ইংরেজিতে প্রধানত দু’ভাবে ভাগ করা হয় – প্যারাট্যাকটিক এবং হাইপোট্যাকটিক [২,৩]।  এই নিবন্ধে আমরা সেই দুটি বিষয় নিয়েই আলোচনা করব।

প্যারাট্যাকটিক দিয়ে শুরু করি। কারণ এটা ব্যাখ্যা করা সহজ। গ্রিক ভাষায় প্যারা মানে পাশাপাশি আর ট্যাক্সিস মানে বিন্যাস। ‘প্যারা’ মানে যে পাশাপাশি সে তো আমরা ‘প্যারালাল’ মানে ‘পাশাপাশি চলা’ থেকেই জেনেছি। ‘ট্যাক্সিস’ – কথাটা যে বিন্যাস তা মনে রাখার সহজ উপায় হল এই কথা থেকে উদ্ভূত ‘ট্যাক্স’ কথাটা মনে রাখা। এই যে ট্যাক্স বা কর তা বিন্যস্ত হয় আয়ের পরিমাণ অনুযায়ী।

তাই সেই দুইয়ে মিলে প্যারাট্যাক্সিস – পাশাপাশি সাজানো বিন্যাস। প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্স হলো সহজ, সাধারণ ভালো বাংলা বাক্য – যেভাবে আমরা বাংলায় কথা বলি – একটা লাইন, তারপর আরেকটা লাইন, সরাসরি, সোজাসুজি, খোলামেলা।

ব্যাপারটা সহজ বলে মনে হলেও এইভাবে ভালো কবিতা বা গদ্য লেখা কিন্তু একেবারেই সহজ নয়। একটা উদাহরণ দিই রবীন্দ্রনাথের ‘সহজ পাঠ’ থেকে –

রাম বনে ফুল পাড়ে। গায়ে তার লাল শাল। হাতে তার সাজি। জবা ফুল তোলে। বেল ফুল তোলে। বেল ফুল সাদা। জবা ফুল লাল। জলে আছে নাল ফুল।

 দেখুন কী সহজ চলন। সহজ ভাষা। সরল বাক্যের সমাহার। প্রত্যেকটা বাক্য আলাদা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। কিন্তু তার সঙ্গে আরো দেখুন সবমিলিয়ে এই রচনার মধ্যে কী এক অসাধারণ ব্যঞ্জনা। এই প্রত্যেক বাক্যের স্বয়ং সম্পূর্ণ, সেটাই প্যারাট্যাক্সিসের মূল প্রতিপাদ্য।

বাঙলা গদ্যে প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের আর একটি উদাহরণ দিই। কমলকুমার মজুমদারের ‘অন্তর্জলী যাত্রা’ থেকে –

আলো ক্রমে আসিতেছে। এ নভোমণ্ডল মুক্তাফলের ছায়াবৎ হিম নীলাভ। আর অল্পকাল গত হইলে রক্তিমতা প্রভাব বিস্তার করিবে, পুনৰ্ব্বার আমরা, প্রাকৃতজনেরা, পুষ্পের উষ্ণতা চিহ্নিত হইব। ক্রমে আলো আসিতেছে।

এখানে দেখবেন সহজপাঠের মতন পুরোপুরি সরল বাক্য নয় কিন্তু বাক্যাংশ গুলি পরপর পাশাপাশি সাজানো রয়েছে কোনো রকম অব্যয় দিয়ে জোড়া না লাগিয়ে – প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের পরিচয়।

ইংরেজিতে এই প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের সম্রাট ছিলেন হেমিংওয়ে। তাঁর ‘The Old Man and the Sea’ থেকে একটা অংশ শোনাই –

The old man was thin and gaunt with deep wrinkles in the back of his neck. The brown blotches of the benevolent skin cancer the sun brings from its reflection on the tropic sea were on his cheeks. … But none of these scars were fresh. They were as old as erosions in a fishless desert.

দেখুন লাইনগুলি কেমন পাশাপাশি সাজানো আছে, কোনো অব্যয় দিয়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়নি।

সেই একই পরিচয় পাওয়া যায় জে এম কুটসি-র (J. M. Coetzee) উপন্যাস ‘Age of Iron’ এ:

There is not only death inside me. There is life too. The death is strong; the life is weak. But my duty is to life. I must keep alive. I must.

 তবে সবথেকে বিখ্যাত ‘প্যারাট্যাক্সিসের উদাহরণ হল, জুলিয়াস সিজারের ‘Vini, vidi, visi’ – ‘I came, I saw, I conquered’.  

অন্যদিকে হাইপোট্যাকটিক লেখায় একটি প্রধান খণ্ডবাক্য (principal clause) থাকে যেটা বাক্যাংশ (phrase) এবং অধীন খণ্ডবাক্যের (subordinate clause) সাহায্যে নির্মিত হয়।

গ্রিক ‘Hypo’ শব্দের অর্থ হল, under বা below (যেমন হাইপোটেনসন মানে হলে রক্তচাপ স্বাভাবিকের থেকে নীচে)। অর্থাৎ এই সিনট্যাক্সে সংযোজক অব্যয় (Conjunction) যেমন এবং, ও, যেহেতু, যদি, যদিও, যা, যেটি, ইত্যাদির ব্যবহার করে খণ্ডবাক্যগুলির মধ্যে সম্পর্ক এবং অনুক্রম (hierarchy) বোঝানো হয়।

উদাহরণ দিই কমলকুমারের ‘অন্তর্জলী যাত্রা’ থেকেই –

বৈজুনাথ তাঁহার বাক্যে থতমত তূপীকৃত, কেন না বিচারের আঁচড় ইকড়ি ছাড়িয়া বেশ কিছুটা দুরে সে দাঁড়াইয়াছিল, এবং পরে, অতর্কিত কিছুটা দূরে পুনরায় সরিয়া গিয়া বলিল, “বিধান বল?…কাঁহাতক বুড়া মানুষটা হিম খাবে গো, আর মড়াবসার, মড়া পুড়ার গন্ধ শুকবে…বড় পুণ্যাত্মা গো, শুকনা ডালে পাখী দুটো বড় হিমসিম খায়।”

এই প্রসঙ্গে অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায় লিখছেন [৪]

প্রায় ৩০০ বছরের প্রাচীন একটি গদ্যপুথি ‘বৃন্দাবনলীলা’। তার একটি অংশ পড়ি চলুন :

…তাহার উত্তরে এক পোয়া পথ চারণ পাহাড়ী পর্ব্বতের উপরে কৃষ্ণচন্দ্রের চরণচিহ্ন ধেনুবৎসের এবং উঠের এবং ছেলির এবং মহিশের এবং আর আর অনেকের পদচিহ্ন আছেন। যে দিবস ধেনু লইয়া সেই পর্ব্বতে গিয়াছিলেন সে দিবস মুরলির গানে যমুনা উজান বহিয়াছিলেন এবং পাষাণ গলিয়াছিলেন সেই দিবস এই সকল পদচিহ্ন হইয়াছিলেন”।

দেখুন এত দিনের পুরোনো লেখায় হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্সের কী ছড়াছড়ি। আবার ওই একই পুঁথিতে তার পরপরই আছে [৪]

“গয়াতে গোবর্দ্ধনে এবং কাম্যবনে এবং চরণ পাহাড়েতে এই চারি স্থানে চিহ্ন এক সমতুল ইহাতে কিছু তরতম নাঞী। চরণ পাহাড়ের উত্তরে বড় বেস শাহি তাহার উত্তরে ছোট বেস শাহি তাহাতে এক লক্ষ্মীনারায়ণের সেবা আছেন তাহার পূর্ব্ব দক্ষিণে সেরগড়। গোপীনাথজীর ঘেরার দক্ষিণ পশ্চিম নিধুবন চতুর্দ্দিগে পাকা প্রাচীর পূর্ব্বপশ্চিমা বন পশ্চিমদিগের দরওয়াজা কুঞ্জের ভিতর জাইতে বামদিগে এক অট্টালিকা অতি গোপনীয় স্থান অতি কোমল নানান পুষ্প বিকশিত কোকীলাদি নানান পক্ষী নানান মত ধ্বনি করিতেছেন বনের শৌন্দর্য্য কে বর্ণন করিবেক। শ্রীবৃন্দাবনের মধ্যে মহন্তের ও মহাজনের ও রাজাদিগের বহু কুঞ্জ আছেন। নিধুবনের পশ্চিমে কিছু দূর হয় নিভৃত নিকুঞ্জ যে স্থানে ঠাকুরাণীজী ও সখি সকল লইয়া বেশবিন্যাষ করিতেন। ঠাকুরাণীজীউর পদচিহ্ন অদ্যাবধি আছেন নিত্য পূজা হয়েন।…”

 এখানে অপূর্ব প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের ব্যবহার দেখতে পাই আমরা। এই আমাদের বাঙলা গদ্যের ঐতিহ্য।

