লুম্বিনি ও তার ভূমিপুত্র
-একটি তীর্থযাত্রা
পালিসাহিত্যের অন্যতম প্রাচীন গ্রন্থটির নাম ‘সুত্তনিপাত’। সেই সংকলনে লুম্বিনির উল্লেখ পাওয়া যায়।
“সো বোধিসত্ত্বো রতনবরো অতুল্যো।
মনুসসলোকে হিতসুখতায় জাতো।
সক্যানং গামে জনপদে লুম্বিনিয্যে। “
[শ্রেষ্ঠরত্নবৎ তুলনাহীন বোধিসত্ত্ব মানবজাতির কল্যাণ ও সুখের জন্য শাক্যদের গ্রাম লুম্বিনি জনপদে জন্মগ্রহণ করলেন।]
উপনিষদের যুগ (১) যখন শুরু হয়েছিলো, তখনও মধ্য এশিয়া থেকে আসা জনজাতিদের স্রোত শেষ হয়ে যায়নি। ভারতবর্ষে তখন মধ্য বৈদিক যুগ। বর্ণভিত্তিক সামাজিক জাতিব্যবস্থা মোটামুটিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে। সেই সময় হিমালয়ের পাদদেশের অরণ্যপ্রান্তর অতিক্রম করে বেশ কিছু নর্ডিক জাতির বহিরাগত গোষ্ঠী তরাই অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে নানা ছোটো ছোটো ক্ষত্রিয় উপজাতি যুদ্ধব্যবসা পরিত্যাগ করে কৃষিকাজকে জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে একটি জাতি নিজেদের ‘শাক্য’ বংশীয় নামে চিহ্নিত করেছিলো। এই নাম এসেছিলো ‘শাক’ বা শালবৃক্ষের পরিচয় থেকে। তাঁদের তৎকালীন বাসভূমি ছিলো শালবন অধ্যুষিত। রাজকুমার সিদ্ধার্থ এবং শাক্যমুনি তথাগতের জন্ম ও মহানির্বাণ শালবৃক্ষের আশ্রয়েই ঘটেছিল। সিদ্ধার্থের পিতৃকুল ছিলো শাক্যবংশীয় এবং তাঁদের প্রতিবেশী ছিলেন ‘কোলিয়’ বংশের ক্ষত্রিয়রা। শাক্যদের বসবাসের কেন্দ্র ছিলো ‘কপিলবাস্তু’ (২) নামক একটি জনপদ। রাপ্তি ও রোহিণী নদীর উর্বর অববাহিকায় ছিলো শাক্যদের কৃষি-অর্থনীতি নির্ভর যাপন। তাঁরা ছিলেন সম্পন্ন কৃষক। তাঁদের সমাজব্যবস্থায় কোনও ‘রাজা’ থাকতেন না। জনপদ সংস্কৃতির নিয়ম অনুযায়ী তাঁরা নিজেদের গোষ্ঠীপতিদের নির্বাচন করতেন। নির্মল নদীস্রোত, আদিগন্ত শালবন, আম-তেঁতুলবাগান এবং বিস্তৃত ধানখেত দিয়ে ঘেরা থাকতো তাঁদের গ্রাম।
আর্যাবর্তের বিক্রমশালী রাজাদের রাজপাটে শাক্যজাতির ক্ষত্রিয়দের বিশেষ কেউ চিনতো না। তাঁরা ছিলেন মূলস্রোতের বাইরের মানুষ। প্রাকৃতিক কারণে তাঁদের বাসভূমি ছিলো আর্যাবর্তের কেন্দ্র থেকে বিচ্ছিন্ন। গাঙ্গেয় উপত্যকা থেকে অনেক দূর ও দুর্গম অবস্থানে। প্রাচীন বৈদিক সূত্রে তাঁদের কোনও উল্লেখ পাওয়া যায় না। এমন কী পাণিনি (৩) বা কৌটিল্যে(৪)র রচনাতেও শাক্যজাতীয় ক্ষত্রিয়দের কোনও উল্লেখ নেই। প্রাচীন সাহিত্যের মধ্যে ‘দীঘনিকায়’ সংকলনে শাক্যজাতি বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। সিদ্ধার্থের পিতা শুদ্ধোধনের সময় আশি হাজার শাক্য পরিবারের কথা শোনা যায়। মোট জনসংখ্যা পাঁচ লাখের বেশি ছিলো না। তাঁরা ছিলেন মূলত কৃষিজীবী। স্বাস্থ্যবান, সুদর্শন, গৌরবর্ণ জাতি হিসেবেই তাঁরা পরিচিত ছিলেন। বুদ্ধচরিতে অশ্বঘোষ বলেছেন, শাক্যনারীদের চন্দ্রোজ্জ্বল কমনীয়তা প্রফুল্লিত কমলপুষ্পকেও লজ্জা দিতো। অশ্বঘোষের মতে শাক্যরা ছিলেন ইক্ষ্বাকুর গোত্রের ক্ষত্রিয়দের বংশধর। শাক্যরা অবশ্য নিজেরা এরকম কোনও দাবি করেননি। সিদ্ধার্থের জন্মকালে শাক্যরা স্বাধীন জাতি ছিলেন না। স্বাধীন না হলেও তাঁরা নিজস্ব ঐতিহ্যের গরিমা নিয়ে বিশেষ গর্বিত ছিলেন। কোসলরাজ্যের রাজা প্রসেনজিতের শাসনাধীন হলেও শাক্যরা কুলগৌরবের বিচারে নিজেদের কোসলরাজার থেকে উচ্চস্থানে রাখতেন। শাক্যদের এই জাত্যভিমান, প্রতিবেশী অন্যান্য শাখার ক্ষত্রিয় জাতিদের কাছে তাঁদের অপ্রিয় করে তুলেছিলো। স্থানীয় অন্য ক্ষত্রিয় জাতির প্রতি শাক্যদের রূঢ়তাও জনবিদিত ছিলো। পার্বত্য জাতি হবার দরুন সমতলের আর্যসভ্যতার মূলস্রোতের রীতিনীতি বিশেষ মানতেন না। ব্রাহ্মণদের প্রতি শাক্য ক্ষত্রিয়রা বিশেষ আনুগত্যও দেখাতেন না। বস্তুত ইতিহাসের এই যুগে আর্য সমাজজীবনে ক্ষত্রিয়দেরই আধিপত্য ছিলো। তাঁরা নিজেদের ‘বর্ণশ্রেষ্ঠ’ মনে করতেন। শাক্যদের মধ্যে আর্যাবর্ত সুলভ বর্ণাশ্রমী বিভেদ বিশেষ গুরুত্ব পেতো না। গাঙ্গেয় অববাহিকার রাজতান্ত্রিক বর্ণবাদী সংস্কৃতি তাঁদের মধ্যে প্রভাব ফেলেনি। শাক্য সমাজের প্রধান কর্তারা নির্দিষ্ট কালব্যবধানে গোষ্ঠীপতি নির্বাচিত করতেন। আদিম গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের ক্ষমতা হস্তান্তর হতো। বালক বয়স থেকেই সিদ্ধার্থের সামগ্রিক বোধজগতে শাক্যসমাজে প্রচলিত সমতাবাদী পরিবেশ ও বস্তুস্থিতি গভীর প্রভাব ফেলেছিলো। গৌতম বুদ্ধের প্রকৃত জন্মস্থান হিসেবে প্রাচীন বৌদ্ধ সাহিত্য ‘সুত্তনিপাত’ গ্রন্থে প্রথম লুম্বিনির নাম পাওয়া যায়। এই তথ্যটি পরবর্তীকালে প্রমাণিত হয়েছে পিয়দস্সি(৫) অশোক স্থাপিত লুম্বিনি গ্রামের প্রোথিত শিলাস্তম্ভে খোদিত লিপির ভিত্তিতে।
গৌতম বুদ্ধের জন্মকালে শুদ্ধোদন শাক্যকুলের গোষ্ঠীপতি ছিলেন। ত্রিপিটকে শুদ্ধোদনের বংশপরিচয় বিষয়ে কোনও তথ্য পাওয়া যায় না। মহাপদান সুত্তে বলা হয়েছে তিনি শাক্যদের ‘রাজা’ ছিলেন। বিভিন্ন অট্ঠকথা থেকে পাওয়া সূত্রগুলি প্রায়শই পরস্পরবিরোধী। মজ্ঝিমনিকায়ের চুলদুক্খকখন্ধসুত্তে অট্ঠকথায় গোতমের পরিবার সম্বন্ধে কিছু তথ্য আছে। কিন্তু সেসব প্রামাণ্য তথ্য নয়। শুদ্ধোদনরা ছিলেন পাঁচ ভাই। তিনি ছাড়া শুক্লোদন, শাক্যোদন, ধোতোদন এবং অমিতোদন। তাঁদের এক ভগ্নী অমিতাদেবী। ‘উদন’ শব্দটির অর্থ তণ্ডুল। শুদ্ধোদন’ শব্দটির অর্থ পবিত্র তণ্ডুল। তাঁর সব ভাইদেরই নামের সঙ্গে ‘উদন’ উপসর্গটি যুক্ত থাকতে দেখা যায়। তাঁদের সবার জীবিকা ছিলো কৃষিকাজ। শুদ্ধোদন শাক্যসমাজের মুখপাত্র হলেও ‘রাজা’ ছিলেন না। বহু সময়ই নিজের হাতে কৃষিকাজ করতেন। স্থানীয় ‘রোহিণী’ নদীর দৌলতে সেখানের মাটি ছিলো স্বর্ণপ্রসূ। এই নদীর অববাহিকায় দুটি প্রতাপশালী ক্ষত্রিয় গোষ্ঠীর অধিকার ছিলো।
শুদ্ধোদনের নেতৃত্বে শাক্যজাতি এবং নদীর পূর্বদিকে ‘কোলিয়’ জাতি। শাক্যদের নাম যেমন ‘শাক’ বা শালবৃক্ষ থেকে এসেছিলো, কোলিয়দের নাম এসেছিলো কুলগাছ থেকে। তাঁরা থাকতেন নদীর পূর্বদিকে। শাক্য ও কোলিয়দের মধ্যে নিয়মিত বৈবাহিক সম্পর্ক ছিলো। শুদ্ধোদনের দুই পত্নী মায়াদেবী এবং গোতমী দুজনেই ছিলেন কোলিয় গোষ্ঠীপতি অঞ্জনের দুহিতা। আবার সিদ্ধার্থ গৌতমের পত্নী যশোধরা ছিলেন কোলিয় দলপতি সুপ্রবুদ্ধের কন্যা। শাক্যদের কেন্দ্রীয় জনপদ ছিলো ‘কপিলবাস্তু’। কোলিয়দের ‘রাজধানী’ ছিলো পূর্বদিকে পঞ্চাশ কিমি দূরের ‘দেবদহ’। ‘লুম্বিনি ‘ গ্রামটি ছিলো এই দুই জনপদের মাঝামাঝি। শুদ্ধোদনের ‘রাজধানী’ কপিলবাস্তুতে থাকলেও তিনি লুম্বিনি গ্রামে কৃষিকাজের সূত্রে বহু সময়েই বসবাস করতেন।
শুদ্ধোদনের কাল থেকেই লুম্বিনি গ্রামের এই অংশটিতে একটি সুরম্য উদ্যান ছিলো এমন কথা শোনা যায়। তাকে বেষ্টন করে ছিলো শালবৃক্ষের বনরাজি। শাক্য পুষ্করিণীটি ছিলো তার কেন্দ্রে। পাশেই ছিলো কোনও এক গ্রামীণ দেবতার থান। সন্তানসম্ভবা মায়াদেবী সেখানেই অর্ঘ্য সমর্পণ করতে এসেছিলেন। স্নানান্তে দেবতার থানে যাবার সময় তাঁর প্রসববেদনা শুরু হয়। সঙ্গে ছিলেন ভগ্নী গোতমী। বিশ্রামের জন্য একটি শালবৃক্ষের ছায়ায় তাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন। সেখানেই তথাগত বুদ্ধ ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন। সেদিন ছিলো বৈশাখী পূর্ণিমা। লোকমুখে এসব ইতিহাস স্থানীয় মানুষজনের স্মৃতিতে জাগরূক ছিলো। পিয়দস্সি সম্রাট অশোক এই বিবরণ অবগত ছিলেন। সেজন্যই তিনি পাটলিপুত্ত থেকে যাত্রা করে লুম্বিনি এসেছিলেন। তখনও লুম্বিনির উদ্যানবাটী বুদ্ধের অনুগামী দেশবাসীর কাছে তেমন পরিচিত ছিলো না। অশোক এই উদ্যানটিতে বুদ্ধের জন্মস্থানটি চিহ্নিত করে পাশে একটি স্তম্ভ স্থাপন করেন। যার ফলে তথাগতের অনুগামীরা বিষয়টি সম্যকভাবে অবগত হয়েছিলেন। সম্রাট অশোকের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং বহুজনের উদ্যোগে লুম্বিনি উদ্যানে বহু বৌদ্ধ উপাসনা কেন্দ্র গড়ে ওঠে। সেসব খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের ঘটনা।
বৌদ্ধসাহিত্য গড়ে উঠেছে শাক্যমুনি বুদ্ধকে ‘ভগবান’ জ্ঞান করে। যে জন্য তাঁকে নিয়ে গড়ে ওঠা নানা কিংবদন্তি যেন দেবতার লীলাবৃত্তান্ত। বুদ্ধ নিজের কাছে এই ধরনের বর্ণনা একান্ত অনভিপ্রেত ছিলো। বারবার বারণ করেও তিনি শেষ পর্যন্ত ‘ভক্তের ভগবান’-এ রূপান্তরিত হয়ে যান। এই অতিশয়োক্তি শুরু হয়েছিলো অশ্বঘোষের ‘বুদ্ধচরিত’ গ্রন্থ থেকে। পরবর্তীকালের সাহিত্যেও দেখি পূর্ণগর্ভা মায়াদেবী পিতৃগৃহে যাবার ইচ্ছা জানাতে শুদ্ধোদন তাঁকে সুশোভিত রথ ও শোভাযাত্রা সহকারে কপিলবাস্তু থেকে লুম্বিনি যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। যদিও ঘটনাটি বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়না। বিভিন্ন সূত্র থেকে যে সব তথ্য পাওয়া যায় তার থেকে প্রতীত হয় শুদ্ধোদন সেসময় লুম্বিনি তেই বসবাস করতেন। শাক্যরাজ্যের রাজধানী কপিলবাস্তু বা তিলওরাকোট থেকে মায়াদেবীর পিত্রালয় দেবদহ প্রায় সত্তর-পঁচাত্তর কিমি দূরে। কপিলবাস্তু থেকে লুম্বিনিও প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ কিমি ব্যবধানে অবস্থিত। সেকালে এই দীর্ঘপথটি অতীব দুর্গম ছিলো। কপিলবাস্তু থেকে দেবদহ পর্যন্ত দুর্গম, অরণ্য অধ্যুষিত, পার্বত্য পথে পূর্ণগর্ভা পত্নীকে দীর্ঘযাত্রা করতে দেওয়ার সপক্ষে কোনও বাস্তব হেতু পাওয়া যায়না। তৎকালীন নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে অনুমান করা যেতে পারে মায়াদেবী পূর্ণ গর্ভাবস্থায় লুম্বিনি গ্রামে শালবন বেষ্টিত একটি দেবস্থানে পূজা দিতে এসেছিলেন। সিংহলী লোকোত্তরবাদী বৌদ্ধসাহিত্য ‘মহাবথ্থু’ (মহাবস্তু) গ্রন্থে লুম্বিনি উদ্যানে তথাগতের জন্মের পর তাঁকে অভিনন্দন জানাতে নানা দেবতার আবির্ভাব ও চমকপ্রদ প্রাকৃতিক ঘটনা বর্ণনা আছে। ওই শাস্ত্রে এই ব্যাপারগুলিকে বোধিসত্ত্বের বুদ্ধত্ব প্রাপ্তির যাত্রার সঙ্গে সমীকৃত করা হয়েছিলো। এই সব বৌদ্ধ সাহিত্য কথিত কিংবদন্তি সমূহ, যেমন শিশুকে দর্শন করতে স্বর্গ থেকে দেবতাদের আগমন, আর্য গণনা মতে নানা সুলক্ষণের ইঙ্গিত আবিষ্কার অথবা জন্মের সঙ্গে সঙ্গে সদ্যজাত শিশুর অষ্ট পদচারণা ইত্যাদি কাহিনি ভক্তজনের অতিশয়োক্তির প্রকাশ হিসেবেই গণ্য করা উচিত।
লুম্বিনির ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রথম আবিষ্কার করেন সম্রাট পিয়দস্সি অশোক। ২৪৯ খ্রিস্টপূর্বে বুদ্ধের জন্মস্থানের সন্ধানে তিনি তীর্থযাত্রা করেছিলেন। নানা নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে তিনি এই স্থানে একটি স্তম্ভ স্থাপন করেন। স্তম্ভের উপর ব্রাহ্মীলিপিতে পালিভাষায় তিনি একটি আদেশ উৎকীর্ণ করে দেন। সেই আদেশের মর্মার্থ, তথাগতের জন্মস্থান লুম্বিনি গ্রামের অধিবাসীদের রাজকর থেকে রেহাই দেওয়া হলো। ক্রমশ এই স্থানে একটি বিস্তৃত বৌদ্ধ তীর্থ গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু পরবর্তীকালে সমগ্র এলাকাটি বনজঙ্গল অধ্যুষিত হয়ে পড়ে। বহির্জগতের থেকে তার সংযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। অবহেলিত মধ্যযুগে লুম্বিনি বারবার বহিরাগতদের আক্রমণে (৬) ধ্বস্ত হয়েছে। তার উপর ছিলো ম্যালেরিয়ার প্রকোপ। বিস্তীর্ণ লোকালয় জনপরিত্যক্ত হয়ে তরাইয়ের অরণ্যের গভীরে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তবে স্থানীয় জনসমষ্টির মধ্যে বুদ্ধ বিষয়ে বহু জনশ্রুতি প্রচলিত ছিলো। নানা লোকযানী কিংবদন্তি সেখানকার হাওয়ায় ভেসে বেড়াতো। লোকমুখে তার নাম ছিলো ‘রুম্মিনদেঈ’। জঙ্গল, ঝোপঝাড়ের মধ্যে প্রোথিত নানা প্রত্ন অবশেষের নমুনা দেখা যেতো। কিন্তু কোনও নিশ্চিত ঐতিহাসিক সূত্র পাওয়া যেতো না। নেপালের সেনাধ্যক্ষ খড়্গ সমশের রানা ১৮৯৬ সালে প্রাচীন বৌদ্ধ শাস্ত্র নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। লুম্বিনির অবস্থান সন্ধান করার জন্য তিনি ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সংস্থার গবেষক জর্মন গবেষক ফ্যুরার সাহেবের শরণাপন্ন হন। ১৮৯৬ সালেই ডঃ আলোইস আন্তন ফ্যুরারের নেতৃত্বে নেপালের রাজাদের উদ্যোগে একটি সন্ধান কাজ শুরু হয়। বিশদ উৎখননের পর দেখা যায় এই স্থানে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে নির্মিত নানা বৌদ্ধ স্থাপত্য ভূমিগত অবস্থায় প্রোথিত রয়েছে। লুম্বিনির মাহাত্ম্য আরও একবার প্রতিষ্ঠিত হয়। আধুনিক কালে, ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো লুম্বিনিকে প্রাচীনতম ঐতিহ্যগত বৌদ্ধ সংস্কৃতির পীঠস্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
লুম্বিনির নাম পরবর্তীকালে হয়ে যায় ‘রুপানদেহি’। সেখানে কথিত শালবৃক্ষের মূলে শাক্যমুনি বুদ্ধের নির্দিষ্ট ‘জন্মস্থান’টি দুহাজার দুশো বছর প্রাচীন একটি শিলালিপির মাধ্যমে আবিষ্কৃত হয়। এই প্রস্তরফলকটি, যাকে প্রত্নতাত্ত্বিক ভাষায় ‘Marker Stone’ বলা হয়, কোন সময়ে ও কার দ্বারা স্থাপিত হয়েছিলো তার কোনও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায় না। এই প্রস্তরফলকটি কেন্দ্র করে বুদ্ধজননী মায়াদেবীর নামাঙ্কিত একটি মন্দির নির্মাণ করা হয়। পাশের জলাশয়টি, যার নাম ‘শাক্য পুষ্করিণী’, বলা হয়, যেখানে মায়াদেবী স্নান করেছিলেন, পুনরুদ্ধার করা হয়। ক্রমে সেখানে খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতক থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী পর্যন্ত গড়ে ওঠা বহু বৌদ্ধবিহারের নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। সম্রাট অশোক স্থাপিত স্তম্ভ ও তার উৎলেখ সম্বন্ধে স্থানীয় লোকের সচেতন হলেও ওই বিশেষ জন্মফলকটির অস্তিত্ত্ব তাঁদের কাছে অজ্ঞাত ছিলো। বিখ্যাত প্রত্নতাত্ত্বিক বসন্ত বিদারি বলেছেন জন্মফলকটি বুদ্ধের সঠিক জন্মস্থান নির্দেশ করার জন্যই স্থাপিত হয়েছিলো। বিদ্বানদের মতে প্রস্তরফলকটি হয় সম্রাট অশোক স্থাপিত অথবা প্রতিমোক্ষবন বা ‘লুম্বিনি গামে’র (গ্রাম) স্থানীয় বাসিন্দারা স্থাপন করেছিলেন। তাঁদের গ্রামটি অকুস্থল থেকে চারশো মিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত ছিলো। এই ফলকটি প্রত্নকেন্দ্রের অবশেষ থেকে বিচ্ছিন্ন ভাবে রাখা ছিলো না। নির্দিষ্ট একটি স্থানে সযত্নে প্রোথিত ছিলো। সম্রাট অশোক ফলকটিকে পোড়াইঁটের বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে দিয়েছিলেন। জন্মফলকটি সাতটি ইঁটের উপর স্থাপিত ছিলো। এটি বালুপাথরে খোদিত ৭০-৪০-১০ সেন্টিমিটার মাপের একটি প্রত্ন নিদর্শন। ভিত্তির ইটগুলি খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকে নির্মিত বলে নির্ধারিত হয়েছে। চিনদেশীয় পরিব্রাজক সেং ৎসাই (৩৫০-৩৭৫ খ্রিস্টাব্দ), ফা হিয়েন (পঞ্চম শতক) এবং জুয়াং জং (সপ্তম শতক) সবার বর্ণনায় তথাগতের জন্মফলকের উল্লেখ আছে। সপ্তম শতকে জুয়াং জং লিখেছিলেন পবিত্র শাক্য পুষ্করিণীর পঁচিশ পদক্ষেপ উত্তরে তার অবস্থান। প্রত্নতাত্ত্বিক উৎখনন থেকে বোঝা যায় ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে ওই ফলকটি কেন্দ্রে রেখে ‘মায়াদেবী’ মন্দির নির্মিত হয়েছিলো। ২০১০-২০১৩ সালের প্রত্ন উৎখননের সময় ওই বেষ্টনীর অন্তর্গত পরিসরে খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকের একটি দারুমন্দিরের অবশেষ পাওয়া গেছে। সম্ভাবনা আছে, হয়তো সেটিই মায়াদেবীর গন্তব্য ছিলো।
নেপালের সেনাধ্যক্ষ খড়্গ শমশের এবং ডঃ ফ্যুরার ওই এলাকার বিভিন্ন ঢিবি উৎখনন করে প্রাচীন মায়াদেবী মন্দিরগুলির অস্তিত্ত্ব আবিষ্কার করেছিলেন। ১৮৯৬ থেকে ১৮৯৯ পর্যন্ত বুদ্ধের জন্মস্থান বিষয়ে সন্ধান চলেছিলো। ১৮৯৭ সালে ফ্যুরার সাহেব ‘Monograph on Buddha Sakyamuni’s Birth-Place in the Nepalese Tarai’ গবেষণা পত্রটি প্রকাশ করেন। বিশ শতকে তিনের দশকে ১৯৩৯ সালে খড়্গ সমশের রানার উত্তরসূরি সেনাধ্যক্ষ কেশর সমশের রানা লুম্বিনির ঘন ঝোপজঙ্গল পরিষ্কার করে বহু প্রত্ন অবশেষ উদ্ধার করেন। তাদের মধ্যে স্তূপ, বিহার, চৈত্য ইত্যাদি নির্মাণের সন্ধান পাওয়া যায়। ১৯৩৯ সালে কেশর সমশের মায়াদেবীর মন্দির পুনর্নির্মাণ করেন। বর্তমান মন্দিরটি ২০০৩ সালে ‘লুম্বিনি বিকাশ ন্যাস’ নির্মাণ করেছে। এই পুণ্যস্থানটি কেন্দ্রে রেখে জাপানি স্থপতি কেনজো টাঙ্গের নেতৃত্বে আট কিমি ব্যাসের একটি বৌদ্ধ ঐতিহ্য স্থল স্থাপিত হয়েছে।
রাজকুমার সিদ্ধার্থ যে শুধুমাত্র একজন ‘রাজার ছেলে’ হয়ে জীবন কাটিয়ে দেবেন না তার অনেক লক্ষণ তরুণ বয়স থেকেই তাঁর আচার-আচরণের মধ্যে প্রকাশিত হতো। জন্মসূত্রে তিনি ছিলেন আর্য ক্ষত্রিয়কুলের একজন শালপ্রাংশু, মহাভুজ যুবরাজ। যুদ্ধজীবী ক্ষত্রিয়দের নেতৃত্ব দেবার যাবতীয় গুণ তাঁর সহজাত ছিলো। কিন্তু তাঁর চেতনায় যুদ্ধ, হিংসা, জীবনহানি ও অকারণ রক্তপাতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তীব্রভাবে প্রত্যক্ষ করা যেতো। কৃষিজীবী ক্ষত্রিয় শাক্য ও কোলিয় জাতির জীবনধারা বয়ে যেতো রোহিণী নদীর জলসম্পদের ভরসায়। জলের ভাগ নিয়ে প্রায়শ দুই জাতির মধ্যে যুদ্ধ ও রক্তপাত ঘটতো। যদিও দুটি জাতিই পরস্পর বংশধারার ভাগী, কিন্তু যুদ্ধের সময় তাঁদের সেসব কথা মনে থাকতো না। বাল্যকাল থেকে সিদ্ধার্থ দেখতেন তাঁর পিতৃকুল এবং মাতৃকুল নিয়মিতভাবে রোহিণী নদীর জলসেচের দাবি নিয়ে ভ্রাতৃঘাতী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়তেন। যৌবরাজ্যে অধিষ্ঠিত হবার পর একবার সংঘর্ষের আভাস পেতে সিদ্ধার্থ নিজে যুদ্ধক্ষেত্রে অবতীর্ণ হয়ে উভয় পক্ষের যোদ্ধাদের নিবৃত্ত করেন। নদীর জল না আত্মীয় রুধির, মানুষের কাছে কোনটা অধিক মূল্যবান সে প্রসঙ্গে বিবদমান শাক্য ও কোলিয়দের বিবেকের কাছে প্রশ্ন রাখেন। তাঁর মধ্যস্থতায় নদীজল নিয়ে উভয় জাতির সংঘর্ষ চিরতরে লুপ্ত হয়েছিলো। হিংসা ও যুদ্ধের বিরুদ্ধে তথাগতের চিরন্তন প্রতিরোধের বাণীকে ব্যঙ্গ করে দেশের ক্ষত্রিয়সমাজ তাঁকে কটাক্ষ করতেন। জন্মগতভাবে যুদ্ধজীবী ক্ষত্রিয় হওয়া সত্ত্বেও নিরন্তর অহিংসার পক্ষে প্রচার শাক্যমুনিকে ‘স্বজাতি’র কাছে নিন্দার ভাগী করেছিলো। কিন্তু সেই সব নিন্দাবাদ একদিন নিখিল মানবতার কাছে অমৃতফল হয়ে ফিরে এসেছিলো। এসবই ভাবছিলুম আজকের রোহিণী নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে।
বর্তমান মায়াদেবী মন্দিরটি সমতল ছাদবিশিষ্ট একটি বর্গাকার ইঁটের নির্মাণ, যা প্রাচীন, পবিত্র পুরাতাত্ত্বিক অবশেষগুলি আচ্ছাদিত করে রেখেছে। উজ্জ্বল শ্বেতবর্ণের নির্মাণটির শিখর অংশ চিরাচরিত নেপালি বৌদ্ধ ঐতিহ্য অনুযায়ী নির্মিত হয়েছে। চতুষ্কোণ হার্মিকা, যার চার পাশে করুণাময় বুদ্ধের নিমীলিত, সর্বদর্শী চোখ দুটি আঁকা আছে। তার উপর তেরোটি সমকেন্দ্রিক বলয়, যা তেরোটি ‘ভূমি’র প্রতীক এবং শীর্ষে রয়েছে ‘ছত্র’। এই স্থাপত্য আমরা নেপালের অন্যান্য বিখ্যাত স্তূপ, যেমন স্বয়ম্ভূনাথ বা বৌধনাথেও দেখতে পাই। ভিতরে চারদিকে রেলিং করা আছে। পবিত্র অবশেষগুলি কাচের আবরণে সুরক্ষিত। সেখানে ছবি নেওয়া মানা। তাই নিতে পারিনি। তবে সেই সব ঐতিহাসিক নিদর্শন নিজের চোখে দেখতে পাওয়ার সুযোগ তো একটা রোমাঞ্চ সৃষ্টি করেই। পলকের মধ্যে আড়াই হাজার বছর আগের পৃথিবীতে ফিরে যাওয়া।
লুম্বিনির সামগ্রিক ‘বিহার’ এলাকাটি মায়াদেবী মন্দিরকে কেন্দ্রে পাঁচ কিমি অক্ষরেখার বিস্তৃত। ১৯৫৬ সালে নেপালের রাজা মহেন্দ্রের আনুকূল্যে একটি সংহত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই এলাকাটিকে উন্নত করা হয়েছিলো। এর পূর্বদিকে রয়েছে থেরবাদী বৌদ্ধমতের অনুগামী দেশগুলির বিহার ও চৈত্যের অবস্থান। যেমন থাইদেশ ও ব্রহ্মদেশ (মায়নামার)। পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে মহাযানী ও বজ্রযানী দেশগুলির নির্মাণ সঞ্চয়। যথা, চিন, জাপান ও জর্মনি। প্রতিটি বিহারই দেশের নিজস্ব স্থাপত্যরীতি অনুযায়ী নির্মিত। থাইদেশীয় নির্মাণে রয়েছে শ্বেতমর্মর তোরন ও সোনালি স্তূপ। চিনদেশীয় বিহারে দেখা যাবে টাং-রাজত্বের লালটালির ছাদ ও অলংকৃত মণ্ডপ। জাপানী নির্মাণকলা চিরকালই ন্যূনতম আড়ম্বরে বিশ্বাসী। এখানেও জাপানী প্যাগোডাটিতে রয়েছে শ্বেতশুভ্র গম্বুজ, যার সরল মহিমা শাশ্বত সমন্বিত আদর্শকে প্রতিফলিত করে। জর্মন বিহারটি তাঁদের সংস্কৃতি অনুযায়ী গম্ভীর ও বর্ণোজ্জ্বল স্থাপত্যের ছাপ বহন করে।
মহাপরিনিব্বানের আগে তথাগত সঙ্গী ভিক্ষু আনন্দকে বলেছিলেন,
‘হে আনন্দ! আমার অবর্তমানে চারিটি দর্শনীয় পবিত্র স্থান থাকিবে। যে স্থানে তথাগত জন্মগ্রহণ করিয়াছিলেন, যে স্থানে তথাগত বুদ্ধত্ব লাভ করিয়াছিলেন, যে স্থানে তথাগত ধর্মচক্র প্রবর্তন করিয়াছিলেন ও যে স্থানে তথাগত নির্বাণ লাভ করিবেন। এই সকল পবিত্র স্থান তথাগতের জীবনের সহিত জড়িত। এই সকল স্থান শ্রদ্ধাবান ব্যক্তিগণ দর্শন করিলে বুদ্ধের স্মৃতি তাঁহাদের মধ্যে উদয় হইয়া বুদ্ধের অস্তিত্ব যে ছিল সেই সম্বন্ধে তাঁহারা অবগত হইয়া শ্রদ্ধাশীল হইবেন।’ (মহানিব্বান সুত্ত-১৪৮)
বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির সমস্ত মূল গ্রন্থেই লুম্বিনির অসীম স্থান মাহাত্ম্য রয়েছে। পুরাকালে সম্রাট পিয়দস্সি অশোক থেকে জুয়ান জং এবং পরবর্তীকালে সমস্ত বৌদ্ধ সাধক ও অনুগামীদের কাছে লুম্বিনি এক পরম পবিত্র তীর্থস্থান।
বৌদ্ধ বিশ্বাসের তিনটি মূল শাখা থেরবাদী, মহাযানী এবং বজ্রযানী সবার জন্যই এই তীর্থ সমান ভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রদায় নির্বিশেষে সব বুদ্ধ অনুরাগীদের জন্য লুম্বিনি এক মহাতীর্থ। মায়াদেবীর মন্দিরে পবিত্র অবশেষগুলির পরিক্রমণ, পুষ্প অর্পণ ও ধূপদীপের অর্ঘ্য নিবেদন, শুধু বৌদ্ধ মতাবলম্বী নয়, সমস্ত তীর্থযাত্রীরা সহজ ভালোবাসায় পালন করেন।
তীর্থযাত্রার শুরুতেই আমরা এই পুণ্যভূমিতে মহামানব তথাগতকে প্রণাম জানিয়ে স্মরণ করেছিলুম। তথাগতের প্রতিশ্রুতি এই ভক্তিরহিত, পাষণ্ড, বিগ্রহ-উদাসীন অধমের ভুবনেও কোনও খানে ‘বুদ্ধের স্মৃতি ও বুদ্ধের অস্তিত্ব’ হয়ে অনুরণিত হয়েছিলো, সে সত্য অস্বীকার করতে পারি না।
গুরু বলেছেন,
‘….পাষাণের মৌনতটে যে বাণী রয়েছে চিরস্থির
কোলাহল ভেদ করি শত শতাব্দীর
আকাশে উঠিছে অবিরাম
অমেয় প্রেমের মন্ত্র, ‘বুদ্ধের শরণ লইলাম।”
টীকা
১ উপনিষদ– আনুমানিক সপ্তম শতক খ্রিস্টপূর্ব থেকে শুরু করে প্রায় তৃতীয় শতক খ্রিস্টাব্দ।
২ কপিলবাস্তু – কিংবদন্তি অনুযায়ী সাংখ্যগুরু কপিলমুনির বাস্তু ছিলো এখানে। অন্য সম্ভাব্য কারণ রক্ত (কপিল) বর্ণ মৃত্তিকার দেশ।
৩ পাণিনি – পাণিনি শাক্যমুনির সমসাময়িক। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ থেকে পঞ্চম শতক।
৪ কৌটিল্য – কৌটিল্য আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ-তৃতীয় শতক।
৫ পিয়দসসি – মূল পালি ভাষায় সম্রাট অশোককে ‘পিয়দস্সি’ বলা হতো। পরবর্তীকালে সংস্কৃতীকরণ করে ‘প্রিয়দর্শী’ করা হয়।
৬ বহিরাগতদের আক্রমণ – পনেরো শতকে সিকন্দর লোদি থেকে সতেরো শতকে অওরঙ্গজেবের সৈন্যরা লুম্বিনিতে ভাঙচুর করেছিলো।
