সম্পাদকীয়
প্রবন্ধে বৈচিত্র্যের সম্ভার বছরের প্রথম সংখ্যাতেই
অনুবাদ সাহিত্যের কাছে আমরা সবাই ঋণী, কারণ অনুবাদের জানলা দিয়েই বহির্বিশ্বের সাহিত্যের সম্ভারে চোখ বুলিয়ে নেওয়া যায়। বছরের প্রথম সংখ্যাটি এমন একটি লেখার অনুবাদ নিয়ে এল, তা যেন ঘরের কাছের আরশিনগরের কথা বলে, কিন্তু কত অচেনা! শমীতা দাশ দাশগুপ্তের অনুবাদে উঠে এল প্রতিবন্ধী, বাদামি ত্বকের নারী, সমাজকর্মী প্রিয়া রায়ের লড়াকু প্রবন্ধ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জনসাধারণের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পত্রিকা, ‘দ্য মাইটি’তে ২০২৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।
অনুবাদক স্বয়ং এবার কলম ধরেছেন অনুবাদ সাহিত্য নিয়ে। অনুবাদ করা সহজ নয়, এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় নিয়ে গেলেই অনুবাদ হয় না। পাঠকের সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনে অনুবাদকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আর অনুবাদ যখন পুরুষতান্ত্রিকতার শিকড় ধরে টান মারে, উপড়ে ফেলে পিতৃতন্ত্র? বিস্তারিত জানতে গেলে পড়তে হবে শমীতা দাশ দাশগুপ্তের লেখা প্রবন্ধ ‘নারীবাদ ও অনুবাদ।’
কবিতা তো আমাদের সবারই ভালো লাগে, কিন্তু তা নিয়ে বিশ্লেষণ করি ক’জন? শব্দচয়ন, বাক্যগঠন কেমনভাবে একটি কবিতাকে প্রভাবিত করে, তা সরল সোজা কথায় বুঝিয়ে দিতে কবি অমিত চক্রবর্তীর জুড়ি মেলা ভার। কবির প্রবন্ধ আগেও অবসরের পাঠকদের ঋদ্ধ করেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
নারী বিভাগের প্রথম প্রবন্ধ নূপুর রায়চৌধুরীর। উনিশ শতকের শেষ দিকে মেরি হেনরিয়েটা পিগট নামে এক প্রতিবাদী ইউরেশিয়ান নারী মানহানির মামলা করেন স্কটিশ চার্চ কলেজের তদানীন্তন অধ্যক্ষ ইউরোপিয়ান রেভারেন্ড উইলিয়াম হেস্টির অন্যায় অভিযোগের বিরুদ্ধে। ‘ক্যালকাটা মিশন স্ক্যান্ডাল অফ এইটিন এইটি থ্রি’ নামে এই ঐতিহাসিক মামলার ফলাফল কী হয়েছিল, তাই নিয়েই এই তথ্যসমৃদ্ধ প্রবন্ধটি।
দ্বিতীয় প্রবন্ধ অদিতি ঘোষ দস্তিদারের। এক অনন্য মাতা কন্যা, প্রিয়ম্বদা দেবী ও তাঁর মা প্রসন্নময়ী দেবীর জীবন আলেখ্য। চরম দু:খের অন্ধকারে সৃষ্টিশীল কলমই ছিল এই দুই দীপ্তিময়ীর আলোকবর্তিকা।
শিল্প সংস্কৃতি বিভাগে রয়েছে শ্রীজিৎ সরকারের প্রবন্ধ। অবসরের পাতায় শ্রীজিতের লেখা এই প্রথম প্রকাশ পেল। বিষয়টি অভিনব। ‘চন্দ্রাহত’ চিত্রশিল্পীরা, যাঁরা আক্ষরিক অর্থেই চাঁদ দেখে এমন পাগল হয়েছিলেন যে চাঁদের ছবি ছাড়া আর কিছুই আঁকতেন না, একগুচ্ছ এমন চিত্রশিল্পীর জীবন এঁকেছেন শ্রীজিৎ।
অগ্নীশ্বর সরকারের কলমও অবসরের নতুন সংযোজন। এক অতিপরিচিত প্রশ্ন – ‘ভূত আদপে কী,’ এর উত্তর খুঁজেছেন তাঁর প্রবন্ধটিতে।
ভিনসেন্ট ভ্যান গঘের শিল্পীসত্ত্বাটি প্রস্ফুটিত হয়েছিল বেলজিয়ামের এক প্রত্যন্ত কয়লাখনি অঞ্চলে। সেই কাহিনি শোনাতে কলম ধরেছেন অর্চন চক্রবর্তী। এই সংখ্যায় লেখাটির প্রথম কিস্তি।
পল্লব চট্টোপাধ্যায়ের সুচিন্তিত প্রবন্ধটি রবীন্দ্রনাথের ধর্মবোধ ও ধর্মচেতনার ওপর আলো ফেলে।
গৌতম বুদ্ধের জন্মস্থান লুম্বিনী গ্রামের ইতিহাস ও বিবর্তন নিয়ে তথ্যসমৃদ্ধ, গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখেছেন শিবাংশু দে।
বিরল ভূমিজ মৌল আর ভূমিজ চুম্বক এখন বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে প্রবল আলোচনার বিষয়। কিন্তু কী এই পদার্থগুলি? কেনই বা এদের গুরুত্ব এত? এই নিয়ে বিজ্ঞান বিভাগে প্রবন্ধ লিখেছেন অনিরুদ্ধ গঙ্গোপাধ্যায়।
মানুষের মন পরিবর্তন আর ফিজিক্স? কোয়ান্টাম থিওরি? শুনলেই মনে হয় যেন সোনার পাথরবাটি! এই ব্যতিক্রমী ভাবনাটি নিয়েই অবসরের পরিচিত লেখক তপন রায়চৌধুরী লিখেছেন একটি নাতিদীর্ঘ নিবন্ধ।
উনবিংশ শতাব্দী শুরুতে অরাজক ভারতবর্ষে ঠগীদের লুঠপাট, খুনজখম ছিল দৈনন্দিন ঘটনা। সেই অন্ধকার যুগের ইতিহাস তুলে আনলেন তৃপ্তি রায় তাঁর কুশলী কলমে।
ক্রীড়াবিভাগে ‘ভারতীয় টেস্ট-ক্রিকেটে সাম্প্রতিক কোচিং’ নিয়ে সুচিন্তিত বিশ্লেষণ পেশ করেছেন পার্থপ্রতিম রায়।
ব্যক্তিগত গদ্য
সত্তরের দশকে মফসসল শহর থেকে নীলরতন কলেজে ডাক্তারি পড়তে এল একটি সতেরো বছরের তরুণ। চোখে নতুন নতুন স্বপ্ন। উত্তাল রাজনৈতিক সময় আর তরুণটির ব্যক্তিগত জীবনের যে মিশেল সেই নিয়েই ধারাবাহিক ব্যক্তিগত গদ্য লিখছেন দিলীপ মাশ্চরক। অবসরের শীত সংখ্যায় এ কলমও একেবারে নতুন!
ভ্রমণ
ভিয়েতনাম ঘুরে এসে সে দেশের গল্প শোনালেন সঙ্গীতা ঘোষাল। ছোট্ট এতটুকু দেশ, কিন্তু বহু শতাব্দী ঔপনিবেশিকতার শিকার হয়েও মাথা নোয়াতে অস্বীকার করেছে, সাম্রাজ্যবাদের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই দিয়েছে সে দেশের মানুষ।
পুরাণ আর ইতিহাসের সন্ধান খুঁজেছেন বিজয়লক্ষ্মী মুখার্জী য়গন্তী থেকে কুর্নুলের বিভিন্ন দ্রষ্টব্য স্থানে।
বইটই
‘অনামা শহিদনামা’ বইটির কথা লিখলেন সঞ্চলিতা ভট্টাচার্য। মুকুল সাহার লেখা মর্মস্পর্শী বইটি অনেক অজানা শহীদের আত্মত্যাগের কথা তুলে এনেছে। মুক্তির মন্দিরের সোপান গাঁথা হয়েছে এঁদের প্রতিটি রক্তবিন্দু দিয়ে।
