প্রথম
পাতা
শহরের তথ্য
বিনোদন
খবর
আইন/প্রশাসন
বিজ্ঞান/প্রযুক্তি
শিল্প/সাহিত্য
সমাজ/সংস্কৃতি
স্বাস্থ্য
নারী
পরিবেশ
অবসর
|
পুরনো
দিনের কয়েকটি সংবাদ ও সাময়িক পত্রের পরিচয়

ভূমিকা
বাংলা সাহিত্যের রূপদান ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে সাময়িকপত্র
ও সংবাদ পত্রের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলা ভাষায় মুদ্রিত
প্রথম পুস্তকখানি ছিল একখানা 'ব্যাকরণ ও অভিধান'। ১৭৪৩
খ্রীষ্টাব্দে এই গ্রন্থখানি মুদ্রিত হয়। তবে বাংলা ভাষার
অক্ষর তখনও তৈরী হয় নি। পর্তুগীজ বণিকেরা বাংলাদেশে
ব্যাবসা করার তাগিদে বাংলা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব
করে। পর্তুগালের লিস্বনে মুদ্রিত অভিধানটিতে বাংলা-পর্তুগীজ
ও পর্তুগীজ-বাংলা দু'রকম শব্দ ভাণ্ডারই ছিল। পর্তুগীজরা
এদেশের লোকের মুখে যে রকম ভাষা ও উচ্চারণ শুনতো, রোমান
অক্ষরে সে রকমই ছাপা হয়েছিল বইটিতে। এর কিছু মনোগ্রাহী
উদাহরণ দিযেছেন কেদারনাথ মজুমদার। যেমন, মুই যাইবাসছি
( আমি যাইতেছি ) রোমান হরফে ছাপা হয়েছে 'Moui Zeibasschee'
অথবা মুহর খোওয়া দওয়া ( আমার খাওয়া দাওয়া ) রূপান্তরিত
হয়ে হয়েছে 'Mouhore khoah dohah' ইত্যাদি। বাংলা হরফে
মুদ্রিত প্রথম দুটি গ্রন্থ হল সম্ভবতঃ 'প্রার্থনামালা'
ও 'প্রশ্নমালা'। এদেশে তখনও বাংলা ছাপাখানা স্থাপিত
হয় নি। ১৭৬৭ খ্রীষ্টাব্দে লণ্ডনে মুদ্রিত হয়েছিল উল্লিখিত
অভিধানটি। এরপর মুদ্রিত হল হলহেড সাহেবের ব্যাকরণ। বইটির
নাম A Grammar of the Bengali Language; ১৭৭৮ খ্রীষ্টাব্দে
Sir Chirles Wilkins এটি প্রকাশ করেন। হুগলী থেকে বাংলা
অক্ষরে প্রকাশিত হয়েছিল এটি। পঞ্চানন কর্মকার নামক এক
ব্যক্তি সে সময়ে মুদ্রণ বিষযে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
পালন করেছিলেন। উইলকিন্সের নির্দেশে তিনি কাঠের তৈরী
বাংলা অক্ষর প্রস্তুত করেন। এ কাজে তিনি ছিলেন খুবই
দক্ষ। প্রত্যেকটি অক্ষরের জন্য তিনি পাঁচসিকা করে নিতেন।
ভারতবর্ষে প্রথম সংবাদপত্রটি প্রকাশিত হয়েছিল এই বাংলাদেশেই।
হিকি (Hicky) ১৭৮০ খ্রীষ্টাব্দের ২৯শে জানুয়ারি এটি
প্রকাশ করেন; সংবাদ পত্রটির নাম ছিল 'বেঙ্গল গেজেট',
হিকির গেজেট নামেও এটি পরিচিত ছিল। কিন্তু প্রকাশের
পরেই গভর্ণর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস-এর পরিবার সম্বন্ধে
আপত্তিকর সংবাদ পরিবেশন করায় দু'বছরের মধ্যেই পত্রিকাটি
বন্ধ হয়ে যায়।
১৮১৮
খ্রীষ্টাব্দের এপ্রিল মাসে 'দিগ্দর্শন' নামে বাংলা অক্ষরে
মুদ্রিত বাংলা ভাষায় প্রথম মাসিক পত্রিকা শ্রীরামপুর
ব্যাপ্টিস্ট মিশন থেকে জন ক্লার্ক মার্শম্যানের সম্পাদনায়
প্রকাশিত হয়। এর ঠিক পরে ঐ বছরেই ২৩শে মে মার্শম্যানেরই
সম্পাদনায় মিশন থেকে প্রকাশ লাভ করে বাংলা ভাষার প্রথম
সংবাদপত্র ( সাপ্তাহিক ) 'সমাচার দর্পণ'। ১৮১৮-এর জুন
মাসেই বের হয় গঙ্গাকিশোর ভট্টাচার্যের প্রকাশনায় বাঙালী
পরিচালিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক সংবাদপত্র 'বাঙ্গাল
গেজেটি'। অতএব ১৮১৮ সালটি বাংলা মুদ্রণ ও সংবাদপত্রের
ইতিহাসে একটি স্মরণযোগ্য বছর।
ইংরেজরা
এদেশে শিক্ষা বিস্তারে মন দিয়েছিল যে সব কারণে তার মধ্যে
একটি ছিল এদেশে মানুষের সঙ্গে মিশে তাদের অভাব অভিযোগ,
সংস্কৃতি ও ধর্মবোধের সঙ্গে পরিচিত হওয়া; শাসন ব্যবস্থা
সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য এটির প্রয়োজনীয়তা ছিল। অপর
একটি কারণ ছিল নিজেদের ধর্মমতের উৎকর্ষ প্রতিষ্ঠিত করে
ধর্মান্তরে উৎসাহ যোগানো। ইংরাজী ভাষা পড়তে এবং লিখতে
পারে এরকম কিছু লোককে অফিসের কাজে নিযুক্ত করাও ছিল
অন্যতম উদ্দেশ্য। কারণ যাই হোক, এদেশে শিক্ষা বিস্তারে
এবং মানুষকে বিজ্ঞান মনস্ক করে তুলতে ইংরেজদের ইতিবাচক
ভূমিকা অনস্বীকার্য।
ইংল্যাণ্ড
থেকে আগত সিভিলিয়ানদের এদেশের ভাষা ও রীতিনীতি শেখার
উদ্দেশ্যে ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দেই ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ চালু
হযেছিল। অন্য কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ধীরে ধীরে স্থাপিত
হয়েছিল বিভিন্ন স্থানে। বাংলা সাহিত্য সে সময়ে মূলতঃ
বাংলা সংবাদপত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। ধর্ম বা সামাজিক
কোন বিষয়ে একটি পত্রিকায় প্রকাশিত মতামত কোন প্রভাবশালী
ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য না হলে তারা অন্য
একটি পত্রিকা প্রকাশের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য প্রতিষ্ঠিত
করতে সচেষ্ট হত। এ ধরণের বিতর্ক ও বিবাদকে কেন্দ্র করে
বহু পত্রিকা জন্মলাভ করেছে। কিন্তু প্রকৃত সাহিত্য চর্চা
ও তার প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় লেখক বা পাঠক গোষ্ঠী
কোনটাই তখন গড়ে ওঠে নি। ১৮৪০ খ্রীষ্টাব্দ পর্যন্ত যে
সব পত্রিকা প্রকাশিত হয়েছিল এবং তখনও সচল ছিল সম্পাদকের
নাম সহ তাদের কয়েকটি হল : সমাচার দর্পণ (১৮১৯), জে.
সি. মার্শম্যান ; সমাচার চন্দ্রিকা (১৮২২), ভবানীচরণ
বন্দ্যোপাধ্যায় ; জ্ঞানান্বেষণ (১৮৩১), রামচন্দ্র মিত্র
; সংবাদ পূর্ণোচন্দ্রোদয় (১৮৩৫), উদয়চন্দ্র আঢ্য ; সংবাদ
প্রভাকর (১৮৩৬), ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত ; সম্বাদ সৌদামিনী
(১৮৩৮), কালাচাঁদ দত্ত ; সম্বাদ ভাস্কর (১৮৩৯), শ্রীনাথ
রায় ; সম্বাদ রসরাজ (১৮৩৯), কালীকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়
ইত্যাদি। এই সময়ের মধ্যেই অনেক সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়েও
বন্ধ হয়ে গিয়েছে। যেমন - রামমোহন রায়ের 'সম্বাদ কৌমুদী',
কৃষ্ণমোহন দাসের 'সম্বাদ তিমিরনাশক', প্রেমচাঁদ রায়ের
'সম্বাদ সুধাকর', কালীশঙ্কর দত্তের 'সম্বাদ সুধাসিন্ধু',
রামচন্দ্র ও কৃষ্ণধন মিত্রের 'জ্ঞানোদয়', রামচন্দ্র
মিত্রের 'পশ্বাবলী' ইত্যাদি।
সে
সময়ে সাহিত্যপত্র হিসাবে আলাদা কোন পত্রিকা ছিল না।
কিছু কিছু সাহিত্যাশ্রয়ী লেখা সংবাদপত্রতেও বেরোত এবং
সেগুলিই সাহিত্যপত্রের কাজ করত। লেখকের সংখ্যাও ছিল
কম; একই লেখককে বিভিন্ন বিষয়ে লিখতে হত। এ প্রসঙ্গে
একটি পত্রিকার নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য; সেটি হল 'সংবাদ
প্রভাকর'। এটি প্রথমে প্রকাশিত হয়েছিল (২৮শে জানুয়ারি,
১৮৩১) সাপ্তাহিক হিসাবে এবং পরে বারত্রয়িক (সপ্তাহে
তিন বার) থেকে দৈনিক পত্রিকায় রূপান্তরিত হয় (১৪ই জুন,
১৮৩৯)। এটিই ছিল বাংলা ভাষায় প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র।
সংবাদপত্র নাম হলেও এটিকে অনেকে সাহিত্যপত্র হিসাবেই
চিহ্ণিত করেছেন। 'সংবাদ প্রভাকর' সম্বন্ধে বঙ্কিমচন্দ্র
লিখেছেন -বাংলা সাহিত্য এই প্রভাকরের নিকট বিশেষ ঋণী।
.... একদিন প্রভাকর বাঙ্গালা সাহিত্যের হর্তাকর্তা বিধাতা
ছিল। প্রভাকর বাঙ্গালা রচনার রীতিও অনেক পরিবর্তন করিয়া
যান। ....ও লেখক তৈরীর ভূমিকাও পালন করেছে 'সংবাদ প্রভাকর'।
এরপর উল্লেখযোগ্য 'তত্ত্ববোধিনী' পত্রিকা। এটি প্রকাশিত
হয় ১৮৪৩ খ্রীষ্টাব্দের ১৬ই আগস্ট এবং প্রথম সম্পাদক
ছিলেন অক্ষয়কুমার দত্ত। প্রগতিশীল মনোভাবাপন্ন এই পত্রিকাটি
স্ত্রী-স্বাধীনতা, বিধবা বিবাহ, স্ত্রী-শিক্ষা ইত্যাদির
পক্ষে এবং বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রভৃতি কু-প্রথার বিরুদ্ধে
লেখনী চালনা করে জনমত গড়ে তুলতে প্রয়াসী হয়েছিল। আশি
বছর ধরে পত্রিকাটি সমাজ সেবার কাজ চালিয়ে গিয়েছে। রাজেন্দ্রলাল
মিত্র সম্পাদিত ঐবিবিধার্থ সংগ্রহ প্রকাশিত হয় ১৮৫১
সালের অক্টোবর মাসে - বঙ্গদেশস্থ জনগণের জ্ঞানবৃদ্ধি
হয় এমত ও আনন্দ-জনক প্রস্তাব সকল প্রচার করা ছিল পত্রিকাটির
উদ্দেশ্য। রবীন্দ্রনাথের ঐজীবনস্মৃতিতে এর উল্লেখ রয়েছে।
দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের ‘সোমপ্রকাশ’ (১৮৫৮), যোগেন্দ্রনাথ
ঘোষের ‘বোধবন্ধু’ (১৮৬৩), উমেশচন্দ্র দত্তের ঐবামাবোধিনী
পত্রিকা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। ‘বামাবোধিনী পত্রিকা’
প্রকাশিত হয়েছিল মেয়েদের কথা তুলে ধরতে এবং ঐবিশেষতঃ
স্ত্রীলোকদের জন্য ছাপা ‘ঐমাসিক পত্রিকা’ (১৮৫৪) নামক
পত্রিকাটি ছিল মেয়েদের জন্য প্রথম কাগজ।
কিছু
পত্রিকা অনেক বছর ধরে চলেছিল আবার কিছু ছিল স্বল্পায়ু।
উদয়চন্দ্র আঢ্যের 'সংবাদ পূর্ণোচন্দ্রোদয়', ঈশ্বরচন্দ্র
গুপ্তের 'সংবাদ প্রভাকর' ও ভবানীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের
'সমাচার চন্দ্রিকা' ৭০ বছরেরও বেশী পরমায়ু পেয়েছিল।
ব্যবসায়িক কারণে অনেক পত্রিকা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারেনি।
পাঠকেরা অনেক সময়েই পত্রিকা নিয়ে গ্রাহক মূল্য পরিশোধ
করতেন না। এই একটি কারণেই পরবর্তী কালেও অনেক পত্রিকার
বিলুপ্তি ঘটেছে। এই প্রসঙ্গে ১৮৭৩ সালে প্রকাশিত একটি
পত্রিকায় একজন সম্পাদক লিখেছেন -"ধন্য আমাদের দেশ।
ধন্য আমাদের 'নেব দেব না প্রবৃত্তি'।" মন্তব্যটি
বিশেষ করে প্রনিধানযোগ্য এই কারণে যে এথেকে বোঝা যায়
মানুষের মূল প্রকৃতি ও মানসিকতা যুগের সঙ্গে অপরিবর্তিতই
থেকেছে। অনেক সময়ে প্রকাশক ক্ষতি স্বীকার করেও পত্রিকা
প্রকাশ অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। আদর্শের প্রতি বিশ্বস্ততা
ও সমাজকল্যাণের প্রেরণা তাদের উদ্বুদ্ধ করেছে পত্রিকা
চালাতে। এ রকম একটি পত্রিকা হরিনাথ মজুমদারের 'গ্রামবার্ত্তা
প্রকাশিকা'। এটি আত্মপ্রকাশ করেছিল এপ্রিল ১৩৬৩ খ্রীষ্টাব্দে।
গ্রামের সাধারণ মানুষের দুঃখ দুর্দশা ও বঞ্চনার কথা
তুলে ধরত পত্রিকাটি সুবিচার পাবার আশায়। ক্রমশঃ ঋণগ্রস্ত
হয়ে পড়েন হরিনাথ এবং তাকে পত্রিকা চালাতে ৭০০ টাকা পর্যন্ত
ঋণ করতে হয়েছিল। তখনকার দিনে এর মূল্য সহজেই অনুমেয়।
তবু হরিনাথ লিখে গিয়েছেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে। অর্থকষ্ট
ছাড়াও বহু বাধা ও নিগ্রহ তাকে সহ্য করতে হয়েছে সংবাদ
সংগ্রহ করতে গিয়ে। মানুষ তার পাশে এসে দাঁড়ায় নি; সহানুভূতিও
প্রকাশ করে নি। দুঃখ করে হরিনাথ লিখেছেন -"যাহাদের
নিমিত্ত কাঁদিলাম, বিবাদ মাথায় বহন করিলাম, তাহাদের
এই ব্যবহার।" সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে আপোষহীন
সংগ্রাম করে ২২ বছর ধরে চালিয়েছেন হরিনাথ তার 'গ্রামবার্ত্তা
প্রকাশিকা'।
১৮৭২ সালের ১২ই এপ্রিল প্রকাশিত হয় বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বঙ্গদর্শন’।
পত্রিকাটিকে অনেকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ পত্রিকা বলে মনে
করেন। এই মূল্যায়ন সমর্থিত হয় রবীন্দ্রনাথের বিচারে
– “বঙ্গদর্শনের পূর্ববর্তী ও তাহার পরবর্তী বঙ্গসাহিত্যের
মধ্যে যে উচ্চনীচতা তাহা অপরিমিত। দার্জিলিঙ হইতে যাহারা
কাঞ্চনজঙ্ঘার শিখরমালা দেখিয়াছেন তাঁহারা জানেন, সেই
অভ্রভেদী শৈলসম্রাটের উদয়রবিরশ্মি-সমুজ্জ্বল তুষারকিরীট
চতুর্দিকের নিস্তব্ধ গিরিপারিষদবর্গের কত উর্ধ্বে সমুত্থিত
হইয়াছে। বঙ্কিমচন্দ্রের পরবর্তী বঙ্গসাহিত্য সেইরূপ
আকস্মিক অত্যুন্নতি লাভ করিয়াছে; একবার সেইটি নিরীক্ষণ
ও পরিমাণ করিয়া দেখিলেই বঙ্কিমের প্রতিভার প্রভুত বল
সহজে অনুমান করা যাইবে।”
এই
স্বল্প পরিসরের ভূমিকাতে প্রকাশনা সময়ের ক্রম বজায় রেখে
বিশাল সংখ্যক সাময়িক পত্রিকার নামোল্লেখ করা উদ্দেশ্য
নয়, সেটা সম্ভবও নয়। এ ধরণের গ্রন্থ আগেই প্রকাশিত হয়েছে।
তবে কয়েকটি পত্রিকার বিশেষত্ব উল্লেখ করা যেতে পরে।
যেমন -
-
বাংলা ভাষায় ধর্ম বিষয়ক প্রথম পত্রিকাটি ছিল ১৮১৯
খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত দ্বিভাষিক 'গসপেল ম্যাগাজিন'।
-
বিজ্ঞান
বিষয়ক প্রথম সাময়িকপত্র ‘বিজ্ঞান সেবধি’ ১৮৩২ সালের
এপ্রিল মাসে Society for Translating European Sciences
কর্তৃক প্রকাশিত হয়।
-
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম দৈনিক সংবাদপত্র 'সংবাদ
প্রভাকর'; প্রকাশনার তারিখ ছিল ১৮৩৯ সালের ১৪ই জুন।
-
চিকিৎসা
শাস্ত্র সম্বন্ধীয় প্রথম পত্রিকা ‘আয়ুর্ব্বেদ দর্পণ’
চাণক নিবাসী নারায়ণ রায় কর্তৃক প্রকাশিত হয় ১৮৪০-এর
জুন মাসে।
-
বাংলা ভাষায় প্রকাশিত প্রথম সচিত্র মাসিক পত্রিকা
'বিবিধার্থ সংগ্রহ'; প্রকাশিত হয় ১৮৫১ খ্রীষ্টাব্দের
অক্টোবর মাসে।
-
প্রথম
রঙ্গরসের পত্রিকা 'বিদূষক' প্রকাশিত হয় ১২৭৭ বঙ্গাব্দের
অগ্রহায়ণ মাসে।
-
মহিলা পরিচালিত প্রথম মাসিক পত্রিকা 'নাথিনী'-র প্রকাশ
১২৮২ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ মাসে, সম্পাদিকা থাকমণি দেবী।
-
মহিলাদের
জন্য প্রচারিত প্রথম মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন
প্যারীচাঁদ মিত্র ও রাধানাথ শিকদার। প্রকাশিত হয় ১২৬১
বঙ্গাব্দের ১লা ভাদ্র, পত্রিকাটির নাম ছিল 'মাসিক
পত্রিকা'।
-
প্রথম আঞ্চলিক সংবাদপত্র ‘মুর্শিদাবাদ সম্বাদপত্রী’।
কাশিমবাজার রাজ কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের আনুকূল্যে ১৮৪০
খ্রীষ্টাব্দের ১০ই মে প্রকাশিত হয় পত্রিকাটি।
-
প্রথম কবিতা বিষয়ক মাসিক পত্রিকা ‘কবিতাকুসুমাবলী’
ঢাকা থেকে প্রকাশিত হয় ১৮৬০ সালের মে মাসে; শুরুতে
সম্পাদক ছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদার।
ব্রহ্মানন্দ কেশবচন্দ্র
সেনের সম্পাদনায় ১৮৭৮ সালের এপ্রিল মাসে প্রকাশিত 'বালকবন্ধু'
ছিল প্রথম শিশু-পত্রিকা। তবে পত্রিকাটির প্রকাশনা ছিল
অনিয়মিত এবং এটি ছিল স্বল্পায়ু। এ কারণে ১৮৮৩ সালের
১লা জানুয়ারি প্রকাশিত 'সখা'ই ছিল বালক-বালিকাদের প্রকৃত
সখা। মাসিক পত্রিকাটির প্রথম সম্পাদক ছিলেন প্রমদাচরণ
সেন। ১৮৬০ খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত ঐসত্যপ্রদীপ পত্রিকাটিকে
অনেকে বাংলা ভাষায় রচিত প্রথম শিশুপাঠ্য পত্রিকা বলে
চিহ্ণিত করেছেন।
বাংলা সাময়িকপত্র
চর্চা ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রথমেই ঋণ স্বীকার করতে হয়
কেদারনাথ মজুমদারের (১৮৭০-১৯২৬) কাছে। তার রচিত 'বাঙ্গালা
সাময়িক সাহিত্য' গ্রন্থে ৪০টি সাময়িক পত্রের পরিচয় বাদ
দিয়েও রয়েছে কয়েকটি মূল্যবান অধ্যায়। সেখানে তিনি যে
সব বিষয় আলোচনা করেছেন তার মধ্যে রয়েছে - 'মিশনারি যুগের
বাঙ্গালা মুদ্রিত গ্রন্থ', 'কোম্পানির আমলে দেশীয় শিক্ষার
অবস্থা ও ব্যবস্থা', 'বাঙ্গালা সাময়িক সাহিত্যের ক্রমবিকাশ
ও বঙ্গসমাজ' ইত্যাদি। তার পরিবেশিত তথ্য থেকে সে যুগের
শিক্ষা, সংস্কৃতি, সমাজ ব্যবস্থা এবং সময়ের সঙ্গে তার
পরিবর্তন, উন্নতি ও বিকাশ সম্বন্ধে, বিশেষতঃ পত্রপত্রিকা
ও মুদ্রণ সংক্রান্ত বিষয়ে একটা সুস্পষ্ট ধারণা করা সম্ভব।
মহেন্দ্রনাথ বিদ্যানিধি (১২৬০-১৩১৯ বঙ্গাব্দ) সাময়িকপত্র
গবেষণার ক্ষেত্রে যথেষ্ট নিষ্ঠার পরিচয় দিলেও তিনি কোন
গ্রন্থের মাধ্যমে তার সমীক্ষার ফল লিপিবদ্ধ করে যান
নি। স্বাভাবিক ভাবেই তিনি প্রচারের আলোতে আসেন নি। তবে
বিভিন্ন পত্রিকায় মহেন্দ্রনাথের প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
কেদারনাথের আগেই তিনি সাময়িক পত্রের চর্চা শুরু করেছিলেন।
এ বিষয়ে তিনি পথিকৃৎ বলা যেতে পারে।
এর পরেই স্মরণীয়
যে নামটি সেটি হল ব্রজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় (১৮৯১-১৮৫২)।
সত্যানুসন্ধানী ও অসাধারণ অধ্যবসায়ী এই ইতিহাসবিদ পরম
নিষ্ঠা ও শ্রদ্ধা সহকারে সাময়িক পত্রের যে পরিচয় গ্রন্থিত
করে রেখে গিয়েছেন তা থেকেই আমরা উনবিংশ শতাব্দীর বেশ
কিছু সংবাদপত্র ও সাময়িক পত্রিকার সঙ্গে পরিচিত হতে
পারি। তার অনুশীলন ছাড়া এ ধরণের বহু প্রকাশনার তথ্য
ইতিহাস থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যেত। 'বাংলা সাময়িক
পত্র' নামাঙ্কিত গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে প্রায় ২৫০টি সংবাদ
ও সাময়িকপত্রের বিশদ পরিচয় মেলে। ১৮১৮ থেকে ১৮৬৮ খ্রীস্টাব্দ
পর্যন্ত বহু প্রকাশনার পরিচয় এতে লিপিবদ্ধ রয়েছে। দ্বিতীয়
খণ্ডে রয়েছে ৮৪২টি পত্রিকার নাম ও প্রকাশকাল, কিন্তু
প্রথম খণ্ডের মত এতে পত্রিকার সম্বন্ধে অন্য কোন তথ্য
বা আলোচনা পরিবেশিত হয় নি। এ কাজটি বা বিংশ শতাব্দীর
প্রথম দুতিন দশকে প্রকাশিত পত্র পত্রিকার তথ্য সহ পরিচয়
তিনি কেন গ্রন্থিত করে গেলেন না সেটা ভেবে দুঃখ হয়।
এতদিন পরে এখন এ বিষয়ে আর কোন তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নেই
বললেই চলে। ব্রজেন্দ্রনাথের সত্যনিষ্ঠা কিন্তু জানাতে
ভোলে নি যে তার প্রদত্ত তালিকার বাইরেও কিছু পত্রিকা
থেকে যাওয়া অসম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন -"আমাদের
বিবরণে অসম্পূর্ণতা থাকা মোটেই বিচিত্র নহে।"
যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য (১৯০৫-১৯৯০) তার পত্রিকা গবেষণার
ফল ধরে রেখেছেন বিভিন্ন পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের মাধ্যমে।
এ ছাড়া রয়েছে একটি ৪২ পাতার ছোট বই 'শ্রীহট্টবাসী সম্পাদিত
এবং শ্রীহট্ট ও কাছাড় হইতে প্রকাশিত সংবাদপত্র'।
সাময়িকপত্র চর্চার
ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম বিনয় ঘোষ। পাঁচ খণ্ডে
রচিত তার 'সাময়িপত্রে বাংলার সমাজচিত্র' গ্রন্থে সে
কালের সমাজ ও সংস্কৃতির সামগ্রিক চিত্রটি সুন্দরভাবে
ধরা পড়েছে। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় পরিবেশিত রচনা থেকেই
আহরিত হয়েছে এই বিপুলাকার গ্রন্থের উপাদান।
বর্তমানে অনেকেই
পুরান সাময়িকপত্র সম্বন্ধে উৎসাহ দেখাচ্ছেন, বহু পরিশ্রম
করে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহে ব্রতী হয়েছেন।
তাদের অধ্যবসায় ও গবেষণাকে সম্মান জনিয়েই বর্তমান ভূমিকাটি
গীতা চট্টোপাধ্যায়ের নামোল্লেখ করেই শেষ করব। শ্রীমতী
চট্টোপাধ্যায় অসাধারণ পরিশ্রম ও নিষ্ঠা সহকারে বাংলা
সাময়িক পত্রিকাপঞ্জীর তিনটি খণ্ড প্রকাশ করেছেন। ব্রজেন্দ্রনাথ
যেখানে ছেড়েছেন শ্রীমতী চট্টোপাধ্যায় সেখান থেকেই শুরু
করে সুন্দর ভাবে কাজটি এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। তার গ্রন্থে
একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল কোন পত্রিকাটি কোন গ্রন্থাগারে
বা ব্যক্তিগত সংগ্রহে লভ্য সেই তথ্য পরিবেশন। উৎসাহী
ব্যক্তি অনায়াসেই পত্রিকাটির খোঁজ পেতে পারেন। এই তিনটি
খণ্ডে মোট প্রায় ১৭৫০টি পত্রিকার হদিশ মেলে। বর্তমান
ধারাবাহিকে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা থেকে কিছু নির্বাচিত
প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা অবসরের পাঠকদের জন্য সংকলিত হবে।
সেকালের লেখকদের ব্যবহৃত ভাষা, রচনাশৈলী, বিষয়বস্তু
নির্বাচন, সমাজ সচেতনতা ও জীবনবোধের কিছুটা পরিচয় মিলবে
এ সব লেখা থেকে। তবে সর্বাঙ্গীন চিত্রটি ফুটে ওঠা হয়
ত শক্ত কারন বেশ কিছু গভীর চিন্তামূলক এবং ধর্ম বিষয়ক
প্রবন্ধ, যা তখন বিপুল সংখ্যায় মুদ্রিত হয়েছে, বাদ দেওয়া
হয়েছে এ কালের অনেক পাঠকের কাছে সেগুলি তেমন মনোগ্রাহী
নাও হতে পরে এই ভাবনায়। আবার বেশ কিছু সুখপাঠ্য ও উপভোগ্য
লেখা উপস্থাপিত করা যায় নি সেগুলি কপিরাইটের অনুশাসনে
আবদ্ধ থাকায়। যেখানে লেখকদের সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করা
সম্ভব হয়েছে সে সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট রচনার সঙ্গে ঐলেখক
পরিচিতি দেওয়া হয়েছে। যে ক্ষেত্রে লেখকের পরিচয় জানা
যায় নি, কোন পাঠক যদি তা জানাতে পারেন, তবে তার নাম
সহ পরিচিতিটি সন্নিবেশিত হবে।
অত্যন্ত দুঃখের
কথা হল বহু পত্র-পত্রিকায় প্রকাশিত রচনার বিপুল সংখ্যক
লেখক-লেখিকাদের পরিচয় অজ্ঞাত রয়ে গিয়েছে। প্রকাশনার
সঙ্গে সঙ্গে রচয়িতাদের পরিচিতি প্রকাশিত হলে আজ এভাবে
তাদের হারিয়ে যেতে হত না। সৃষ্ট রচনা রয়েছে কিন্তু স্রষ্টা
চিরকালের জন্য অজ্ঞাতই থেকে যাবেন। এখন তথ্য সংরক্ষণের
জন্য অনায়াসেই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া যায়।
কিন্তু সে যুগে হস্তাক্ষরে বা মুদ্রিত আকারে ধরে রাখা
ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। প্রতিলিপি তৈরী করার উপায় তখনও
আবিষ্কৃত হয় নি। লেখকদের অনেকে হয় ত এক সময়ে বেশ কিছু
লিখেছেন কিন্তু পরে আর লেখেন নি। আবার অনেকে একটি দুটি
লেখার পর লেখা ছেড়ে দিয়েছেন। এদের অনেকেরই খবর এখন আর
কেউ রাখেন না। বিখ্যাত যারা হয়েছেন তারা রয়েছেন, অখ্যাতরা
হারিয়ে গেছেন। সেকালে অবশ্য অনেকে লেখার সঙ্গে নিজেদের
নাম প্রকাশ করতে কুণ্ঠা বোধ করতেন। বর্তমানে বেশ কিছু
পত্রিকার প্রতিলিপি সরকারী গ্রন্থাগার ও অন্য সংস্থার
চেষ্টায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে
দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যম অবশ্যই প্রশংসনীয়। সম্প্রতি জতীয়
গ্রন্থাগারে রক্ষিত কিছু পুরাণো সংবাদপত্র, পত্রিকা
ও গ্রন্থের জন্যও একই রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান
ধারাবাহিকে গদ্য রচনার সঙ্গে বেশ কিছু কবিতাও সংযোজিত
হয়েছে, বিশেষ করে সে যুগের অনেক মহিলা কবির পদ্য তুলে
ধরা হয়েছে যারা এখন বিস্মৃতপ্রায়।
পরবর্তী পর্যায়ে ‘অবসর’-এর পাতাতে বিভিন্ন সময়ের কয়েকটি
সংবাদ ও সাময়িক পত্রের পরিচয় কিছু তথ্য সহ পরিবেশন করার
ইচ্ছা রইল।
এ পর্যন্ত প্রকাশিত লেখা
-
-
- আমাদের কথা
- প্রফুল্লময়ী দেবী (প্রবাসী
১৩২৭ বঙ্গাব্দ বৈশাখ সংখ্যা)
১ ২
৩
৪
- প্রেম
: প্রাচ্য ও পাশ্চাত্ত্য -
বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর (‘ভারতী
ও বালক’ পত্রিকার ১২৯৬ বঙ্গাব্দের চৈত্র ও ১২৯৭-এর
আষাঢ় সংখ্যায় প্রকাশিত) ১
২
- স্বপ্ন
- চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
(১৩১০ বঙ্গাব্দের
কার্ত্তিক সংখ্যার 'প্রবাসী'তে প্রকাশিত)
- আমার
দেখা লোক
- ১
২ ৩
৪ ৫
৬ যোগেন্দ্রকুমার
চট্টোপাধ্যায় (১৩৪২
বঙ্গাব্দের ‘প্রবাসী’র জ্যৈষ্ঠ , শ্রাবণ ও ভাদ্র সংখ্যায়
প্রকাশিত)
- কণ্ঠরোধ - ১
২ ৩
দীনেন্দ্রকুমার রায়
( সম্পূর্ণ
রচনাটি প্রবাসী’র ১৩১০ বঙ্গাব্দের পৌষ সংখ্যায় প্রকাশিত
)
- দিনেন্দ্রনাথ
- অমিতা সেন (
সম্পূর্ণ রচনাটি ১৩৪২ বঙ্গাদের ভাদ্র সংখ্যার "প্রবাসী"তে
প্রকাশিত )
- পিতৃদেব
সম্বন্ধে আমার জীবনস্মৃতি - জ্যোতিরিন্দ্রনাথ
ঠাকুর (‘প্রবাসী’
১৩১৮ বঙ্গাব্দের মাঘ সংখ্যায় প্রকাশিত)
- মনস্কাম
- রবীন্দ্রনাথ
মৈত্র (
১৩৩৯ বঙ্গাব্দের ‘প্রবাসী’র ভাদ্র সংখ্যায় প্রকাশিত
)
- হিরণ্ময়ী
দেবী - সরলা দেবী (১৩৩২
বঙ্গাব্দের 'ভারতী' পত্রিকার ফাল্গুন সংখ্যায় প্রকাশিত)
- বড়্ঠাকুর
- জ্ঞানদানন্দিনী দেবী (
১৩৩২ বঙ্গাব্দের 'ভারতী' পত্রিকার মাঘ সংখ্যায় প্রকাশিত
। )
- আহুতি
-
প্রমথ চৌধুরী (
‘সবুজপত্র’ পত্রিকা আষাঢ় ১৩২৩ )
- বাপ
ও ছেলে - সতীশচন্দ্র
ঘটক (
‘সবুজপত্র’ পত্রিকা, ১৩২৬ ফাল্গুন সংখ্যা )
- আমার
বিবাহ - হেমেন্দ্রনাথ ঠাকুর (
১৮৩৭ খৃষ্টাব্দের 'তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা', ঊনবিংশ
কল্প প্রথম ভাগে প্রকাশিত)
- জানকীনাথ
ঘোষাল
- হিরণ্ময়ী দেবী
(
'ভারতী' ১৩২০ বঙ্গাব্দ জৈষ্ঠ্য সংখ্যা )
- একটা
অসম্ভব গল্প - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (
‘সবুজপত্র’, চৈত্র, ১৩২৫ )
- দাঁড়কাক
- সতীশচন্দ্র ঘটক (
‘সবুজপত্র’ পত্রিকা ১৩২৩ মাঘ সংখ্যা )
- ছাতার
কথা
- সুধীন্দ্রনাথ
ঠাকুর (
১৩২৫ বঙ্গাব্দের বার্ষিকি পার্ব্বণী পত্রিকায় প্রকাশিত
)
- অবেক্ষণশক্তি
- শ্রীজ- (
'বান্ধব' পত্রিকা, ফাল্গুন-চৈত্র, ১২৮৩ বঙ্গাব্দ )
- তিব্বত্দেশীয়
মনুষ্যদিগের আচার ব্যবহার - অজ্ঞাত
[ 'বিবিধার্থ সঙ্গ্রহ' , ১৭৭৬ শকাব্দ (১৮৫৪/৫৫ খ্রীষ্টাব্দ),
ফাল্গুন সংখ্যা ]
- মুখরক্ষা
- সতীশচন্দ্র ঘটক (
'সবুজপত্র' পত্রিকা ১৩২৪ আষাঢ় সংখ্যা )
- মুক্তি
- কান্তিচন্দ্র
ঘোষ
( 'সবুজপত্র' পত্রিকা আষাঢ় সংখ্যা, ১৩২৬ )
- স্ট্যাটিস্টিক্স-রহস্য
-
জগদানন্দ রায় [
'বঙ্গদর্শন' (নবপর্যায়) , ১৩০৮ বঙ্গাব্দ পৌষ সংখ্যা
]
- গৌরীদানের
ফল - সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী (‘সবুজপত্র’
, পৌষ সংখ্যা, ১৩২৭)
-
অনাদৃতা
- মাধুরীলতা দেবী (‘সবুজপত্র’
শ্রাবণ ১৩২২)
-
ফাঁকা
- সতীশচন্দ্র ঘটক (‘সবুজপত্র’
পত্রিকা ১৩২৭ বৈশাখ সংখ্যা)
- পাষাণের
স্মৃতি
- সুধীন্দ্রনাথ
ঠাকুর (১৩২৫
বঙ্গাব্দের বার্ষিকি 'পার্ব্বণী' পত্রিকায় প্রকাশিত)
- মধু
মক্ষিকাদংশন -
রাজকৃষ্ণ রায় ('আর্য্যদর্শন'
পত্রিকা, জ্যৈষ্ঠ ১২৮১ বঙ্গাব্দ )
- সাদা
কালা- জলধর সেন (
কল্লোল পত্রিকা, আশ্বিন, ১৩৩২ )
- পুঁটেরাম
- নগেন্দ্রনাথ
গুপ্ত
( 'কল্লোল' পত্রিকা, বৈশাখ, ১৩৩০ )
- মহাকর্ষণ
- জগদানন্দ
রায় [ 'বঙ্গদর্শন'
(নবপর্যায়) , ১৩০৮ বঙ্গাব্দ পৌষ সংখ্যা ]
- প্রিন্স
- প্রমথ চৌধুরী (
'কল্লোল' পত্রিকা. বৈশাখ, ১৩৩১ )
- পোষ্টমাষ্টার
- জলধর সেন
(
'দাসী' পত্রিকা ১৮৯৬ খ্রীষ্টাব্দের অক্টোবর সংখ্যা
)।
- কন্যাদায়
- নৃত্যগোপাল
কবিরত্ন
(
'দাসী' পত্রিকা জুলাই, ১৯৮৫ )
- দেওঘরে
অদ্ভুত ঘটনা
- যোগীন্দ্রনাথ
বসু (
'ভারতী ও বালক' পত্রিকা, ভাদ্র ১২৯৩ বঙ্গাব্দ )
- মনের প্রতি
উপদেশ - ফটিকচাঁদ দেবস্য ('অরুণোদয়'
পাক্ষিক পত্রিকা, ১লা সেপ্টেম্বর, ১৮৫৮)
- জগদ্বিখ্যাত
বাঙ্গালী সন্তরণ-বীর -
শ্রীবিষ্ণুচরণ ঘোষ, বি-এস-সি, বি-এল
(
'রামধনু' পত্রিকা, কার্ত্তিক ১৩৪০ )।
- লিলি
- অম্বুজাসুন্দরী দাসগুপ্ত (
'আরতি' পত্রিকা, চৈত্র ১৩১২ )
- পাগলের
কাণ্ড - (
নারায়ণ পত্রিকা, জ্যৈষ্ঠ, ১৩২৬ )
- সানায়ে
- নারায়ণচন্দ্র
ভট্টাচার্য্য
(
⤗নারায়ণ⤘ পত্রিকা ১৩২৩ বঙ্গাব্দ অগ্রহায়ণ সংখ্যা )।
- নেশার
জের - কান্তিচন্দ্র ঘোষ (
'সবুজপত্র' পত্রিকা জ্যৈষ্ঠ সংখ্যা, ১৩২৬ )
- পিতৃস্মৃতি
- সৌদামিনী দেবী (
প্রথম ভাগটি ১৩১৮ বঙ্গাব্দের ⤗প্রবাসে⤘ পত্রিকার ফাল্গুন
সংখ্যায় এবং দ্বিতীয় ভাগটি চৈত্র সংখ্যায় প্রকাশিত
)।
- শিল্পী
- কান্তিচন্দ্র
ঘোষ ('সবুজপত্র'
পত্রিকা পৌষ সংখ্যা, ১৩২৬)
- পেনসনের
পর - কেদারনাথ
বন্দ্যোপাধ্যায়
('সবুজপত্র' মাঘ, ১৩৩৩। রচনাটি দিল্লীর প্রবাসী বঙ্গ
সম্মিলনে পঠিত।)
- বিন্দীর
সাঙ্গা - নারায়ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য (
'নারায়ণ' পত্রিকা, পৌষ, ১৩২৪ )
Copyright
© 2014 Abasar.net. All rights reserved.
|

অবসর-এ প্রকাশিত
পুরনো লেখাগুলি 'হরফ' সংস্করণে পাওয়া যাবে।
|