টুইঙ্কেল টুইঙ্কেল লিটল স্টার
আশি কিংবা নব্বইয়ের দশকে টুইঙ্কেল নামটা খুব একটা প্রচলিত ছিল না। সন্তানের নাম রাখার সময় সেটাকে এক্সক্লুসিভ করার চক্করে এত আকাশ-পাতাল ভাবতেন না বাবা-মায়েরা। চোখ বন্ধ করে ঠাকুরের শরণাপন্ন হতেন। না না, তেত্রিশ কোটি নয়, দাড়িওয়ালা ঠাকুর।
সেই সময় বাঙালি ছেলেমেয়েদের মোটামুটি নামেই চিনে নেওয়া যেত। অবশ্য তখনও কোনো কোনো আধুনিকমনস্ক দম্পতি ছেলেমেয়েদের নামের সঙ্গে নিজেদের ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে দেওয়ার জন্য চেষ্টা করতেন এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ নাম সৃষ্টি হত। যেমন বিশ্বরঞ্জন এবং দীপ্তির প্রথম কন্যা সন্তানের নাম রাখা হয়েছিল বিশ্বদীপা। তাঁদের দ্বিতীয় সন্তানটি ছেলে। ছেলের বেলায় আর বেশি এক্সপেরিমেন্ট করা হয়নি। ওর নাম হয়েছিল বিশ্বদীপ। বাঙালি পরিবারে পুত্রসন্তানকে খুব বেশি প্রায়োরিটি যে দেওয়া হয় না, এইটা তারও একটা প্রমাণ।
যাইহোক, আমরা যারা আশি এবং নব্বইয়ের দশকে বড়ো হয়েছি, তাদের কাছে টুইঙ্কেল একটা অপরিচিত নাম ছিল। আমাদের টুইঙ্কেল শুধু নামেই নয়, আগাগোড়াই ছিল এক বিস্ময় বালিকা।
ওর গায়ের রঙ ছিল মেমসাহেবদের মতো। জন্মের সময় হয়তো টুকটুকে তারার মতোই ঝিলমিল করেছিল, তাই ওর নাম হয়েছিল টুইঙ্কেল!
টুইঙ্কেলের বাবাকে সব বাচ্চারা খুব ভয় পেত। কেন কে জানে। ওঁর গালে বসন্তের দাগ, কোঁকড়া কোঁকড়া চুল আর বিরাট লম্বা-চওড়া চেহারার মধ্যে কাঠিন্য তো অবশ্যই ছিল, তবে তার থেকেও বেশি ছিল চারপাশের জগতের প্রতি অপার তাচ্ছিল্যবোধ।
টুইঙ্কেলের মা খুব বেশি বের হতেন না বাড়ি থেকে। তিনতলায় থাকত ওরা। আমাদের সরকারি আবাসনের সি ব্লকের তিনতলার জানালায় কাকিমাকে কখনও কখনও দেখতে পেতাম। জানালাটার পাশে বসে থাকতেন, খুব উদাস দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকাতেন।
ওর মতো বড়ো একজন মানুষও যে আকাশের দিকে এমনি এমনিই তাকিয়ে থাকতে পারেন, এটা ভেবে অবাক হতাম। ওঁর পায়ে একটা সমস্যা ছিল। কোনো একটা পা সামান্য ছোট থাকায় একটু খুঁড়িয়ে হাঁটতেন। আমার তো মনে হত কাকিমার একটা হাতও যেন একটু ছোট ছিল।
বিজয়া দশমীর পর আমরা আবাসনের বাচ্চারা মাঝে মাঝে এর-ওর ফ্ল্যাটে ঢুকে নারকেল নাড়ু, চিপস, চানাচুর, কুচো নিমকি খেতাম। কলিং বেল থাকত না সবার ফ্ল্যাটে, দরজার গায়ে কড়া ঝুলত, সেটাই ঠকঠক করে নাড়া দিতাম। কিন্তু টুইঙ্কেলদের বাড়ি কেউ তেমন যেতাম না। টুইঙ্কেলের বাবাকে আমরা ভয় পেতাম, ওর মাকে আমাদের অচেনা লাগত।
মনে আছে, সুশান্ত কাকুদের তখন গ্যাস আসেনি। উনুনে আঁচ দিয়ে সেটা নীচে নামিয়ে দিয়ে যেত। ধোঁয়া এঁকেবেঁকে উঠত। খেলতে খেলতে চোখ জ্বালা করত আমাদের। কিন্তু একসঙ্গে সবাই থাকতে গেলে এর-ওর সুবিধা-অসুবিধা তো মানিয়ে নিতেই হয়। আমাদের কিতকিত খেলার জন্য দাগ কাটা ঘরের পাশেই সুশান্ত কাকুদের মাটির উনুন গুবগুব করে দিব্যি ধোঁয়া দিত। ধোঁয়া বেশি উঠলে অবশ্য কাকু এক ফাঁকে এসে উনুনটা উঠিয়ে নিয়ে যেতেন।
টুইঙ্কেল ওই ধোঁয়ার মধ্যে মাঝে মাঝে একটা ড্রাকুলা দেখতে পেত। কাউন্ট ড্রাকুলা। ড্রাকুলাটার ছোট ছোট দুটো দাঁত ঠোঁটের দু-পাশে বেরিয়ে থাকে, তার লম্বা ক্লোক মাটিতে ঝোলে। আঙুলগুলোর মাথায় লম্বা লম্বা বাঁকানো নখ। টুইঙ্কেল কী করে দেখতে পেত জানি না। আমরা তো কেউ কখনও ধোঁয়ার ভিতর কিছু খুঁজিনি।
সেই সময় বিকেলবেলাগুলো অন্যরকম হত। স্কুল থেকে ফিরেই একটু কিছু মুখে দিয়েই আমরা খেলতে নামতাম। বড়ো একটা জলট্যাঙ্ক ছিল আমাদের, তার উপর দুটো বড়ো বড়ো লোহার পাইপ। পাইপ দুটোতে বসলে আমাদের সবার পা হাওয়াতে থাকত। পা দুলিয়ে দুলিয়ে আমরা গানের লড়াই খেলতাম। “দেখা হ্যায় পহেলি বার, সাজন কি আঁখো মে প্যায়ার… ডিম পাউরুটি, ডিম পাউরুটি।” ডিম পাউরুটিটা লিরিক্স নয়, মিউজিক।
ওটা বলার পর খিলখিল করে হেসে উঠতাম আমরা। অকারণে হাসা যায় বলেই ছোটবেলায় সবাইকে এত সুন্দর দেখতে থাকে। বড়ো হতে হতে হাসির পরী হারিয়ে যায়। টুইঙ্কেলের বোধহয় আরও একটু আগে হারিয়ে গিয়েছিল। ছোটবেলায় ও গম্ভীর থাকত। গানের লড়াই খেলার সময় আমাদের অকারণ হাসিতে খুব একটা শামিল হত না। আমরা ভাবতাম, সুকান্ত কাকু ওর বাবা এই জন্যই বোধহয় ওরকম করত।
আবাসনে শীতকালে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা হত। সে এক কাণ্ড! সব থেকে মজাদার হত বড়োদের স্পোর্টস। আমাদের বাবারাও যে বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই একসঙ্গে ছেলেমানুষদের মতো দৌড়াতে পারে, দৌড়াতে গিয়ে এফ ব্লকের শান্তশিষ্ট অলোককাকু ওরকম পি টি উষা মার্কা স্পিড তুলতে পারে, কে জানত! প্রতিবার এই অনুষ্ঠানের সব থেকে বড়ো তারকা হয়ে উঠত হাঁড়ি ভাঙার খেলা। ওটাতে আমরা ছোটরা অংশগ্রহণ করতে পারতাম না। বড়োরা খেলত। আমরা শুধু সাইডে দাঁড়িয়ে দেখতাম আর দিলীপকাকুর কমেন্ট্রি শুনতে শুনতে হেসে কুটোপাটি করতাম।
সম্পূর্ণ ভুলভাল গাইড করতেন চোখ-বাঁধা প্রতিযোগীদের। হয়তো পায়ের কাছেই হাঁড়ি, কিন্তু দিলীপ কাকু বলবেন, “হ্যাঁ বৌদি, একটু বাঁ দিকে চেপে যান। তারপর হালকা করে আপনার ডান দিকে ঘুরুন। এবার সজোরে আপনার লাঠিটা বসিয়ে দিন।” ওখানেই হয়তো দিলীপ কাকুর বউ মিতুল কাকিমা দাঁড়িয়ে আছেন আর চোখ বড়ো বড়ো করছেন।
আমাদের জন্য বিস্কুট দৌড় হত, অঙ্ক রেসও। টুইঙ্কেল অঙ্ক রেসে সবসময় ফার্স্ট হত। খানিকটা দৌড়ে গিয়ে খাতা আর পেন্সিল রাখা থাকত। খুব কঠিন কিছু নয়, চারটে সংখ্যার গুণ কিংবা ভাগ। অঙ্কটা কষেই আবার ছুটতে হবে। একবার অঙ্ক কষে ছোটার সময় পড়ে গিয়েছিল, পাশে পিঙ্কিদি ছিল। হয়তো ছুটতে গিয়ে একটু ধাক্কা লেগে গিয়েছিল। দুজনের কারও সেই রকম কিছু একটা আঘাত লাগেনি, কিন্তু তাও সুকান্ত কাকু পিঙ্কিদির হাত দুটো ধরে এমনভাবে ঝাঁকিয়েছিল যে দু-দিন ব্যথা মরেনি বেচারির।
টুইঙ্কেল তখনও চুপ করেই ছিল, যেভাবে ও চুপ করে থেকে ধোঁয়ার ভিতরে ড্রাকুলা দেখে।
পুজোর সময় আমরা কেউ আমাদের আবাসন ছেড়ে কোথাও যেতে চাইতাম না। মাসখানেক আগে যেদিন ঠেলাগাড়ি করে বাঁশ আসত প্যান্ডেলের জন্য, সেদিন মনে হত আকাশে এক নতুন ধরনের রোদ উঠেছে। এই রোদের কোনো বিকল্প নেই, এই রোদের বয়স বাড়ে না। এই রোদ পৃথিবীর সমস্ত কাশফুলের বুক ছুঁয়ে, সমস্ত শিউলির গন্ধ লুঠ করে, সমস্ত শিশির শুষে নিয়ে কেবল আমাদের আবাসনে এসে পৌঁছেছে। টুইঙ্কেল তখনও হাসত না। সুকান্ত কাকুর মুখের কাঠিন্য ওর মুখেও ফুটে উঠতে লাগল। তার ধীর এবং অবধারিত পদক্ষেপ আমরা শুনতে পেতাম।
কখনও কখনও মনে হত ও মুখোশ পরে থাকে। মুখোশটা একবার সরিয়ে ফেললেই তার ভিতর থেকে একটা মেয়ে বেরিয়ে আসবে, যে তারার মতো উজ্জ্বল— অকারণেই হাসে, ঝগড়া করে, ভাব করে। ঠিক আমাদের মতো। আবার কখনও কখনও মনে হত ধোঁয়ার ভিতর থেকে একটা ড্রাকুলা বেরিয়ে এসে সত্যি সত্যিই বোধহয় ওর ঘাড়ের কাছে দুটো দাঁত ফুটিয়ে দিয়েছে। মুখোশটাই ওর মুখ। একটু-একটু করে ড্রাকুলাটা নিজের নীল বিষাক্ত রক্ত ঢুকিয়ে দিয়েছে টুইঙ্কেলের রক্তের ভিতর।
পুজোর সময় একটা ছোট স্টেজ হত প্যান্ডেলের পাশে। পাড়ার বাচ্চারা যে যা পারত তাই করত। নাচ শিখত মোমদি। ভরতনাট্যম বোধহয়। ওর নাচ দেখে কে যেন বলেছিল মোমদিকে ছেলের বউ করে নিয়ে যাবে। রুবি কাকিমা গান গাইতেন। সুনীল জেঠু ওই ফাংশনেই কবিতা বলতে গিয়ে নার্ভাস হয়ে তোতলাতে শুরু করেছিলেন। টুইঙ্কেল ব্রেকড্যান্স করত। এই নাচটা সেই সময় খুব পপুলার ছিল। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ভেঙেচুরে নাচ। ওরকম নাচ আমাদের মধ্যবিত্ত পাড়ায় কেউ ভালো চোখে দেখেনি। তবে এতে টুইঙ্কেলের কিছু যায় আসত না। ওই যে বললাম, কাঠিন্যের সঙ্গে সঙ্গে একটা বেপরোয়া ঔদাসীন্যও চলে এসেছিল ওর।
সব দিন প্রোগ্রাম হত না। এক রাতে স্টেজটা ফাঁকাই ছিল। স্টেজের উপর উঠে আমরা মিউজিক্যাল চেয়ার খেলছি। টুইঙ্কেল বসতে যাবে ঠিক সেই সময় ওর পিছন থেকে চেয়ারটা টেনে সরিয়ে নিয়েছিলাম। বুঝতে পারিনি এত জোরে পড়ে যাবে। মাথার পিছনের দিকটা তক্ষুনি ফুলে প্রায় আলু হয়ে গেল। অত ব্যথাতেও টুইঙ্কেলের কী হাসি! এদিক-ওদিক তাকিয়ে শুধু একবার দেখে নিল ওর বাবা আছে কি না। ব্যস, তারপরেই আবার ফর্মে।
পরের দিন দেখি একটা বাঘছালের মতো জামা পরে এক কিশোরের হাত ধরে টুইঙ্কেল আবাসন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। পুজোর দিনেও কাকিমা ওই জানালার পাশেই বসে থাকতেন। টুইঙ্কেল একবার উপরে তাকাল, ওর মায়ের দিকে। হাত নাড়াল না। হাত নাড়িয়ে টাটা বলার মধ্যে একধরনের বোকা বোকা ব্যাপার থাকে। টুইঙ্কেল বোকা বোকা জিনিস পছন্দ করত না। উনুনের ভেতর থেকে বেরোনো ধোঁয়ার মধ্যে ড্রাকুলা দেখতে পাওয়াটা বোকা নয় কি? কিন্তু ওকে কে বোঝাবে?
বড়ো হতে হতে টুইঙ্কেল অনেক রকমের নেশা ধরেছিল। একদিন কলেজ থেকে ফেরার সময় দেখি জলট্যাঙ্কের সেই লোহার পাইপের উপর বসে পা দোলাচ্ছে। চোখগুলো লাল। শুকনো নেশা করত। সেদিন জানতে পারলাম টুইঙ্কেল খুব ভালো গানও গায়। কিন্তু গাইতে গাইতে বার বার জিভ জড়িয়ে যাচ্ছিল ওর, যেন ভীষণ ঠান্ডা একটা জায়গায় বসে আছে। চারদিক পুরু বরফে ঢাকা। এতটুকু সূর্যের আলো নেই। থইথই করছে বরফ আর বরফ।
বড়ো হওয়ার পর সুকান্ত কাকুকে আর ভয় পেতাম না। মনে হত উনি একজন একা মানুষ। ভীষণ একা। এতটা একা একজনকে ভয় পাওয়ার কোনো মানে হয় না, বরং তাঁর জন্য করুণা হয়।
টুইঙ্কেলের মা সেই সময় একটু-আধটু বাইরে বেরোতেন। যদিও কাকু-কাকিমাকে কোনোদিন একসঙ্গে দেখিনি।
টুইঙ্কেলের পাশে সেদিন বসে থাকতে ইচ্ছে করেছিল। ও নিজেও বোধহয় চাইছিল যেন কেউ ওর পাশে এসে বসুক। নক্ষত্ররা বাই ডিফল্ট নির্জনই হয়, কিন্তু তাই বলে নির্জনতাই তাদের একমাত্র পছন্দ নয়। টুইঙ্কেল বলছিল কোথায় একটা সোনার দোকান থেকে গয়না ডিজাইন করার কম্পিটিশন হয়েছিল, একটা দুলের ডিজাইন এঁকে ও ফার্স্ট হয়েছে। আমার হাতটা ধরে টানছিল, তক্ষুনি নাকি ওর বাড়ি গিয়ে ডিজাইনটা দেখতে হবে আমাকে। আমি যাইনি।
টুইঙ্কেল ঠিক আমাদের মতো ছিল না। আমরা কেউ কোনোদিন সুশান্ত কাকুর উনুনের ধোঁয়াতে ড্রাকুলা দেখতে পাইনি। ও পেয়েছিল। আমরা কোনোদিন ভাবতে পারিনি পাড়ার কাকিমা, জেঠিমাদের সামনে ব্রেকড্যান্স করতে করতে স্টেজে লুটিয়ে পড়া যায়, অনায়াসে বয়ফ্রেন্ডের হাতটা ধরে গটগট করে হাঁটা যায় কিংবা জলট্যাঙ্কের লোহার পাইপে পা ঝুলিয়ে জড়ানো গলায় গেয়ে ওঠা যায়ঃ
When you’re feeling all alone
Like a child who’s got no home
You know you’ve always got a place where you can go.
Just climb on the wings of my love.
শেষের দিকে জিভ শুকিয়ে যাচ্ছিল বোধহয়, জল চাইছিল। আমার বোতলে যেটুকু জল ছিল, সেটা ওর তেষ্টা মেটানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। বসে ছিলাম একসঙ্গে আমরা। জিজ্ঞেস করল, প্রেম করি কি না। আমি বললাম, “করলেই বা তোকে বলব কেন রে? তুই কোথায় কাদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছিস আমরা কেউ জানি?” টুইঙ্কেলের হাসিটা খুব সুন্দর ছিল। যারা জানে তাদের হাসি সুন্দর তারা থেকে থেকেই হাসে। কিন্তু টুইঙ্কেল হাসেনি সেদিন। কাঁদছিল। সেই প্রথম ওকে আমি কাঁদতে দেখলাম।
কাকু একটু পরে এসে নিয়ে গেলেন ওকে। কাকিমা সেদিনও জানালা থেকে দেখছিলেন কি না খেয়াল করিনি। হয়তো দেখছিলেন কিংবা দেখছিলেন না। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটত। কোনো কোনো দিন টুইঙ্কেল বাড়িও ফিরত না।
একদিন দেখলাম ট্যাক্সি থেকে নামছে। কোমরটা দু-দিক থেকে জড়িয়ে আছে দুজন অল্পবয়সী ছেলে। মুখটা ঘুরিয়ে নিতে যাব তখন বলল, “অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশন হয়েছে রে, তুই যা ভাবছিস সেটা নয়।”
কলেজের শেষের দিকে হঠাৎ একদিন শুনলাম মারা গেছে টুইঙ্কেল। প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। তারপর জানলাম ঘটনাটা সত্যি। মৃত্যুটা নিয়ে বেশ কিছুদিন জল্পনা-কল্পনা চলল, তারপর সব থিতিয়ে গেল। টুইঙ্কেল আর কে এমন কেউকেটা ছিল যে তাকে নিয়ে দুনিয়া তোলপাড় হবে, ওই তো সামান্য একটা মেয়ে যে ধোঁয়ার মধ্যে ড্রাকুলা দেখত।
ও মারা যাওয়ার বেশ কয়েক বছর পর কাকুকে দেখেছিলাম, কাকিমার হাত ধরে ধরে হাঁটছে। কাকিমার একটু ছোট পা-টা বোধহয় বড়ো হয়ে গেছে ততদিনে, আর খুঁড়িয়ে চলছে না।
আজও ‘টুইঙ্কেল টুইঙ্কেল লিটল স্টার’ ছড়াটা শুনলে কেবল আমাদের টুইঙ্কেলকেই মনে পড়ে।
———-
ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহীত।