এবার আমরা আসব ইংরেজি গদ্যসাহিত্যে। ১৬৫০ থেকে ১৮৫০ এর মধ্যে ইংরেজি সাহিত্যে প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের ব্যবহার বিশেষ দেখা যায় না। টমাস ব্রাউন (১৬০৫-১৬৯২), যাঁকে ইংরেজি গদ্য রচনার একজন পথিকৃৎ ধরা হয়, গদ্যে হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্সের বিশেষ ভক্ত ছিলেন। একটা উদাহরণ দিলেই সেটা বোঝা যাবে।

But the Quincunx of Heaven runs low, and ’tis time to close the five ports of knowledge; We are unwilling to spin out our awaking thoughts into the phantasmes of sleep, which often continueth præcogitations; making Cables of Cobwebbes and Wildernesses of handsome Groves. Beside Hippocrates hath spoke so little and the Oneirocriticall Masters, have left such frigid Interpretations from plants, that there is little encouragement to dream of Paradise itself. Nor will the sweetest delight of Gardens afford much comfort in sleep; wherein the dulnesse of that sense shakes hands with delectable odours; and though in the Bed of Cleopatra, can hardly with any delight raise up the ghost of a Rose. [৫]

তাঁর হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্স যুক্ত গদ্যের আর একটি উদাহরণ –

thus is man that great and true Amphibium, whose nature is disposed to live not onely like other creatures in divers elements, but in divided and distinguished worlds; for though there bee not one to sense, there are two to reason; the one visible, the other invisible, whereof Moses seemes to have left description, and of the other so obscurely, that some parts thereof are yet in controversie; and truely for the first chapters of Genesis, I must confesse a great deale of obscurity, though Divines have to the power of humane reason endeavoured to make all goe in a literall meaning, yet those allegoricall interpretations are also probable, and perhaps the mysticall method of Moses bred up in the Hieroglyphicall Schooles of the Egyptians. [৬]

চার্লস ডিকেন্সের এবং জেন অস্টেনের লেখাতেও হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্সের প্রচুর ব্যবহার দেখা যায়। প্রথমে দেখি ডিকেন্স থেকে উদাহরণ –

It was a maxim with Mr. Brass that the habit of paying compliments kept a man’s tongue oiled without any expense; and that, as that useful member ought never to grow rusty or creak in turning on its hinges in the case of a practitioner of the law, in whom it should be always glib and easy, he lost few opportunities of improving himself by the utterance of handsome speeches and eulogistic expressions. [৭]

এবং তারপর জেন অস্টেন থেকে উদাহরণ হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্সের –

Emma Woodhouse, handsome, clever, and rich, with a comfortable home and happy disposition, seemed to unite some of the best blessings of existence; and had lived nearly twenty-one years in the world with very little to distress or vex her. [৮]

এবার আমরা দেখব সমসাময়িক গদ্যের কিছু উদাহরণ Jon Fosse-র The Other Name: Septology (Damion Searls এর ইংরেজি অনুবাদ) থেকে। নরওয়ের ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার Jon Fosse ২০২৩ এ সাহিত্য নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন। Fosse-র গদ্য নিয়ে অনেক বাহবা শোনা যায়, তাঁর জীবনদর্শন নিয়েও। কিন্তু Septology পড়া শুরু করা মাত্র আমার James Joyce-এর Ulysses-এর কথা মনে হলো।

Fosse-র বইটি শুরু হয় এইভাবে –

And I see myself standing and looking at the picture with the two lines that cross in the middle, one purple line, one brown line, it’s a painting wider than it is high and I see that I’ve painted the lines slowly, the paint is thick, two long wide lines, and they’ve dripped, where the brown line and purple line cross the colours blend beautifully and drip and I’m thinking this isn’t a picture but suddenly the picture is the way it’s supposed to be, it’s done, there’s nothing more to do on it, I think, it’s time to put it away, I don’t want to stand here at the easel any more, I don’t want to look at it any more, I think, and I think today’s Monday and I think I have to put this picture away with the other ones I’m working on but am not done with,

দেখুন কী অপূর্ব ভাষায় লেখা এই গদ্য – প্যারাট্যাকটিক এবং হাইপোট্যাকটিক এর মিশ্রণে তৈরী এর ধীরচলন ও সুরতোলা লহরী আপনাকে সম্মোহন জালে বেঁধে ফেলবে। “You don’t read my books for the plots,” Fosse নিজেই বলেছেন। নাট্যকার Fosse কে তুলনা করা হয়েছে ইবসেন ও বেকেটের সঙ্গে, কিন্তু গদ্যের রূপকার Fosseর সঙ্গে আমার James Joyceএর মিল লাগছে। 

পাশাপাশি দেখুন Ulysses কী ভাবে শুরু হয় –

Stately, plump Buck Mulligan came from the stairhead, bearing a bowl of lather on which a mirror and a razor lay crossed. A yellow dressing gown, ungirdled, was sustained gently behind him on the mild morning air.

সেই একই St. Andrewর ক্রস চিহ্ন দিয়ে দুটি বইই শুরু – আপনাকে মনে করিয়ে দেবে স্কটল্যান্ডের পতাকার কথা।

Fosseর গদ্য চলতে থাকে সেই একই পল্লবিনী, সঞ্চারিণী ধীর লয়ে –

I like to keep my best pictures, not sell them, and maybe this is one of them, even though I don’t like it? yes, maybe I do want to hold onto it even if you might say it’s a failed painting? I don’t know why I’d want to keep it, with the bunch of other pictures I have up in the attic, in a storage room, instead of getting rid of it, or maybe, anyway, maybe Åsleik wants the picture? yes, to give Sister as a Christmas present? because every year during Advent I give him a painting that he gives to Sister as a Christmas present and I get meat and fish and firewood and other things from him, yes, and I mustn’t forget, as Åsleik always says, that he shovels the snow from my driveway in the winter too, yes, he says things like that too,

আর সঙ্গে সঙ্গে আমার মনে পড়ে গেল Ulysses এর শেষটা যেখানে আমরা পাই Molly Bloom এর অন্তঃস্থল থেকে উঠে আসা স্বগতোক্তি – সে বিছানায় শুয়ে আছে অপেক্ষা করছে কখন Leopold তার কাছে ফিরে আসবে –

I was a Flower of the mountain yes when I put the rose in my hair like the Andalusian girls used or shall I wear a red yes and how he kissed me under the Moorish wall and I thought well as well him as another and then I asked him with my eyes to ask again yes and then he asked me would I yes to say yes my mountain flower and first I put my arms around him yes and drew him down to me so he could feel my breasts all perfume yes and his heart was going like mad and yes I said yes I will Yes.

Ulysses শেষ হয় ইংরেজি ভাষার সবথেকে পজিটিভ শব্দটা দিয়ে – Yes.

এবার কবিতার কথায় আসি।

প্রথম উদাহরণ দেব ওয়ালেস স্টিভেন্সের (Wallace Stevens) “No Possum, No Sop, No Taters” থেকে প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের –

He is not here, the old sun,
As absent as if we were asleep.

The field is frozen. The leaves are dry.
Bad is final in this light.

In this bleak air the broken stalks
Have arms without hands. They have trunks

Without legs or, for that, without heads.
They have heads in which a captive cry

Is merely the moving of a tongue.
Snow sparkles like eyesight falling to earth,

Like seeing fallen brightly away.
The leaves hop, scraping on the ground.

It is deep January. The sky is hard.
The stalks are firmly rooted in ice.

তাঁর নোটপ্যাডে “letter to the world” নাম দিয়ে আরো অনেক টুকরো লেখার সঙ্গে এমিলি ডিকিনসন লিখে রেখেছিলেন [৯]

‘Did you ever read one of her Poems backward, because the plunge from the
front overturned you? I sometimes (often have, many times) have — a Something
overtakes the Mind –‘ (Prose Fragment 30)

যেন এমিলি ডিকিনসনের কথা শুনেই একটি অসাধারণ এক্সপেরিমেন্ট করেছেন James Longenbach [২] ওয়ালেস স্টিভেন্সের (Wallace Stevens) “No Possum, No Sop, No Taters” কে উল্টো দিক থেকে সাজিয়ে –

The stalks are firmly rooted in ice.
It is deep January. The sky is hard.

The leaves hop, scraping on the ground,
Like seeing fallen brightly away.

Snow sparkling like eyesight falling to earth,
Is merely the moving of a tongue.

They have heads in which a captive cry
Without legs or, for that, without heads,

Has arms without hands. They have trunks
In this bleak air the broken stalks.

Bad is final in this light.
The field is frozen. The leaves are dry,

As absent as if we were asleep.
He is not here, the old sun.

কয়েকটি যতিচিহ্ন পাল্টানো এবং দুটি শব্দের পরিবর্তন (sparkles -> sparkling, have -> has) ছাড়া পুরো কবিতাটি উল্টো দিক থেকে লেখা! লাইনগুলির impact বা আমাদের মনে তাদের প্রভাব আলাদা হলেও কবিতাটি পড়া যায় ভালভাবেই এবং মানেও বোঝা যায়। এটা একমাত্র সম্ভব প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সে প্রত্যেকটা বাক্য আলাদা এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়াতেই।

এবারে ইংরেজি কবিতায় হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্সের উদাহরণ দেব তিনটে পরিচিত কবিতা থেকে

১) Ode to a Nightingale by John Keats

[…] that hath been
Cool’d a long age in the deep-delved earth,
Tasting of Flora and the country green,
Dance, and Provencal song, and sunburnt mirth!

২) If— by Rudyard Kipling

IIf you can force your heart and nerve and sinew
To serve your turn long after they are gone,
And so hold on where there is nothing in you
Except the Will which says to them: ‘Hold on!’

আরো কয়েকটা লাইন এই কবিতা থেকেই

IIf you can dream—and not make dreams your master;
If you can think—and not make thoughts your aim,
If you can meet with Triumph and Disaster
And treat those two impostors just the same;

৩) Caged Bird by Maya Angelou

The caged bird sings
with a fearful trill
of things unknown
but longed for still
and his tune is heard
on the distant hill
for the caged bird
sings of freedom.

মনে পড়ে যাবে রবীন্দ্রনাথের “দুই পাখি” কবিতার কথা

খাঁচার পাখি ছিল সোনার খাঁচাটিতে, বনের পাখি ছিল বনে।
একদা কী করিয়া মিলন হল দোঁহে, কী ছিল বিধাতার মনে।

 এই তুলনা আমাদের খুব সাবলীলভাবে এবার বাঙলা কবিতায় নিয়ে আসে। হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্সের উদাহরণ পাই রবীন্দ্রনাথে

যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে,
একলা চলো, একলা চলো, একলা চলো রে।

বা

চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির,
জ্ঞান যেথা মুক্ত, যেথা গৃহের প্রাচীর
আপন প্রাঙ্গণতলে দিবসশর্বরী
বসুধারে রাখে নাই খন্ড ক্ষুদ্র করি,
যেথা বাক্য হৃদয়ের উৎসমুখ হতে
উচ্ছ্বসিয়া উঠে, যেথা নির্বারিত স্রোতে
দেশে দেশে দিশে দিশে কর্মধারা ধায়
অজস্র সহস্রবিধ চরিতার্থতায়–
যেথা তুচ্ছ আচারের মরুবালুরাশি
বিচারের স্রোতঃপথ ফেলে নাই গ্রাসি,
পৌরুষেরে করে নি শতধা; নিত্য যেথা
তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা–
নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ,
ভারতেরে সেই স্বর্গে করো জাগরিত।

এবং জীবনানন্দে

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়ির তীরে — এই বাংলায়
হয়তো মানুষ নয় — হয়তো বা শঙ্খচিল শালিকের বেশে;
হয়তো ভোরের কাক হয়ে এই কার্তিকের নবান্নের দেশে
কুয়াশার বুকে ভেসে একদিন আসিব এ কাঁঠাল-ছায়ায়;

আবার দেখুন জীবনানন্দে প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের উদাহরণ

চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য;

আর তার সঙ্গে তুলনা করুন এডগার অ্যালান পো-র To Helen

On desperate seas long wont to roam,
Thy hyacinth hair, thy classic face,
Thy Naiad airs have brought me home
To the glory that was Greece,
And the grandeur that was Rome.

 আরেকটু আধুনিক কালের কবিতা থেকে প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের দুটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ

১) উৎপল কুমার বসু, অন্নদাতা যোসেফ

তুমি হেঁটে এলে। পথ দীর্ঘ নয়। তবু
কমটুকুই বা কি।

বুঝি রক্তকোষের ঐ পশুগুলিকে দেখতে এসেছ
যারা সারাক্ষণ খিদেয় কাঁদছে। জল চাইছে।
তুমি লৌহবীণা থেকে বেরিয়ে এলে।
তালবাদ্যের যন্ত্রগুলির চারিদিকে পায়ের ছাপ।

বাঁশির গায়ে ক্ষত চিহ্ন। দাঁতের আঘাত।
এসব কি খেলার কামড়?

ফেরার পথে তোমারও দেখছি সঙ্গী চাই।
কেউ রাজী নয়। আড়চোখে এদিকে তাকাচ্ছ কেন?
আমার অন্য কাজ আছে।

২) নারায়ণ মুখোপাধ্যায়, নোলক পরিয়ো

তোমার লাগিয়া এই নোলক পাঠাইলাম,
পরিয়ো। বাক্সে উঠাইয়া রাখিয়ো না।
বর্ষা আসিতেছে।
মেঘ ডাকিবে। সর্বত্র জল থৈ থৈ করিবে।
লতা দুলিবে। পাখী ভিজিবে।
নোলক পাঠাইলাম,—পরিয়ো।
ইহা শুধু রূপের লাগিয়া নহে,
মনে রাখিয়ো,
পরিয়ো।

সমসাময়িক বা প্রায় সমসাময়িক কবিতায় প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্সের বিশেষ ব্যবহার দেখা যায় গদ্যকবিতায় (ইংরেজিতে যাকে বলে Prose Poem)। কয়েকটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ

১) অরুণ মিত্র, অগ্নিকান্ড

… ধরো, তুমি এক সদ্য যুবক তোমার খুব খিদে পায়, পাবেই তো, কেননা তোমার পেটে আগুন জ্বলে অথচ তোমার খাওয়া জোটে না, আগুন জ্বলতেই থাকে। এই অবস্থায় তুমি গিয়ে পড়লে সাহেব বিবিদের আসরে। সেখানে তোমার যাওয়ার কথা নয়। কিন্তু রাস্তার গোলমাল তো হয়ই। তাই সেখানে তোমার আবির্ভাব। এমন হলেই মহাকেলেঙ্কারি।

 ২) জহর সেন মজুমদার (https://baakonline140issue.blogspot.com/2020/03/blog-post_13.html)

এই শেষ সন্ধ্যা, এই শেষ রাত্রি, তুমিও শরীরের ভেতর থেকে সবরকম মউচাক ফেলে দিয়ে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছো, এই সৌরজগতের অজস্র অপ্রেম, পাপড়ি খুলবার ঘোরতর ষড়যন্ত্র পাপড়ি ছিঁড়বার ঘোরতর ষড়যন্ত্র, আর তবে সহ্য করতে পারলেনা তুমি, জল থইথই হেঁয়ালির ভেতর তোমার হাত থেকে একটার পর একটা লেখা খসে পড়ছে, যে অন্ধকার গর্ভ থেকে ভ্রূণ এসে চাঁদকে মুকুট করে মাথায় তুলেছিলো- কী আশ্চর্য তুমিও ভ্রূণ হয়ে চলে যাচ্ছো চলে যাচ্ছো সেই অন্ধকার নাড়িগৃহে সেই অন্ধকার কালগহ্বরে, একটার পর একটা একটার পর একটা লেখা, তোমারই লেখা, তোমারই পিছু পিছু জলে পড়ছে, ছমছমে জলে পড়ছে, তুমিও ভ্রূণ, শুধুমাত্র চাঁদে চলেছো, আস্তে আস্তে চাঁদে চলেছো

৩) হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, নদীস্নানের পর কিছু একলা মুহূর্ত

বৃষ্টিদিনে আমার একটা নদীর কথা মনে পড়ে। আমার নদী। আমার বাড়ির উঠোনের এক নদী। অনেকবার তাকে নাম দিতে গেছি। সে মুখ নামিয়ে নিয়েছে। ঠিক যেন মনে হবে নাম বুঝি মুখে পরিয়ে দেওয়া হয়। মুখ নামিয়ে নেওয়ার মানে কি?  আমি আর নদী কি এক স্কুলে পড়তাম?

সকলের চোখের আড়ালে গিয়ে আমি তো তাকে আমার প্রিয় কোনো নাম দিতে চাই নি। নাম প্রিয় হয় বুঝি? নাকি মানুষটা প্রিয় হয় আর নাম উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে তার সেই মুখটা ভেসে ওঠে।

৪) অনুপম মুখোপাধ্যায়, কাঁচা পেয়ারার গন্ধ

কাঁচা পেয়ারার গন্ধ। শুধু কাঁচা পেয়ারার গন্ধ আমাদের উজ্জ্বল বুদ্বুদের মতো ঠেলে নিয়ে যাক। স্বচ্ছ জলের তলায় শুয়ে আছে হাড়ের মতো দেখতে এক রমণীর শরীর।

গদ্যকবিতা হলেই যে প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্স ব্যবহার করতে হবে তা একেবারেই নয়। যেমন ধরুন

১) সোনালী চক্রবর্তী, প্যালিনড্রোম /

যেভাবে প্রতিটা একলা মানুষ অধিকতর একলা হতে চেয়ে দীর্ঘ কোন মিছিলে হাঁটে, আমিও গুছিয়ে রাখি একান্তের উজ্জ্বল খুঁটিনাটি, ভাঙা আদর, রঙীন জোড়াতালি, নেশার ধূসর কৌতুক কিছু আর প্যালিনড্রোমিয় স্মৃতি। সন্ধ্যা নামলে সালতির কুপিগুলি স্থলের কঠিন থেকে সলতে বোধ হয়, কত যে ফল্গুর এখনো পোড়া বাকি… ভাবো তো, আবর্তন বলে আদৌ কিছু হয় কি? যে কাশের দেউলে তুমি গাত্রহরিদ্রা এঁকেছিলে, গেল পূর্ণিমায় তা ময়ূর মুছে লবণ হয়ে গেছে, যে চ্যুতি থেকে শিশু অশ্বত্থ আলোর হামা টানছিলো, এখন হোম স্টের পরিত্যক্ত বীর্যের চাষ করে। অথচ শূন্য আর দুই নিয়ে আজ একের যত হাড়হাভাতেগিরি। আয়নাকে হরবোলা মনে করে আমি খুলে রেখেছি আঙুলের চামড়া থেকে নখরা, গ্রীবা থেকে হাঁস, পিঠ থেকে রডোডেনড্রন, সবই… স্মৃতি ফিরে এলে জৈন চন্দ্রাতপটিতে খুঁজো, যক্ষেরা দূত হয়, দাস হবে না ভেবে সিসিফাস যক্ষীরা বয়ে যায় জন্ম জন্মান্তর ধরে ঝলসানো মাটির দায়।

বা

২) অনুসন্ধান / অমিত চক্রবর্তী

যেভাবে সমীরণ খুঁজছিল তৎপরতায় অথবা শীতাংশু ধীরে সুস্থে, গলি ঘুঁজি কুহক পেরিয়ে,
সেই ভাবে নয়, বেয়াড়া নীচু, ঋজু অস্থির, কি খুঁজছে না জেনেই সে বেরিয়ে পড়ে পথে। যেন কাশফুলগুলো
বাঁচাবে তাকে এঁকে দিয়ে নানা রকম হেলে পড়া দুলুনি, শোরগোলের মাঝে যেন একটা কচি
ডাঁটা আছে লুকোনো, একটু লজ্জা লজ্জা সঙ্কোচ, তুমি নাকি পড়াশোনায় ভাল শুনেছি, তারই কাছে
সঙ্কেত। অথবা সে হয়তো কিছুই খুঁজছে না, আমারই ভুল। সারাদিন হয়তো সে কাজ নিয়ে ব্যস্ত, এক
ধরনের ভুলে থাকার তাঁবু ফেলেছে সর্বাঙ্গে, জেগে থেকেও সাষ্টাঙ্গ, নরম তুলতুলে স্লিপিং ব্যাগের ঘোরে।
খানিকটা হেরে যাওয়ার জন্যে তার প্রস্তুতি দেখি চলতেই থাকে, আসল গল্পটা এরকমই অস্থির, কিন্তু
জয়ন্ত এসে বলল, দেখলাম তোর বান্ধবীকে, একেবারে নীল হিরে, সম্পূর্ণ অরক্ষিত, রোদে মেলেছিল হৃদয়
তার দক্ষিণের কাশবনের কোলে।

উপসংহারে বলি, এই নিবন্ধে আমি গদ্যে এবং পদ্যে ব্যবহার করা সিনট্যাক্স নিয়ে আলোচনা করেছি, বিষয়বস্তু বা ভাব নিয়ে নয়। তা সত্ত্বেও এ কথা বলা প্রয়োজন যে বিষয়বস্তু ও সিনট্যাক্স বেশিরভাগ সময়ই অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে থাকে।

আধুনিক কালের কোনো কবি বা লেখকই শুধু এক ধরনের সিনট্যাক্স ব্যবহার করেন না তাঁদের লেখায়। যে লেখা আমাদের মন কাড়ে, প্রায়শই দেখা যায় সে রচনা এই দুই সিনট্যাক্সের অপূর্ব মিশ্রণে গড়ে উঠেছে। কবি হয়তো প্যারাট্যাকটিক সিনট্যাক্স ব্যবহার করেছেন যেভাবে post-impressionist শিল্পীরা ছবি এঁকেছেন –  যেমন Seurat-এর সেই pointillist স্টাইল – কিন্তু রং দিয়ে নয়, শব্দ বা বাক্যাংশ দিয়েও নয় – পুরো বাক্য দিয়ে দিয়ে। প্রতিটি বাক্য যেন তাঁর চেতনা থেকে উঠে আসা এক একটি দর্শন বা আধ্যাত্মিকতার রঙের বিন্দু। আর তার সঙ্গে ভাবনার আচমকা বাঁক তৈরী করেছে অনুভূতির এক বিশেষ তাৎক্ষণিকতা এবং বর্ণনামূলক যুক্তির পরিবর্তে দেখা দিয়েছে এক ধরনের লিরিকাল যুক্তিমালা। আর এইগুলো জুড়ে জুড়েই গড়ে উঠেছে কবিতার সেই বিশেষ অংশটা।

অন্যদিকে হাইপোট্যাকটিক সিনট্যাক্স ব্যবহারে আবেগ বা অনুভূতি বয়ে চলেছে এক লাইন থেকে অন্য লাইনে, তৈরী করেছে কূল ছাপানো উপচে পড়া আর একটা জরুরি অবস্থাবোধ, একটা ‘এখনই’ জাতীয় দমবন্ধ বা মন্ত্রমুগ্ধ করা মনোভাব।

উল্লেখসূচী

১) http://www.thisdayinquotes.com/2011/07/poetry-best-words-in-best-order.html#:~:text=the%20word%20equal%3A-,%E2%80%9CProse%20%3D%20words%20in%20their%20best%20order%3B%20%E2%80%94%20poetry%20%3D,Algernon%20Sydney%20and%20Edmund%20Burke.

২) James Longenbach, “How Poems Get Made”, W. W. Norton, New York (2018).

৩) Mark Forsyth, “The Elements of Eloquence”, Berkley, New York (2013).

৪) অর্জুন বন্দ্যোপাধ্যায়, “প্রাক ঔপনিবেশিক অধরা বাংলা গদ্যঃ একটি অন্বেষণ” নামক “জ্ঞানগঞ্জ মাসিক পুঁথি ১৮” মৃদুল কুমার বাগচি স্মৃতি পুঁথিমালা ( নভেম্বর ২০২৪) সংখ্যায়।
https://www.scribd.com/document/940475770/%E0%A7%A7%E0%A7%AE-%E0%A6%9C-%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%97%E0%A6%9E-%E0%A6%9C-%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%A5%E0%A6%BF-%E0%A6%AA-%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%95-%E0%A6%94%E0%A6%AA%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE-%E0%A6%97%E0%A6%A6-%E0%A6%AF

[৫] Sir Thomas Browne (1658) Hydriotaphia and The Garden of Cyrus – Chapter 5
https://penelope.uchicago.edu/gardennoframes/gardenn.xhtml

[৬] Thomas Browne, Religio Medici, Section 34
https://penelope.uchicago.edu/relmed/relmed.html

[৭] Charles Dickens
Ch. 35 – The Old Curiosity Shop (1841)
https://www.literaturepage.com/read/dickens-old-curiosity-shop.html

[৮] Jane Austen: Emma VOLUME I CHAPTER I
https://www.literaturepage.com/read/emma-1.html

[৯] [Deformation and Interpretaion, Lisa Samuels and Jerome McGann, New Library History, Vol 30, No. 1, Poetry and Poetics, Winter 1999, p-25-56
https://raley.english.ucsb.edu/wp-content/Engl800/Deformance.pdf

অমিত চক্রবর্তীর জন্ম সোনারপুর অঞ্চলের কোদালিয়া গ্রামে। ছাত্রাবস্থায় অনেক লেখা এবং ছাপানো কলকাতার নানান পত্রপত্রিকায়। পড়াশোনার সূত্রে আমেরিকা আসা ১৯৮২। এখন ক্যানসাস স্টেট ইউনিভারসিটি তে পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক ও প্রাক্তন কলেজ অফ আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সের ডিন (২০১৬-২০২২) । প্রকাশিত কবিতার বই ছয়টি – "অতসীর সংসারে এক সন্ধ্যাবেলা" (২০২১), "জলকে ছুঁয়ো না এখানে" (২০২২), "ভালো আছি স্তোত্র" (২০২৩), “ভুলটা ছিল উপপাদ্যে, প্রমাণেতে নয়” (ই-বুক ২০২৩), “প্যাপিরাসের লুকোনো আর্ট” (২০২৪), এবং “মিড় ভেজানো অক্ষরের তান” (২০২৫)। তার সঙ্গে ক্রিয়েটিভ রাইটিংএর বই “সৃজনী লেখার ক্লাসঃ কবিতা লেখা” (২০২৪)। দু'টি পত্রিকার সম্পাদক - উত্তর আমেরিকার নিউ জার্সি অঞ্চলের পত্রিকা "অভিব্যক্তি" (সহ-সম্পাদক) এবং "উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা" অনলাইন কবিতা পত্রিকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *