হাসপাতালে হাসাহাসি

হাসপাতালে হাসাহাসি

মা’কে যখন ভোরবেলা ইমার্জেন্সি থেকে হাসপাতালের মেইন বিল্ডিংয়ের কার্ডিয়াক ইউনিটে বদলি করল, তখন আমি চট করে বাড়ি এসে মায়ের কিছু নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং আমারও কয়েকটি পোশাক ও স্ন্যাকস নিয়ে নিলাম। গত রাতের আতঙ্ক তখনও মন থেকে মুছে যায়নি। আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের স্যান ডিয়েগো শহরটি এমনিতেই বিখ্যাত তার আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য। একদিকে তার পাহাড়, অন্য দিকে সমুদ্র, আর দু পা বাড়ালেই মরুভূমি। ভোরবেলার সূর্য যেন সেই রূপকে দ্বিগুণ করে তুলল। মা’কে এই পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে গত রাতে আমি CPR অর্থাৎ cardiopulmonary resuscitation প্রয়োগ করেছিলাম। মানুষটা রাতের খাবারের পর কথা বলতে বলতে হঠাৎই চেয়ারে বসা অবস্থায় ঢলে পড়ে। তৎক্ষণাৎ আমি মুখের মধ্যে আমার মুখ ঢুকিয়ে হাওয়া ভরতে থাকি (mouth to mouth resuscitation), কিন্তু তবুও মায়ের হৃদস্পন্দন পাই না। এদেশের পরিত্রাতা 911 নম্বরে ডায়াল করতেই তাঁরা নির্দেশ দেন মা’কে মাটিতে শুইয়ে CPR চালু করতে। এই বস্তুটি আমি উচ্চ বিদ্যালয়ে কাজ করার সুবাদে প্রায় আট বছর ধরে শিখেছি। প্রতি দু বছরে একবার এই কোর্সটি করা আবশ্যিক। এই কোর্স করার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেই স্কুলের নার্সের কাছ থেকে ইমেইল চলে আসত এবং সম্ভাব্য কোন কোন জায়গায় গেলে এই কোর্সটি আবার করা যাবে, তারও একটি তালিকা থাকত। সেই মতো রেজিস্ট্রেশন করে আমি পৌঁছে যেতাম জেলার কোনো একটি সরকারি স্কুলে। শেষ বার সেখানে একটি অল্প বয়সী দম্পতি এসেছিল শেখাতে। ছেলেটিকে দেখে একদম ভারতীয় মনে হচ্ছিল। পরে জানলাম তার মা বাবা ফিলিপিন্সের বাসিন্দা, সে এদেশে জন্মেছে। খুব আপন মনে হচ্ছিল তাকে আর তার আমার প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখে তার স্ত্রীও খুব মজা করছিল। সুখের বিষয় তারা দুজনেই ভারতীয় খাবার খুব ভালোবাসে, তাই বিভিন্ন খাবার ও ভারতীয় রেস্টুরেন্ট সম্পর্কে জ্ঞান জাহির করে আমি খুব শিগগিরই তাদের দুজনেরই কাছের মানুষে পরিণত হলাম।

ক্লাস শুরু হল আমার মতই আরো বিভিন্ন স্কুলের জনা পনেরো শিক্ষার্থী দিয়ে। আমাদের ছোটো  ছোটো গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হল। প্রতি দুজনের জন্য একটি করে ‘আধখানা’ পুতুল বরাদ্দ। তার মুখের ভেতরটা ফাঁক করা। অবিকল মানুষের আকৃতি। গোটা ক্লাসটি মনোগ্রাহী করে তুলতে বিভিন্ন গল্পের সাহায্য নেওয়া হল। যেমন, অফিস যাওয়ার পথে এক ভদ্রলোক অজ্ঞান হয়ে যান, সঙ্গে সঙ্গে আমরা অফিসযাত্রী-রূপী ওই পুতুলটিকে সিপিআর দিতে শুরু করি। নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে তাকে কিছু প্রশ্ন করতে হয়, উত্তর না পেলে তাকে বলতে হয়, “আমি এবার সিপিআর শুরু করছি।” যেহেতু এই সিপিআর দেওয়া অত্যন্ত পরিশ্রমসাধ্য এবং মানসিক চাপের ব্যাপার, তাই এই কাজটি দলের দুজনের মধ্যে ভাগ করে নিতে বলা হল। একজন হাঁটু মুড়ে বসে ১ ২ ৩ ৪ তাল অনুযায়ী মাটিতে শুইয়ে রাখা পুতুলের হৃদপিণ্ডের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় দুটি করতল একত্রিত করে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকবেন সর্বশক্তি দিয়ে, আর তাঁর বিরতির পর অপর জন মুখের ভেতর মুখ ঢুকিয়ে ফুঁ দিতে থাকবেন। এই ভাবে বেশ কয়েকবার করার পর অনেক সময় রোগী জীবন ফিরে পান। যাঁরা তবুও চোখ খোলেন না, তাঁদের তখন বৈদ্যুতিক শক দিতে হয়। এই ইস্ত্রির মত বস্তুটি সকলের বাড়িতে রাখার জন্য উপদেশ দেওয়া হয়। শিশুদের জন্য আবার অন্য ব্যবস্থা, তাদের শুধু আঙুল দিয়ে আলতো করে চাপ দিতে হয়। বৃদ্ধদের জন্যও অত্যন্ত সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়, নইলে তাঁদের  ভঙ্গুর পাঁজরের হাড় গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যেতে পারে!

অত্যন্ত উৎসাহ ও মজা করে যে ক্লাস করেছি, বছরের পর বছর সেখানে শিখে আসা বিষয়টি যে আদৌ কোনোদিনও কাজে লাগবে ভাবিনি। তাও আবার নিজের মা কে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য! মা প্রায় পাঁচ মিনিট ইহজগতে ছিলেন না। পাঁজরের ওঠাপড়া বন্ধ। আমি যখন আশা ছেড়ে দিয়েছি, তখন 911 ফোনের ওপ্রান্তের সেই মহিলা আমাকে সাহস যুগিয়ে চললেন। বললেন, “আমার সঙ্গে তালে তাল মিলিয়ে CPR দিয়ে যান। আমাদের চিকিৎসকের দল পৌঁছে যাচ্ছে।”

কী যেন এক আশ্বাস ছিল মহিলার সেই কথাগুলোয়। তার ঠিক পাঁচ মিনিটের মাথায় দরজার বাইরে ফায়ার ট্রাক এসে থামল এবং মা ও চোখ খুলে তাকালেন!

এরপর ঝড়ের বেগে অ্যাম্বুলেন্স ছুটল মা’কে ইমার্জেন্সীতে ভর্তি করতে। রাতটা নির্বিঘ্নে কাটল, অসংখ্য পরীক্ষা নিরীক্ষা হল এবং সব কিছুর রিপোর্ট ভালো। তবু ওনারা আরো একদিন পর্যবেক্ষণ করবেন বলে মা’কে সকালে কার্ডিয়াক ইউনিটে বদলি করবেন জানালেন।

সকালে যখন বিশাল হাসপাতালের সামনে গাড়ি পার্ক করে মায়ের ওয়াকার, বস্তার মতো দুটো ব্যাগ, জলের বোতল এবং আমার ঢাউস ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছি, ঠিক তখনই পাশের গাড়ি থেকে এক কোঁকড়ানো সোনালী চুলের শ্বেতাঙ্গিনী সহাস্যে আমার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলেন, “ডু ইউ নিড হেল্প?”

আমি হাতে চাঁদ পেলাম। এরপর দুজনে কিছুটা এগোতেই হাসপাতালের একটি ব্যাটারি চালিত গল্ফ কার্ট এসে আমাদের তুলে নিয়ে হাসপাতালের গেটের কাছে পৌঁছে দিল। রিসেপশনে রুম নম্বর খুঁজতে গিয়ে জানা গেল ওই সোনালি চুলের শাশুড়ি আর আমার মা একই কেবিনে রয়েছেন। মহিলার নাম ‘ক্যারী’। আমি বললাম, আমাকে উনি ‘ক্যালি’ বলতে পারেন। ক্যারী আর ক্যালি পরস্পরকে আলিঙ্গনে আবদ্ধ করে এলিভেটরের দিকে অগ্রসর হলাম। কেবিনে ঢুকে দেখলাম মা মোটামুটি সজাগ। গোটা ফ্লোরটি অসম্ভব পরিচ্ছন্ন, কোথাও কোনো দুর্গন্ধ, এমনকী ওষুধের গন্ধ পর্যন্ত নেই। মায়ের বিছানার পাশে একটা চেয়ারে আমি বসলাম আর ক্যারী অন্যদিকে ওর শাশুড়ির তত্ত্বাবধানে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। এই হাসপাতালে এসে আমি প্রথম জানলাম যে যন্ত্রণাদায়ক ক্যাথিটারের বদলে আজকাল রোগীকে পরানো হয় এক্সটার্নাল ক্যাথিটার। নার্সের মুখে এই কথা শুনে আমি তো হাঁ, সেটা আবার কী?

সে বলল, “এই দেখো। এই যে ছোট প্যান্টির মতো জিনিসটা পরাচ্ছি, তার ওপরে এই খালি টেস্ট টিউবের মতো বস্তুটা শোয়ানো থাকবে। এবার যতবার ইউরিন বেরোবে, সঙ্গে সঙ্গে ওই টিউব সেটা শুষে নিয়ে ওই দূরে রাখা জারটা তে ভর্তি করবে। জার ভরে গেলে আমরা ফেলে দেব।”

তাজ্জব!

তারপর ভাবলাম, নির্ঘাত কিছু না কিছু গোলমাল হবে আর ইউরিন উপচে পড়ে মায়ের বিছানা ভিজে যাবে! ওরা বলল, “দেখোই না, এটা বিজ্ঞানের নবতম আবিষ্কার।”

দেখলাম। অবিশ্বাস্য! 

গুগল করে বুঝলাম বেশ দামী বস্তু। এ এক যুগান্তকারী আবিষ্কার বলে আমি অন্তত মনে করি। রোগীকে যথা সম্ভব কম আঘাত করে তার চিকিৎসা করা, এটাই এদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য।

মায়ের কেবিনটি বেশ বড়। বিছানাগুলি বিশেষ ধরণের। বিভিন্ন ভাবে ঢেউ খেলানো যায়, ইচ্ছে হলে শুধু পায়ের গোছার কাছটা অথবা কোমরের অংশ ওঠানো বা নামানো যায়। আমার তো নিজেরই সেখানে একবার শুয়ে পড়তে ইচ্ছে হল। দুটি বেডের মাঝে পর্দা এমন ভাবে টাঙানো যে পুরো টেনে দিলে একদম দুটো আলাদা ঘর মনে হবে। মাথার কাছে দেয়ালে সমস্ত যন্ত্রপাতি লাগানো। মায়ের হাতে যে ব্লাড প্রেশার মাপার বস্তুটি লাগানো তার মনিটর রয়েছে নার্স লাউঞ্জে, তারা সেখানে বসেই অবিচল চোখ রাখছেন সমস্ত ঘরের রোগীদের খুঁটিনাটি বিষয়ে। পাশের বেডের মহিলার বয়স উননব্বই। বিশাল বপুর অধিকারিণী, নাকে অক্সিজেন। ক্যারীর কাছে শুনলাম উনিও মায়ের মতই হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে করে এখানে এসেছেন। ওনার হার্টের সমস্যা আছে এবং উনি হাঁটাচলা করতে পারেন না। ফর্সা ধবধবে মুখের পাশে কাঁচা পাকা চুল, কিন্তু মুখে জীবনের আনন্দ। মৃত্যুকে পরোয়া করেন না। আমার সঙ্গে হাসিমুখে আলাপ করলেন। উনি আগের রাত থেকে আছেন এখানে। বললেন, “এখানে কেউ দেখভাল করে না রোগীকে।” আমি ভাবলাম, আমেরিকার মত দেশেও এই হাল! যাই হোক, আমি তো আর মায়ের পাশটি ছেড়ে নড়ছি না! 

গত রাতের ভয়ঙ্কর সময়ের পর রোদ্দুর ভরা সকালটা বড় সুন্দর লাগছে। ওই বৃদ্ধা ও ক্যারীর সঙ্গে গল্প জুড়ে দিলাম। জিজ্ঞেস করলাম উনি কোথায় থাকেন। জানতে পারলাম তিনি বেশ নামকরা এক assisted living এর বাসিন্দা। এগুলো বেশ ব্যয়বহুল। কৌতূহলের বশবর্তী হয়ে জিজ্ঞেস করে ফেললাম, “উনি কি খুব বড় কোনো চাকরি করতেন, যার পেনশন অনেক?”

আসলে এদেশে বার্ধক্য হল অভিশাপ। ছেলেমেয়েরা যে যার নিজের জায়গায় ব্যস্ত, হুট বললেই কাউকে পাওয়া যায় না। কোনো আয়া বা দিনরাতের লোক রাখা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। সমস্ত বয়স্ক নাগরিক তাই চেষ্টা করেন নিজেদের শরীরের কলকব্জা একেবারে শেষ দিন পর্যন্ত মজবুত রাখতে। এ সমস্ত বৃদ্ধাবাসও সকলের নাগালের মধ্যে নয়। নিজের ভবিষ্যতের কথাটা ভেবেই জিজ্ঞেস করে ফেলি। জানতে পারি ওঁর লস এঞ্জেলেসে একটি বাড়ি ছিল, সেখানেই উনি একা থাকতেন কিন্তু অনেক বার পড়ে গিয়ে চোট পাওয়ায় ছেলে ওই বাড়ি বিক্রি করে যা টাকা পেল, সেটার কিছুটা ওঁর নামে ব্যাংকে রেখে আর বাকিটা দিয়ে এই সংস্থায় ওঁর থাকার পাকাপাকি ব্যবস্থা করে দেয়। সেখানে উনি খুব ভালো আছেন, ওরা খুব যত্নে রেখেছে। ক্যারী ঘণ্টাখানেক পর চলে গেল, ওর নিজেরও কী একটা সার্জারি হবে। এরপর সেই বৃদ্ধা গল্প শুরু করলেন, “জানো, এরা ডাকলে কেউ আসে না। গত রাতে আমার ইউরিন যেখানে জমা হয় সেটা ভ’রে যাচ্ছে দেখে আমি বেল বাজাতেই থাকি। তখন মেইন ডেস্ক থেকে ঘরে লাগানো স্পিকারে একটি নার্স জিজ্ঞেস করে উজবুকের মতো, ‘হাই, ডু ইউ নিড এনি হেল্প?’ আরে বাবা, হেল্প চাই বলেই তো ঘণ্টা বাজাচ্ছি, তোমার সঙ্গে গল্প করব বলে তো নয়! বেলটা রেখেছ কেন তোমরা? শিগগির কাউকে পাঠাও। আমার ইউরিন এবার সারা ঘরে উপচে পড়বে।”

সে নাকি তারপর “ও কে” বলে ফোন রেখে দেয় এবং যথারীতি মহিলার আতঙ্কই সত্য প্রমাণিত হয়। মাঝরাতে তুমুল চেঁচামেচি করায় অবশেষে লোক এসে তাঁকে পরিষ্কার করে দেয় এবং পাত্রটিও খালি করে যায়।

কিছুক্ষণ আলাপচারিতার পরেই বুঝে গেলাম এই মহিলার মধ্যে কৌতুকপ্রিয় এক মানুষ বিরাজ করছেন, আমার সময় ভালোই কাটবে।

ওঁর অসুখ বলতে সব সময় আধশোয়া হয়ে থাকতে হয়, নীচু হয়ে শুলেই ওঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। কেবিনে দুই রোগীর জন্য দু’জন আলাদা নার্স এবং তাদের আবার একজন করে অ্যাসিস্টেন্ট! তাদের কাজ হচ্ছে দু’ঘণ্টা অন্তর এসে রক্ত নিয়ে যাওয়া। মাঝরাতে ঘুমন্ত রোগীর কাছে সেটা খুব বিরক্তিকর ব্যাপার। এবার যতবারই তারা আসছে, মহিলা ব্যঙ্গ করে বলছেন, “এর বেলা তো ঠিক সময়মতো আসছ, সারাদিনে ডাকাডাকি করলে টিকিটি দেখতে পাই না! যত্ত সব রক্তচোষার দল!”

আমার হাসি পায়।

ওরা কিন্তু অত্যন্ত অমায়িক, বলে, “আমাদের আসলে স্টাফ কম ম্যাডাম। আপনি বলুন কী লাগবে।”

উনি বলেন, “এখন আর বলে কী হবে! ডিনার দিয়ে গেল কিন্তু জুসের কৌটো খুলে দিল না। আমি খাবো কী করে? ওই পাশের মেয়েটি না থাকলে…”

ওরা প্রচুর ক্ষমা চাইল এবং আমাকে ধন্যবাদ জানাল। এরপর উনি বললেন, “সেই সন্ধে থেকে থালা আর খাবারগুলো আমার বুকের ওপর ট্রে তে রাখা, ওগুলো নিয়ে যাবে কে?”

ওরা বলল এই সব কাজের জন্য যে মহিলা আছে তাকে ডাকছে। সেই মহিলা দশ মিনিট পর এসে মুখ বাড়িয়ে বলল, “ওহ, আই উইল বি রাইট ব্যাক!” তারপরেই হাওয়া!

মহিলা আমাকে বললেন, “বুঝলে মেয়ে, এই হচ্ছে এদের ফেমাস উক্তি, রাইট ব্যাক! আর তারপর জীবনেও ফিরবে না। দে উইল নেভার বি ব্যাক, দেখছি তো দু দিন ধরে!”

আমি হেসে ফেলি। কিন্তু সত্যি সেই মহিলা আর ফিরল না। আমি তখন ওনার ট্রে নিয়ে ঘরের বাইরে একটা টেবিলে রেখে এলাম। উনি অসংখ্যবার আমাকে ধন্যবাদ দিলেন তারপর আমাকে ডেকে বললেন, “এসো, তোমাকে একটা মজার জিনিস দেখাই। এই যে কলিং বেলটা আমার হাতের কাছে রয়েছে, তার গায়ে কী লেখা আছে দেখ।”

কাছে গিয়ে উঁকি মেরে দেখি জ্বলজ্বল করছে একটি বাক্য – Call, don’t fall!

উনি বলে চলেন, “এই লেখার অর্থ কী? এখানে তো পড়ে গিয়ে মাটিতে গড়াগড়ি খেলেও ওরা দেখতে আসবে না, আবার বলে কিনা আমাদের ডাকো, পড়ে যেও না! কত বড় মিথ্যেবাদী ভাবো! ফাজলামির একটা সীমা আছে না!”

ওনার মুখে চোখে কৌতুকের আভাস, আমিও আর হাসি চাপতে পারলাম না, রাত দুপুরে এক বৃদ্ধা ও আমার উচ্চগ্রামের হাসিতে হাসপাতাল গমগম করে উঠল।

ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান ডিয়েগোতে বসে বাংলার জন্য মন কেমন থেকেই লেখালেখির শুরু। ২০১৮ সাল থেকে নিয়মিত লেখিকা। ভূগোল নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করে ভারতে বিভিন্ন বহুজাতিক সংস্থায় তথ্য ও প্রযুক্তি বিভাগে কাজ করেছেন। বর্তমানে উত্তর আমেরিকার স্থায়ী বাসিন্দা। স্যান ডিয়েগোর ভিস্তা শহরে একটি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশেষ ভাবে সক্ষম বিভাগে resource specialist হিসেবে কর্মরত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *