য়গন্তী থেকে কুর্নুল, পুরাণ থেকে ইতিহাস
ডিসেম্বর,২০২৩ বড়দিনের ছুটিতে ঠিক হল হায়দ্রাবাদ থেকে দু’দিনের ট্রিপে পাশের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশের নান্দিয়াল জেলায় য়গন্তী গ্রামে উমা মহেশ্বর টেম্পল দর্শন করতে যাওয়া হবে। সেখান থেকে ১০০কিমি এগিয়ে জেলার সদর শহর কুর্নুলে পৌঁছে সেদিনের মতো রাত্রিবাস। বড়দিনের সকালে প্রস্তুত হয়ে আমরা যখন গাড়িতে উঠে বসলাম, ঘড়িতে তখন সাতটা।
শীতের সকাল। কুয়াশার মশারি তুলে শহর তখনও আড়মোড়া ভাঙেনি। অথচ হাইওয়েতে ওঠার আগে নিজেদের পেটপুজো করাটাও আশু কর্তব্য। কিন্তু পথের দুধারে যে ক’টা ভদ্রস্থ রেস্টুরেন্ট, তাদের প্রায় সবগুলোরই দরজা বন্ধ। শুনলাম আগের রাতে মানে ২৪শে ডিসেম্বর ক্রিসমাস ইভের জন্য সব রেস্টুরেন্ট অনেক রাত পর্যন্ত খোলা ছিল, তাই আজ দুপুরের আগে রেস্টুরেন্ট খুলবে না। ভাগ্য ভালো, আরও খানিকটা এগিয়ে পথের ধারে খোলা পেলাম একটা ছোট্ট গুমটি দোকান। টুথব্রাশ থেকে ব্যাটারি, চিপস বিস্কুট থেকে কলম, সস্তার ইয়ার পড থেকে টিফিনের সরঞ্জাম নিয়ে এক তেলেগু দম্পতি দোকান খুলেছেন। তেলেঙ্গানা মালভূমি প্রধান অঞ্চল হলেও এখানকার প্রায় সর্বত্রই সবুজের গভীরতা আর পাথরের রুক্ষতা হাত ধরাধরি করে আছে। মাঠের যেখানে শেষ সেখানে একটু উঁচুতে একটি মহিলা কলেজ,পাশেই কিছু চাষের জমি। উল্টোদিকে ছোটো বড় টিলা হাতছানি দিচ্ছে পাকা সড়কের পাশে পাশে। ছোটোখাটো দোকান, সামনের খোলা মাঠে চেয়ার ঘেরা কয়েকটা গোল টেবিল পেতে খাওয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু সমস্যা ভাষার। ভাগ্যিস দোসা আর অমলেট শব্দ দুটো দুপক্ষেরই চেনা, সেই ভরসাতেই হুড়মুড় করে গিয়ে বসলাম মাঠে রাখা টেবিল চেয়ারে। প্রথম সকালের মিঠে রোদ পিঠে লাগিয়ে গরম গরম ধোসা আর অমলেটের সঙ্গে কড়া করে এককাপ কফি। ব্যস, ব্রেকফাস্ট সারা। পথের জন্য চিপস বিস্কুট,বাদাম, ফ্রুটকেক জাতীয়আরো কিছু মুখ চালানোর জিনিস সংগ্রহ করে রওনা দিলাম য়গন্তীর পথে।
হায়দ্রাবাদ একদা ছিল অন্ধ্রপ্রদেশেরই অংশ। ২০১৪ সালে অন্ধ্রপ্রদেশের পশ্চিম দিকের দশটি জেলা নিয়ে গঠিত হয়েছে তেলেঙ্গানা রাজ্য। হায়দ্রাবাদ তেলেঙ্গানার রাজধানী আর য়গন্তী অন্ধ্রপ্রদেশের নান্দিয়াল জেলার একটি গ্রাম, আমাদের দর্শনীয় য়গন্তীর উমা মহেশ্বর টেম্পল ৩০০ কিমি পথ, গাড়িতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে। যারা ট্রেনে যাবেন তাঁদের নান্দিয়াল স্টেশনে নেমে বাকি ৮০ কিমি সড়ক পথে যেতে হবে। পিচ ঢালা রাস্তার দুপাশের শহর পেরিয়ে আমরা উঠে পড়লাম রিং রোডে। হায়দ্রাবাদ শহরকে অতি যত্নে ঘিরে রেখেছে আট লেন বিশিষ্ট এই ১৫৮ কিমি লম্বা জওহরলাল নেহরু আউটার রিং রোড। মসৃণ রাস্তায় অবশ্যই স্পিড লিমিট মেনেই গতির আনন্দে ব্যপ্তি ঘটিয়ে ওঠা হল ন্যাশনাল হাইওয়েতে।
টুকটাক মুখ চলেই যাচ্ছে সকলের। অতয়েব সর্বসম্মতিক্রমে স্থির হল লাঞ্চ স্কিপ করে এগিয়ে চলা জারি থাক। প্রশস্ত ঝাঁ চকচকে পথে গাড়ি এগোল নিজের ছন্দে। একসময়ে হাইওয়ে থেকে নেমে নান্দিয়ালে ঢুকলাম। পথে প্রচুর ডাব বিক্রি হয়, এক জায়গায় দাঁড়িয়ে খাওয়া হল ডাবের জল। শরীর মনকে তৃপ্ত করে গাড়ি এগিয়ে চলছে গ্রামের পথে, সমতল রাস্তা ক্রমশ বদলাচ্ছিল উঁচুনিচু পাহাড়ি পথে। দু’পাশে পাথুরে পাহাড়ের দৃশ্য আর রাস্তায় সরকারি বোর্ড বলে দিচ্ছিল আমরা পৌঁছে গেছি আমাদের গন্তব্যে, য়গন্তী টেম্পলের কাছাকাছি।
নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি রেখে জুতো খুলে কলের জলে হাত পা ধুয়ে আমরা এগোলাম মন্দিরের উদ্দেশে। গুহার মধ্যে মন্দির, ধাপে ধাপে বানানো অনেকগুলো সিঁড়ি পেরিয়ে উঠতে হবে সেখানে। কতকগুলো ধাপ পেরিয়ে মন্দিরের প্রধান চত্বরের সামনেই চতুষ্কোণ একটি জলাশয়।
পাথর বাঁধানো পুকুর, চারদিক থেকেই ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে জলাশয়ে নামার ব্যবস্থা আছে। প্রাকৃতিক এই জলাশয়ের জলের রং দৃশ্যতঃ সবুজ কিন্তু হাতে নিলেই স্বচ্ছ। পাহাড়ের তলা দিয়ে বয়ে আসা জলের স্রোত পাথরের নির্মিত একটি নন্দীর (ষাঁড়ের ) মুখ থেকে অনবরত বেরিয়ে এসে এই পুকুরের জলের উৎসের কাজ করছে, কিন্তু অনেককে প্রশ্ন করেও পাথুরে অঞ্চলে জল যে কীভাবে আসছে প্রকৃতির এই অদ্ভুত বদান্যতার কোনো ব্যাখ্যা কেউ দিতে পারলেন না। দেবতার দর্শন ও পুজোর আগে ভক্ত দর্শনার্থীরা এই পুকুরের জলে স্নান করে শুদ্ধ হচ্ছেন। আমরা আগেই বাইরের কলের জলে হাত পা ধুয়ে নিয়েছি, তাই সিঁড়ি ভেঙে নেমে একটু জল মাথায় ছেটানো হল।
এখান থেকে এগিয়ে গোপুরম পেরিয়ে লম্বা খানিকটা দালান তারপর খোলা প্রাঙ্গণ। পুরোটাই পাহাড়ের গায়ে, এখান থেকে গুহামন্দির অনেকটা উঁচুতে, অনেক গলো ধাপ পেরিয়ে এই পর্যন্ত এসেছি, এখনও অনেকগুলো ধাপ পেরিয়ে তবে দেবতার কাছে পৌঁছতে হবে।
য়গন্তী মন্দিরের প্রতিষ্ঠিত দেবতা উমা মহেশ্বর। পঞ্চদশ শতকে বিজয়নগরের সংগ্রাম রাজবংশের রাজা হরিহর রায় বুক্কা এই মন্দির নির্মাণ করান। পরবর্তী কালে অবশ্য চোল,চালুক্য বংশের স্থাপত্যের ছাপও পড়েছে এই মন্দিরের নির্মাণ শৈলীতে। বৈষ্ণবীয় রীতিতে নির্মিত এই মন্দিরের প্রধান তিন দেবতা হলেন শিব পার্বতী আর নন্দী।
জনশ্রুতি,অগস্ত্য মুনি বিন্ধ্য পর্বত পেরিয়ে দাক্ষিণাত্যের য়গন্তীতে এসে বেঙ্কটেশ্বর স্বামীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নির্মিত মূর্তিটির পায়ের আঙুলের নখ ভাঙা থাকায় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়নি। তখন অগস্ত্য শিবের ধ্যান করে তাঁকে প্রসন্ন করলে মহাদেব বলেন, এই জায়গাটি কৈলাসের মতো,তাই এখানে তিনি স্বয়ং বিরাজ করতে চান। অগস্ত্য মুনি অনুরোধ করেন, এখানে যেন মহাদেবের সঙ্গে দেবী পার্বতীও অধিষ্ঠান করেন। এরপরই এখানে একটি একক শিলায় উমা মহেশ্বরের অর্দ্ধনারীশ্বর যুগ্ম মূর্তির প্রতিষ্ঠা করা হয়। যে গুহায় অগস্ত্য মুনি শিবের সাধনা করেছিলেন, সেই গুহাটি অগস্ত্য গুহা নামে পরিচিত। এখানেই উমামহেশ্বরের মূর্তিটি পূজিত হন। এখানকার তৃতীয় মূর্তিটি হল নন্দীর (ষাঁড়ের)। এই মূর্তিটির বিশেষত্ব, মূর্তিটি প্রতি কুড়ি বছরে এক ইঞ্চি করে বেড়ে চলেছে। ব্যাঙ্গালোরের এক প্রোফেসর, এই মিথের স্বপক্ষেই কথা বললেন। আগে ভক্তরা নন্দীর মূর্তিটি সহজেই প্রদক্ষিণ করতেন, কিন্তু ইদানীং নন্দীর আকার বৃদ্ধির জন্য আর প্রদক্ষিণ করা সম্ভব না হওয়ায় মন্দিরের ট্রাস্ট থেকে একটি থাম ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্টও নন্দীর কলেবর বৃদ্ধির সত্যতা স্বীকার করেছে। সম্ভবত যে পাথরে নন্দীর মূর্তি তৈরি, সেই পাথরটির মধ্যেই এই বৃদ্ধির প্রবণতা আছে। সাধক বীরব্রহ্মেন্দ্রস্বামী তাঁর গ্রন্থ “কালাজ্ঞানানম” এ ভবিষ্যৎবাণী করেছেন, “কলিযুগের সমাপ্তি ঘটলে নন্দীর মূর্তি প্রাণ ফিরে পাবে এবং গর্জন করে যুগের সমাপ্তি ঘোষণা করবে।” যে গুহাতে বসে সাধক ব্রহ্মেন্দ্র স্বামী তাঁর গ্রন্থটি রচনা করেন, সেই গুহাটি সাধকের নামাঙ্কিত। তবে গুহাটি দেখলাম বেশ নিচু, শরীর ঝুঁকিয়ে ঢুকতে হয়।
শীতকাল হলেও দুপুরের রোদে বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল পাহাড়ের ধাপকাটা পথ। ভালো লাগলো মন্দির কর্তৃপক্ষ এই পাহাড়ি উত্তপ্ত রাস্তায় কার্পেট পেতে দর্শনার্থীদের হাঁটা ও দাঁড়ানো সহনীয় করে তুলেছেন।
আরও একটি কাহিনি শুনলাম এখানকার এক পূজারীর মুখে – চিত্তেপা নামে মহাদেবের এক ভক্ত এখানে পাহাড়ের গভীর জঙ্গলে শিবের সাধনা করছিল। মহাদেব বাঘের রূপ ধারণ করে তার সামনে এলে সে শিবকে চিনতে পেরে উল্লাসে নৃত্য করতে থাকে আর বলতে থাকে, “নেগান্তি শিবনু নে কান্তি ,“ (আমি শিবকে দেখেছি)। চিত্তেপা যে গুহায় সাধনা করেন, সেটি চিত্তেপার নামাঙ্কিত।
অগস্ত্য গুহার ডানদিকে বেশ খানিকটা উঁচুতে ভেঙ্কটেশ্বর গুহায় স্বামী ভেঙ্কটেশের ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি রক্ষিত আছে। খন্ডিত মূর্তি বলে এখানে পূজা প্রচলিত নয় তবে দর্শনার্থীরা দর্শনের জন্য এসে থাকেন। অগস্ত্য গুহার তুলনায় ভেঙ্কটেশ গুহাটির সিঁড়ি বেশ অনেকটাই খাড়া। প্রত্যেক জায়গায় পাহাড়ের গায়ে রেলিং লাগানো থাকায় ওঠা সহজ, তবে নামতে হল খুব সাবধানে। শুনলাম এই মন্দিরটি তিরুপতি মন্দিরের থেকেও প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ তবে এগুলি সবই গুহামন্দির।
জনশ্রুতি অনুসারে অগস্ত্য মুনির তপস্যা কালে বায়সরাজ কাকাসুর ঋষিকে খুব বিরক্ত করলে অগস্ত্য অভিশাপ দেন য়গন্তীর আকাশে আর কোনোদিন কাক প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি কাক শনিদেবের বাহন বলে য়গন্তীতে নাকি শনিদেবের প্রবেশও নিষিদ্ধ।
ভেঙ্কটেশ মন্দিরের উচ্চতায় দাঁড়িয়ে দিকচক্রবালে দৃষ্টিপাত করলাম। অসাধারণ নৈসর্গিক দৃশ্য। ছেড়ে আসতে ইচ্ছে করছে না, কিন্তু অনন্তকাল বসে থাকার উপায় কি আছে? ওপর থেকে সাবধানে নেমে এলাম, নীচের চত্বরে। ঠান্ডা পানীয় জলের ব্যবস্থা আছে, আছে কিছু স্ন্যাক্স জাতীয় খাবারের দোকানও। শুনলাম যে ভক্তরা এখানে থাকেন, তাদের দু’বেলা ভোগ প্রসাদ মন্দির থেকেই দেওয়ার ব্যবস্থা আছে। এরই মধ্যে পাহাড় থেকে নেমে আমাদের গাড়ি এগিয়ে চললো ১০০ কিমি দূরে কুর্নুলের পথে। আজ সেখানেই রাত্রিবাস। পথেই এক জায়গায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে চা আর একটু ভারী টা সহযোগে মেটানো হল লাঞ্চের অভাব। বিকেল পেরিয়ে সন্ধের আগেই গাড়ি ঢুকল কুর্নুল শহরে।
কুর্নুল শহর বেশ উন্নত, এটি এই জেলার জেলা সদরও বটে। ১৯৫৩ সালের ১লা অক্টোবর থেকে ১৯৫৬ সালের ৩১শে অক্টোবর এই শহরটি অন্ধ্রপ্রদেশের অফিসিয়াল রাজধানীর মান্যতা পেয়েছিল। হোটেলে পৌঁছলাম বটে তবে এখনও রেস্ট নয়। রিসেপশন থেকেই তাড়া দিল, কাছেই হাঁটা পথে এক চার্চ আছে, সেখানে বড়দিনের বেশ জমকালো উৎসব হয়। তবে তার আগে একটা ফোর্ট দেখে আসার কথা বললেন হোটেলের ম্যানেজার।
সান্ধ্য কফি খেয়ে বেরোনো হল ফোর্টের উদ্দেশ্যে। আমাদের হোটেল থেকে সামান্যই দূরে শহরের ঠিক মধ্যস্থলে এই কোন্ডা রেড্ডি ফোর্ট বা বুর্জটি অবস্থিত।
দুর্গটির মাথায় অর্ধবৃত্তাকার একটি বুর্জ ছিল। তিনতলা এই ফোর্টটি দ্বাদশ শতকে দ্বিতীয় দেবরায় এবং পরে অচ্যূত রায় ১৫৩০ থেকে ১৫৪২ এর মধ্যে নির্মাণ করিয়েছিলেন। সিমেন্ট বালি নয়, পাথরগুলোকে সংযুক্ত করতে কাদা মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনতলা এই দুর্গটিতে অনেকগুলি প্রবেশদ্বার আছে। এই গেটগুলি সপ্তদশ শতকে বিজয়নগর রাজ্যের গোপাল রাজা নির্মাণ করান। কোন্ডা রেড্ডি ছিলেন আলমপুরের শেষ শাসক যাঁকে এখানে সপ্তদশ শতাব্দীতে কুর্নুলের নবাব বন্দি করেন, তবে জনশ্রুতি কোন্ডা রেড্ডি মাটির নীচের গোপন সুড়ঙ্গ পথ দিয়ে দুর্গ থেকে পালিয়ে নিজের রাজ্য আলমপুর পৌঁছতে সক্ষম হয়েছিলেন। সপ্তদশ অষ্টাদশ শতাব্দীতে এই দুর্গটি ওয়াচ টাওয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হত। এখন সুড়ঙ্গটির ভগ্নদশার কারণে নীচের তলায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওপরের দুটি তলায় সিঁড়ি দিয়ে ওঠার ব্যবস্থা আছে। খোলা সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় ওঠা গেলেও তিনতলায় ওঠার সিঁড়ির দুপাশে এবং মাথার ওপর পাথরের দেওয়াল। দুর্গের প্রকোষ্ঠেগুলো নিরাপত্তার কারণেই তালা বন্ধ করা আছে। তবে একটা লোহার গেটের ফাঁক দিয়ে যেটুকু দেখা গেল ধাপে ধাপে সিঁড়ি নেমে গেছে অনেক নীচের কোনো অন্ধকারে। আপাতত দুর্গটির সামনের অংশ ফুলের বাগান এবং আলোকসজ্জায় সাজিয়ে দর্শনযোগ্য করে রাখা আছে। অনেক মানুষ দেখলাম ছুটির দিনে বা সন্ধেবেলা বেড়াতে আসেন, ছবি তোলেন এখানে। সারাদিনের ধকলে এতক্ষণে বেশ ক্লান্ত লাগছিল সকলের। ফোর্ট থেকে বেরিয়ে হোটেলে আসার পথেই পড়ল কুর্নুলের চার্চটি। রঙিন কাগজে,আলোর মালায়, যিশুর কাহিনি বলা পুতুল আর ছবিতে সাজানো চার্চে মহামানবের জন্মদিনের উৎসব চলছিল। চার্চের অরগ্যানে ওঠা সুরের মূর্ছনায় মন ভরে উঠেছিল আমাদের। সেখানেও কিছুটা সময় কাটিয়ে ফিরে এলাম হোটেলের নিশ্চিন্ত আশ্রয়ে।
