যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের

যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের

[পূর্বপ্রকাশিতের পর]

প্রায়ই সন্ধেবেলায় কফি হাউসে একজন মহিলাকে চোখে পড়ত। ব্যক্তিত্বময়ী, সুন্দরী, তাঁতের শাড়ি খুব টানটান করে পরতেন, মনে হত যেন শাড়িটা পরে তারপর তার ওপর ইস্ত্রি চালিয়েছেন। ছিপছিপে চেহারায় তাঁতের শাড়িতে তাঁকে খুব আকর্ষণীয় লাগত। সমীরের কাছে জানতে পারলাম তিনি একজন কবি এবং একটি কবিতা পত্রিকাও সম্পাদনা করেন।

একদিন একটু ফাঁকা দেখে আমরা ওঁর টেবিলে গিয়ে জুটলাম। উনি একটি মোটাসোটা লিটল ম্যাগাজিন পড়ছিলেন। আমাদের টুকটাক কথাবার্তা হচ্ছিল, এক সময় সমীর আমাকে ওঁর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলল, “ও ডাক্তারি পড়ে এনআরএসে।” তারপর একটু হেসে যোগ করল, “ও কিন্তু ভালো কবিতাও লেখে। এ মাসের ‘রক্তমাংস’-তে ওর একটা কবিতা রয়েছে।”

ভদ্রমহিলা বইয়ের ফাঁকে একটা আঙুল রেখে ঘাড়টা একটু কাত করে (পরে দেখেছি এটা ওঁর একটা অভ্যেস) আমাকে বললেন, “তুমি কবিতা লেখো। কী লেখো?”

তখন আমার আঠারো বছর বয়স, ওই বয়সে মানুষের চিন্তাভাবনা বোধহয় একটু ওলটপালট থাকে। আমার কেন যেন মনে হল, ভদ্রমহিলার প্রশ্নের মধ্যে একটু তাচ্ছিল্য রয়েছে।

আমি একটু উদাসীনভাবে বললাম, “কবিতাই লিখি, বিশেষ কেউ পড়ে না। মনে হয় সে কবিতা অনেক পাঠকই বোঝেন না।”

ভদ্রমহিলা দু-এক মুহূর্ত আমাকে দেখলেন, তারপর সমীরের সঙ্গে পূর্বপ্রসঙ্গে কথা বলতে লাগলেন।

কফি হাউস থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে সমীর আমাকে বলল, “তুই তখন ওরকম করে বললি কেন? জানিস, উনি একজন বড়ো সম্পাদক।”

আমার তখনও রাগ পড়েনি। আমি গোঁয়ারের মতো বললাম, “দ্যাখ, ভালো কবিতা লেখা খুব জরুরি, কিন্তু কবিতা যে ভালো পত্রিকাতেই ছাপাতে হবে, এরকম কোনো দায় নেই।”

যদিও সমীরের মধ্যস্থতায় ওই সম্পাদকের সঙ্গে আমার ঝগড়া কিছুদিন পরেই মিটে যায় এবং এর পর আমি ওঁর পত্রিকায় কয়েকটি কবিতাও লিখেছি। দেখেছি, ভদ্রমহিলা খুব যত্ন করে কবিতা নির্বাচন করতেন।

এই সম্পাদিকার সঙ্গে অনেক দিন পরে আমার একবার দেখা হয়। সম্ভবত কোভিডের দু-এক বছর আগে, আমি কলকাতায় একটা ব্যক্তিগত কাজ নিয়ে এসেছি। তখন আমি বাইরে চাকরি করি।

কাজটা জটিল, এখন ঠিক মনে নেই, কোনো একটা বড়ো ব্যাংকের ভেতরে আমি টেবিল থেকে টেবিলে ঘোরাঘুরি করছিলাম। ভদ্রমহিলা হয়তো কোনো দরকারে ওই ব্যাংকে এসেছিলেন।

আমি ওঁকে খেয়াল করিনি। হঠাৎ আমার পাশে এসে, ঠিক সেই আগের মতো ঘাড় কাত করে বললেন, “আপনি… তুমি দিলীপ না?”

সেই বিশেষ ভঙ্গিমার জন্যই আমি ওঁকে চিনতে পারলাম। নাহলে, চেনা শক্ত, অনেক বদলে গেছেন। খুব শীর্ণকায়, মাথার চুলে তুষারের ছাপ, চশমার পেছনে উজ্জ্বল চোখ এখন অনেক নিষ্প্রভ।

আমার সব খোঁজখবর নিলেন। কিছুদিন আগে ‘দেশ’-এ প্রকাশিত আমার একটি কবিতার প্রশংসা করলেন। বুঝতে পারলাম, এখনও বেশ মনোযোগ দিয়ে কবিতা পাঠ করেন।

ওঁর পত্রিকার কথা জিজ্ঞেস করায় ম্লান হেসে বললেন, “ওটা তো অনেক দিন নেই।” তারপর অন্যদিকে তাকিয়ে অন্যমনস্কভাবে বললেন, “তোমরাও চলে গেলে… পত্রিকাও বন্ধ হয়ে গেল।”

দেখলাম ওঁর বাঁ হাতটা থরথর করে কাঁপছে। বৃদ্ধ বয়সে অনেকের এরকম হাত কাঁপে। এক ধরনের নার্ভের অসুখ।

আমি আস্তে আস্তে আমার করতলে ওঁর হাতটি তুলে নিলাম। আর সেই মুহূর্তে, ঠান্ডা, ভিজে, অসহায় সেই হাতের স্পর্শে, অনেক বছর আগে এই মহিলাকে তারুণ্যের ঔদ্ধত্যে যে কথাটি বলেছিলাম, তার জন্য গভীর লজ্জা হল। মনে মনে এই সাহিত্যপ্রাণ মহিলার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম।

তখন সত্তরের কলকাতা এবং অন্যান্য শহর-গ্রামাঞ্চল ধীরে ধীরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছে। শ্রেণিশত্রু হত্যায় মেতে উঠেছে যুবসমাজ। এই একটি ব্যাপার আমি কোনো দিন সমর্থন করতে পারিনি। এই শহুরে সমাজে কারা ঠিক শ্রেণিশত্রু? চারু মজুমদার ‘শ্রেণিশত্রু’ শব্দটির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।

তাছাড়া প্রচুর লুম্পেন তখন ঢুকে পড়েছে পার্টির মধ্যে। সেইসব তত্ত্ববিহীন, আদর্শবিহীন খুনেদের হাতে প্রতিদিন খুন হয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন পেশার অসংখ্য নিরীহ মানুষ।

“শ্রেণিশত্রুর রক্তে যে হাত রাঙায়নি, সে কমিউনিস্ট নয়”— চারু মজুমদারের এই তত্ত্ব তখন অনেককেই খতমে উৎসাহিত করতে থাকে। এই নির্বিচার গণহত্যায় নকশাল আন্দোলনের অপূরণীয় ক্ষতি হয়। সাধারণ মানুষ, যারা এই বিপ্লবের শরীর, আস্তে আস্তে তাঁরা পার্টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

অসীম চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ আরও কয়েকজন নেতা জোর দিতে চেয়েছিলেন গণ-আন্দোলন এবং গণসংগঠনের দিকে — যা কিনা তাঁদের মতে জনযুদ্ধের স্বীকৃত পথ।

কিন্তু চারু মজুমদার এই কথা কখনোই মেনে নেননি। তাঁর মতে গণ-আন্দোলন এবং গণসংগঠন আসলে সংশোধনবাদী রাজনীতির অনুশীলন। শ্রেণিশত্রু খতমই একমাত্র পথ। তিনি যেহেতু পার্টির শীর্ষস্থানীয় নেতা এবং সম্পাদক, তাই অধিকাংশ কর্মীই চারু মজুমদারের নির্দেশিত পথই অনুসরণ করেন।

ঊনসত্তর থেকেই বিভিন্ন জেলায় প্রবল উৎসাহে শ্রেণিশত্রু খতম অভিযান শুরু হয়েছিল। গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর এবং ২ নম্বর ব্লক উঠে আসে আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু একটা সময়ের পর এই শ্রেণিশত্রু খতমের লাইনই আন্দোলনের পক্ষে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়ায়। মুখে শ্রেণিসংগ্রামের কথা বলে, কাজে সন্ত্রাসবাদকে আশ্রয় করায় একসময় নকশালবাড়ি আন্দোলন জনসমর্থন হারায়।

খুব বেশি দিন নয়, হয়তো বছর তিনেক হবে, ইতিহাসের পাতায় যা একটি ক্ষণিক মাত্র, সমাজবদলের এই আন্দোলনে যে অসংখ্য তরুণ আদর্শের টানে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, নিজেদের ক্যারিয়ার বা পরিবারের কথা একবারও ভাবেননি — তাঁদের মধ্যে একজনের কথা এই অকিঞ্চিৎকর স্মৃতিকথায় লিখে রাখি।

বিশেষ কারণে আমি তার প্রকৃত নাম লিখতে পারছি না। ধরা যাক, তার নাম উৎপল। তালঢ্যাঙ্গা রোগাটে চেহারা, বড়ো বড়ো চোখ, একমাথা উড়োখুড়ো চুল।

উৎপলের বাবা, রবীন সরকার, রেলে একটি সাধারণ চাকরি করতেন। খুব রোগা, শ্বাসকষ্টের অসুখে ভোগা একজন মানুষ। আগেই বলেছি, আমার বাবাও রেলের চাকুরে। বাবা যে সেকশনে চাকরি করতেন, রবীনবাবুও সেখানেই পোস্টেড ছিলেন। দুজনের মধ্যে অন্তরঙ্গতা ছিল।

রবীনবাবুর একমাত্র ছেলে উৎপল, হায়ার সেকেন্ডারিতে দারুণ রেজাল্ট করেছিল। তখন রেলের চাকরিতে মাইনে ছিল খুব কম। তাও স্থানীয় কলেজে না ভর্তি করে, আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে ছেলেকে প্রেসিডেন্সিতে পড়তে পাঠিয়েছিলেন। বাবার কাছে গর্ব করে গল্প করতেন।

আমি যখন কলকাতায় এলাম, তখন উৎপলের সেকেন্ড ইয়ার, কেমিস্ট্রি অনার্স। আমি চিনতাম না, উৎপলই আমার পদবি শুনে বুঝতে পেরে আমার সঙ্গে আলাপ করে। পার্টির কাজে সে তখনই সংপৃক্ত হয়ে পড়েছে। সারাদিনই ব্যস্ত থাকে, আমার সঙ্গে কমই দেখা হত।

একবার কলেজ স্ট্রিটে ট্রামলাইন অবরোধে তার পাশে বসে অনেকক্ষণ গল্প হয়েছিল। আমি এখনও মনে করতে পারি তার দাড়িশোভিত মুখ, গভীর চোখে তাকিয়ে আছে আমার দিকে। আমি অনেক প্রশ্ন করছিলাম। একসময় উৎপল বলেছিল, “এত সংশয় থাকলে তো তুমি কাজ করতে পারবে না। বিপ্লবের স্বপ্ন দেখতে হলে প্রথমে নিঃসংশয় হতে হয়।”

আস্তে আস্তে কলকাতার ঘিনঘিনে বর্ষাকাল পার হয়ে বাতাসে ঠান্ডার ছোঁয়া এল, পার্ট ওয়ানের ফাইনাল এগিয়ে আসছে, কিন্তু উৎপলের সেদিকে বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। সে মিটিং-মিছিল-অবরোধ নিয়ে মেতে আছে, পড়াশোনার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

আমার খারাপ লাগত। রবীনবাবু অসুস্থ মানুষ, একমাত্র ছেলের ওপর অনেক আশা। একদিন ওকে একা পেয়ে বললাম, “পরীক্ষা তো কাছে চলে এসেছে, এবার একটু ভালো করে পড়াশোনা করো।” উৎপল হেসেছিল। ওর হাসি ছিল নিঃশব্দ। চোখ হাসত, মুখ জ্বলজ্বল করত ওর। হেসেই এড়িয়ে যেত উত্তর দেবার দায়।

পরীক্ষার ঠিক দুদিন আগে, গ্রামে কাজ করতে মেদিনীপুরে চলে গেল উৎপল।

তারপর ডিসেম্বরের এক কুয়াশাঘেরা সকাল। ছুটির দিন, কলেজ নেই বলে কম্বল মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছি। নস্যি রঙের র‍্যাপার জড়িয়ে সমীর এসে খবর দিল, দুদিন আগে গোপীবল্লভপুরে পুলিশের গুলিতে উৎপল মারা গেছে।

থানার পেছনে একদিন লাশ রাখা ছিল, উৎপলের মা-বাবা কেউ আসেননি, দূরসম্পর্কের এক দাদা শনাক্ত করে গেছেন। পুলিশই দাহ করে দিয়েছে।

সমীর চলে গেল। ঘরের মধ্যে এখনও আধো-অন্ধকার। পুরো ব্যাপারটাই একটা দীর্ঘ দুঃস্বপ্নের মতো মনে হচ্ছিল। সত্তর সাল শেষ হয়ে আসছে, এপাশ-ওপাশ থেকে দু-চারজন পরিচিত বন্ধুর মৃত্যুসংবাদ কানে আসছে।

কিন্তু উৎপলের মৃত্যু আমার কাছে যেন খুব নিকটজনের বিয়োগব্যথার মতো মনে হয়েছিল। চোখে জল নেই, বুকের ভেতরটা কান্নায় ধুয়ে যাচ্ছিল।

কেন যেন, উৎপলের চেয়েও আমার বেশি মনে পড়ছিল অনেক দূরের একটা অখ্যাত স্টেশনে কর্মরত একজন রুগ্নস্বাস্থ্য রেল-কর্মচারীর কথা। হয়তো কোনো যুক্তি নেই, নিছকই আবেগ, তবু সমস্ত দিন ধরে চিন্তা করেও আমি আদর্শের জন্য উৎপলের এই আত্মত্যাগকে পুরোপুরি সমর্থন করতে পারছিলাম না।

এই ঘটনার শেষাংশ, বাবার কাছে যেটুকু শুনেছি, তা আরও দুঃখজনক।

দু-সপ্তাহ পর রবীনবাবু কাজে ফিরে এসেছিলেন। তাঁর আর্থিক সঙ্গতি যা, তাতে চাকরি ছেড়ে দেওয়া সম্ভব নয়, কিন্তু তিনি অফিসের চেয়ারে বেশির ভাগ সময় চুপ করে বসে থাকতেন, টেবিলে ফাইলের পাহাড় জমে উঠত। তাঁর সহকর্মীরা নানাভাবে তাঁকে সাহায্য করতেন, সঙ্গে করে ক্যান্টিনে নিয়ে যেতেন।

ভদ্রলোক যদিওবা কিছুটা সামলে নিয়েছিলেন, তাঁর স্ত্রী এই ঘটনার অভিঘাত সামলে উঠতে পারেননি। তিনি পুরোপুরি অপ্রকৃতিস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর অসুখ ক্রমেই বাড়তে থাকে এবং এরপর তাঁকে সর্বক্ষণ দেখাশোনার জন্য একজন তরুণী আয়া রাখতে হয়।

এর পরের খবর আমাদের অজানা, কারণ তিন-চার মাস পর, বাবা সেই ডিভিশন থেকে বদলি হয়ে চলে আসেন।

নকশাল আন্দোলনের যোদ্ধাদের নিয়ে গল্প-উপন্যাস-প্রবন্ধে অনেক কিছু লেখালেখি হয়েছে, কিন্তু তাঁদের পরিবারের দুর্ভাগ্যের হাতে আত্মসমর্পণের কোনো ইতিহাস এখনও লেখা হয়নি।

একদিন কফি হাউস থেকে বেরিয়ে সমীর বলল, “ঘরে ফিরলেই তো গুমোট, চল একটু কলেজ স্কোয়ারে গিয়ে বসি। ফ্রেশ হাওয়া দিয়ে মগজটা পরিষ্কার করি।”

রাত প্রায় নটা বাজে। দু-চারজন ভবঘুরে ছাড়া বিশেষ কেউ নেই। জলের ধারে পা ছড়িয়ে বসে একথা সেকথার পর সমীর হঠাৎ বলল, “তোকে আমার প্রথম দিন দেখেই কেন ভালো লেগেছিল, জানিস?”

আমি বুঝতে না পেরে হাঁ করে তাকিয়ে আছি, সমীর বলল, “তোকে দেখে আমার হঠাৎ অন্য আরেকজনের কথা মনে হয়েছিল। তাকে আমি খুব ভালোবাসি। সেই যে সুদূর মফসসল থেকে এসেছে কিশোর, একটু স্বপ্নদর্শী, ট্রেনে চেপে শিয়ালদা, তারপর হ্যারিসন রোড ধরে কলকাতার এই শিক্ষাকেন্দ্রে, সামনে কলেজ স্ট্রিট, সে ঘুরছে তার বিখ্যাত সব ইমারতের গোলকধাঁধায়…”

সমীরকে কনুইয়ের খোঁচা দিয়ে বললাম, “কীসব বলছিস?”

সমীর একটু হেসে বলল, “হ্যাঁ রে, সেই ছেলেটা প্রেসিডেন্সির দেয়ালে সাজানো বিভিন্ন বিষয়ের পুরোনো বই ঘাঁটে, তার গন্ধ নেয়, জ্ঞানের জন্য তার অদম্য পিপাসা— তোর মতোই একটা পুরোনো মেসবাড়িতে আরও কয়েকজনের সঙ্গে একটা ঘরে থাকে— ”

এতক্ষণে বুঝতে পারি, ‘অপরাজিত’-র গল্প।

সমীর আলতো করে আমার কাঁধ জড়িয়ে বলে, “জানিস দিলীপ, তোর মতো, অনেক অনেক কাল ধরে বাঙালি আত্মপ্রতিষ্ঠার টানে এসেছে এই মহানগরীর শিক্ষাকেন্দ্রে, তার জ্ঞানতৃষ্ণা মিটিয়েছে। এতগুলো বছরে বদলায়নি কিছুই, হেয়ার স্কুলের রেলিঙের পাশে একটা বুড়ো লোক অনেক দিন ধরে বিক্রি করছে পরীক্ষার প্রশ্নমালা, বদলের মধ্যে শুধু দেয়ালের লেখাগুলো, মাওয়ের ছবি আর বিপ্লবের অঙ্গীকার।”

অপুর গল্প থেকে আমরা আবার সমাজবদলের গল্পে ফিরে যাই।

(ক্রমশ)

বাড়ি বর্ধমান , পেশায় চক্ষু চিকিৎসক। কর্মজীবনের ব্যস্ততা এড়িয়ে অল্পই সময় থাকে বইপড়া এবং লেখালেখির কাজে। প্রথম প্রেম অবশ্যই কবিতা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত দুটি কাব্যগ্রন্থ , 'এমন নিঃশব্দ তুমি' এবং 'তিন মাস কথা নেই।' প্রথম গল্প প্রকাশিত রবিবাসরীয় আনন্দবাজারে। একটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত এবং একটি উপন্যাস প্রকাশের অপেক্ষায়। শখ : সাহিত্যপাঠ। প্রিয় লেখক: মুরাকামি এবং মার্কেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *