সিদ্ধিলাভ অথবা ...
সাধারণভাবে পদার্থবিদ্যায় আকর্ষণের ব্যাপারে আমাদের কিছু ধারণা আছে। যেমন নিউটনের মহাকর্ষীয় সূত্র। এই সূত্র অনুযায়ী বিশ্বের যাবতীয় বস্তু পরস্পর পরস্পরকে আকর্ষণ করে। এই আকর্ষণকে বলে গ্রাভিটেশনাল অ্যাট্রাকশন। পৃথিবীর আকর্ষণের কারণে একটা বস্তুকে ওপরে ছুঁড়ে দিলে সেটা আবার নীচে নেমে আসে। এছাড়া দুটো বিপরীতধর্মী চার্জ পরস্পরকে আকর্ষণ করে। একইরকম ভাবে একটি চুম্বকের উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরুকে আকর্ষণ করে। আবার আছে নিউক্লিয়ার ফোর্স যা পরমাণুর নিউক্লিয়াসের ভেতরে নিউট্রন এবং প্রোটনকে একসঙ্গে ধরে রাখে, প্রোটনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিকর্ষণ বল থাকা সত্ত্বেও। এছাড়া আছে সংসক্তি বল (cohesive force, যা সমজাতীয় অণুর মধ্যে কাজ করে), আসঞ্জন বল (adhesive force, যা ভিন্ন জাতীয় পদার্থের অণুর মধ্যে কাজ করে)।
এবার একটি অন্যরকম আকর্ষণ সম্পর্কে আমরা ধারণা করতে পারি। এই আকর্ষণের নিয়ম হচ্ছে এমন একটি বিশ্বাস যে আমার আপনার ইতিবাচক বা নেতিবাচক চিন্তা আমাদের জীবনে ইতিবাচক বা নেতিবাচক ফলাফল নিয়ে আসে, অর্থাৎ আমরা যেটা ভাবব, সেটাই হবে। এর মূল কথা হচ্ছে, আমাদের চিন্তা ও অনুভূতির কম্পন আমাদের চারপাশে একই ধরনের মানুষ, পরিস্থিতি এবং অভিজ্ঞতা আকর্ষণ করে। এটা মানসিকতা এবং অভ্যাসের মাধ্যমে কাজ করে, অর্থাৎ আমরা যেটা চাইব সেটার ওপর গভীর মনোযোগ দিলে তা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। তবে শুধু ভাবলেই হবে না, সেই ভাবনার সঙ্গে তীব্র আবেগ বা অনুভূতি যোগ করতে হবে। তার সঙ্গে অবশ্যই বিশ্বাস থাকাটা খুব জরুরি যে জিনিসটা পাবই বা ঘটনাটা ঘটবেই।
বিজ্ঞান বলছে, এই জড়জগত এবং জীবজগতের প্রতিটি জিনিস শক্তি দিয়ে তৈরি। অর্থাৎ আমরা নিজেরা এক ধরনের শক্তি এবং যা পেতে চাই, তাও এক ধরনের শক্তি। প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের ভাবনাচিন্তাও কি এক ধরনের শক্তি? একটু অন্যভাবে জিনিসটা ভাবা যাক। দুজন মানুষের মধ্যে যখন খুব ভাব হয়, ঘনিষ্ঠতা হয়, আমরা বলে থাকি, তাদের মধ্যে ওয়েভলেংথের মিল আছে, অর্থাৎ সেই দুজনের ভাবনাচিন্তার বা পছন্দের ধরন অনেকটা একইরকম। আর, যেহেতু ওয়েভলেংথ আর ফ্রিকোয়েন্সি বা কম্পাঙ্ক পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, বলতে পারি, তাদের মধ্যে ফ্রিকোয়েন্সির মিল আছে। তাহলে বোধহয় বলা যায়, আমাদের চিন্তাও এক ধরনের শক্তি এবং প্রতিটি চিন্তার একটা কম্পাঙ্ক থাকে। যা পেতে চাই তারও একটি কম্পাঙ্ক থাকে। আর, যখন আমাদের চিন্তার কম্পাঙ্ক আমাদের আকাঙ্ক্ষিত বস্তু বা বিষয়ের কম্পাঙ্কের সঙ্গে মিলে যায়, তখন ওটা আমরা অর্জন করি। প্রশ্ন হচ্ছে, কীভাবে আমরা এই কম্পাঙ্ক মেলাতে পারি? আমরা যে বস্তু বা বিষয় পেতে চাই, তা পাওয়ার জন্য একটা তীব্র আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে এবং তার জন্য ঐকান্তিকতার সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাজকর্ম করতে হবে। আকাঙ্ক্ষা বা আকূতি যত তীব্র হবে, এই আকর্ষণ তত দ্রুত ঘটবে, ফলে আকাঙ্ক্ষিত বস্তুটি তত তাড়াতাড়ি আমরা লাভ করব।
কেস স্টাডি
কেস ১
সেটা ১৯৯১ সাল। একটা কম্পিউটার সেন্টার করেছি আমার বাড়ির একটা অংশে। কিছু সফটওয়্যার শেখাব আমার ছাত্র-ছাত্রীদের, এটাই ছিল লক্ষ। আমার নিজের চাকরি নিয়েও তখন টালমাটাল অবস্থা। সবেমাত্র একটা ব্র্যান্ডেড কম্পিউটার কিনেছি। একটা সার্ভো স্টেবিলাইজার কিনেছিলাম ভোল্টেজ কন্ট্রোলের জন্য। ১৫ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে প্রথম কোর্স চালু করলাম।
সবেমাত্র দুটো কী তিনটে ক্লাস হয়েছে, থিওরি এবং প্র্যাকটিক্যাল ক্লাস সমেত। সেইসময় ঘটল এক মারাত্মক ঘটনা। কম্পিউটারটা খারাপ হয়ে গেল। কোম্পানির লোককে ডাকা হল। ওরা চেক করে বলল, মাদারবোর্ড উড়ে গেছে। তবে রিপ্লেস করে দেবে মাদারবোর্ড, যেহেতু ওয়ারেন্টি পিরিয়ডের মধ্যে ব্যাপারটা ঘটল। এত তাড়াতাড়ি মাদারবোর্ড উড়ে গেল, কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেল, সার্ভো স্টেবিলাইজারের আউটপুটে নিউট্রাল আর্থ লিকেজ ভোল্টেজ প্রায় ৮ এর মত দেখাচ্ছে, যেটার সেফ বা নিরাপদ ভ্যালু চারের নীচে হওয়াটা দরকারি। সেই কারণেই মাদারবোর্ড উড়ে গেছে। কোম্পানির তরফ থেকে আমাকে বলা হল, ইমিডিয়েটলি এই ভোল্টেজ কমানো দরকার।
আমাদের পাড়ায় একজন অভিজ্ঞ দাদাস্থানীয় ইলেকট্রিক্যালের এক ভদ্রলোক ছিলেন। তাঁকে ডাকলাম। তিনি মাল্টিমিটার নিয়ে এসে পরীক্ষা করে দেখলেন, সার্ভোর ইনপুটে ভোল্টেজের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি, যার ফলে সার্ভোর আউটপুট ৮ এর নীচে নামছে না। যে ট্রান্সফরমার থেকে আমাদের ইলেকট্রিক সাপ্লাই এসেছে সেই ট্রান্সফরমারের এন্ডে চেক করে দেখা গেল সেখানেও ভোল্টেজের পরিমাণ ততটাই, যেটা আমার সার্ভার ইনপুটে দেখাচ্ছে। এত বেশি ভোল্টেজ থাকলে তো কম্পিউটার চালানো সম্ভব নয়। সুতরাং সিদ্ধান্ত হল, অফিসিয়ালি ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানিকে জানাতে হবে, যাতে তাদের দিকে ব্যাপারটার সমাধান হয়।। তা না হলে তো আমাদের অঞ্চলে কোনো কম্পিউটার সেন্টার চালানো সম্ভব নয়! এই মর্মে একটা বেশ জোরালো চিঠি ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির সম্ভবত সার্ভিস ম্যানেজারকে উদ্দেশ্য করে লিখলাম। প্রশ্ন ছিল মনে, আমার মতো একটা ছোট্ট কম্পিউটার সেন্টারের তরফ থেকে লেখা এই চিঠিকে ওরা কি পাত্তা দেবে! কিন্তু কীভাবে যেন আমার ভেতরে একটা দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, সেরকমভাবে প্রেজেন্ট করলে ওরা আমাকে উপেক্ষা করতে পারবে না। সেইমতো গুছিয়ে চিঠিটা লিখেছিলাম। এবং নিজেকে ছোটো ভাবাটা মন থেকে সরিয়ে দিলাম। একটা দারুণ জামা-প্যান্ট পরলাম, স্যুটেড-বুটেড হয়ে বাবাকে সঙ্গে নিয়ে গেলাম। বাবা ছিলেন আমার সেন্টারের অ্যাকাউন্ট্যান্ট। বাবা সেইভাবেই নিজের পরিচয় দিতে বলেছিলেন। তাহলে ওয়েট থাকবে পুরো ব্যাপারটায়। সোজা সার্ভিস ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করলাম স্মার্টলি। কোনো কথা না বলে প্রথমেই চিঠিটা পেশ করলাম তার হাতে। পুরোটাই অভিনয়। অ্যাক্টিং করছি তখন। এরকম হাবভাব মোটেই আমার নিজস্ব নয়। অটোমেটিক্যালি আমার মধ্যে সেই মুহূর্তে একটা কনফিডেন্স এসেছিল, আমি যেটা চাইছি সেটা হবেই। ব্যাপারটা এরকম ছিল – সেই ব্র্যান্ডেড কোম্পানির ব্যাঙ্গালোর শাখা থেকে মাদারবোর্ড অলরেডি কলকাতার ব্র্যাঞ্চে এসে গেছে, ১৫ দিন থাকবে, তার মধ্যে আমার কম্পিউটারে সেটা ইনস্টল্ড না হলে ওটা আবার ব্যাঙ্গালোরে ফেরত চলে যাবে। এর মধ্যে ভোল্টেজ-এর ব্যাপারটা ঠিক না হলে ইলেকট্রিক সাপ্লাই দায়ী থাকবে। এইসব কথা চিঠিতে লেখা ছিল। সার্ভিস ম্যানেজার পুরো চিঠিটা মন দিয়ে পড়লেন এবং সঙ্গে সঙ্গে নির্দেশ দিলেন, ইমিডিয়েট অ্যাকশন নেওয়া হোক।
দেখলাম, পরের দিনই বিরাট গাড়ি করে সাপ্লাইয়ের লোকজন চলে এল আমার বাড়িতে। চেকিং হল। তারপর ওরা সবাই পাড়ার ট্রান্সফর্মারের এন্ডে চলে গেল। চেকিং হল সেখানেও। দেখা গেল, দুই ক্ষেত্রেই ভোল্টেজের পরিমাণ অনেক বেশি। অনেক চেষ্টা করল কমাতে, কিন্তু সমাধান হল না। পরপর তিনদিন ধরে ওদের আসা-যাওয়া চলতে থাকল। সে এক জগঝম্প ব্যাপার। কিন্তু সমাধান সূত্র পাওয়া গেল না। আমিও ক্রমশ বুঝতে পারছিলাম, বোধহয় এটার কোনো সমাধান নেই, অন্তত ওদের দিক থেকে। তবুও আরেকবার সাপ্লাই অফিসে গিয়ে সার্ভিস ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করে সবটা জানালাম। দেখলাম, সার্ভিস ম্যানেজার এবার অন্য এক ভদ্রলোক। এবং তিনি বেশ কড়া টাইপের, আগের ভদ্রলোকের মতো নন। বেশ কনফিডেন্টলি জানালেন, আমাদের তরফ থেকে কিছু করার নেই, শুধু আমাদের কেন, সারা ভারতবর্ষের কোথাও আপনার এই ডিমান্ড মেটাতে পারবে না, আপনার দিক থেকে কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে।
অদ্ভুতভাবে আমার মধ্যেও সেই প্রথম দিনের মতন কনফিডেন্স ছিল না, ফলে ওরা যা বলছে সেটাই সঠিক বলে মনে হল। আমি তখন সমস্যা সমাধানের জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগে গিয়ে এ ব্যাপারে কয়েকজন অভিজ্ঞ মানুষের সঙ্গে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করলাম। ওদের পরামর্শমতো সার্ভার বদলে আমি ইউপিএস লাগালাম। আউটপুটের নিউট্রাল-আর্থ ভোল্টেজ তখন জিরো দেখাল। সেটাই ছিল সমাধান, আমি পরে বুঝলাম। আমার সমস্যা দূর হল। গোটা ব্যাপারটা নিয়ে আমার শিক্ষা একটাই – প্রথমদিকে সমস্যা দূরীকরণের ব্যাপারে আমার এবং ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির দুজনেরই কোনো ধারণা ছিল না, কিন্তু আমার কনফিডেন্স লেভেল এবং প্রবলেম প্রেজেন্টেশন এতটাই জোরদার ছিল যে সাপ্লাই কোম্পানি আমাকে এড়িয়ে যেতে পারেনি। আপ্রাণ চেষ্টা করতে বাধ্য হয়েছিল।
আমার এই জোর কোথা থেকে এল, যেটা নর্মালি আমার সবসময় থাকে না। আসলে দেওয়ালে পিঠ থেকে গিয়েছিল, যেভাবেই হোক সমস্যার সমাধান করতে হবে। আন্তরিকভাবে ভেতরের এই চাওয়া থেকেই ওইরকম অভিনয়সুলভ জোর আমার মধ্যে আনতে পেরেছিলাম, যা আমার সহজাত ছিল না। কিন্তু ফাইনালি সমাধানের পথ খুঁজে পেয়েছিলাম। অর্থাৎ আমাদের উইল ফোর্স এবং সদিচ্ছা জোরদার থাকলে আমরা আমাদের চারপাশের পরিবেশ বদলাতে পারি। প্রথমদিকে আমার উইল ফোর্স জোরদার ছিল প্রথম সার্ভিস ম্যানেজারের থেকে, ফলে আমার ইচ্ছে অনুযায়ী কাজ হচ্ছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে ঘটনাচক্রে ব্যাপারটা উলটে গেল। ফলে আমি পিছিয়ে গেলাম। আলটিমেটলি সমাধানের রাস্তা খুঁজে পেলাম, যেহেতু সিনসিয়ারলি ব্যাপারটার পেছনে লেগেছিলাম, যেটা আমাকে করতে হয়েছিল কমপিউটার সেন্টার বাঁচানোর জন্য।
কেস ২
ফটোগ্রাফির ব্যাপারে কোনোদিনই আমার কোনো উৎসাহ ছিল না। একবার একটা ক্লিক টাইপের ক্যামেরা হাতে পেয়েও সেটা বিক্রি করে দিয়েছিলাম। অথচ পরবর্তীকালে সেই আমি একবার একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে ফটো তোলার জন্য হাতে একটা ডিজিটাল ক্যামেরা পেয়েছিলাম আমার পরিচিত একজনের কাছ থেকে। বেশ উৎসাহ নিয়ে সেবার অনেক ছবি তুলেছিলাম ক্যামেরাটা দিয়ে। দেখলাম, ডিজিটাল ক্যামেরায় অনেক ভালো ছবি তোলা যায় খুব সহজে।
অনুষ্ঠান মিটে যাওয়ার পর মনে হল, আমার নিজস্ব একটা ডিজিটাল ক্যামেরা হলে মন্দ হয় না। তখন ফটোগ্রাফিতে বেশ ইন্টারেস্ট চলে এসেছিল আমার মধ্যে। ইচ্ছে হল, একটা খুব ভালো ডিজিটাল ক্যামেরা কিনতে হবে। দু’মাস ধরে গুগল ঘেঁটে খুব পড়াশোনা করলাম ক্যামেরা নিয়ে। অ্যাপারচার সেটিং, শাটার স্পিড, আইএসও ভ্যালু – এগুলো নিয়ে রীতিমতো স্টাডি করলাম। ঠিক হল, নিকন কিংবা ক্যানন – এই দুই ধরনের কোনো একটা আমাকে কিনতে হবে। নিকনের একটা বিশেষ স্পেসিফিকেশনের ক্যামেরা বাছাই করলাম। আমাদের দেশে সেটার দাম ছিল আঠারো হাজার টাকা। আমার এক বন্ধু বিদেশে থাকে। তাকে জানালাম এই ক্যামেরার সম্পর্কে। সে জানাল, তেরো হাজার টাকায় সেই ক্যামেরা পাওয়া যাবে ওর ওখানে। আমি যদি চাই সে আমার জন্য ওই ক্যামেরাটা এখানে আনিয়ে দিতে পারবে। আমি রাজি হলাম। একজনের মাধ্যমে ক্যামেরাটা চলে এল কিছুদিনের মধ্যে। আজ পর্যন্ত সেই ক্যামেরা দিয়ে প্রচুর ছবি তুলেছি, প্রায় ১০-১২ হাজারের মতো। যেখানে বেড়াতে যাই সেই ক্যামেরাটা থাকে আমার সঙ্গে। নিয়মিত মর্নিংওয়াক করা শুরু করলাম এবং প্রচুর ছবি তুললাম পাখির, চারপাশের প্রকৃতির। সেইসব ছবি ফেসবুকে পোস্ট করলাম নিয়মিত। আমার উৎসাহ দেখে সেই বন্ধু আমাকে একটা এস এল আর ক্যামেরা গিফট করল। এস এল আর এবং ডিজিটাল ক্যামেরা দিয়ে আমি এখনও ছবি তুলে চলেছি। আমরা বন্ধুরা যখন কোথাও বেড়াতে যাই, তখন তারা কেউ ক্যামেরা সঙ্গে নেয় না যদিও তাদের ক্যামেরা রয়েছে আলাদা করে প্রত্যেকের, কারণ ওরা জানে যে আমি ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলব এবং সেই ছবি খুব ভালো উঠবে। আমি ভাবতেই পারিনি, কোনোদিন ফটোগ্রাফির ব্যাপারে আমার এত ইন্টারেস্ট হবে।
এই ঘটনা থেকে একটাই শিক্ষা – কোনো বিষয়ে ভালোলাগা এবং সেটা চাওয়ার ব্যাপারে প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি থাকলে তবে তা পাওয়া সম্ভব।
অর্থাৎ আমরা যা পেতে চাই, সেটার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ ও অভ্যাস তৈরি করতে হবে এবং নিজের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করতে হবে যে আমরা তা অর্জন করতে পারি। অধিকাংশ মতবাদ অনুযায়ী আমাদের যা-কিছু চিন্তার জন্ম আমাদের চেতনা (consciousness) থেকে। সুতরাং চিন্তা এবং চেতনা পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। ভবিষ্যতে হয়তো এই সমস্ত ধারণার বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।
———–
ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত।
