গন্ধ বিচার

গন্ধ বিচার

“লাল গানে নীল সুর হাসি হাসি গন্ধ” — (সুকুমার রায়, হ য ব র ল)

গন্ধ ও স্মৃতি

হয়তো বেশ কড়া ধরনের ব্যস্ততা চলছে, ভীষণ গুরুগম্ভীর পরিবেশ, হঠাৎ ‘ফুচকা’ শব্দটা কানে গেল। কোত্থাও কিচ্ছুটি নেই, তাও নাক যেন বিটনুন, লেবু, ভাজা মশলা মেশানো স্বর্গীয় এক গন্ধে সুড়সুড় করে উঠল, তার ধাক্কায় রসনা হয়ে উঠল রসসিক্ত। অথবা, শুকনো খটখটে দিনে বাড়ি থেকে বহু দূরে বসে ফোনে জানা গেল সে অঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে, অমনি নাকে ভেসে এল সোঁদা সোঁদা মাটির গন্ধ, চোখ বুজে এল পরম সুখে। আবার উলটোটাও হামেশাই হয়। রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে যেতে কোনো বাড়ি থেকে ভেসে আসা আলুসেদ্ধ বা ফুটন্ত ভাতের গন্ধ আমাদের চোখের পলকে নিয়ে যায় ফেলে আসা শৈশবে। সবসময়ে যে প্রিয় গন্ধ পেলেই এমন হয় তা কিন্তু নয়, কোনো কোনো সৌরভ অপ্রিয় স্মৃতিকেও উসকে দিতে পারে।

তর্ক উঠতেই পারে যে, শুধু গন্ধ কেন, কোনো কোনো শব্দ শুনলেও মনশ্চক্ষে ভেসে ওঠে নানা প্রিয় বা অপ্রিয় দৃশ্যকল্প। তাহলে গন্ধের আলাদা কৃতিত্ব কোথায়? ওই যে মনশ্চক্ষে? ওটাই হল তফাত। যেসব দৃশ্যাবলি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয় এবং অবচেতন স্তরে থাকার দরুন তার স্পষ্টতা নিয়ে সন্দিহান হওয়া চলে। তাছাড়া খেয়াল করে দেখলে বোঝা যাবে একই শব্দবন্ধ যে সবসময়ে মনের পটে একই দৃশ্য ভাসিয়ে তুলবে এমন নয়। অন্যদিকে, গন্ধ আর শব্দের যৌথ ট্রিগারটি কিন্তু অবচেতনে নিজেকে আবদ্ধ করে রাখে না। শব্দের উদ্দীপকের প্রভাবে গন্ধের বোধটি কিন্তু সচেতন স্তরেই কাজ করে।

বলা বাহুল্য, বহির্বিশ্বের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের মাধ্যম হল চোখ, কান, জিভ, ত্বক ও মহামান্য নাসিকা। মস্তিষ্ক এই ইন্দ্রিয়লব্ধ তথ্যগুলোকে কীভাবে জায়গামতো গুছিয়ে রাখে সেটা একটু দেখা যাক। আলোক তরঙ্গ, শব্দ তরঙ্গ বা রাসায়নিক উদ্দীপনা প্রথমে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তরিত হয়, একে বলে ট্রান্সডাকশন। নিউরন সেগুলো বয়ে নিয়ে যায় থ্যালামাসে। এই থ্যালামাস আবার সুইচবোর্ডের মতো কাজ করে, এসব সংকেতকে সে ঝেড়ে বেছে কর্টেক্সের যথাযোগ্য স্থানে পাচার করে দেয়। যেমন চোখ থেকে আসা তথ্য যায় অক্সিপিটাল লোবে; শব্দ, ভাষা ইত্যাদি সংক্রান্ত শব্দ তরঙ্গ পাড়ি দেয় টেম্পোরাল লোবে। প্যারাইটাল লোব তাপমাত্রা, যন্ত্রণা অর্থাৎ স্পর্শকেন্দ্রিক অনুভূতির দায়িত্ব নিয়ে নেয়। অবশেষে সেই গুছিয়ে নেওয়া তথ্য হিপোক্যাম্পাসে পৌঁছে প্রয়োজন অনুযায়ী স্মৃতিতে রূপান্তরিত হয়। কোথায়, কখন, কেন— রাখা আদৌ দরকার নাকি আবর্জনা, এসব প্রসেসিংও হয় তখন। একমেবাদ্বিতীয়ম্ অ্যামিগডালাও সেসব তথ্য আনন্দ, বিষাদ নাকি ক্রোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত, সেটা জানিয়ে দেয়।

ঘ্রাণসংক্রান্ত তথ্যের কিন্তু গল্পটা একেবারে আলাদা। আমাদের নাকের ভেতর বিশেষ ঘ্রাণগ্রাহী কোষ বা অলফ্যাক্টরি সেনসরি নিউরনে অলফ্যাক্টরি রিসেপ্টর থাকে। গন্ধবাহী অণু আমাদের নাকে প্রবেশ করলে সেই রিসেপ্টর অণুগুলোকে আটকে ফেলে। এই স্নায়ুকোষ থেকে সংকেত কিন্তু থ্যালামাসে যায় না। থ্যালামাসকে উপেক্ষা করে সংকেত সোজা মস্তিষ্কের গন্ধ বিশ্লেষণের কেন্দ্র অলফ্যাক্টরি বাল্বে চলে যায়। অলফ্যাক্টরি বাল্ব আবার হিপোক্যাম্পাস আর অ্যামিগডালার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে গন্ধের অনুভূতি আর স্মৃতি প্রায় একই সঙ্গে গাঁথা হয়ে যায় আমাদের মস্তিষ্কে। গন্ধে জড়িয়ে থাকা আবেগ সংক্রান্ত তথ্যও অ্যামিগডালা থেকে আসার ফলে সেটাও দিব্যি জুড়ে যায় স্মৃতির লেজুড় হয়ে। ফলে ‘প্যান্ডেল’ শব্দটা শুনলেই ফুল, ধূপ, গর্জন তেল আর নতুন জামাকাপড়ে মেশানো এক স্বর্গীয় সৌরভ নাকে ভেসে আসে আমাদের। মনে জাগে অকারণ পুলকের উচ্ছ্বাস। বলা বাহুল্য, সব গন্ধই সুখস্মৃতি বয়ে আনে না। কোনো দুঃসহ স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা গন্ধও একইভাবে পুরোনো ক্ষত উজ্জীবিত করতে পারে সহজেই। যুদ্ধ বা কোনো দুর্ঘটনার সঙ্গে মিশে থাকা বারুদ, পেট্রোল বা ডিজেলের গন্ধ, বা অত্যাচারী সঙ্গীর ব্যবহার করা সুগন্ধি দ্রব্যের গন্ধ অন্য কোনো উৎস থেকে নাকে এলে সহজেই সেই পুরোনো ট্রমা আচ্ছন্ন করতে পারে ভুক্তভোগীদের।

কিন্তু গন্ধের প্রতি এই পক্ষপাতিত্বের কারণ কী? বিজ্ঞানীরা মনে করেন আমাদের বিবর্তনের মধ্যেই এর উত্তর লুকিয়ে আছে। প্রাণ সৃষ্টির একেবারে গোড়ার কথা ভাবলে দেখা যাবে এককোশীয় প্রাণীরা যে পদ্ধতিতে তাদের পরিবেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করত, তার সঙ্গে গন্ধ গ্রহণের পদ্ধতির মৌলিক কিছু সাদৃশ্য আছে। সৃষ্টির প্রথম দিনগুলোয় আয়ত্ত করা এই ক্ষমতার রেশ তাই হয়তো আজও ছাপ রেখে গেছে আমাদের মস্তিষ্কে। আর সেই কারণেই সম্ভবত আমাদের চোখে আর ত্বকে চার রকম রিসেপ্টর থাকলেও নাকে অবস্থিত রিসেপ্টরের সংখ্যা চারশো।

খুব প্রত্যাশিত একটা প্রশ্নের দিকে তাকানো যাক এবার। বেলমন্টের বিখ্যাত মনোরোগ চিকিৎসালয় ম্যাকলিন হাসপাতালে কর্মরত মনোবিজ্ঞানী প্রোফেসর কেরি রেসলার অদ্ভুত এক পরীক্ষা করেছিলেন। গন্ধের সঙ্গে যুক্ত স্মৃতিদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কিনা, সেটা দেখাই তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল। একদল ইঁদুরের উপর করা এই পরীক্ষার প্রথম ধাপে রেসলার আর তাঁর সহকারীরা নির্দিষ্ট গন্ধের সঙ্গে অপ্রিয় অভিজ্ঞতা জুড়ে দিয়েছিলেন, অর্থাৎ সেই গন্ধটা ছড়ানোর পরই হয়তো হালকা বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হত ইঁদুরের পায়ে, অথবা এরকমই কিছু অনভিপ্রেত অভিজ্ঞতা হত তাদের। ইঁদুরদের নাকে একটা মজার ব্যাপার আছে, তাদের এক-একটি রিসেপ্টর মাত্র এক ধরনের গন্ধ বহন করতে পারে। প্রতিটা রিসেপ্টর আবার মস্তিষ্কের অলফ্যাক্টরি বাল্বের নির্দিষ্ট অংশে সংকেত পাঠায়, নিউরন গুচ্ছ দিয়ে তৈরি এই অংশগুলোর নাম ‘গ্লোমেরুলি’। পূর্ণবয়স্ক ইঁদুরের মস্তিষ্কে এমন ৫৭০০টি গ্লোমেরুলি আছে। তবে তার মানে এটা নয় যে ইঁদুররা মাত্র ৫৭০০ ধরনের গন্ধ পেতে সক্ষম, কারণ তাদের এক-একটি রিসেপ্টর নির্দিষ্ট গন্ধ বহন করলেও বেশিরভাগ গন্ধই আসলে একাধিক গন্ধের সংমিশ্রণ। ফলে একাধিক রিসেপ্টর উদ্দীপিত হয় সেক্ষেত্রে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মস্তিষ্ক এর থেকে অনেক বেশি জটিল।

যাইহোক, রেসলারের পরীক্ষাটার কথায় ফেরা যাক। একই গন্ধের সঙ্গে অপ্রিয় অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি ঘটতে থাকার পর ইঁদুরগুলোর আচরণ পর্যালোচনা করে রেসলার বুঝতে পারেন তারা শুধু গন্ধটাকে ভয় পেতে শিখেছে তাই নয়, ওই গন্ধের সঙ্গে সংযুক্ত নিউরনের সংখ্যা বাড়ছে এবং যে গ্লোমেরুলিতে সংকেত যাচ্ছিল তার আকারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরের ধাপে রেসলার ও তাঁর সহকারীদের দেখার বিষয় ছিল—এই যে নির্দিষ্ট গন্ধের সঙ্গে ভয় প্রতিষ্ঠা করা গেছে, তাকে পাল্টানো সম্ভব কি না। এবার গন্ধ যেমন ছড়ানো হচ্ছিল তাই হল, শুধু অপ্রিয় কোনো অভিজ্ঞতা জুড়ে দেওয়া হল না। কিছুদিন পর দেখা গেল ইঁদুররা আর সেই গন্ধকে ভয় পাচ্ছে না। ক্রমে গন্ধের সঙ্গে সংযুক্ত নিউরনের সংখ্যা ও গ্লোমেরুলির আকারও স্বাভাবিক হয়ে গেল। এই পরীক্ষার তাৎপর্য কিন্তু সুদূরপ্রসারী। কারও অ্যাক্সিডেন্ট বা সেরকম ভয়ঙ্কর কোনো অভিজ্ঞতার সঙ্গে যদি সাধারণ কোনো গন্ধ জুড়ে যায়, অর্থাৎ এমন কোনো গন্ধ যা রোজকার জীবনে উপস্থিত থাকতেই পারে, তাহলে তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠবে, ট্রমা কাটানো কঠিন হবে খুব। রেসলারের পরীক্ষা দুই ধরনের সমাধান এনে দিতে পারে এমন পরিস্থিতিতে। এক, ওই নির্দিষ্ট স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত গন্ধটাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা; অথবা অন্য কোনো একটা গন্ধের সঙ্গে নিরাপত্তাবোধকে যুক্ত করে ফেলা। তাহলে ট্রমার ট্রিগার এলে তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তাবোধের ট্রিগার এক চমকপ্রদ হাতিয়ার হতে পারে।

কোনো দুষ্প্রাপ্য গন্ধের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি চাপা পড়ে থাকতে পারে আমাদের মনের গভীরে। হয়তো সেই গন্ধ সারাজীবনে আমরা আর শোঁকার সুযোগই পেলাম না। সময়ের সঙ্গে তার স্মৃতিও ক্ষীণ হয়ে এল। সেই গন্ধ আবার পেলে নিশ্চয়ই ভেসে উঠত সেটা, কিন্তু হয়তো সে সুযোগ জীবদ্দশায় ঘটল না আর।

মজার ব্যাপার হল, এমন যার মহিমা সেই গন্ধ ব্যাপারটাকে বর্ণনা করতে গেলে কিন্তু আমাদের ভাষা বিলকুল হারিয়ে যায়। হ্যাঁ, পাড়ায় কারও বাড়িতে ইলিশ মাছ ভাজা হলে প্রায় সবাই টের পেয়ে যায়, আবার কেউ গাঁদাল পাতা বাটলে সেটা কোনোভাবেই গোপন থাকে না বটে, কিন্তু কেমন সে গন্ধ, সেটা ব্যাখ্যা করা অসম্ভব। আমরা বস্তুর নাম ধরে বা গন্ধের প্রকারভেদ অনুযায়ী তার নামকরণ করি, যেমন—লেবুর গন্ধ বা সোঁদা-সোঁদা গন্ধ। শ্রী সুকুমার রায় অবশ্য নীল সুরওলা লাল গানে হাসি-হাসি গন্ধ খুঁজে পেয়েছিলেন, বৃষ্টি হওয়ার আগে আকাশে যে টক-টক গন্ধ থাকে তাও তিনি জানতেন। এগুলো ঠিক কেমন গন্ধ তা বুঝতে যদিও বিন্দুমাত্র অসুবিধা হয় না আমাদের, তবু এইভাবে গন্ধের বর্ণনা বা ব্যাখ্যা করা সাধারণভাবে সম্ভব হয় না কারণ শ্রী রায়ের মতো অমিত প্রতিভার অধিকারী সবাই নই। তাই আমরা কলার গন্ধ বলেই ক্ষান্ত দিই, সেটা যে ঠিক কেমনতরো তা বোঝানোর চেষ্টাও করি না। অন্যদিকে কলা কেমন দেখতে জিজ্ঞেস করলে রীতিমতো রচনা লিখে ফেলা যায়। শ্রবণ আর স্পর্শের ক্ষেত্রেও তাই, কানে শোনা যে-কোনো শব্দ বা স্পর্শ করা যে-কোনো বস্তুর অনুভূতিটা ভালোভাবেই ভাষায় প্রকাশ করা যায়। অর্থাৎ ভাষা আর গন্ধের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন প্রেমিক-প্রেমিকার মতো, টান থাকলেও যোগাযোগ নেই।

এই সম্পর্কটাকে একটু খতিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজি বিভাগের গবেষকরা। শব্দের সঙ্গে গন্ধ আর ছবি মেলানোর কাজ দিয়েছিলেন একদল মানুষকে। কাজটা করার সময়ে মস্তিষ্কের কোন কোন অঞ্চল সক্রিয় হয়ে ওঠে, সেটার হিসেব তাঁরা রেখেছিলেন ব্রেন ইমেজিং-এর মাধ্যমে। আন্দাজ করা যেতেই পারে অঞ্চল দুটো সম্পূর্ণ পৃথক। পরীক্ষা পদ্ধতি আরও একটু বিশদে বললে ব্যাপারটা পরিষ্কার হবে। ধরা যাক, একজন অংশগ্রহণকারীকে একটা সুন্দর ফুলের ছবি দেখানো হল, তারপর একটা শব্দ বলা হল, যেটা ফুলের নাম হতেও পারে আবার নাও পারে। ইমেজিং-এ দেখা গেল মস্তিষ্কের যে অঞ্চল ভাষা বলতে, লিখতে বা বুঝতে সাহায্য করে, সেটাই সক্রিয় হয়ে উঠল। কিন্তু এই একই পরীক্ষায় গন্ধকে যোগ করা হলে দেখা গেল মস্তিষ্কের একেবারে পৃথক অঞ্চল সক্রিয় হয়ে উঠছে। অর্থাৎ ভাষা আর গন্ধ গ্রহণের ক্ষমতার মধ্যে যোগসূত্র যাকে বলে—মিসিং। আগে উল্লেখ করা তথ্যটা আরও একবার পাড়া যাক এই সূত্রে। বিবর্তনের একেবারে গোড়ার দিকেই গন্ধ অনুভবের ক্ষমতা জন্মে গিয়েছিল বলেই কি আজও ভাষার কাছে অধরা মাধুরী হয়েই থেকে গেল সে? তাই জন্যই অলফ্যাক্টরি বাল্বের সঙ্গে মস্তিষ্কের ভাষা সংক্রান্ত অঞ্চলের যোগাযোগ থাকলেও প্রাথমিক যোগাযোগটা কিন্তু হিপোক্যাম্পাস আর অ্যামিগডালার।

এদিকে টেম্পোরাল লোবের পেছনের অংশেই আছে ওয়ার্নিকেজ এরিয়া, যা কিনা লিখিত ও কথ্য ভাষা বোঝার মূল ঘাঁটি। প্যারাইটাল লোবে আছে অ্যাঙ্গুলার জাইরাস, যা চোখে দেখা লিখিত শব্দের অর্থ বুঝতে সাহায্য করে এবং সংগৃহীত তথ্য সেই ওয়ার্নিকেজ এরিয়াতে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত হয়। অক্সিপিটাল লোবও নানা বিশ্লেষণের পর সেই ঘাঁটিতেই তার যাবতীয় তথ্য পাঠায়। অলফ্যাক্টরি বাল্ব থেকে এরকম সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকার দরুন সম্ভবত গন্ধের নাম আমরা দিতে পারি না। এর কিন্তু ব্যতিক্রম আছে। মালয়েশিয়ার জাহাই জনজাতির লোকের যে ভাষায় কথা বলে, তাতে গন্ধের জন্য আলাদা শব্দভাণ্ডার রয়েছে। তারা স্বভাবে যাযাবর, শিকার তাদের খাদ্য আহরণের উপায়। শুধু তারা নয়, মালয় উপদ্বীপের সেমাক বেরি উপজাতিদের ভাষাতেও এই একই জিনিস দেখা যায়। জাহাইদের ভাষা থেকেই তাদের ভাষার উৎপত্তি হয়েছে। দক্ষিণ থাইল্যান্ডের মানিক (Maniq) গোষ্ঠীর মানুষরাও প্রাকৃতিক গন্ধগুলোকে ভাষায় প্রকাশ করতে পারে। অবশ্য এদের মস্তিষ্কের ভেতর যোগাযোগ ব্যবস্থা বাকি পৃথিবীর থেকে অন্য রকম নয়; আসলে ওরা শিকারি, খাবার খুঁজতে, বন্য প্রাণীর থেকে সাবধানে থাকতে এবং অন্যান্য বিপদ এড়াতে— ওদের ঘ্রাণশক্তির ওপর অনেকটাই নির্ভর করতে হয়। তাই বিভিন্ন গন্ধের, বিশেষ করে প্রাকৃতিক গন্ধের নামকরণ ওদের জীবনযাত্রায় অপরিহার্য। ওই একই এলাকায় বসবাসকারী অন্যান্য গোষ্ঠীর মানুষদের হাল কিন্তু আমাদেরই মতো। তারাও ওই ‘লেবুর মতো,’ ‘গোলাপের মতো,’ বা ‘পচা ইঁদুরের মতো’ দিয়ে কাজ চালায়। হয়তো আমাদের জীবনধারণের জন্য গন্ধের ওপর সেই নির্ভরতা নেই বলেই জাহাইদের মতো অনন্য শব্দভাণ্ডারও আমাদের নেই।

বয়স বাড়লে কিন্তু সৌরভ-দুর্গন্ধ-স্মৃতির চক্করটা অতটা সরেস থাকে না, কিঞ্চিৎ ফিকে হয়ে আসে। বেশিরভাগ গন্ধ দিয়ে মোড়া স্মৃতি অথবা শব্দের ভেতরে লুকিয়ে থাকা গন্ধের কাহিনি ছোটবেলা বা যৌবনে তৈরি হয়, হয়তো গ্রহণক্ষমতা বেশি থাকে বলে। তবে দৃষ্টিশক্তি বা শ্রবণশক্তি দিয়ে আহরণ করা স্মৃতি ঝাপসা হয়ে আসে সময় গড়ালে, কিন্তু গন্ধজনিত স্মৃতি টাটকা থাকে বহুদিন। এই গন্ধ-উদ্দীপিত স্মৃতি পুনরুদ্ধারের একটা ভারিক্কি গোছের নামও আছে। একে বলে ‘প্রাউস্ট ফেনোমেনন।’ ফরাসি ঔপন্যাসিক মার্সেল প্রাউস্ট একদিন চায়ে ডুবিয়ে ম্যাডেলিন কেক খাচ্ছিলেন। হঠাৎ সেই স্বাদ-গন্ধ তাঁর মনে শৈশবের প্রায় হারিয়ে যাওয়া স্মৃতি বয়ে নিয়ে এসেছিল। আপ্লুত প্রাউস্ট তাঁর ১৯১৩ সালে প্রকাশিত ‘ইন সার্চ অফ লস্ট টাইম’ গ্রন্থে এই অভিজ্ঞতার কথা বিশদে লিখেছিলেন। উল্লেখ্য, এক্ষেত্রে শুধুমাত্র গন্ধ নয়, স্বাদের ভূমিকাও রয়েছে।

সাহিত্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই অভিজ্ঞতা বিজ্ঞানীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। পরবর্তী সময়ে গবেষকরা নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন এই বিষয়ে। তেমনই এক পরীক্ষায় প্রায় সত্তরজন স্বাস্থ্যবান অংশগ্রহণকারীকে খুবই বিরক্তি বা বিরূপতার উদ্রেক ঘটায় এমন ফিল্ম দেখানো হয়েছিল। একই সঙ্গে সমপরিমাণ তীব্রতার দৃশ্যমান, শ্রবণযোগ্য ও ঘ্রাণযোগ্য উদ্দীপনাও তাদের সরবরাহ করা হয়েছিল। সপ্তাহখানেক পরে উদ্দীপকগুলোর এক-একটি এক-একজনের ওপর ব্যবহার করে সেই বিদঘুটে ফিল্মটার নানা দৃশ্য মনে করতে বলা হয়েছিল। দেখা গিয়েছিল গন্ধজনিত উদ্দীপকের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। যাদের ওপর তা ব্যবহার করা হয়েছিল, তাদের স্মৃতি অনেক বেশি স্পষ্ট এবং সেই স্মৃতির কারণে তারা মানসিক বিরূপতাও অনুভব করেছিল।

ব্রিটিশ দার্শনিক ব্যারি স্মিথ অবশ্য প্রাউস্ট ফেনোমেননে ভেসে আসা স্মৃতির যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, গন্ধের উসকানি পেয়ে জেগে ওঠা স্মৃতি যেহেতু নিতান্তই ব্যক্তিগত, তাই সেটা পুঙ্খানুপুঙ্খ সঠিক নাকি অতীতের একটা ধারণামাত্র, তা বোঝার উপায় নেই। হয়তো ‘ডেজা ভু’-র মতো একটা অভিজ্ঞতা হয় কেবল। সত্যি বলতে কী, প্রাউস্টের ক্ষেত্রে যা ঘটেছিল, তা নস্টালজিয়া না সত্যিকার স্মৃতি রোমন্থন— তা যাচাই করার কোনো উপায় নেই। এটা একশো শতাংশ সঠিক যে চেনা সৌরভ আমাদের মনকে স্মৃতিমেদুর করে তোলে, তার ডানায় ভর করে অতীতে পাড়ি দিয়ে আমরা নিজেদের অন্য এক সত্তার সম্মুখীন হই, যে সত্তার অস্তিত্ব হয়তো বর্তমানে আর নেই; কারণ সময় ও অভিজ্ঞতার প্রভাবে আমরা রোজই একটু করে বদলে যাই।

২০১৮ সালে ইংল্যান্ডের উলভারহ্যাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদল ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে অবস্থিত ব্ল্যাক কান্ট্রিকে প্রাউস্ট ফেনোমেননের গবেষণাস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এহেন নির্বাচনের কারণ আছে। ইংল্যান্ডের এই অঞ্চল শিল্পবিপ্লবের আঁতুড়ঘর; কারখানার ধোঁয়া ও কয়লাখনির কালচে আস্তরণের কারণে ১৮৪০-এর দশকে এই এলাকার নাম হয় ব্ল্যাক কান্ট্রি। ভারী মেশিনপত্তরের লুব্রিক্যান্ট তেলের গন্ধ, ঢালাই কারখানার গলানো ধাতুর গন্ধ, পশুর চামড়ার তীব্র কটুগন্ধ, দেশলাই কারখানার ফসফরাসের গন্ধ—এসবের সঙ্গে কারখানার ধোঁয়া আর পোড়া রাবারের গন্ধ মিশে গন্ধের রামধনু তৈরি হত সেখানে। শুধু এগুলোই নয়, এই গন্ধপ্রবাহে মিশত ময়রা টেডি গ্রে-র হার্বাল ট্যাবলেটের, সে অঞ্চলের সুবিখ্যাত গ্রোটি পুডিং-এর আর শুঁড়িখানা থেকে ভেসে আসা হপ ফুলের পুরোনো চিজের মতো ভয়ানক গন্ধ। এমন গন্ধের স্বর্গ যে প্রাউস্ট ফেনোমেনন খতিয়ে দেখার আদর্শস্থল, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। পরবর্তী সময়ে এই অতীতের গন্ধমাদনের ওপর চিত্তাকর্ষক, আধুনিক ও অপ্রত্যাশিত একটি স্তর যোগ হয়েছিল, তা হল গুরুদ্বারের লঙ্গরখানার জিরে-হলুদের গন্ধ। এই গবেষণার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘স্নিজ স্ক্রাম্পিং’ (Snidge Scrumpin), অর্থাৎ নাসানুসন্ধান। গবেষকদের দলের মধ্যে ছিলেন ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক সিবেস্টিয়ান গ্রোয়েজ ও মনোবিজ্ঞানী ডক্টর টম মার্সের। অংশগ্রহণকারীদের ব্ল্যাক কান্ট্রির ইতিহাসে জমা হয়ে থাকা গন্ধের সমাহারের নমুনা শুঁকিয়ে তাদের ছোটবেলার কোন কোন স্মৃতি মনে পড়ে, সেটা দেখাই এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল। নিজের জীবনের কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা বা অভিজ্ঞতার স্মৃতিকে বিশেষজ্ঞরা ‘অটোবায়োগ্রাফিক্যাল মেমরি’ বলে অভিহিত করেন। প্রতিটা গন্ধের নমুনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এমন অটোবায়োগ্রাফিক্যাল স্মৃতি উদ্ধার করে তার রেকর্ড রেখেছিলেন গবেষকরা। এমনকি স্মৃতিগুলোয় বর্ণনার স্পষ্টতা বেশি নাকি আবেগের ভাগটাই বেশি, তারও তুলনামূলক বিশ্লেষণ করেছিলেন তাঁরা। প্রায় সমস্ত গন্ধকেই চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন অংশগ্রহণকারীরা। পরবর্তী সময়ে এই সমস্ত লব্ধ তথ্য এক জায়গায় করে গ্রন্থ রচনা করেন সিবেস্টিয়ান গ্রোয়েজ আর আর. এম. ফ্রান্সিস।

পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় দশ মিলিয়ন মানুষ ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হন, ষাট থেকে সত্তর শতাংশ ক্ষেত্রে তা হয় অ্যালজেইমারের কারণে। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এই ধরনের ‘নিউরো-ডিজেনারেটিভ’ বা মস্তিষ্কের স্নায়ুর অবক্ষয়জনিত রোগে স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার বহু আগেই সম্ভাব্য রোগীদের ঘ্রাণশক্তি দুর্বল হতে থাকে। এই রোগের এটা অন্যতম লক্ষণও বটে। যদিও শুধুমাত্র ঘ্রাণসম্বন্ধীয় স্মৃতি লোপ পায় এমনটা নয়, সমস্ত রকম স্মৃতিই প্রভাবিত হয় এই অসুখে। তবু ঘ্রাণ যেহেতু ‘অটোবায়োগ্রাফিক্যাল’ স্মৃতি উদ্ধার করে আনার ক্ষমতা রাখে, তাই স্মৃতির ওপর প্রভাব ফেলা এই রোগে ঘ্রাণশক্তি হ্রাস পাওয়াটা একটা যাকে বলে—‘ইরি’ যোগাযোগের দিকে ইঙ্গিত করে। তবে ঘ্রাণশক্তি একেবারে লোপ পেয়ে যায় না, হ্রাস পায় আর কোনো কোনো ক্ষেত্রে গন্ধগুলো অন্য রকমভাবে মস্তিষ্কে পৌঁছায়। তবে বলে রাখা প্রয়োজন, ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত সমস্ত মানুষের ঘ্রাণশক্তি চলে যায় না, আর কারও ঘ্রাণশক্তি চলে গেলেই যে সে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হতে চলেছে এমন সিদ্ধান্তে আসাও অর্থহীন, কারণ আরও নানা অসুখে ঘ্রাণশক্তি প্রভাবিত হয়। তবে ঘ্রাণশক্তি হ্রাস পেলেও বেশিরভাগ অ্যালজেইমার আক্রান্ত রোগী কড়া গন্ধ বা গভীরভাবে পরিচিত গন্ধ যেমন—কফি বা অতিপ্রিয় সুগন্ধের রেশ কিন্তু পায়। এই থেকে যাওয়া ঘ্রাণশক্তিটুকুই ইদানীং কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন গবেষকরা। যদিও এটা স্বীকৃত চিকিৎসাপদ্ধতি নয়, তাছাড়া এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা একেবারেই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এখনও, তাও নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া, ইউনিভার্সিটি অফ শিকাগো মেডিসিন, ডিকিন বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্নের মতো একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। ভারতবর্ষও পিছিয়ে নেই, ‘নিউরো-ডিজেনারেটিভ’ রোগের গবেষণায় ‘ইন্ডিয়ান স্মেল আইডেন্টিফিকেশন টেস্ট’ (INSIT) বহুল ব্যবহৃত। ইউরোপ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে চামড়ার গন্ধ ব্যবহার করা হয়, INSIT সেখানে কেওড়া, আম বা গোলাপের সৌরভ ব্যবহার করে।

মুশকিল হল, স্নায়ুর অবক্ষয়জনিত রোগে গন্ধের উদ্দীপনা পেলেও যে স্মৃতি জেগে ওঠে তা স্পষ্ট নয়, এমনকি একই গন্ধে পরেরবার একই স্মৃতি ভেসে ওঠার সম্ভাবনা ক্ষীণ। যেহেতু রোগাক্রান্ত মানুষটির স্নায়ুর অবক্ষয়টা রোধ করা যায় না এখনও, তাই উদ্ধার করা স্মৃতি দুর্বল এবং অস্পষ্ট হতে থাকে সময়ের সঙ্গে। তাছাড়া ঘ্রাণের ক্ষমতা পরিবর্তিত হয়ে যাওয়ার ফলে রোগী ঠিক কী গন্ধ পাচ্ছে তা বোঝার উপায় নেই। তার ওপর ঘ্রাণ সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ‘অটোবায়োগ্রাফিক্যাল মেমরি’ জাগিয়ে তোলে, তাই অনেক সময়ে সে স্মৃতির যথার্থতা যাচাই করার উপায় থাকে না। তবে গবেষকরা হাল ছাড়ার মানুষ নন।

ভবিষ্যতে যদি এই সবুজ-নীল গ্রহ ছেড়ে অন্য কোনো গ্রহে উপনিবেশ গড়ে তুলি আমরা আর সেখানে যদি কৃত্রিমভাবে তৈরি পরিবেশে থাকতে বাধ্য হই, এই পার্থিব গন্ধগুলোর পরিচয় আমরা কীভাবে বাঁচিয়ে রাখব? জাহাইদের মতো গন্ধের শব্দভাণ্ডার তো আমাদের নেই। হয়তো আজ থেকে পঞ্চাশ-ষাট বছর পর ‘বৃষ্টি’ বা ‘ছাতিম’-এর মতো শব্দের কোনো ‘অটোবায়োগ্রাফিক্যাল মেমরি’ থাকবে না কোথাও। কোনো ভাষা দিয়ে তখনকার প্রজন্মকে সেই অনুভূতির কথা জানাতেও পারবে না মানুষ। তবে ‘হাসি-হাসি গন্ধ’ বোঝার মতো কেউ হয়তো চিরকালই থেকে যাবে।

 ———-

তথ্যসূত্র

Cleveland Clinic Health Essentials. (2025, January 16). “Scent and Sensibility: The Link Between Smell and Memory.” Cleveland Clinic. Available at: https://health.clevelandclinic.org/smells-and-memory

Community Neuroscience Services. (2025, April 30). “The Power of Scent: How Smell Influences Memory.” Available at: https://communityneuroservices.com/the-power-of-scent-how-smell-influences-memory/

Daehlen, M. (2014, November 20). “How the Brain Connects Words and Smells.” sciencenorway.no. Available at: https://www.sciencenorway.no/brain-dementia-forskningno/how-the-brain-connects-words-and-smells/1410118

Ehrenberg, R. (2014, November 7). “Brain Regions Linking Odors to Words Pinpointed.” Science News. https://www.sciencenews.org/article/brain-regions-linking-odors-words-pinpointed

Hamer, A. (2019, August 1). “Here’s Why Smells Trigger Such Vivid Memories.” Discovery. Available at: https://www.discovery.com/science/Why-Smells-Trigger-Such-Vivid-Memories

Herz, R. S. (2016). The role of odor-evoked memory in Psychological and physiological health. Brain Science. PMCID: 5039451. PMID: 27447673. Available at: https://pmc.ncbi.nlm.nih.gov/articles/PMC5039451/

McDonough, M. (2024). “The Connections Between Smell, Memory, and Health.” Harvard Medicine. Available at: https://magazine.hms.harvard.edu/articles/connections-between-smell-memory-and-health

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত। 

বুমা ব্যানার্জীর জন্ম, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র কলকাতা হলেও বর্তমানে কানাডাবাসী। পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে চাকরি করেছেন। লেখালেখির শুরু বিভিন্ন ওয়েব ম্যাগাজিনে। জয়ঢাক, একপর্ণিকা, ম্যাজিক ল্যাম্প, নিউ জার্সি থেকে প্রকাশিত অভিব্যক্তি ও অবসর পত্রিকায় নিয়মিত লেখেন। কিশোর ভারতী পত্রিকায় লেখা প্রকাশিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। কল্পবিশ্ব ও জলফড়িং পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে ছোটগল্প। সম্প্রতি অন্তরীপ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় লেখা প্রকাশিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কিছু ছোটগল্প ও অণুগল্প। ভেল অফ টেলস্ অডিও স্টোরি চ্যানেলে উপস্থাপিত হয়েছে একটি উপন্যাসিকা। একক গ্রন্থ প্রকাশ করা সামনের লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *