যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের

যে জীবন ফড়িঙের, দোয়েলের [পূর্ব প্রকাশিতের পর]

আমার আজীবন সাহিত্যপ্রীতির কারণ রবীন্দ্রনাথ। এখানে একটু ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

আমার বাবা কাজ করতেন ভারতীয় রেলে। আদ্রা ডিভিশনে বিভিন্ন স্টেশনে তাঁকে কাজ করতে হত। এক কি দু-সপ্তাহ অন্তর দু-তিনদিনের রেস্টে তিনি বাড়ি আসতেন। আসার সময় আমাদের তিন ভাইয়ের জন্য নানান জিনিস নিয়ে আসতেন।

আমি ছোটবেলা থেকেই ঘরকুনো। প্রায়ই নানারকম অসুখে ভুগতাম। খেলার মাঠে আমার ডাক পড়ত না। আমি বন্ধুবান্ধবদের বাড়ি থেকে গল্পের বই জোগাড় করে আনতাম, সেসব দিয়েই আমার দিব্যি সময় কেটে যেত।

আমি এত বই ভালোবাসতাম বলে, বাবা মাঝে মাঝে আমার জন্য বই কিনে আনতেন। তিনি ছিলেন একনিষ্ঠ রবীন্দ্রভক্ত। প্রায়ই তিনি রবীন্দ্রনাথের কাব্যগ্রন্থ আমাকে উপহার দিতেন। সাদাসিধে মলাটের এই বইগুলো আমার খুব প্রিয় ছিল। কখনও ‘কথা ও কাহিনী,’ কখনও ‘জন্মদিনে,’ কখনও ‘পলাতকা।’ এইভাবে রবীন্দ্রকবিতার সঙ্গে আমার নিবিড় পরিচয় হয়।

এখন বেশিরভাগ বাড়িতেই সুদৃশ্য শো-কেসে ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’ সাজানো থাকে। তাঁরা কীরকমভাবে রবীন্দ্রনাথকে পড়েন জানি না। আমরা যতদিন ভাড়াবাড়িতে ছিলাম, আমার কলেজজীবনের শেষ পর্যন্ত, আমাদের বাঁধানো ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’র সেট ছিল না। টুকরো টুকরো কাব্যের মধ্যে দিয়েই আমার রবীন্দ্রনাথকে চেনা।

এখানে আমার মায়ের কথা উল্লেখ করা প্রাসঙ্গিক। আমাদের বাড়িতে কোনো কাজের মেয়ে, আজকাল যাকে কর্ম-সহায়িকা বলা হয়, ছিল না। সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত সমস্ত কাজ মা একা নিজের হাতে করতেন।

সেই বাড়িটির ভাড়া ছিল পঁয়তাল্লিশ টাকা। একটিমাত্র মাঝারি সাইজের ঘর, স্নানের জায়গায় ছোট একটি টিউবওয়েল, যাতে জলের থেকে শব্দ উঠত বেশি। খাবার জল আনতে হত রাস্তার টাইম-কল থেকে। আমাদের সেই একটাই শোয়ার ঘর; কখনও প্রয়োজনমতো নাম পাল্টে হয়ে যেত বসার ঘর, আবার খাওয়ার ঘরও ছিল সেইটাই।

আমরা থাকতাম একতলায়, দোতলায় বাড়িওয়ালা। একতলায় আরও একটি ঘর ছিল, কিন্তু সেটি ভাড়া দেওয়া হয়নি। সেই ঘরে বাড়িওয়ালাদের সারা বছরের চাল, আলু ইত্যাদি থাকত। সেখান থেকে বেশ মোটাসোটা ইঁদুর আমাদের ঘরেও আসত। এর জন্য পরে আমাদের একটি ইঁদুর-কল কিনতে হয়।

এই উদয়াস্ত পরিশ্রমের মধ্যে হয়তো অল্প একটু দ্বিপ্রাহরিক অবসরে, মাকে একটি মোটা বই মাঝে মাঝে উলটোতে দেখেছি। বইটি ক্যালেন্ডারের কাগজ দিয়ে যত্ন করে মলাট দেওয়া, পাতাগুলো হলদে। সেই বইটি ছিল ‘সঞ্চয়িতা।’

একটি উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হল, এই বইটি মায়ের কোনো আত্মীয় তাঁর বিয়েতে উপহার দিয়েছিলেন। কবির নামাঙ্কিত পাতার নীচের দিকে তিনি সবুজ কালিতে স্বাক্ষর করে দিয়েছিলেন, কিন্তু এতদিন পরে সেই লেখা একেবারেই আবছা হয়ে গিয়েছিল।

তখন বিবাহ ইত্যাদি অনুষ্ঠানে বই উপহার দেওয়াটা খুব চালু প্রথা ছিল। মায়ের বিয়েতে পাওয়া বইগুলো একটা পুরোনো ট্রাঙ্কের মধ্যে ছিল। এই বইগুলিকে আশ্রয় করেই আমি ঢুকে পড়ি বড়োদের বইয়ের জগতে। বাঙালির এই সুন্দর অভ্যাসটি এখন সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। একজন উপহারদাতা যে বই উপহার দিচ্ছেন, তার থেকে উপহারদাতাকে কিছুটা চেনা যায়। একটা সাদামাটা বিছানার চাদর উপহার দিলে তাঁকে চেনা যায় কি?

এই বিবর্ণ বইটি বহুবার পাঠের দরুন, মা বিভিন্ন কবিতার স্তবক স্মৃতি থেকেই বলতে পারতেন। সঞ্চয়িতার কোনো কোনো কবিতা মুখস্থ করে মাকে শুনিয়ে আমি মাকে অনেকবার অবাক করে দিয়েছি।

সম্ভবত এখান থেকেই আমার কবিতা আবৃত্তি করার অভ্যাসটি তৈরি হয়েছিল। ক্লাস ফাইভ-সিক্স থেকেই আমি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আবৃত্তিতে অংশ নিয়েছি।

ইস্কুলে পড়ার সময়েই (আমি ইস্কুল বললে, মেয়ে বকাবকি করে, কিন্তু আমি ইস্কুল বলতেই ভালোবাসি) আনন্দবাজার পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘কবিতার ক্লাস’ বেরোতে শুরু করে। খুব সহজ ভাষায়, সরস ভঙ্গিতে, বাংলা কবিতার ছন্দ শেখাবার এরকম বই আজ পর্যন্ত আমি দেখিনি। প্রতি সপ্তাহে এই লেখাটির জন্যে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকতাম।

ছন্দ শেখার পর আমার কবিতাপাঠে উৎসাহ আরও বেড়ে গেল। বোধহয় এই সময়েই আমি কবিতার মতো কিছু লিখতে শুরু করি। কিন্তু আমার কবিতাচর্চার ভিত্তি রবীন্দ্রনাথ স্থাপন করলেও, কবিতার অপার রহস্যময়তার সন্ধান আমাকে দিয়েছিলেন অন্য আর একজন।

আমাদের ইস্কুলে প্রতি বছর পরীক্ষায় প্রথম দ্বিতীয় স্থানাধিকারীদের প্রাইজ দেওয়া হত। এ ছাড়াও কোনো কোনো ক্লাসে ছিল কোনো বিশেষ বিষয়ের সর্বোচ্চ নম্বর প্রাপকের পুরস্কার।

ক্লাস টেনের পরীক্ষায় বাংলায় সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার জন্য আমাকে যে বইটি পুরস্কার দেওয়া হয়, সেটি ছিল জীবনানন্দ দাশের শ্রেষ্ঠ কবিতা।

এখনকার সংস্করণের চেয়ে কিছুটা পাতলা সেটা, কভারে ছোট ছোট নীল পাতার ছবি। এই বইটি আমার সামনে যেন এক অচেনা জগতের সিংহদুয়ার খুলে দিল। বলা ভালো, আমাকে ভাসিয়ে নিয়ে গেল। আমি বুঝতে পারলাম, কবিতা সম্বন্ধে বোঝা কথাটাই অপ্রাসঙ্গিক— কবিতা আমরা বুঝি না, শুধু অনুভব করি।

এই কৃশকায় বইটি বিছানায় আমার বালিশের পাশেই স্থান পেল। এই কবির অতীন্দ্রিয় জগৎ আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল বেশ কিছুদিন। হয়তো এখনও সেই আচ্ছন্নতা যায়নি।

তখন জীবনানন্দের কাব্যগ্রন্থগুলির দাম খুব বেশি ছিল না। হাতখরচের টাকা জমিয়ে আমি সংগ্রহ করতে লাগলাম ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি,’ ‘রূপসী বাংলা,’ ‘বনলতা সেন,’ ‘মহাপৃথিবী,’ ইত্যাদি। আস্তে আস্তে প্রবেশ করলাম সেই অদ্ভুত জগতে, যেখানে জ্যোৎস্নার প্রান্তরে মহীনের ঘোড়াগুলো ঘুরে বেড়ায়।

একথা অনস্বীকার্য, জীবনানন্দের কবিতা থেকেই আমি কবিতার ভাষা, আঙ্গিক, উপমা—অভিব্যক্তি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি শিক্ষালাভ করেছি। পরবর্তীতে বিনয় মজুমদার, শঙ্খ ঘোষ প্রমুখেরা আসেন সে তালিকায়।

এখানে একটি অপ্রাসঙ্গিক কথা বলতেই হচ্ছে। এখনকার তরুণ কবিরা প্রায়শই রবীন্দ্রকবিতা এড়িয়ে চলেন—অপ্রয়োজনীয় বোধে। এটি সম্পূর্ণ ভুল। কবিতার ভাষা আমূল বদলে গেছে, তবু একালের কবিতা লিখতে গেলেও প্রথম পর্যায়ে নিবিড়ভাবে রবীন্দ্রনাথ পাঠ করা জরুরি। অবশ্য এ বিষয়ে অনেকে ভিন্নমত পোষণ করতে পারেন।

*****

সেই শান্ত মফঃস্বল শহরে আমাদের স্কুলবাড়িটি ছিল প্রায় শতবর্ষের পুরোনো। বর্ধমানের রাজার আমলে ইতালীয় স্থাপত্যের আদলে তৈরি এই বাড়িটির ঘরগুলো ছিল খুব বড়ো মাপের এবং অনেক উঁচু সিলিং। স্কুলের সামনে বড়ো খেলার মাঠ, লোহার রেলিং দিয়ে ঘেরা। হয়তো খুব বড়ো নয়, তবে তখন বড়োই লাগত।

স্কুলের মাস্টারমশাইদের সকলের কথা মনে নেই। একজনের কথা একটু উল্লেখ করি। আমরা বলতাম চিন্ময়বাবু (পদবি জানি না, পৈতেধারী ব্রাহ্মণ), ফর্সা, খর্বকায়, গোলগাল মানুষটি, সবসময় ধুতি-পাঞ্জাবি পরতেন, শীতকালে তার ওপর একটি খয়েরি রঙের শাল।

তিনি আমাদের সংস্কৃত পড়াতেন। টিফিনের পরেই ছিল তাঁর ক্লাস। আমাদের কারও সংস্কৃত পড়ায় মনোযোগ ছিল না, দেরি করে ক্লাসে ঢুকতাম, প্রচুর হট্টগোল করতাম।

খুব ভালোমানুষ ছিলেন তিনি, কোনোদিন কোনো ছাত্রকে বকাবকি করতেন না। খুব অসহ্য হলে ডাস্টার দিয়ে টেবিলে একটু ঠুকতেন। একটুও না থেমে, সংস্কৃত টেক্সট আর উপক্রমণিকা অত্যন্ত যত্ন নিয়ে পড়িয়ে যেতেন। একদিন বলেছিলেন—যে শিক্ষা আমাদের রুজি-রোজগারের জন্য সক্ষম করে তোলে, সেটাই প্রকৃত শিক্ষা নয়, যা আমাদের সত্য থেকে বিচ্যুত হতে দেয় না, সেটাই প্রকৃত শিক্ষা।

আমি অবশ্য একটু-আধটু সংস্কৃত পড়তাম। চিন্ময়বাবুর নিরলস প্রচেষ্টায় যেটুকু সংস্কৃত শিখেছিলাম, পরবর্তীকালে তা আমার অনেক কাজে লেগেছে।

হায়ার সেকেন্ডারির রেজাল্ট বেরোনোর পর ইস্কুলে একটি ফেয়ারওয়েল অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের পর ওঁকে প্রণাম করতে গেছি—উনি আমার মাথায় হাত রেখে দীর্ঘ আশীর্বাদ করে স্নেহের স্বরে বললেন, “তোমার পরীক্ষার ফলে আমি খুব খুশি হয়েছি। বড়ো হও।” আমার চোখে জল এসেছিল।

সৎ, নিরহংকার এই প্রজাতির শিক্ষক এখন লুপ্ত হয়ে গেছেন।

অনেকরকম ঘটনা রয়েছে ইস্কুলজীবনে। আর একটিমাত্র ঘটনার কথা বলে ইস্কুল-পর্বের ইতি করব।

তখন আমি ক্লাস নাইনে পড়ি। আমাদের স্কুল লাইব্রেরির কোনো লাইব্রেরিয়ান ছিলেন না। বাংলার শিক্ষক সুধাকরবাবু দেখাশোনা করতেন। আমার পুস্তক-প্রীতি দেখে তিনি আমাকে যেকোনো দিন বই ইস্যু করার অনুমতি দিয়েছিলেন।

কিন্তু একটি বই শেষ না করে তো আরেকটি নেওয়া যায় না। তাই অনেক সময়, দ্রুত শেষ করার তাগিদে, আমি ক্লাসের পেছন দিকে বসে বড়ো খাতার ভাঁজে গল্পের বই রেখে পড়তাম।

সেবারের বইটি ছিল টলস্টয়ের ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস,’ ইংরেজি অনুবাদে তিন ভল্যুম। প্রথম ভল্যুমটি পড়া হয়ে গেছে, আমি ভূগোল ক্লাসে দ্বিতীয় ভল্যুম খাতার ভাঁজে রেখে পড়ছি, উপন্যাসটি চুম্বকের মতো আমাকে টেনে রেখেছে। সেটা ছিল টিফিনের জাস্ট আগে, মাখনবাবুর ক্লাস। তাঁর শ্যেনদৃষ্টিতে সেদিন ধরা পড়ে গেলাম।

মাখনবাবু পিওনকে দিয়ে বইটি হেডমাস্টারমশাইয়ের ঘরে পাঠিয়ে দিলেন এবং টিফিন আওয়ারে হেডমাস্টারের সঙ্গে দেখা করতে আদেশ করলেন।

এর চেয়ে দু-চারটে চড়-থাপ্পড় মারলে বরং ভালো হত। আমার বুকের মধ্যে দুপদুপ করে শব্দ হতে লাগল। এর কারণ আমাদের হেডমাস্টারমশাই ভূপেনবাবু সাংঘাতিক কড়া।

ছোটখাটো চেহারার মানুষটি, সারা বছর কোটপ্যান্ট পরতেন, এমনকি গ্রীষ্মকালেও। মুখে একটুও হাসি নেই, কড়া ডিসিপ্লিনের লোক, কথার মধ্যে ইংরেজি থাকত খুব বেশি। হাতে একটি পাতলা বেতের ছড়ি নিয়ে নিঃশব্দে সমস্ত ইস্কুলে টহল দিতেন।

যাই হোক, কাঁপতে কাঁপতে টিফিনে হেডমাস্টারমশাইয়ের ঘরে গেলাম। তখন টিফিন আওয়ার্স। পাশের টিচার্স রুমে হই-হট্টগোল হচ্ছে। কিন্তু তাঁর ঘর নিঃশব্দ, স্যার ছাড়া আর কেউ নেই। একটা বড়ো ঘড়িতে টিকটিক শব্দ হচ্ছে শুধু।

আমাকে দরজার কাছে দেখে গম্ভীর গলায় বললেন, “কাম ইন।”

বলির পাঁঠার মতো কাঁপতে কাঁপতে ঘরের ভেতর ঢুকে দাঁড়ালাম। ঝাপসা চোখে দেখলাম ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ বইখানা টেবিলের ওপরই রাখা আছে। স্যার বইটা হাতের কাছে টেনে নিলেন, তারপর দু-চার পাতা উলটে চোখ তুলে বললেন, “তুমি ক্লাসে বসে এই বইটা পড়ছিলে?”

আমি কোনোমতে একটু ঘাড় নাড়লাম।

উনি বললেন, “এটা তো সেকেন্ড ভল্যুম। ফার্স্ট ভল্যুমটা পড়েছ?”

আমি আবারও ঘাড় নাড়লাম। উনি এরপর এই উপন্যাস থেকে আমাকে দু-একটি প্রশ্ন করলেন।

সৌভাগ্যক্রমে আমি উত্তরগুলো ঠিকঠাক দিতে পেরেছিলাম। উনি এরপর বইটি টেবিলের ওপর দিয়ে আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললেন, “বই পড়বে, কিন্তু, পড়ার সময় বাদ দিয়ে অবসর সময়ে। আর হ্যাঁ, ক্লাসে কখনও গল্পের বই পড়বে না।”

একবারও গলার আওয়াজ তুললেন না, একবারও বকাবকি করলেন না, মারধর করা তো দূরের কথা। আমি বইটি নিয়ে, মাথা নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে এলাম। সারাজীবনে আর কোনোদিন আমি ক্লাসের মধ্যে এই কাজ করিনি।

এই অকিঞ্চিৎকর ঘটনাটি এত বিস্তৃতভাবে লেখার কারণ, আজ যদি এই ঘটনা কোনো এখনকার তথাকথিত নামি স্কুলে ঘটত, সঙ্গে সঙ্গে ‘পেরেন্টস কল’ হত।

তারপর প্রিন্সিপালের ঘরে একপ্রস্থ ভর্ৎসনা, এবং তারপরে বাড়ি ফিরে অভিভাবকদের হাতে আরেক প্রস্থ শাস্তি— অপরাধের তুলনায় অনেক বেশি।

এই দীর্ঘ শাস্তি প্রক্রিয়ায় প্রকৃতপক্ষে ছাত্রটির সংশোধন হয় না, তার বয়ঃসন্ধির মনে একটা অনমনীয় জেদ তৈরি হয়। অথচ একজন প্রকৃত শিক্ষক কত সহজেই ছাত্রকে সংশোধন করতে পারেন। কোনো রকম শাস্তি পাইনি বলেই পরবর্তীকালে আর কখনও ক্লাসে বসে গল্পের বই পড়ার মতো অপরাধ করিনি।

———-

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত। 

বাড়ি বর্ধমান , পেশায় চক্ষু চিকিৎসক। কর্মজীবনের ব্যস্ততা এড়িয়ে অল্পই সময় থাকে বইপড়া এবং লেখালেখির কাজে। প্রথম প্রেম অবশ্যই কবিতা। এ পর্যন্ত প্রকাশিত দুটি কাব্যগ্রন্থ , 'এমন নিঃশব্দ তুমি' এবং 'তিন মাস কথা নেই।' প্রথম গল্প প্রকাশিত রবিবাসরীয় আনন্দবাজারে। একটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত এবং একটি উপন্যাস প্রকাশের অপেক্ষায়। শখ : সাহিত্যপাঠ। প্রিয় লেখক: মুরাকামি এবং মার্কেজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *